মুক্তচিন্তা ও আমরা

2896 জন পড়েছেন

আজকাল চারিদিকে শুধু মুক্তচিন্তা আর মুক্তমনের বিকাশ দেখা যাচ্ছে। আমি নিজেও ভাবে কুল-কিনারা পাইচ্ছি না আসলে মুক্তমন বা মুক্তচিন্তাটা কি? মুক্তচিন্তা বা মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা বলতে কি শুধুই “ধর্ম” নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলাকেই বোঝায়? মুক্তচিন্তা বা মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা কি সমাজের অন্য কোন অনৈতিক, সমসাময়িক-সমস্যা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে হতে পারে না। সমাজে এখন যারা ধর্ম নিয়ে নানা কুরুচিপূর্ণ কথাবাত্রা বলতে পারেন তারাই শুধু মুক্তমনের অধিকারী হয়ে থাকেন, আর বাকি সকলেই আমরা কি বদ্ধ-মনের অধিকারী ? মানব সমাজে ধর্মের আবির্ভাব ঘটেছিল মানব সমাজ সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই , তাই এই বিষয় নিয়ে নতুন করে ভিন্ন বা পরস্পর বিরোধী কোন ব্যাখার প্রয়োজন না থাকারই কথা । কিন্তু কিছু কিছু স্ব-মুক্তমন দাবিকারীরা আমদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করতেছেন যে, তারা ধর্ম নিয়ে যে সব কুরুচিপূর্ণ কথা লিখতেছেন তা সমাজের কল্যাণের উদ্দেশে , আসলে তারা সমাজের কল্যানের উদ্দেশে এসব করতেছেন না, যা করতেছেন তা নিজেদের কল্যানের উদ্দেশে। কারণ তারা যেসব অশ্লীল নোংরা বাক্য ব্যবহার করে সকল ধর্মকে (বাস্তবিক অর্থে ইসলাম ধর্মকে ) ব্যাখা করবার প্রয়াস করতেছেন তা দ্বারা মানবকুলের কল্যান সম্ভব না যা সম্ভব হবে তা হইল দ্বিধা আর দ্বন্দ্ব।।

তাহলে কেনই বা তারা এসব করতেছেন? এই প্রশ্ন থেকেই যায় । প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে আছে, জানি না সবার কাছে তা গ্রহণযোগ্য হবে কিনা ।
১। দেশে বিদেশে পরিচিতি পাবার উদ্দেশে ।
২। টাকা পয়সা অর্জনের উদ্দেশে ।
৩। ইউরোপ আমেরিকায় যাবার উদ্দেশে ।
৪। বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নের বা শিক্ষকতার উদ্দেশে ।
৫। নামকরা সাহিত্যিক হবার উদ্দেশে ।
৬। নোবেল পাবার উদ্দেশে ।
৭। মানসিক দ্বিধাগ্রস্ততার কারনে ।উপরের ছয়টি বিষয় হয়ত অনেকের কাছেই পরিষ্কার হবে না কারণ কে বা কারা দিবেন এসব সুযোগ সুবিধা ? আরে ভাই আমি বলি শোনেন, এসব সুযোগ সুবিধা দেয়ার লোকের অভাব নেই দুনিয়াতে – বড় বড় খ্রিষ্টান মিশনারিজ গুলো বসেই আছে এজন্য যাদের কাজ মূলত ইসলামকে বাকরোধ করা, যা কোশ্চেন কালেও সম্ভব নয় (ইনশাআল্লাহ) । খ্রিষ্টান মিশনারিজ গুলো শঙ্কিত ইসলাম ধর্ম যেভাবে ইউরোপ আমেরিকায় বিস্তার লাভ করতেছে তাতে করে আগামী দিনগুলোতে পুরো ইউরোপ আমেরিকাই মুসলিম দিয়ে ভরে যাবে আর এতে কোন সন্দেহ নাই (ইনশাআল্লাহ) । তাই তারা পরিকল্পিত ভাবে ইসলাম ধর্মের বিস্তারকে রোধ করবার নিমিত্তে বিশ্ববাসীর সামনে নাস্তিক ধরনের সুযোগ সন্ধানী মানুষদের ব্যবহার করতেছেন ।খ্রিষ্টান মিশনারিজ গুলো দুই প্রকারে মিডিয়াম গঠন করে তুলছে –

১। যারা নাস্তিকতার নামে মূলত ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলবে
২। জঙ্গিবাদ – যারা ইসলামের নামে ধংসাত্তক কাজ করবে যা ইসলামের নীতি বিরোধী ।

এই দুই প্রকার মিডিয়াম তাদের কেন প্রয়োজন এটাও একপ্রকারের প্রশ্ন ? তবে যদি আপনারা চিন্তা করে দেখেন তবে দেখবেন যে নাস্তিক এবং জঙ্গিবাদরা একে অপরের পরিপূরক।

কিভাবে একে অপরের পরিপূরক – এটাও একটা বিষয় । আপনারা যদি একটু চিন্তা করে দেখেন তবে দেখেবন যে নাস্তিকরা জঙ্গিবাদকে তুলে ধরে ইসলামকে বিচার করে এবং বলে থাকে ইসলাম সন্ত্রাসিদের ধর্ম

অপরদিকে জঙ্গিবাহিনীরা নাস্তিকদের খুন করে ইসলাম ধর্মের নামকে কুলসিত করতেছে এবং বিশ্বাবাসীকে দেখিয়ে দিতেছে ইসলাম শান্তির ধর্ম নয় , সন্ত্রাসবাদের ধর্ম ।

এতে করে বলা যায় যে তারা একে অপরের পরিপূরক । আর যেহেতু তারা উভয়ি একই প্রতিষ্ঠান থেকে পরিচালিত অত এব আমরা পরোক্ষভাবে হলেও বলতে পারি যে তারা একে অন্যর ভাই । তাই ভাই, ভাইকে খুন করবেন, তাদের নিজেদের হিসাব মেলাবেন । এই নিয়ে সাধারন মুসলমান ভাইদের উত্তেজিত বা চিন্তিত না হলেও চলবে । এটা তাদের পারিবারিক ব্যাপার মাত্র।।

আজ আর কিছু বলতে চাই না এসব কথা শুনে অনেকেই হয়ত খেপে যেতে পারেন । আমার কোন দোষ নাই আমি আপনাদের দীক্ষায় শিক্ষিত আমি “মুক্ত চিন্তার মানুষ” এটা আমার “মতামত প্রদানের স্বাধীনতা”।

Facebook Comments

2896 জন পড়েছেন