শয়তানের ডায়েরী – An organized Satanic Act!

3331 জন পড়েছেন


-১ম পর্ব-

“ঈমানে আমানে, সালামে সিয়ামে
সাচ্চা কোমল বান্দা,
তারা যদি কয়, মিছা অতিশয়
জনগণ মনে জাগে ধান্ধা।”

কবিতাংশটিতে বর্ণচোরা মানুষদের চরিত্রের একটি নমুনা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিটি সমাজে মুখোশধারী মানুষের একটি ছোট দল থাকে। এই দলই মূলত: পুরো সমাজের বা কম্যূনিটির বিশৃঙ্খলা, ব্যভিচার, ফিৎনা বা নানাবিধ অপকর্মের দায়িত্ব বহন করে অনেক সময়ই ওদেরকে চিহ্নিতকরণ সহজ হয়ে উঠে না। আমরা যারা ধর্মে বিশ্বাস করি-শয়তানের উপস্থিতি বিশ্বাস করাও আমাদের দায়িত্ব। শয়তানের নানাবিধ ধোঁকা থেকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ধর্মের বিশ্বাসী মানুষ শয়তানের সংস্পর্শে থেকে দূরে থাকার জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে শয়তান তো সুপার স্পিরিট দিয়ে তৈরী নিরাকার এক জাতি। ওরা নিজেদেরকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপে পরিবর্তন ও উপস্থাপন করার ক্ষমতা রাখে। তাই প্রতিটি সমাজে বা কম্যূনিটিতে বর্ণচোরাদের উপর আছর করে ওরা ওদের কর্ম সম্পাদন করে। যেহেতু বর্ণচোরাদের কাজ হচ্ছে সমাজের ক্ষতি করা এবং শয়তানের কাজও হচ্ছে সমাজের ধ্বংস করা সুতরাং তাদের মধ্যে কাজের কোন সমস্যা বা Conflict of Interest হয় না। ওরা সুচারু রূপে ওদের অপারেশন পরিচালনা করে থাকে।

প্রিয় পাঠক, আমরা যারা বড় হয়ে বাংলাদেশ থেকে এসেছি, আমাদের সকলেরই ‘শয়তানের ডায়রী” নামে একখানা বড় পুস্তকের কথা মনে থাকার কথা। বাংলাদেশের প্রতিটি লাইব্রেরী বা বই প্রেমিকদের সেলফে বইখানা দেখা যেত। এখনও সেই পুস্তকখানা আছে কিনা অথবা তার কদর আগের মত আছে কিনা তা জানা নেই। তবে কদর যে কমবে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। কেন কদর কমবে? প্রতিটি পুস্তকের একটি সারাংশ ও নীতি কথা থাকে এবং সেই সারাংশে পাঠকের জানার বা শিক্ষার উপকরণ থাকে। “শয়তানের ডায়রী” পুস্তকখানাতে বর্ণচোরা মানুষরূপী শয়তানদেরকে চিহ্নিত করণের যে উপকরণ ছিল তা দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের উপকার করে আসছিল তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। কিন্তু দিন বদলের সাথে সাথে শয়তানের বংশ বৃদ্ধি কোটি কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ায় ডায়রীর কদর যে কমেছে সেটাই স্বাভাবিক।

শয়তানের ডায়রীখানা অনেকগুলো ছোট ছোট ঘটনা দিয়ে সাজানো ছিল যা সত্যিই বিস্ময়কর ও শিক্ষণীয়। শয়তান কিভাবে তিলকে তাল করে, তুচ্ছ ঘটনাকে লঙ্কাকাণ্ডে রূপ দিয়ে সমাজকে কলুষিত করে, মানুষে-মানুষে বিভেদ, ফিৎনা, সংসারে অশান্তি সৃষ্টিকরণ, মহিলাদের অপমান, মানুষকে কুশিক্ষা দেওয়া, ধর্ম থেকে দূরে থাকা, কুশিক্ষা আত্মস্থ করা বা শিক্ষা থেকে দূরে থাকা, অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা, শয়তানের সাথে দুস্তি করা ইত্যাদি ইত্যাদি ছোট ছোট চমকপ্রদ ঘটনা দিয়ে বইখানা সাজানো ছিল।

বইখানা যিনি লিখেছিলেন তাঁর নাম মৌঃ ফজলুর রহমান, হয়তো আজ আর বেঁচে নাই। তিনি নিজে শয়তান দেখেছেন বলেও উল্লেখ করেননি যদিও ছোট ছোট শয়তানী ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিখুঁতভাবে বইখানা লিখেছিলেন। ঘটনাগুলোর অনেকগুলো আবার লোমহর্ষক বর্ণনা সম্বলিত, মনে হত লেখক চাক্ষুষ ঘটনার সাক্ষী। তিনি শয়তান না দেখে থাকলেও ঘটনাগুলোর পেছনে যৌক্তিকতা এবং বিভিন্ন ধর্ম ও লোক সংস্কৃতিতে শয়তানের উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ডের ধারা বর্ণনা তাঁর পুস্তকখানাকে মানুষের কাছে আদৃত করেছিল। অনেক ক্ষেত্রেই পাঠক নিজেকে অনেক ঘটনার সাক্ষী মনে করেন যা  পুস্তকের চরিত্রের বা ঘটনার সাথে মিলে যায়। শয়তানের ডায়রীর অনেক ঘটনার মধ্য থেকে ছোট্ট একটি ঘটনা এখানে তুলে ধরছি। শয়তান কিভাবে তুচ্ছ একটি ঘটনাকে সাজিয়ে ধ্বংসযজ্ঞের সূচনা করে, তিলকে তাল করে  তার উদাহরণ ছিল এই ঘটনাতে।

চলবে —

3331 জন পড়েছেন

ফয়জুল হক

About ফয়জুল হক

লেখক কানাডা প্রবাসী এবং ক্যানাডাবিডিনিউজ ডটকম’র সম্পাদক।

Comments

শয়তানের ডায়েরী – An organized Satanic Act! — ৩ Comments