ইতিহাসের যে শিক্ষা মুসলিমেরা ভুলে যাচ্ছে।

2534 জন পড়েছেন

ফরাসি ইতিহাসবিদ  ও সমালোচক আর্নেস্ট রিনান (Renan) প্রায় এক শতাব্দী আগে বিশ্ব নবী  মুহাম্মদ (স:)এর জীবন ইতিহাস গবেষণা করতে গিয়ে যে বিখ্যাত পর্যবেক্ষণ বক্তব্য দেন  তা হচ্ছে, ” মোহাম্মদই শুধু একমাত্র  ধর্মীয় নেতা যিনি বাস করে গিয়েছেন  সম্পূর্ণ ইতিহাসের আলোকে”  অন্য কথায় তিনি যা বুঝাতে চেয়েছেন তা হল  মুহাম্মদ (স:) বিস্তারিত চিত্তাকর্ষক  জীবনী  এসেছে আরব সাহিত্যে, ধর্মীয় গ্রন্থে ও বিভিন্ন জীবনী বৃত্তান্তে ( (biographical accounts) ইত্যাদিতে।  নবী (স:) জীবনের প্রতিটি কাজ কর্ম  লিপিবদ্ধ ছিল যেন এক উন্মুক্ত গ্রন্থ  যার বর্ণনা পাওয়া যায়  ধর্মীয় গ্রন্থে, জীবনী লিপিতে, ইতিহাস চর্চায় এবং আরো অনেক কিছুতে। তবে  মুহাম্মদ (স:) এর জীবন সম্পর্কে তথ্য পরিপূর্ণ  বর্ণনা থাকায় তার সমালোচকেরাও সুযোগ নিয়েছে  নবীর খ্যাতি জন্য ক্ষতিকর বক্তব্য রাখার কিংবা বদনাম করার আর তাদের এ অপচেষ্টা অবশ্যই সুস্থ মানসিকতার মানুষের মনে শুধুমাত্র নবীর প্রতি ভক্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতা (credibility)আরো বৃদ্ধি করা ছাড়া কমে নাই। ঐতিহাসিক আর্নেস্ট  রিনানের সে বিখ্যাত বিবৃতি ডেনিয়্যল পাইপও সহ ইসলাম বিদ্বেষী ওরিয়্যন্টিলিষ্ট বুদ্ধিজীবীদেরকে ক্ষেপীয়ে তুলেছে এতে কোন সন্দেহ নাই। ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী ডেনিয়্যল পাইপের এক ব্লগ  প্রবন্ধে সে দিন দেখলাম আর্নেস্ট রিনানের সে বিখ্যাত বিবৃতিকে ভিন্ন খাতে প্রবহিত করতে কিন্তু তিনিও ব্যর্থ হয়েছেন!

আসল কথায় আসা যাক, প্রচণ্ড শীতের দেশ কানাডাতে বাস করি। শীতের এই ভোরে আরামের ঘুম ছেড়ে মসজিদে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়তে অনেকের মত আমারও মন চায়না তবু মহান প্রভুর মেহেরবানীতে মাঝে মধ্যে মসজিদে যাওয়ার মানসিকতা জাগে সে জন্য সমস্ত প্রশংসা আমার প্রভু মহান আল্লাহর। এমনি আজ রবিবার ভোরে সে সৌভাগ্য হয়েছিল মসজিদে যাওয়ার ।  নামাজ শেষে ঈমান সাহেব জানালেন,আজকে সবার জন্য নাস্তার আয়োজন আছে সবাই যেন নাস্তা খেয়ে যান। একথা বলে  ঈমান সাহেব দশ মিনিটের সংক্ষিপ্ত একটি বক্তব্য রাখলেন। আমার আজকের ব্লগটি সে প্রেক্ষাপটে লিখা। এ ঘটনা সাধারণত সবারই জানার কথা তবু আলোচনা করতে চাই হয়তবা আমাদের ঈমানকে আরো শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে সে আশায়। 

