ভূ-পৃষ্ঠের ও পৃথিবীর গভীরতম অঞ্চলের এত পানি এলো কোথা থেকে?

1295 জন পড়েছেন

সম্প্রতি বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণ অনুসারে আমরা জানতে পারি-

Massive ‘ocean’ discovered towards Earth’s core
http://www.newscientist.com/article/dn25723-massive-ocean-discovered-towards-earths-core.html#.VMSDUy5-PIU
A reservoir of water three times the volume of all the oceans has been discovered deep beneath the Earth’s surface. The finding could help explain where Earth’s seas came from.

The water is hidden inside a blue rock called ringwoodite that lies 700 kilometres underground in the mantle, the layer of hot rock between Earth’s surface and its core.

The huge size of the reservoir throws new light on the origin of Earth’s water. Some geologists think water arrived in comets as they struck the planet, but the new discovery supports an alternative idea that the oceans gradually oozed out of the interior of the early Earth.

প্রিয় ভাই ও বোনেরা! এবার পবিত্র কোরআনের এই আয়াত দুটির প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি-
সূরা আল মু’মিনূন (মক্কায় অবতীর্ণক্রম-৭৪)
(২৩:১৮) আমরা পানি প্রেরণ করেছি আকাশ থেকে যথাযথ পরিমাণে, অতঃপর আমরা তা রেখে দিয়েছি পৃথিবীর অভ্যন্তরে এবং নিশ্চয় আমরা তা তুলে/ ফিরিয়ে/ উঠিয়ে/ সরিয়ে নিতেও সক্ষম।
সূরা আল মুলক (মক্কায় অবতীর্ণক্রম-৭৭)
(৬৭:৩০) বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি তোমাদের সকল পানি গভীরে তলিয়ে যায়, অতঃপর কে তোমাদেরকে এনে দিতে পারে প্রবাহমান পানি?

(৬৭:৩০) নং আয়াতে মহান স্রষ্টা একটি প্রশ্ন (অতঃপর কে তোমাদেরকে এনে দিতে পারে প্রবাহমান পানি?) উত্থাপন করে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন। এর উত্তরে অনেকেই হয়ত ভাবছেন, বিজ্ঞানের জয়যাত্রার এ যুগে এই প্রশ্নটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করার মত তেমন কিছু আছে কি? কারণ বিজ্ঞানের বদৌলতে তো এখন আমরা ভূপৃষ্ঠের অনেক গভীর তলদেশ থেকে পানি উত্তোলন করতে সক্ষম হচ্ছি। কিন্তু আমাদের মনে রাখা উচি যে, পানি তোলার এই সক্ষমতা ভূপৃষ্ঠ থেকে নিচের দিকে নেহায়েত ১২ – ১৩ কিমি এর বেশি নয়।

বিজ্ঞানের তথ্য অনুসারে দেখা যায় যে, ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪০০ থেকে ৬০০ কিমি নিচে ভূ-ত্বক ও ভূ-কেন্দ্রের মধ্যবর্তী গভীরতম অঞ্চলে (transition zone) অর্থাৎ ম্যান্টেলের মধ্যকার অতি উত্তপ্ত প্রস্তরময় স্তরে (a blue rock called ringwoodite, the layer of hot rock between Earth’s surface and its core) পানির উপস্থিতি ধরা পড়েছে। পৃথিবীর গভীরে জমে থাকা এই বিশালকায় পানির পরিমাণ ভূপৃষ্ঠের সাগরের পানির চাইতে প্রায় ২ থেকে ৩ গুণ বেশি হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে- পৃথিবীর এত গভীরে এত বিশাল পরিমাণ পানি তাহলে এলো কোথা থেকে?

এবার আসুন, পবিত্র কোরআনের (২৩:১৮) নং আয়াতের বক্তব্যের প্রতি লক্ষ্য করি। এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আকাশ থেকেই যথাযথ পরিমানে পানি প্রেরণ করা হয়েছে এবং মহান স্রষ্টা চাইলে পৃথিবীর অভ্যন্তরে রেখে দেয়া পানিকে প্রয়োজনমত সরিয়ে/ উঠিয়ে নিতেও সক্ষম। সুতরাং এ থেকে এই ইংগিত পাওয়া যায় যে, আকাশ থেকে প্রেরিত পানি প্রথমত পৃথিবীর অভ্যন্তরে শোষিত হয়, অতঃপর এর একটি বড় অংশ পৃথিবীর অভ্যন্তরে রেখে দিয়ে বাকি অংশ পরিশোধিত ও প্রবাহমান পানি হিসেবে ব্যবহার উপযোগী কোরে আমাদের নাগালের মধ্যে উঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাছাড়া (৬৭:৩০) নং আয়াতে জীবন সৃষ্টি ও জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য, ভূপৃষ্ঠ এবং আমাদের নাগালের মধ্যকার প্রবাহমান পানির কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পানির এই প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে পৃথিবীর গভীরতম অঞ্চলে (transition zone) রক্ষিত পানিরও যে একটি বিশেষ ভূমিকা থাকতে পারে- সেই বিষয়টিও চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করার দাবি রাখে। প্রায় ১৪৫০ বছর আগে থেকেই মুসলিমরা ঐশীগ্রন্থ আল-কোরআনে স্বয়ং স্রষ্টা প্রদত্ত এই মৌলিক তথ্যগুলো জানত এবং সর্বদা মনে প্রাণে তা বিশ্বাসও করে আসছে। আর এখন তো বিজ্ঞানও একই কথাই বলছে। তাই এখন শুধু মুসলিমরাই নয়, অন্যরাও আল-কোরআনে প্রদত্ত এই অকাট্য তথ্যটি মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ভূপৃষ্ঠের উপরে এবং ভূত্বকের মধ্যে অবস্থিত আমাদের নাগালের মধ্যকার সকল পানি যে, যে কোন মূহুর্তে নাগালের বাহিরে অর্থাৎ পৃথিবীর গভীরতম অঞ্চলে তলিয়ে যেতে পারে সে কথাও ব্যক্ত করা হয়েছে। সত্যি যদি এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়- তাহলে আল্লাহ ছাড়া আর কার সাধ্য আছে যে সেই গভীরতম/ দূরতম অঞ্চলে সরে যাওয়া পানিকে পান ও ব্যবহার উপযোগী করে পর্যাপ্ত পরিমাণে আমাদের জন্য সরবরাহ করবেন?

আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পৃথিবীতে প্রবাহমান পানি যে আকাশের দূরতম অঞ্চলে উড়ে কিংবা পাতালের গভীরে তলিয়ে যাচ্ছেনা, তার জন্য মহান আল্লাহতায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি- “আল্লাহু আকবার”।

1295 জন পড়েছেন

Comments are closed.