আজকের বিশ্ব/রাষ্ট্রীয় আদর্শ ও মুখোশ

2979 জন পড়েছেন

প্রচলিত ‘সভ্যতার’ ব্যাপারে জীগমড ফ্রোয়েড (Sigmund Freud) সন্দিহান ছিলেন। তার দৃষ্টিতে এটা ছিল skin deep. চামড়া একটু খুঁড়লেই এই ‘মানবতার’ মুখোশ উন্মোচিত হবে এবং পশুত্ব ধরা দেবে। আজকের এই যে সর্বগ্রাসী বন্দুকের নল, এই যে মিথ্যাচার, এই যে ‘সভ্যতার’ দাবি, এই যে প্রগতি (!), সাম্যবাদ, স্বাধীনতা –এসব কি, এবং কোথায়? আজকের বাক্য ও শব্দের পিছনের অংশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই তো দেখেছেন বাংলাদেশের ‘আভ্যন্তরীণ আদর্শিক দ্বন্দ্ব’ কীভাবে বিচার, যুদ্ধাপরাধ, কলঙ্কমুক্তি -এইসব মিথ্যাচারে পরিবাহিত হল। এসব হল সাধারণ জনগোষ্ঠীকে ধোঁকার নিমিত্তে। আপনি ‘দ্যা প্রটোকল অফ দি জায়োনিস্ট’ ডকুমেন্টটা পড়ে দেখবেন। ধোঁকাগ্রস্থগণ বলবে, এগুলো ‘কন্সপিরেসি থিওরি’। ব্যাস, তারা এতটুকুও গিলেছে। তাই তারা এই আলোচনা থেকেও মুক্ত। ক্বালবের দৃষ্টি ভাষায় বন্দী। জায়োনিস্টদের পক্ষে আজকের রাষ্ট্রীয় ‘ভাষা’ এবং ‘নীরবতা’ লক্ষ্য করুন। করুণ অবস্থা! এই যে শিক্ষা, ‘শিক্ষিত’, ন্যায়, ‘ন্যায়পরায়ণতা’, এই যে যুক্তিবাদ, বিজ্ঞানবাদ –এসব নিয়ে কি সাধারণ মানুষ নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করার অবস্থানে আছে? শিক্ষা যেখানে নিয়ন্ত্রিত, যেখানে ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রিত, যেখানে জ্ঞানের উপায় উপকরণ নিয়ন্ত্রিত, আর ফার্মের মোরগগুলো যখন ফার্মের স্বাধীনতা, ন্যায়নীতি, সাম্য-মুক্তির দাবীতে বিহব্বলিত তখন মালিকগণ খাবার টেবিলে বসে এই শিক্ষা-ব্যবস্থা, এই নিয়ন্ত্রণের যথার্থতা ও উপকারিতা নিয়ে সন্তুষ্টি জ্ঞাপন না করার কোনো কারণ নেই। যে সার্বিক প্রেক্ষিত থেকে এই “অন্ধত্বের” প্রসার হচ্ছে সেই প্রেক্ষিতকে “আলো” হিসেবে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সারা বিশ্বে আর ওখানেই পতঙ্গগুলোর আত্মাহুতি ঘটছে। কিন্তু এগুলো কে দেখবে, কীভাবে দেখবে? আল্লাহ বলেন, لَهُمْ قُلُوبٌ لَّا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُ‌ونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَّا يَسْمَعُونَ بِهَا ۚ أُولَـٰئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ ۚ أُولَـٰئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ তাদের ক্বালব আছে (কিন্তু) তা দিয়ে তারা বুঝে না। তাদের চোখ আছে (কিন্তু) তা দিয়ে তারা দেখে না। তাদের কান আছে (কিন্তু) তা দিয়ে তারা শোনে না। তারা গবাদি-পশুর ন্যায়, বরং তারা আরও পথভ্রষ্ট। তারা হচ্ছে উদাসীন (৭/১৭৯)

বিষয়: বিবিধ

2979 জন পড়েছেন

About এম_আহমদ

প্রাবন্ধিক, গবেষক (সমাজ বিজ্ঞান), ভাষাতাত্ত্বিক, ধর্ম, দর্শন ও ইতিহাসের পাঠক।

Comments are closed.