আজ থেকে ১৪শত বছর আগের ঘটনা মদিনায় হিজরতের পর  মোহাম্মদ (স:) যখন স্বপ্নে দেখেছিলেন আল্লাহ তাকে হজ করতে মক্কার কাবা শরিফে যাওযার হুকুম করছেন এবং তিনি কাবা ঘর তওয়াফ করছেন। তখন রাসুল (স:) এ স্বপ্নের কথা মদিনার মুসলিমদেরকে জানালে তাঁরা রাসুলের সঙ্গে হজ করতে রওয়ানা দেন। মক্কা তখনও অমুসলিম কুরাইশদের দখলে। রাসুল যখন মুসলিমদেরকে নিয়ে মক্কার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছান তখন কাফিররা বাধা দেয়। যদিও মুসলিমরা তাদেরকে বুঝাবার চেষ্টা করলেন যে তাদের এ যাত্রা শুধুমাত্র হজ তথা ধর্ম পালন ছাড়া মক্কা দখলের বা অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিলনা এবং তার প্রমাণ, তারা কোন অস্ত্রশস্ত্র বা তেমন কোন সামরিক প্রস্তুতি নিয়েও আসেন নাই তথাপি কুরাইশরা তাঁদেরকে মক্কায় প্রবেশ করতে দেয় নাই।

অনেক আলাপআলোচনার পর কাফিররা তাদের মত পরিবর্তন না করায় রাসুল (স:) তাঁর সাথিদেরকে ফিরে যেতে  নির্দেশ দেন। মুসলিমদের কাছে এরকম এক পরিস্থিতির মোকাবিলা ছিল আবেগপূর্ণ এক মহা কঠিন ও দু:খের সময়। অনেক আশা নিয়ে তাঁরা এসেছিলেন বিশেষকরে যারা মুহাজির তাদের কাছে এ যাত্রা  ছিল আরো আবেগের ব্যাপার কতদিন পর তারা তাদের মাতৃ ভূমিতে যাচ্ছেন তাই মুসলিমরা যখন একদিকে হতাশ ও দু:খ ভারাক্রান্ত তখন তাদেরকে আরো কনফিউজড করার জন্য মুনাফিকেরা বলতে লাগল “রাসুল (স:)  আল্লাহর নবী নন”  যদি তাই হতেন তা হলে তার স্বপ্ন কেন বৃথা হল? তিনি তো স্বপ্ন দেখেছিলেন মক্কায় গিয়ে কাবাহ ঘর তোয়াফ করছেন ইত্যাদি নানা কথা বলে মুসলিমদের মনে সন্দেহ  জাগাবার অপচেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

কিন্তু এরকম এক কঠিন সময়ে নবী (স:) মনে ছিল অন্য বিষয় তিনি চেয়েছেন কিভাবে এ মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে শান্তি অর্জন করা যায়। তাই তিনি মক্কার কুরাইশদেরকে মুসলিমদের সাথে শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করাতে সক্ষম হন। ইতিহাসবিদেরা বর্ণনা করেন শান্তিকালীন সে সময়ে ইসলাম সব চেয়ে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়েছিল আরবের সর্বত্র এবং মুসলিমদের সমর্থকও বাড়তে থাকে দ্রুত গতিতে। মুসলিমদের শক্তিও বাড়তে থাকে দ্রুত। ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি সে চুক্তিতে  “মোহাম্মদ রাসুল আল্লাহ” লিখা থাকায় কাফিররা আপত্তি তুলে তখন রাসুলের সম্মতিতে “মোহাম্মদ আল্লাহর রাসুল”  কথা বাদ দিয়ে লিখা হয় “আব্দুল্লাহর পুত্র মোহ্ম্মদ”। আমরা জানি সেই চুক্তি ইতিহাসে হুদাইবিয়ার চুক্তি নামে প্রসিদ্ধ।

প্রথমত সেই  চুক্তি কুরাইশদের এক তরফা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত দর্শনে এবং মুসলমানদের জন্য চুক্তির কিছু শর্তাবলী গুরুতর ছিল তাই  হজরত উমর (রা:) এ চুক্তিকে অপমানকর হিসেবে মনে করে খুবই উত্তেজিত ছিলেন এবং হজরত আবুবকর (র:) কাছে ছুটে যান যাতে নবীকে এ চুক্তি স্বাক্ষর না করতে অনুরোধ করেন। জবাবে আবুবকর বলেন,”আমরা যা জানি নবী তা আমাদের চেয়ে অনেক বেশী জানেন। মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষায় নবী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার সমালোচনামূলক না হয়ে বরং দৃঢ়তার সাথে নবীর সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।” ওমর অপেক্ষায় ছিলেন নবীর উপর এব্যাপারে ওহী নাজিল হওয়ার।

প্রশ্ন হচ্ছে আজকের বিশ্বে মুসলিমদের চলমান অবস্থার প্রেক্ষাপঠে এ ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে আমরা মুসলিমরা কি শিক্ষা লাভ করতে পারি?

১) প্রথমেই মুনাফিকদের প্রশ্ন “তার স্বপ্ন কেন বৃথা হল?

আল্লাহর প্রদত্ত ওয়াদা কখনও অপরিপূর্ণ বা বৃথা হতে পারে না এ বিশ্বাস থাকতে হবে এবং আল্লাহর ওয়াদা পুরন হবেই কিন্তু টাইম ফ্রেইম বা সময় সীমা আমাদের প্রত্যাশিত সময়ে নাও হতে পারে । সময় সীমা কি হবে আল্লাহ জানেন আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নাও হতে পারে। মাত্র দু বৎসর পরই তো মুসলিমরা তার বাস্তব প্রমাণ পেয়েছে মক্কা বিজয়ের মাধ্যামে। তাই নয় কি? একি ভাবে আমরা যদি সুরা রোমে আল্লাহর প্রদত্ত রোমানদের বিজয় ও মুসলিমদের বিজয়ের ভবিষ্যতবানীর কথা দেখি সেখানেও দেখতে পাই কিভাবে  আল্লাহর কথি সত্যি হয়!

২) যে মক্কার কোরাইশরা মোহাম্মদ (ষ:) আল্লহর নবী হিসাবে স্বীকৃতি দিতে চায়নি তারাই শেষ পর্যন্ত তাকে মানতে বাধ্য হয়। আর আল্লাহ নিজেই কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে মোহাম্মদ (স:) যে আল্লাহর নবী তা  ঘোষণা দিয়েছেন্ এখানে লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে অতীতে যখনই নবীদেরকে অবিশ্বাসীরা বিভিন্ন অপবাদ দিয়েছে নবীরা তার প্রতিবাদ করেছেন কিন্তু মোহাম্মদ (স:) এর ব্যাপারে আল্লাহ নিজেই দ্রুত ওহী নাজিল করে তার নবুওতের সমর্থনে আয়াত নাজিল করেছেন! কোরআন ঘাঁটলেই এর প্রমাণ পাবেন।

৩) শান্তির পথ হিংসাত্মক পথ  থেকে অনেক উত্তম। সব কিছুরই জন্য একটি সুনির্দিষ্ট স্থান ও কাল আছে, সঠিক সময় সঠিক পথ গ্রহণ করলে বিজয় সুনিশ্চিত।

৪) বাহ্যত কোন কিছু সাময়িক অপমানকর ও পরাজয় মনে করলেও তা আসলে পরাজয় নয় বরং অবশেষে তা বিজয় আনতে পারে। সে দিন মহানবী সবইকে  আশ্বস্ত  করেন এই বলে যে, তিনি যে কাজ করেছেন তা যাই হোক না কেন আল্লাহর হুকুমেই করেছেন এবং তখন যা মুসলমানদের স্বার্থ বিরুদ্ধে  মনে হচ্ছিল তাই ভবিষ্যতে মুসলিমদের বিজয়ের পক্ষে হবে। আর বাস্তবে তাই হয়েছিল ইতিহাস স্বাক্ষী।  

হজরত আবুবকর হুদাইবিয়ার চুক্তির ব্যাপারে নিম্নের কয়েকটি অতি মূল্যবান কথা বলেন যা মুসলিমদের চিন্তা ভাবনাকে  চিরদিন প্রজ্বলিত করে রাখার কথা। 

“হুদাইবিয়ার সন্ধির চেয়ে গুরুত্বপূর্ন কোন বিজয় ইসলামের নাই । মানুষ সবসময়ই সবকিছু দ্রুত পেতে চায় কিন্তু আল্লাহ মানুষকে পরিপক্ষ করেই তা প্রদান করেন। পূর্বে মুসলিম ও অমুসলিম মানুষের মাঝে ছিল এক  দেয়াল, যখনই একে অন্যের সাথে মিলিত হয়েছে তা যুদ্ধ দিয়েই শুরু হত।  পরবর্তীকালে শত্রুতা চাপা পড়ে এবং তার উপর নিরাপত্তা ও পারস্পরিক আস্থা স্থান পায়। এমনকি যখনই সহনীয় বুদ্ধিসম্পন্ন  প্রতিটি মানুষের কাছে ইসলামের জ্ঞান পৌছেছে তারা আমাদের সাথে  যোগদান করেছেন এবং ২২ মাসের সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময়ে ইসলাম ধর্মে যোগদানের সংখ্যা বিগত দিনের চেয়ে অনেক বেশী ছিল। মানুষের মধ্যে ইসলামী বিশ্বাস বিস্তৃত লাভ করে সর্বত্র “

 

রেফারেন্স:
Treaty of Hudaibiya
[Al-Hudaybiya and] Lessons from the Prophet Muhammad’s Diplomacy by Daniel Pipes
The Biography of Muhammad: Nature and Authenticity

Facebook Comments

2534 জন পড়েছেন


Comments

ইতিহাসের যে শিক্ষা মুসলিমেরা ভুলে যাচ্ছে। — ১ Comment

  1. নবীর (সা:) হজ্জে যাওয়ার স্বপ্নের বিষয়টি নিয়ে দুটি কথা সংযোগ করতে চাই।

    ব্যাপার হচ্ছে কী আমরা সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আর নবী-রাসূলদের অন্তর্দৃষ্টি (বাসিরাহ/بصيرة) এক নয় –এখানে আসমান জমিনের পার্থক্য। নব্যুওয়াত এক বিরাট পার্থক্য সূচিত করে। তাদের স্বপ্নও আর আমাদের মত থাকে না। তবে কিছু কিছু স্বপ্ন এমন হত যে, তা যদিও সত্য, কিন্তু বাস্তবের ক্ষেত্রে স্থান অথবা কাল বা উভয়ই exact ভাবে দেখানো হত না। ইউসূফের (আ:) স্বপ্ন (১২:৪) তার পিতাকে বললেও তাদের কারো কাছে সেই exact স্থান ও কাল নির্ণীত হয়নি। তবে এটা যে বাস্তবে রূপ লাভ করবে তাতে কোনো সন্দেহ ছিল না। ইউসূফের (আ:) ভাইগণ তাঁর মৃত্যু সংবাদ দিলেও হযরত ইয়াকুব (আ:) তা মানতে পারেননি –কেননা এটা তো হতেই পারে না। এই সত্য বাস্তবায়িত হতে প্রায় ৪০ বৎসর লেগেছিল এবং যখন তা বাস্তবে রূপ লাভ করল তখন ইউসূফ (আ:) তাঁর বৃদ্ধ পিতাকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, হে পিতা, এই’ই হচ্ছে আমার সেই স্বপ্নের ব্যাখ্যা (১২/১০০) বা বাস্তব রূপ। হজরত ইব্রাহীম (আ:) যখন নিজ পুত্র ইসমাঈলকে (আ:) স্বপ্নে কয়েকবারই কোরবানী করতে দেখলেন (৩৭:১০২), তখন তিনি এই বিষয়টি তাঁর ছেলেকে বললেন। ছেলে, ইসমাঈল (আ:) তাঁর পিতাকে সেই আদেশ কার্যকর করতেই উৎসাহিত করলেন। কারণ ২/৩ বার দেখার পর আর অন্য ব্যাখ্যার সম্ভাবনা ছিল না।

    আমাদের নবী (সা:) হজ্জ করার স্বপ্ন দেখলেন। তারপর সবাইকে বলেন। তাদের অনেকের ধারণা ছিল এটা এই বৎসর হতে যাচ্ছে। কিন্তু যখন হজ্জ না করেই আসতে হল, তখন হযরত ওমর এ বিষয়টি সহজে সয়ে ওঠতে পারছিলেন না। তিনি এক সময় নবীর (সা:) পিছন দিক থেকে তাঁর জামা টেনে বলেছিলেন, ‘আপনি কি আল্লাহর রাসূল নন?’ (অর্থাৎ কই, আমরা হজ্জ না করেই ফিরে যাচ্ছি অথচ আপনি তো হজ্জ করার স্বপ্ন দেখেছিলেন!)। তখন নবী (সা:) তাঁকে দৃঢ়তার সাথে এবং প্রশান্ত চিত্তে বলেছিলেন, হ্যাঁ, আমি নিশ্চয় আল্লাহর রাসূল! … আমি কি বলেছিলাম আমরা ‘এই’ বৎসরই হজ্জ করব? আমরা ‘অবশ্য’ই হজ্জ করব।

    ওমর (রা:) তাঁর বাকী জিন্দেগীতে এই ঘটনার জন্য আক্ষেপ করতেন। আর বলতেন, হায়, ওমর যদি এই কাণ্ডটি না করত!

    মূলত নবীদের স্বপ্ন ও দৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ ‘আগাম’ বস্তু বাস্তবে রূপ করার মধ্যে যে সত্য নিহিত থাকে এরই প্রেক্ষিতে আমরা পরকালের সত্যতার উপর আরও একটি অতিরিক্ত সত্য হৃদয়ঙ্গম করি।

    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হুদাইবিয়াকেই ‘ফাতহাম মুবীন’ (সুস্পষ্ট বিজয়/clear victory) বলে উল্লেখ করেছেন (৪৮:১)। আর সেই স্বপ্নের ব্যাপারে বলেছেন, “আল্লাহ তাঁর রসূলকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আল্লাহ চাহেন তো তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে মস্তকমুন্ডিত অবস্থায় এবং কেশ কর্তিত অবস্থায়। তোমরা কাউকে ভয় করবে না। অতঃপর তিনি জানেন যা তোমরা জান না। এছাড়াও তিনি দিয়েছেন তোমাদেরকে একটি আসন্ন বিজয়” (৪৮:২৭)।

    একটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য। এই যে মদিনা থেকে আসা নিরস্ত্র মুসলমানগণকে পৌত্তলিকগণ পবিত্র মাসে সশস্ত্র হয়ে হেরেমের ঢুকার আগেই মেরে ফেলতে উদ্যত হল, এই যে শেষ পর্যন্ত তাদেরকে হজ্জ করতে দেয়া হল না; তাদের উপর অন্যায় শর্তসমূহ চাপানো হল; অধিকন্তু গোটা মাক্কী জীবনে মুসলমানদেরকে নির্যাতন করল, হত্যাও করল, দেশ ছাড়া করল –এসব নিয়ে আমাদের সমাজের ইসলাম বিদ্বেষী খবিস পৌত্তলিক ও নাস্তিকগুলোকে কোনো কথা বলতে শুনেছেন?

মন্তব্য দেখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *