অভিজিৎ হত্যা

1270 জন পড়েছেন

চলতি মাসের ১৩ই তারিখে নর্থ কেরোলাইনায় একজন ইসলাম বিদ্বেষী শ্বেতাঙ্গ নাস্তিকের হাতে ৩ জন মুসলিমের নির্মম হত্যা নিয়ে একটি লেখা সদালাপে দিয়েছিলাম, তা এখনো প্রথম পাতায় রয়েছে সেখানে মুক্তমনাদের ব্যাপারে বলেছিলাম, “আমরা কখনো মনে করি না যে এই ঘটনার জন্য গোটা নাস্তিক সম্প্রদায় দায়ী অথবা তাদের কেউ এর জন্য এপোলোজেটিক হতে হবে” [লিঙ্ক]। আমরা অপরাধকে অপরাধ হিসেবে দেখতে চাই। মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত রায়ের হত্যার ব্যাপারে আমাদের সেই একই নীতি –একই কথা।

মুক্তমনাদের ধর্মবিদ্বেষ-প্রসূত প্রোপাগান্ডা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেক লেখা রয়েছে। মুক্তমনার অনেক কর্মকাণ্ড সামাজিক সংহতির জন্য ভাল ছিল না। এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিশ্বাস ও মূল্যবোধ ধ্বংস করে ‘বৈজ্ঞানিকভাবে’ সমাজ ব্যবস্থার পুনর্প্রতিষ্ঠার প্রয়াস শান্তির পরিবর্তে কেবল দ্বন্দ্ব-বিদ্বেষ ও দানা-দানিই সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য আমরা উগ্র-নাস্তিকতার বিপক্ষে, যা অন্ধ, যা বিজ্ঞানবাদের ভাঁওতাবাজিতে মানবতাবিমুখ। তবে, এই নাজুক প্রেক্ষিতে ও মুহুর্ত্তে, অভিজিত রায়ের হত্যার সঠিক তদন্ত হোক, অপরাধীদের বিচার হোক -এটাই প্রথম কথা। তবে ঘটনার নাজুকতা সামনে রেখেও মুক্তমনা বিষয় নিয়ে কয়েকটি কথা রাখতে যাচ্ছি, আলোচনা তো সর্বত্রই হচ্ছে।

অভিজিত রায় আমাদের দৃষ্টিতে একজন উগ্রবাদী ইসলাম বিদ্বেষী ছিলেন, তিনি ও উগ্র অনেকেই carefully selected marginal text ভাঙচুর করে ইসলামের নবীকে (সা.) নিয়ে, তাঁর স্ত্রীদেরকে নিয়ে, মুসলিম সমাজ নিয়ে, কোরান হাদিস নিয়ে, ইতিহাস নিয়ে, ইচ্ছেমত ব্যাখ্যা জুড়ে দিয়ে, যথেচ্ছভাবে যেরূপে একটি জনগোষ্ঠীকে vilify করে যাচ্ছিলেন তা ছিল তাদের নিজেদের সাম্প্রদায়িক প্রেক্ষিত  যার মাধ্যমে নাস্তিক্যবাদ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য এবং জগত থেকে ধর্ম-নির্মূল করার উদ্দেশ্য ছিল, যা কখনো সামাজিক সৌহার্দ, সংহতি ও ভালবাসার অনুকূল হয় নি এবং হবার মতও ছিল না। নিজেদের বৈজ্ঞানিক অবস্থান দেখাতে মুসলমানদের নবীতে (সা.) বিশ্বাস, তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ইত্যাদি নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক লেখা, তাদের কোরানের আয়াতই তাদেরকে সন্ত্রাসী করে -এসবের মধ্যে শান্তির বাণী নেই। কারো নাস্তিক্যবাদ এগুলো ছাড়াই করে গেলে তাতে উগ্র ও সাংঘর্ষিক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলা যায়। কিন্তু এসব কর্ম-তৎপরতা যে সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করবে একথা আমি প্রথম দিন ব্লগ জগতে ঢুকেই বলেছি। আর যারা দ্বিতীয় আরেকটি যুদ্ধের নামে চরম উদ্যমে সর্বত্র ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তাদের ব্যাপারে একথা বলার চেষ্টা করেছি যে তাদের সমাজ পরিবর্তনের (social change) থিওরি ভুল, বিশেষ করে দীর্ঘ সূত্রিতায়।

সমাজ পরিবর্তের যেসব থিওরি ও উপাদান সমাজ বিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আলোচিত হয় তার মধ্যে যুদ্ধ ও দ্বান্দ্বিক (war and conflict) থিওরি অন্যতম। সমাজে ধীরে ধীরে, লিনিয়ার (linear social change) পদ্ধতিতে, যে পরিবর্তন আসে তা অত্যন্ত স্লো (ধীরগতির) দেখা যায়। তারপর সেই পরিবর্তন কোনদিকে যাবে –তার কোনো সঠিক নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে, যুদ্ধের মাধ্যমে যে পরিবর্তন আনা হয় তাতে বিজয়ী পক্ষের ইচ্ছে, তাদের ধ্যান-ধারণা, তাদের ন্যায়নীতি, তাদের আদর্শ চাপিয়ে দেয়া যায়। অতীতের অনেক যুদ্ধে এর উদাহরণ রয়েছে। যুদ্ধে সমাজের অবস্থা তোলপাড় হয়। বিজয়ীর কাছে পরাজিতরা নতজানু হতে হয়। বেশি দূরে না গিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সামাজিক বাস্তবতা দেখুন। নিত্যদিনের আরব দেশের অবস্থা দেখুন। উইপন ও মাস ডিস্ট্রাকসনের নামে (weapon of mass destruction) যে নির্মম ও বিধ্বংসী যুদ্ধ পরিচালিত হয় সেই যুদ্ধের বিপক্ষে বড় বড় বিজ্ঞানী (ইউরোপের এবং বিষের করে ইংল্যান্ডের) যারা ইরাকের রিসার্চ কাজে সহায়তা করেছিলেন তারা হাতে পায়ে ধরে বলেছিলেন ওখানে উইপন অব মাস ডিস্ট্রাকনের কিছু নেই –কিন্তু যারা যুদ্ধ চেয়েছিল তাদের উদ্দেশ্য ছিল অন্যটা –সমাজ পরিবর্তন। আর তাদের সেই এজেন্ডা এখনো চলছে।

কিন্তু যে জিনিসটি পরিবর্তনবাদীদের খেয়ালে নেই তাহলো অর্জিত পরিবর্তন কালের আবর্তনের ঠিকে থাকে না। এবং বিশেষ করে যে জাতির বিশেষ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে –তাদের আরকিটাইপল কনসাসনেস (archetypal consciousness)  উহ্য করা যায় না। ওরা আবার তাদের মূলের দিকে ফিরে যায়। প্রথম মহাযুদ্ধের পর তুর্কির কি দশা ঘটানো হয়েছিল সেই কথা চিন্তা করুন। আর আজ দেখুন ৯২ বছর পর কি হয়েছে। রাশিয়ায় কি হয়েছিল? আজ দেখুন কি হয়েছে। আজকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় যুদ্ধের কথা ভাবুন। দেখুন এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে কত প্রাণ নিঃশেষ হয়েছে; কত লোক পঙ্গু হয়েছে; কত বাড়িঘর নিশ্চিহ্ন হয়েছে; কত লোকের জীবন বিপন্ন হয়েছে; কত টাকা উজাড় হয়েছে; এই যোদ্ধাদের জ্ঞানের দিকে তাকান; (ময়দানের যোদ্ধাদের); তাদের যুক্তির দিকে তাকান; তাদের ভাষার দিকে তাকান –দেখবেন, ওরা কৌশলে আবেগ তাড়িত স্থূলদৃষ্টির লোক, অন্যের বুঝিয়ে দেয়া যুদ্ধ করছে। ধর্ম মানুষকে প্রতিশোধ আবেগপ্রবণ থেকে বাঁচিয়ে প্রেম ও ভালোবাসার যে আবেগ সঞ্চালন করে, যে যুক্তি দেখায় এই শ্রেণী সেই যুক্তির পরিবর্তে উল্টো যুক্তি পর্দার পিছনের ভিন্ন শ্রেণীর কাছ থেকে ধারণ করেছে; যেমনটি সব যুদ্ধের পিছনে থেকে প্রায়ই হয়ে থাকে –ইরাক যুদ্ধ সাক্ষাত উদাহরণ। আজ বাংলাদেশের সার্বিক নৈতিক অবস্থার দিকে তাকান; আইনের দিকে তাকান; অপরাধের দিকে তাকান; স্বাধীনতার পর থেকে অপরাধের ফিরিস্তি দেখুন। তারপরও যদি আপনি ধাপ্পাবাজি বুঝতে না পারেন, তবে আপনার আর বুঝার দরকার নেই, আপনি নিজেই সেই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। But remember, it’s a war of social change, it’s a war to bring modernity, not simply to bring technological change, but with it, the positivist philosophy of modernity devoid of religion, the philosophy of the Ovijits.

তবে মনে রাখতে হবে,  মুক্তমনারা তাদের দ্বিতীয় যুদ্ধের মাধ্যমে ধর্মকে রাষ্ট্রীয় শক্তি দিয়ে কোণঠাসা করতে পারলেও এটা সুদীর্ঘকাল ব্যাপী ঠিকে থাকবে না। এটা কেবল একটি নির্দিষ্টকালে খুন, খারাবী ও ধ্বংসের মাধ্যমে আপাতত প্রতিষ্ঠিত হবে। অধিকন্তু রাষ্ট্রীয় শক্তির মাধ্যমে প্রতিপক্ষের হাজারজন মেরে ফেললেও আপনার পক্ষেরও ১০/৫ জন মরবে। আজ আমেরিকা-চালিত বৈশ্বিক যুদ্ধে আমেরিকান আহত-নিহত সৈন্যসংখ্যার দিকে তাকিয়ে দেখুন।

আমরা মুক্তমনাদের ধর্ম-নির্মূলের কর্মকাণ্ড ও প্রোপাগান্ডার রূপ প পদ্ধতি দেখে স্থানভেদে এটাকে সাম্প্রদায়িক এবং স্থানভেদে ফ্যাসিস্ট বলেছি। সদালাপে, ১৪ অক্টোবর ২০১২ সালে আমার লেখা,  ‘মুক্তমনা ও নাস্তিক মিলিট্যান্সি’ প্রবন্ধে বলেছি:

এখন একদল গোঁড়াপন্থি-নাস্তিক যারা অপরের ধর্ম নিয়ে ক্যাট-ক্যাট, ঘ্যাঁট-ধ্যাঁটেই আবদ্ধ যারা বিশ্বের প্রচলিত ধর্মগুলোকে উড়িয়ে দিয়ে ধরায় মানব-স্বর্গ রচনা করতে চায় তারা সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব/বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। এইসব মিলিট্যান্ট কর্মকাণ্ডে সকল নাস্তিক ও অজ্ঞেয়বাদী জড়িত নন। আমাদের অনেক শিক্ষক, সহপাটি ছাত্র, কর্মজীবনে অনেক লোকের মধ্যে নাস্তিক ও অজ্ঞেয়বাদী দেখছি যাদের কাউকে মুক্তমনা প্রত্যয় ও কর্মে দেখিনি। সুতরাং ‘উগ্র-বঙ্গাল-গোঁড়া-নাস্তিকরা’ সকল অজ্ঞেয়বাদী ও নাস্তিককে এক ভাবা সঠিক নয়। সমাজে যতটুকু সাম্প্রদায়িক সু-সম্পর্ক রয়েছে বঙ্গাল গোঁড়ারা সেই অবশিষ্ট শান্তিটুকু নস্যাৎ করতে ধর্ম বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। এরা নাস্তিক মৌলবাদী। [লিঙ্ক]

অভিজিত রায়ের নাস্তিক্যবাদ  মিলিটেন্ট ছিল, এতে ধর্মই ছিল সব অনর্থের মূল এবং ধর্ম নির্মূলেই জাগতিক শান্তি -এমন ধ্যান-ধারণা, এটি আপনাতেই সামাজিক সাংঘর্ষের ধারণা বহন করে। তিনি যে সাইট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই সাইটটি ছিল এমনই নাস্তিক্যবাদ প্রচারের একটি হাতিয়ার, তবে  হ্যাঁ, সাথে অন্য ধরণের লেখাও ছিল যেসবের বিভিন্ন দিক অনেকেই এই সদালাপে আলোচনা করেছেন; এখানে শুধু ধর্মীয় দিকের কথা হচ্ছে। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অভিজিত রায়ের স্বচ্ছ কোন জ্ঞান ছিল না। কোরান হাদিস না বুঝেই কোরান হাদিসের ভাষ্য ক্যারিকেচারের (caricature) মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা করেছেন। কোরান হাদিসের টেক্সট হৃদঙ্গয়ম করতে যে অনেক স্থানে বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের প্রয়োজন রয়েছে -সেই দিকটি ভ্রুক্ষেপ করা হয়েছে। সস্যিয়েল মিডিয়া এবং বিভিন্ন ব্লগে তার ব্যাপারে অনেক লেখা রয়েছে। তাকে কেউ কেউ হিন্দু ধর্মের লোক হিসেবে দেখেছেন এবং ইসলামকে আক্রমণের জন্য তার অবস্থান নাস্তিক্যবাদের মুখোশ হিসেবে ছিল বলে অভিযোগ করছেন। তবে ঘটনা যা’ই হোক ইসলাম অবশ্য তার ‘পরধর্ম’ ছিল। কিন্তু এই পরধর্মে তার সহিষ্ণুতা ছিল বলে পরিলক্ষিত হয়নি।

অভিজিত রায় মুক্তমনা বা ফ্রি-থিঙ্কার কথাটি যেভাবে নিজ ব্যাখ্যায় নিজের মত করে দেখেছেন সেই দেখায় অনেক prejudice প্রকাশ করেছেন। মুসলিমদেরকে স্থানভেদে পশু বানিয়েছেন। তারপর ‘মুক্তমনে’ ব্যাখ্যা সাজিয়ে সেই অবস্থান হালাল করতে চেয়েছেন। মুসলমানদের সচরাচর ছাগু, কাঁঠাল-পাতা, ধর্মান্ধ, উন্মাদ ইত্যাদি বলে গেলেও (গালাগালি!) তারই এক জ্ঞাতি ভাই সুমন কবীর মুসলমান হয়ে গেলে তার উপর ছাগু উপাধি অর্পণ করতে ব্যাখ্যাবিদ সাজেন। অভিজিত রায়ের কাছে ‘মুসলিম মানেই বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত ছাগু, জঙ্গী, সন্ত্রাসী, ছুপা সন্ত্রাসী, ইত্যাদি’ (এস এম রায়হান)। তবে ছাগু উপাধির ব্যবহার অনেকেরই বড় অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। ছাগু বিশেষ ক্ষেত্রেও আরোপ হচ্ছিল, ময়দানের আদর্শ ভিত্তিক (ideological) রাজনীতিকে কেন্দ্রে করে, যুদ্ধাপরাধের বিষয় ছিল একটি। তবে কে ‘ছাগু’, কে যুদ্ধাপরাধের পক্ষের, সেটা ‘তাদেরই’ উপাধি সাপেক্ষ থেকে গিয়েছে। ১১ জন সেক্টর কমাণ্ডারদের ৬ জনের উপরই রাজাকার উপাধিও আরোপিত হয়েছে। এসবের শেষ নেই। তবে কে ছাগু, কে রাজাকার এ বিষয়ে তারাই ছিলেন দ্যা জাজ,  জুরি এণ্ড ইক্সিকিউশনার (Judge, jury and executioner)। তারা যাকে উপাধি দিয়েছে্ন, অমনি তাদের চ্যালাগণ তা প্রোপাগান্ডায় মাতিয়ে তুলেছেন। এভাবে কোন সমাজ চলতে পারে না।

আমার অন্যান্য লেখায় বলেছি যে কারো ধর্ম ও ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর আক্রমণ চালানো এক ধরণের ফাসাদ। এসব হচ্ছে পক্ষান্তরে অপরাধ। এবং সকল অপরাধকে অপরাধ হিসেবে দেখা দরকার। এখানে দল গোষ্ঠী জড়ালে আরও সামাজিক ফিতনা সৃষ্টি হবে। আমরা বলব অভিজিৎ হত্যার সঠিক তদন্ত হোক, এবং শুধু অভিজিত কেন, সকল সকল হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। গত বৎসরের একটি রিপোর্টে দেখেছি যে দেশে নাকি প্রতিদিন ১৪ লোক বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হয়। এরা সবাই মানুষ। এদের নাগরিক অধিকার রয়েছে। বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। অতীতের যুদ্ধের নামে ‘দ্বিতীয় যুদ্ধ’ করে মানুষের সার্বিক অধিকার কেড়ে নেয়াতে কোনো মনুষ্যত্ব নেই। এ বৎসর তো ক্রসফায়ারের নামে এই মন্দ কাজ আরও বেড়ে গিয়েছে। আমরা কখনো চাইব না যে কোনো মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হোক।

অন্যান্য হত্যার মত আমরা অভিজিৎ হত্যাকে রাজনীতিকরণ থেকে মুক্ত রাখতে সরকার পক্ষ এবং মুক্তমনাপক্ষকে আহবান করব। কেননা রাজনীতিকরণের পর সেটা বিচারের পরিধি থেকে ছিটকে পড়ে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশ সরকার অভিজিতের হত্যাকে তাদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে অলরেডি রাজনীতিকরণ করে ফেলেছেন! আজ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন:

১৪ দল মনে করে মান্না-খোকা ফোনালাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) লাশ ফেলতে চেয়েছিলেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আমার দেশের ছেলেদের লাশের ওপর দিয়ে তারা ক্ষমতায় যেতে চায়। মান্না-খোকার ফোনালাপের প্রথম লাশ এই অভিজিৎ। [লিঙ্ক]

চিন্তা করুন এটা কত বড় কাণ্ডজ্ঞানহীন কথা। একটি হত্যা এইমাত্র হয়েছে। এখানে আবেগ জড়িত। এখন, আল্লাহ না করুন, আরেকটি পক্ষ যদি নাসিম-নির্দেশিত পক্ষের কাউকে কিছু করে ফেলে, তখন সমস্যা বাড়বে, না কমবে? এভাবে যেকোনো পক্ষের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করলে যুদ্ধংদেহী পক্ষের উদ্দেশ্যকে সার্থক করা হবে। যুদ্ধ বন্ধ হোক, দায়িত্বশীল কথাবার্তা কাণ্ডজ্ঞানহীনতার প্রতিস্থাপক হোক –এটাই কামনা করি।

নর্থ কারলাইনার ঘটনা যেমন কোনো গোষ্ঠীর উপর চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয় তেমনি অভিজিতের ঘটনাও কোন গোষ্ঠীর উপর চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয়।

1270 জন পড়েছেন

About এম_আহমদ

প্রাবন্ধিক, গবেষক (সমাজ বিজ্ঞান), ভাষাতাত্ত্বিক, ধর্ম, দর্শন ও ইতিহাসের পাঠক। বসবাস: বার্মিংহাম, ইউকে। দেশের বাড়ী: দেউলগ্রাম (উত্তর), বিয়ানী বাজার। Monawwarahmed@aol.com

Comments are closed.