ইসলাম ও গণতন্ত্রের মূলনীতির মধ্যে কোন বিরোধ নেই

72 জন পড়েছেন

পিটিভির মুখোমুখী জাভেদ আহমাদ ঘামিদি

[এটি মূলত পাকিস্তানের বহুল আলোচিত ইসলামি চিন্তাবিদ, আল বায়ান তাফসিরের লেখক, পাকিস্তান সরকারের কাউন্সিল অফ ইডীওলজি এর সাবেক সদস্য, আল মাওরিদ ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন জাভেদ আহমাদ ঘামিদি সাহেবের পাকিস্তানের বহুল জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল পিটিভি-কে দেওয়া একক স্বাক্ষাতকারের বঙ্গানুবাদ। স্বাক্ষাতকারটি নিয়েছেন পিটিভির সাংবাদিক সালিম সাফী। এছাড়া ঘামিদি সাহেব ইসলামের সম্পূর্ন ব্যাখ্যাকারক হিসেবে লিখেছেন দীর্ঘ বইঃ আল মিজান। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে তিনি কুরআনের তাফসির করছেন, এছাড়া তিনি নানা দেশে ইসলাম সম্পর্কিত প্রশ্ন-উত্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সরাসরি জবাব দেন।]

সালিম সাফীঃ কিন্তু যদি দেখেন, আমাদের রাসুলদের সময়ে বা পরে চার খলিফার সময়ে একজন ব্যক্তিকেই সকল ক্ষমতা দেওয়া হত। কিন্তু আজকের দিনে তো একজন প্রধানমন্ত্রী থাকে, আরেকদিকে থাকে প্রেসিডেন্ট। একটি বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা চলে যায়। এটিও কী ইসলামের উসুলের বাইরে না?

জাভেদ আহমাদ ঘামিদিঃ আজকে যা হচ্ছে সেগুলোতে সময়ের সাথে সাথে তৈরি হয়েছে। যেমন আমেরিকাতে প্রধানমন্ত্রী-প্রেসিডেন্ট থাকেনা, একজন প্রেসিডেণ্টই সবকিছু নির্ধারণ করেন। খেলাফতে রাশিদার সময়েও নানা প্রতিষ্ঠানের সুরত তৈরি হয়েছিল, এখন যেমন আছে। উদাহরনস্বরুপ, হযরত উমরের সময়ে একটা সমস্যা দেখা দিয়েছিল, ইরাক তখন মুসলিমদের অধীনে, শাম (সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান, ইসরাইল, প্যালেস্টাইনসহ বৃহত্তর সিরিয়া) বিজিত হয়ে যায়। তখন অনেক বড় বড় সাহাবি বলল, সেনাদলের মধ্যে বিজিত এলাকাগুলো ভাগ করে দেওয়া হোক, শাসনের জন্যে। হযরত উমর এই পরামর্শের সাথে একমত ছিলেন না। তিনি বললেন, পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে। তিনি দায়িত্বশীলদের ডেকে সংসদ আয়োজন করলেন। সংসদ শব্দটা আমি যোগ করলাম, কিন্তু সংসদের মতই তো তিনি নেতাদের ডাকলেন। ৫ জন ডাকলেন আউস গোত্র থেকে, ৫ জন খাজরিজদের থেকে। ৬ দিন পর্যন্ত সেই বিতর্ক চলেছিল, তারপর সিদ্ধান্ত আসে। দেখুন আপনি চাইলেই আজকের বর্তমানকে কখনো অতীতে ফিট করতে পারবেন না। আজকের মত সেই সময় ছিল না, জাতিভিত্তিক সমাজ ছিল। লোকে জানত যে তাদের সিদ্ধান্তগ্রহনকারী তাদের জাতিনেতা। আমার এত কথার মোদ্দাকথা হল, খোলাফায়ে রাশেদা বা তারও আগে মূসা (আ) এর বনী ইসরাইলের মধ্যে কেউ কী বন্দুক নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে? কোন বিশেষ গোত্র ক্ষমতা নিয়েছে? কেউ কী ধর্মের নাম নিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে? কেউ পোপ হয়ে হাজির হয়েছে? আমজনতা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর সেই আমজনতার সিদ্ধান্ত জানার সেই তরিকা নেওয়া হয়েছে সেটা ঐ সময়ে সম্ভব ছিল।

১ম পর্বঃ

২য় পর্বঃ

৩য় পর্বঃ

৪র্থ পর্বঃ

Facebook Comments

72 জন পড়েছেন

উড়ন্ত পাখি

About উড়ন্ত পাখি

আমি কোন লেখক বা সাংবাদিক নই। অর্ন্তজালে ঘুরে বেড়াই আর যখন যা ভাল লাগে তা সবার সাথে শেয়ার করতে চাই।

মন্তব্য দেখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *