‘‘এক খোন্দকারে রক্ষা নেই, আরেক খোন্দকার কি তার দোসর?”

2090 জন পড়েছেন

পন্ডিত নীরদ সি. চৌধুরী বাঙালি জাতিকে অভিহিত করেছিলেন, ‘আত্মঘাতী বাঙালি’ নামে। বাঙালির এতো সঠিক পরিচয় সম্ভবত আর কেউ তুলে ধরেননি। এই আত্মঘাতী বাঙালিদের মধ্যে কিছু মহাপুরুষ অবশ্যই জন্মেছেন। আবার কুলাঙ্গারও জন্মেছে। অধুনা এই কুলাঙ্গারদের সংখ্যাই বাড়ছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যেসব বাঙালি সেনাপ্রধান জড়িত ছিলেন, তাদের মধ্যে এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খোন্দকারকে আমি একজন মহৎ মানুষ বলে জানতাম এবং শ্রদ্ধাও করতাম। এই শেষ বয়সে এসে তিনি হঠাৎ বিতর্কে কেন জড়াতে গেলেন তা আমি জানি না। তিনি কাদের পাল্লায় পড়েছেন? তার ভালো মানুষির সুযোগ নিয়ে কারা তাকে খোন্দকার মোশতাকের সমতুল্য আরেক খোন্দকার হিসেবে দাঁড় করাতে চাইছে?

অব. ভাইস মার্শালের লেখা “১৯৭১ :ভেতরে বাইরে” বইটি সদ্য প্রকাশিত। তাতে এমন কিছু বিতর্ক আবার সৃষ্টি করার চেষ্টা হয়েছে, যা জাতির জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর। যে বিতর্কগুলো স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির শিবির থেকে এতোকাল আওড়ানো হয়েছে এবং হচ্ছে। সেই কথাগুলো এ কে খোন্দকারের মতো একজন শীর্ষ মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামী লীগের একজন সাবেক এমপি ও মন্ত্রী হঠাৎ কি কারণে নিজের কণ্ঠে তুলে নিলেন, তা এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার।

যদি তার বইয়ের তথ্যগুলো সঠিক হতো কথা ছিলো না। মনে করা যেতো, তিনি শেষ বয়সে এসে ইতিহাসের সত্যকে স্বীকার করার সাহস দেখাচ্ছেন। কিন্তু তিনি তার বইতে যেসব তথ্য তুলে ধরেছেন তা যে সত্য নয়, তা তিনি নিজেও জানেন। এগুলো এতো সাম্প্রতিককালের ঘটনা যে, হাজার হাজার মানুষ তা জানে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের দিন যারা ঢাকায় রেসকোর্সের ময়দানে হাজির ছিলেন, তাদের অনেকেই এখনো বেঁচে আছেন। আমিও সেই সভায় ছিলাম। আমাদের কারো কানে বঙ্গবন্ধু ‘জয় পাকিস্তান’ বলেছেন এই কথাটা পৌঁছেনি। এমনকি যারা তার বক্তৃতাটি রেকর্ড করেছেন, তারাও কেউ রেকর্ড করেননি। বঙ্গবন্ধু কথাটা বললে অবশ্যই তারা পুরো বক্তৃতার সঙ্গে ওই কথাটাও রেকর্ড করতেন। এ কে খোন্দকার বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন কি, তিনি বঙ্গবন্ধুকে ‘জয় পাকিস্তান’ বলতে স্বকর্ণে শুনেছেন? তিনিতো ওই সভাতে হাজির ছিলেন বলেও জানি না। তাহলে স্বাধীনতার শত্রু শিবিরের প্রোপাগান্ডাটি বা শোনা কথাটি সর্বৈব মিথ্যা জেনেও তিনি কাদের স্বার্থে বা কাদের প্ররোচনায় বুড়ো বয়সে তার প্রচার করতে গেলেন?

আমি ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ৪ জানুয়ারির এবং ৭ মার্চের দুটো বিশাল জনসভাতেই হাজির ছিলাম। সত্তরের সাধারণ নির্বাচন তখন হয়ে গেছে। ৪ জানুয়ারি রেসকোর্সের মাঠের সভায় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ দলীয় নবনির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্যদের (তখন বলা হতো এম.এন. এ বা মেম্বার অব ন্যাশনাল এসেম্বলি) শপথ বাক্য পাঠ করাচ্ছিলেন। তিনি তখন পাকিস্তানের ভাবী প্রধানমন্ত্রী। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ঘোষণা করেছেন, ‘আমি শেখ সাহেবের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য অপেক্ষা করছি।’ ওই সভায় বঙ্গবন্ধু তবু বক্তৃতা শেষে বলেছেন, জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান। পাকিস্তানের ভাবী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার পক্ষে জয় পাকিস্তান না বলাটা কি সঙ্গত হতো? কৌশলগত দিক থেকেও এটা হতো শত্রুর হাতে নিজ থেকে অস্ত্র তুলে দেয়ার মতো।

অতঃপর যখন দেখা গেল, পাকিস্তানের সামরিক শাসকেরা নবনির্বাচিত জাতীয় সংসদের অধিবেশন নির্ধারিত দিনে ডাকতে রাজি নয়, জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে আদৌ সম্মত নয় এবং বাঙালিদের জন্য নিরস্ত্র অথবা সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া অনিবার্য, তখনই অনুষ্ঠিত হয় ৭ মার্চের ঐতিহাসিক সভা। এই সভাই আসলে স্বাধীনতা ঘোষণার আসল সভা। ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’—এ কথাটি বলার পর ‘আমি স্বাধীনতা ঘোষণা করলাম’ একথা কি আর বলার দরকার থাকে? পাকিস্তানি সামরিক জান্তা চাইছিল তিনি এই কথাটি বলুন। এই কথাটি শোনার জন্য তার সেদিন রেসকোর্সের মাঠের পাশে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সামনে কয়েক হাজার সৈন্য মোতায়েন রেখেছিল।

বঙ্গবন্ধু ‘স্বাধীনতা ঘোষণা করলাম’ কথাটি বলার সঙ্গে সঙ্গে তারা নিরস্ত্র জনতার উপর ঝাঁপিয়ে পড়তো। এই ঘোষণাকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী ঘোষণা’ আখ্যা দিয়ে তারা ওইদিনই গণহত্যা শুরু করতো। বঙ্গবন্ধু দক্ষ সেনাপতির মতো হানাদারদের এই সুযোগ দেননি। তিনি চেয়েছেন, পাকিস্তানের সামরিক জান্তা আগে হামলা চালাক। বিশ্ববাসী জানুক, একটি সাধারণ নির্বাচনের রায় না মেনে পাকিস্তানিরাই প্রথম বাংলাদেশে হামলা চালিয়েছে। নিরস্ত্র বাঙালি তা সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধে নেমেছে।

একইসঙ্গে ওই সভায় স্বাধীনতার ঘোষণাটিও তিনি দিয়েছেন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক দিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে ‘যার যা আছে তাই নিয়ে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার’ আহ্বান জানিয়েছিলেন। স্বাধীনতা ও মুক্তির আহ্বান জানানো এই ঐতিহাসিক সভায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ‘জয় পাকিস্তান’ বলা সম্ভব কি? না, তিনি বলেছেন? এই বিশাল জনসমুদ্রে কেউ বঙ্গবন্ধুকে ‘জয় পাকিস্তান’ বলতে শোনেনি। এটা পরবর্তীকালে আবিষ্কার করেছে স্বাধীনতার শত্রু শিবিরের সমর্থক একদল বুদ্ধিজীবী। তারা দেশবাসীর কাছে কথাটা বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারেননি। তাই কি স্বাধীনতার পক্ষে শিবিরের একজন শীর্ষব্যক্তি হিসেবে পরিচিত মানুষের বুড়ো বয়সের ভীমরতির সুযোগ নিয়ে তাকে দিয়ে কথাটা বলিয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করানোর চেষ্টা হচ্ছে? সেজন্য আবারও প্রশ্ন করছি, আমাদের অনেকের কাছেই এতোকাল শ্রদ্ধেয় এই মানুষটি বুড়ো বয়সে কাদের পাল্লায় গিয়ে পড়েছেন?

আমার সাংবাদিক জীবনের সব সততাকে সাক্ষী রেখে বলতে পারি, ৭ মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধুকে ‘জয় পাকিস্তান’ বলে তার ভাষণ শেষ করতে শুনিনি। কেউ শুনেছেন বলেও এতো দীর্ঘকাল যাবৎ জানি না। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে এই অপপ্রচারটি বিএনপি ঘরানার কিছু বুদ্ধিজীবী পরে শুরু করেন এবং এখন তা স্বাধীনতার পক্ষের শিবিরের লোক হওয়ার দাবিদার কিছু লোকের লেখায় এবং কথাতেও জানা যাচ্ছে। এটার লক্ষ্য, স্বাধীনতার যুদ্ধের নায়ককে হেয় করা এবং সেইসঙ্গে স্বাধীনতা যুদ্ধকেও ছোট করা। এই কাজটি এ.কে খোন্দকারের মতো ব্যক্তি করতে পারেন তা বিশ্বাস করতে আমার কষ্ট হয়।

বঙ্গবন্ধু অবশ্যই ৭ মার্চের ভাষণে ‘জয় পাকিস্তান’ বলেননি। তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেয়া যায়, তিনি বলেছেন, মহাভারত তাতে কিভাবে অশুদ্ধ হলো? কিম্বা এতো দীর্ঘকাল পর তা একটি বিতর্কের বিষয় হিসেবে প্রাসঙ্গিকতা পেতে পারে? আমাকে ঢাকার এক বন্ধু এ কে খোন্দকারের বইটি সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু যদি ‘জয় পাকিস্তান’ই বলবেন, তাহলে ওই মাসের ২৬ তারিখেই পাকিস্তানের সামরিক জান্তা কেন তাকে ‘পাকিস্তান ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রের’ নেতা হিসেবে গ্রেফতার করে ফাঁসির মামলার আসামি করে হত্যা করতে চাইতে পারে?

বন্ধুকে বলেছি, আমি সে বিতর্কেও যাচ্ছি না, আমার কথা হলো রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে যদি বঙ্গবন্ধু সেদিন ‘জয় পাকিস্তান’ বলতেনও তাতে স্বাধীনতা যুদ্ধের ব্যত্যয় কী হতো? গান্ধীর জীবনী যারা পাঠ করেছেন বা বিখ্যাত ‘গান্ধী’ ছবিটি যারা দেখেছেন তারা জানেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকাকালে ইংরেজ শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে গান্ধী তার সহকর্মীদের নিয়ে একবার শাদা পুলিশ ও সৈন্যদের দ্বারা ঘেরাও হয়ে পড়েন। পুলিশ ও সৈন্য জনতার দিকে বন্দুক তাক করলে গান্ধী ইংল্যান্ডের জাতীয় সঙ্গীত, ‘গড সেভ দ্য কিং’ সকলকে নিয়ে গাইতে থাকেন। সৈন্যরাও বন্দুক নামিয়ে সেই গান গাইতে থাকে। এটা ছিল গান্ধীর রাজনৈতিক কৌশল। ইংরেজ শাসকদের কাছে আনুগত্য প্রকাশ নয়। বঙ্গবন্ধুও ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তার জনসভার অদূরে রাইফেল হাতে অপেক্ষমাণ হানাদারদের অবস্থানের মুখে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ‘জয় পাকিস্তান’ বললে কিছুই অসঙ্গত হতো না। এ, কে খোন্দকার সাহেব তো পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দিয়ে চিরকাল কেবল পাকিস্তান জিন্দাবাদ শ্লোগান দিয়েছেন আর পাঞ্জাবী বসদের স্যালুট দিয়েছেন। তাহলে এখন ‘জয় পাকিস্তান’ নিয়ে তাদের এতো গাত্রদাহ কেন? বঙ্গবন্ধু যে কথা বলেননি, সে কথা তার মুখে পুরে দিয়ে তিনি এই শেষ বয়সে কাদের মিথ্যা প্রোপাগান্ডায় সাহায্য জোগাতে চান?

“১৯৭১ :ভেতরে বাইরে” বইটির মোড়ক উন্মোচনের অনুষ্ঠানে ড. আনিসুজ্জামান সভাপতিত্ব করেছেন এবং আরও অনেক বিদ্বজ্জন উপস্থিত থেকে বইটি সম্পর্কে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে উপস্থিত সারোয়ার আলীকে আমার অসংখ্য ধন্যবাদ। বইটিতে যে ইতিহাস-বিকৃতি ঘটানো হয়েছে এবং বিকৃত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তা তিনি উল্লেখ করেছেন। কিন্তু বইটিতে “বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযুদ্ধের কোনো প্রস্তুতি ছিল না” বলে যে মন্তব্য করা হয়েছে, সে সম্পর্কে আমাদের “গোল আলু প-িত” ড. আনিসুজ্জামান বলেছেন, “বিষয়টি একটি তথ্য।” যে বিষয়টি সত্য নয়, তা আমাদের গোল আলু প-িতের কাছে তথ্য হয়ে গেল কেমন করে?
ড. আনিসুজ্জামানকে এখন সব কাজে পাওয়া যায়, চ-িপাঠ থেকে জুতো সেলাই পর্যন্ত। ডাকলেই হলো। এজন্য কেউ কেউ বলেন, তিনি গোল আলু প-িত। গোল আলুর মতো সব রান্নাতেই লাগানো যায়। নইলে একটি বিকৃত তথ্য ভর্তি বই পাঠ করার আগে তিনি বইটির মোড়ক উন্মোচনে যেতেন না এবং বিতর্কিত ও বিকৃত তথ্যকে “তথ্য” আখ্যা দিতেন না।

“মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি এ. আর খোন্দকারদের ছিল না। থাকলে ২৬ মার্চ তারিখেও তাদের স্বগোত্রীয় মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানের হানাদারদের আদেশ মেনে জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাসের জন্য যেতেন না। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করানোর জন্য কালুরঘাটের বেতারকর্মীদের তাকে ধরে নিয়ে আসতে হতো না। এ. আর খোন্দকার বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন, পাকিস্তানি হানাদারেরা যদি মার্চ মাসে বেছে বেছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও হত্যা করতো এবং রাজারবাগ পুলিশ হেড কোয়ার্টারে হামলা না চালাতো এবং বাঙালি সেনা অফিসারদেরও নিরস্ত্র ও ঘেরাও করার নীতি গ্রহণ না করতো তাহলে তারা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতেন কি? মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ার প্রস্তুতি তাদের ছিলো কি?

বঙ্গবন্ধু সামরিক নেতা ছিলেন না। ছিলেন রাজনৈতিক নেতা। তবু ৭ মার্চের ভাষণেই তিনি জাতিকে মুুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রস্তুতির ডাক দিয়েছিলেন। অহিংস অসহযোগ আন্দোলন ছিল এই প্রস্তুতিরই প্রাথমিক অংশ। এই প্রস্তুতি না থাকলে ২৬ মার্চের মাত্র পনর দিনের মাথায় একটি অস্থায়ী জাতীয় সরকার কিভাবে গঠিত হয়? এক মাসের মধ্যে সাধারণ ছাত্র-যুবকদের নিয়ে সশস্ত্র মুক্তিফৌজ ও গেরিলা বাহিনী তৈরি হয়? ভারত কি করে যুদ্ধের শুরুতেই সাহায্য দিতে এগিয়ে আস্তে কোটি শরণার্থীর জন্য তার সীমান্ত খুলে দেয়? বিনা যুদ্ধ প্রস্তুতিতে মাত্র নয়মাসের মধ্যে কেবল ভারতের সাহায্যে বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে বলে কি এ. কে. খোন্দকার প্রমাণ করতে চান? তাহলে নিজের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়টি তিনি ত্যাগ করছেন না কেন?

এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ. কে. খোন্দকারকে আমি একজন সৎ ও নীতিনিষ্ঠ মানুষ বলে জানতাম। যদিও তার মধ্যে এই সততা ও নীতিনিষ্ঠার পরিচয় আমি সবসময় পাইনি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তিনি খোন্দকার মোশতাককে আনুগত্য জানিয়েছেন। জেনারেল জিয়া ও এরশাদ সাহেবেরও চাকরি করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে দলটির এমপি ও মন্ত্রী হওয়ায় মনে হয়েছিল তিনি তার বিবেক- বুদ্ধির কাছে ফিরে এসেছেন। কিন্তু শেষ বয়সে এসে যে খেল্ তিনি দেখালেন, তা দেখে আমার এক বন্ধু সাংবাদিক মন্তব্য করেছেন, “এক খোন্দকারের (খোন্দকার মোশতাক) জ্বালা এখনো ভুলতে পারিনি, এ দেখছি-আরেক খোন্দকারের আবির্ভাব।”

আমার ধারণা, এ. কে. খোন্দকারকে দিয়ে এই বইটি লেখানো এবং এর প্রকাশনা একটি সমন্বিত ষড়যন্ত্রের অংশ। এটা শুধু ইতিহাস-বিকৃতি নয়, স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস ধ্বংস করার সংঘবদ্ধ প্রয়াস। এ সম্পর্কে আলাদা একটি নিবন্ধে বিস্তারিত আলোচনার ইচ্ছা রাখি।

ইত্তেফাক, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

2090 জন পড়েছেন

Comments are closed.