ইসলাম বিশ্বাসের স্বাধীনতা দিতে আসে নি ― শাইখ আল-ফাওযান

350 জন পড়েছেন

[এই পোস্টের কথাগুলো শাইখ সালেহ আল ফাওযানের। শাইখ আল-ফাওযান সৌদি আরবের একজন বড় ফকীহ, মক্কার আল-মুকাররামার ফিকহ একাডেমির সদস্য, সৌদির বয়োজ্যেষ্ঠ উলামা সংগঠন “হাইআতু কিবারিল উলামায়িস সুউদিয়্যাহ” এর সদস্য, প্রিন্স মি‘তিব বিন আব্দুল-আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।

শাইখ আল-ফাওযানকে এক ব্যক্তি বিশ্বাসের স্বাধীনতার উপর প্রশ্ন করে। তিনি এই প্রশ্নের যে উত্তর দেন সেটাই এখানে অনুবাদ করে দিয়েছি। অডিও নিল্ক নিচে[১]। তবে, আমার পাঠ ও জ্ঞান অনুযায়ী, আমি একথা বলতে পারি না যে এই অভিমতটি কোরান হাদিসে যথাযথভাবে নাই, তবে কেউ হয়ত দ্বিমত করতে পারেন, সেটা যার যার বিষয়। কিন্তু শাইখ আল-ফাওযানের এই অভিমত, যা মুসলিম বিশ্বে, ব্যাপকভাবে বিস্তৃত,  সেটা এ কাল পর্যন্ত এসে গ্রহণ করাতে যেসব সমস্যা হাজির হয় সেই সমস্যাই হচ্ছে আধুনিক মুসলিম বিশ্বের সমস্যা, অনেক ক্ষেত্রে সন্ত্রাস সম্পর্কিত সমস্যা, সামাজিকভাবে আধুনিকতায় প্রবেশের সমস্যা এবং মুসলিম বিশ্বের অনেক আভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পারস্পারিক ঝগড়া-বিবাদের সমস্যা বা সমস্যার অংশ। এখানে যে জিনিসটি বিবেচ্য সেটা হল ‘টেক্সচুয়াল বিষয়’ ―কোরানের টেক্সটগুলো কারা, কোন কালে, কোন ধরনের চশমায়, কোন সামাজিক প্রথায় বড় হয়ে ও কোন শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে, বা কোন আদর্শ (ideal) ও জীবনবোধের দৃষ্টিতে দেখতে চাচ্ছেন বা ব্যাখ্যা করতে চাচ্ছেন সেই বিবেচনা।]

প্রশ্নকারী:  আমরা আজকাল একটি কথা বারবার পুনরাবৃত্ত হতে শুনি যে ইসলাম বিশ্বাসের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এবং ‘ধর্মে জবরদস্তি নাই’ (لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ 2:256) – এই আয়াতকে দলিল হিসেবে দেখানো হয়, এটা কি সঠিক?

শাইখ আল-ফাওযান: এটা আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপণ। ইসলাম বিশ্বাসের স্বাধীনতা দিতে আসে নি। ইসলাম এসেছে শিরক, অবিশ্বাস ও মুশরিকদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। যদি বিশ্বাসের স্বাধীনতা দিতে আসত, তবে মানুষের জন্য রাসূল প্রেরণের প্রয়োজন হত না, কিতাব নাজিলের প্রয়োজন হত না, জিহাদের প্রয়োজন হত না, আল্লাহর পথে সশস্ত্র যুদ্ধের প্রয়োজন হত না।

এটা হচ্ছে (তাদের) খামখেয়ালি কথা ― সবাই স্বাধীন? না, অবশ্যই না। আল্লাহ বলেন, ‘আমি জীন ও মানব জাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি [২]। এখানে আল্লাহ বলেননি তিনি প্রত্যেককে তার স্বাধীন ইচ্ছার অনুসরণের জন্য সৃষ্টি করেছেন, বরং বলেছেন, ‘কেবল আমার ইবাদতের জন্য’। আল্লাহ আরও বলেছেন, ‘তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করে যাও ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না ফিতনা [কুফর ও শিরক] নিঃশেষ হয়; এবং ধর্ম সম্পূর্ণভাবে কেবল আল্লাহরই হয়’ [৩]।

সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করতে অস্বীকার করবে, তার সাথে যুদ্ধ করা হবে; তাকে ছেড়ে দেয়া হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না সে ইসলামে এসেছে, অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে। ইসলাম কুফরি ধর্মের ও নাস্তিকতার স্বাধীনতা দিতে আসেনি –এসব (যারা বলে) তারা আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে। ঘটনা যদি তা’ই হত, তবে আল্লাহ কেন রাসূল পাঠাবেন, কিতাব নাজিল করবেন, জিহাদকে বিধিবদ্ধ করবেন, হুদুদ ও দণ্ডাদেশ জারি করবেন? আল্লাহ এটা এজন্য করেছেন যাতে মানুষকে ভুল বিশ্বাস ও ভ্রষ্ট ধ্যান-ধারণা থেকে বাঁচাতে পারেন, কেননা মানুষ তার গোলাম, তাদেরকে অবশ্যই এক আল্লাহর ইবাদত করতে হবে যার কোন শরিক নাই। অন্যথায় তারা বিশ্বাস রক্ষার্থে হিজরত করবে যে হিজরতকে তিনি বিধিবদ্ধ করেছেন।

‘ধর্মে জবরদস্তি নেই’ এ-কথার অর্থ বিশ্বাসের স্বাধীনতা নয়, এর অর্থ আমরা কাউকে চাইলেই বিশ্বাসী বানাতে পারি না, কারো অন্তরে জবরদস্তি করে বিশ্বাস স্থাপন করত পারব না, এটা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ করতে পারেন না, কেননা আল্লাহ বলেন, ‘(হে নবী) আপনি যাকে পছন্দ করেন তাকে হেদায়াত দিতে পারবেন না, কেবল আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকেই হেদায়ত দান করেন’ [৪]। সুতরাং অন্তরের হেদায়ত আল্লাহর হাতে, এটা জবরদস্তিতে অর্জিত হয় না, এটা কেবল ব্যক্তির আপন ইখতিয়ার থেকে আসতে হয়। কিন্তু আমরা কাফির মুশরিকদের সাথে জিহাদ করে যাব, কেননা আল্লাহ আমাদেরকে এটা করতে নির্দেশ করেছেন। আমরা ভাল কাজের নির্দেশ দেব, মন্দ কাজের প্রতিরোধ করব।

আমরা ব্যাখ্যা করে যাব, (কিন্তু) আমরা বলব না ‘ধর্মে জবরদস্তি নেই’। আমরা ধর্মের জন্য মানুষকে অবজ্ঞা করব না, তবে ধর্ম বুঝিয়ে দেব, তারপর যারা ইসলামকে বর্জন করবে, তাদেরকে শাস্তি দেব। আর অন্তরের হেদায়ত, সেটা আল্লাহরই ক্ষমতাধীন, তিনি ছাড়া কেউ এ বিষয়ে সমর্থ নন। এটাই হচ্ছে ‘ধর্মে জবরদস্তি নেই’ বাক্যের অর্থ। এটা এই আয়াতের মতই, ‘(হে নবী) আপনি যাকে পছন্দ করেন তাকে হেদায়াত দিতে পারবেন না, কেবল আল্লাহই যাকে ইচ্ছা তাকে হেদায়ত দান করেন’। যে আল্লাহ ‘ধর্মে জবরদস্তি নেই’ বলেছেন, সেই আল্লাহই বলেছেন, ‘তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করে যাও ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না ফিতনা [কুফর ও শিরক] নিঃশেষ হয়; এবং ধর্ম পরিপূর্ণরূপে কেবল আল্লাহরই হয়।’ তাহলে কেন কোরানের এক আয়াত বাদ দিয়ে অন্য আয়াত গ্রহণ করা হবে?

Notes of the Post

[১] অডিও: অডিওটি নিচেও দেয়া আছে।

[২] Verse 51:56

[৩] Verse 8:39

[৪] Verse 28:56

অডিও:

Facebook Comments

350 জন পড়েছেন

About এম_আহমদ

প্রাবন্ধিক, গবেষক (সমাজ বিজ্ঞান), ভাষাতত্ত্ব, ধর্ম, দর্শন ও ইতিহাসের পাঠক।

মন্তব্য দেখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *