“যদি ঈমানদার হয়ে থাক, তবে আমাকে ভয় কর।”

1614 জন পড়েছেন

আমরা যদি আমাদের চিন্তাভাবনাকে প্রচলিত তথাকথিত মুল ধারার চিন্তা চেতনায় ভাসিয়ে দেই তাহলে কখনই আশা করতে পারিনা আমরা মুসলিম হিসাবে মরতে পারব। অবশ্য যারা মুসলিম হিসাবে মরার কোন গুরুত্ব আছে বলে বিশ্বাস করেন না তাদের কথা আলাদা এবং তাদের জন্য এ লিখা নয়।
কথা হচ্ছে যে সব মুসলিম অভিভাবক মনে করেন তাদের ছেলেমেয়েরা বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় লিখা পড়া করবে এবং তথাকথিত মূল মূলধারার (main stream)মিডিয়ার প্রচারিত অপরিশুদ্ধ আখ্যান বা কাহিনী (Narrative) শুনবে আর তা গলাধ:করণ করবে তার পরেও তারা ইসলামের পথে আল্লাহ ও রসুলের প্রতি অবিচল বিশ্বাসে নিবেদিত প্রাণের একজন বিশ্বাসী হতে পারবে তথা আদর্শ জীবন যাপন করতে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে আশা করেন তারা আসলে বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। প্রজন্মের কথা বাদ দিয়ে নিজের কথাই চিন্তা করে দেখেন আমরা কতটা সঠিক পথে আছি? শয়তান ও দাজ্জালি সভ্যতার ধূম্রজাল থেকে বাহির হয়ে স্বচ্ছ ও সুস্থ চিন্তা ভাবনা করা থেকে আজ অনেক দূরে চলে এসেছি। একজন ঈমানদার ব্যক্তির জন্য এটাই হচ্ছে সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রশ্ন হচ্ছে এর সমাধান কি?

সমাধান অবশ্যই আছে তবে তা গ্রহণ করার মত মানসিকতা বা মাইন্ড সেট আগে গড়তে হবে বিশ্বাসীকে।
এর প্রথম সোপান হচ্ছে আমাদের মনের ভয় ভীতিকে দূর করতে হবে। একজন মুমিনের মনে ভয় জাগায় তার সব চেয়ে বড় শত্রু শয়তান। মানুষকে সমাজে ভাল কাজ করা থেকে বিরত রাখতে শয়তান তার বন্ধুদের ভয় দেখায়। শয়তানের বন্ধু কারা? শয়তানের বন্ধু হচ্ছে চোর, ডাকাত,অপরাধী এবং সমাজের ক্ষমতাসীন অত্যাচারী স্বৈরাচারী শাসক ও ক্ষমতার লোভে বিদেশী আধিপত্য-বাদীর দাসত্বে আবদ্ধ সন্ত্রাসী মাফিয়া ও ফ্যসিষ্ট সহ ইসলাম বিদ্বেষী ইত্যাদি যাবতীয় অপরাধী গুষ্টি। এবার দেখা যাক পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক এই ভয়ের ব্যাপারে মুমিনদেরকে কি বলেন? সুরা ইমরানের ১৭৫ আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন,

এরাই হল শয়তান, এরা তোমাদেরকে তাদের বন্ধুদের ভয় দেখায়। সুতরাং  তোমরা তাদেরকে ভয় করো না।, তোমরা যদি মু’মিন হও তবে ভয় কর আমাকে ।

ইসলামী স্কলারদের মতে কোরআনের কোন আয়াত নাজিল হওয়ার কারণ জানতে হলে সে সময়ের প্রেক্ষাপট বা শানে নাজুল (context) বুঝতে হবে এবং তা থেকে বর্তমানে আমাদের কি শিক্ষা নেয়া যায় তা দেখতে হবে। আমি মনে করি আজ বাংলাদেশের যে অবস্থা তার প্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালার এ পবিত্র কালামের সত্যতা উপলব্ধি করা এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করাটাই হচ্ছে মুসলিমদের পক্ষে সামনে চলার প্রথম ধাপ। তবে এর অর্থ এ নয় যে বোকার মত যে কোন সময় যেখানে সেখানে ঝাপ দিতে হবে এই বলে যে আমরা শুধু আল্লাহকে ভয় করি। সঠিক সময় ও সঠিক প্রস্তুতি দরকার সব কিছুতে।

দ্বিতীয়ত আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করতে হবে। এ জন্য সঠিক ইতিহাস চর্চা করতে হবে। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলাম জানা সম্ভব নয়। আধুনিক শিক্ষার সাথে ইসলাম সম্পর্কে নিজের প্রচেষ্টায় নির্ভরযোগ্য সূত্রের বই পুস্তক থেকে লেখা পড়া করে জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং তা প্রজন্মের কাছে পৌছাতে হবে।

তৃতীয়ত,  স্বল্প পরিসরে হলেও মিডিয়াতে মুসলিমদেরকে ভূমিকা রাখতে সচেষ্ট হতে হবে। মনে রাখতে হবে ইসলামের প্রতি বর্তমান বিশ্ব মিডিয়ার কোন আগ্রহ থাকার কথা নয় । কারণ এ সব মিডিয়া পরিচালিত হয় খোদা বিমুখ সেকুলার জড়বাদী সভ্যতার মুনাফা আসক্ত পুঁজিবাদী গুষ্টি দিয়ে। তারা বরং ইসলামের বিরুদ্ধে আতঙ্ক ছড়ায়ে মুনাফা লুটতে আগ্রহী। সুযোগ পেলেই মিডিয়া কিভাবে মানুষের মনকে মুসলিমদের প্রতি বিষাক্ত করতে চায় তার এক ছোট উদাহরণ দিয়েছিলেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মেহদী হাসান। বিবিসির এক টকশোতে তাঁকে যখন প্রশ্ন করা হয়েছিল Are we soft on Muslims? উত্তর শুনতে এ ভিডিও লিংকটিতে যেতে পারেন।

চতুর্থত:
মুসলিমদেরকে শুধু প্রতিক্রিয়াশীল হওয়া অর্থাৎ কিছু একটা ঘটলে তখনই কেবল প্রতিবাদ মুখর হওয়ার অপেক্ষা না করে এরকম অবস্থা যাতে সৃষ্টি হতে না পারে সে ভূমিকা রাখতে হবে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বলতে গেলে বলা যায় সে দিন দেখলাম বাংলাদেশের বতর্মান ক্ষমতাসীন দলের এক এমপি দুটি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয়ায় হুজুররা প্রতিবাদ করতে মাঠে নেমেছেন। চট্টগ্রামে মাদ্রাসা ছাত্রদের বিরাট জলসায় প্রধান বক্তা বলছেন “আমরা কাউকে ক্ষমতা থেকে নামাইতে চাই না কাউকে  বসাইতেও  চাই না …” কি সুন্দর কথা!  কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে ক্ষমতায় যারা আছে তাদেরকে হেদায়েত করতে চাই এ কথা বললে অসুবিধা কোথায়?  তারা কি এটা বুঝেন না যে যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের মনে ইসলামের প্রতি তেমন আন্তরিকতা নাই বলেই তো এরকম ঘটনার জন্ম হচ্ছে। মাদ্রাসা মসজিদকে সন্ত্রাসীর আখড়া বলে প্রচার করানো হচ্ছে।
অবশ্য অনেকে বলেন মাঝে মাঝে হুজুরদেরকে উত্তেজিত করে রাস্তায় নামায়ে ক্ষমতাসীন মহল তাদের অগণতান্ত্রিক আচরণ ও প্রশাসনিক দুর্নীতির পক্ষে কাদের অনুকম্পা পেতে চান তা বুঝতে না পারা বোকামী।

এসব কথা কেন বলছি কারণ ইসলামের গুরুত্ব মুসলিম সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে হলে সে সমাজের রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় যারা থাকবেন তাদের চিন্তা চেতনায় ইসলামী আদর্শের বহি:প্রকাশ যে একটি বিরাট ভুমিকা রাখে এই কথাটা বুঝতে হবে।

আজকের বিশ্ব ব্যবস্থার বাস্তবতা হল এখানে মানুষ ধর্মের মহান আদর্শকে ত্যাগ করে নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ ও সম্পদ বাড়ানোর নেশায় মত্ত। কেউ যদি উপর থেকে আজকের বড় বড় শহরের দিকে তাকায় তখন মনে হবে এ মানুষেরা যেন ইঁদুরের দৌড়ে ব্যস্ত। সর্বত্র চাচা আপনা প্রাণ বাঁচা। আর বাংলাদেশের দিকে লক্ষ্য করলে অবস্থা তো  আরো সূচনীয়! এখানে চলছে মিথ্যাচার, প্রতারণা, জুডিশিয়্যাল কিলিং ,ক্ষমতার দাপটে অন্যের অধিকার হরণ ইত্যাদি যেন নিত্য দিনের খেলা।

“আমরা কাউকে ক্ষমতা থেকে নামাইতে চাই না কাউকে  বসাইতেও  চাই না .” এ সব কথার কোন অর্থ হয়না। বরং বলতে হবে আমরা ন্যায় ও নিষ্ঠাবান এবং দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বকে ক্ষমতায় দেখতে চাই। অতএব ক্ষমতায় যারা আছেন তাদেরকে হেদায়ত করতে এগিয়ে আসতে হবে, ব্লেমগেইম থেকে বের হয়ে চলে আসতে বলতে হবে। অথবা তাদেরকে সরে যেতে বলতে হবে এবং প্রয়োজনে তাদের অপরাধের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে।

Facebook Comments

1614 জন পড়েছেন

Comments are closed.