প্যালেস্টাইনের রক্ত এবং আমাদের কান্না

2342 জন পড়েছেন

ফিলিস্তিন বা প্যালেস্টাইন, এই নাম দুটি আমাদের কাছে অতি পরিচিত। জেরুজালেম একটি সুপ্রাচীন নগরীর নাম। এটিও আমাদের কাছে অতি পরিচিত ও প্রিয়। পৃথিবীর বিভিন্ন শহরে, ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের উপাসনালয় সহ-অবস্থান করে। কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের জনগণের শহর পাশাপাশি অথবা ভিন্ন ভিন্ন জনগণের একাধিক রাষ্ট্র পাশাপাশি সহ-অবস্থান করতে পারে না, এটাই আশ্চর্য এবং দুঃখজনক। ইসরাইল এবং ফিলিস্তিন উভয়কে সম্মিলিতভাবে যদি একটি ভূখণ্ড মনে করি, উভয় ভূখণ্ডে বসবাসরত মানুষকে যদি একটি জনগোষ্ঠী মনে করি, তাহলে আমার মন্তব্য এই যে, তিনটি ভিন্ন ধর্মের মানুষ এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে আছে এবং এই ভূখণ্ডে বসবাস করে। দ্বীন ইসলামের অনুসারী মুসলমানগণ, জুডাইজম বা ইহুদি ধর্মের অনুসারী ইহুদিগণ এবং খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারী খ্রিস্টানগণ। এই তিন ধর্মের জন্য আলাদা আলাদা উপাসনালয় যেমন থাকে, তেমনি একটি শহর এই তিন ধর্মের কাছেই অতি পবিত্র। শহরটির নাম জেরুজালেম। এই শহরটি বর্তমানে ইহুদিদের দখলে। এই শহরে অশান্তিপূর্ণ পরিবেশে তিনটি ধর্মের মানুষ অবস্থান করছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে ১৯৭১ সালে। বাংলাদেশের সাবেক পরিচয়, পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের পূর্ব পাকিস্তান নামক প্রদেশ। সাবেক শাসক ও দখলদার পাকিস্তানিদের বিতাড়িত করেই আমরা স্বাধীন হয়েছি। আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস নয় মাসের। কিন্তু ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার সংগ্রামের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছিল ১৯১৮ সালে। তৎকালীন মুসলমানদের খেলাফত অটোমান সাম্রাজ্য ধ্বংস করে দিয়েছিল বিজয়ী খ্রিস্টান শক্তিগুলো যথা বিলাত ও আমেরিকা। মধ্যপ্রাচ্যের ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরে প্যালেস্টাইন নামক বিশাল ভূখণ্ডের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করা হয়েছিল ইংল্যান্ডকে। এখান থেকেই ইসরাইল নামক রাষ্ট্রের জন্মের গল্প শুরু। ইসরাইল নামক রাষ্ট্রটি এসেছে দুইটি পদ্ধতিতে। প্রথম পদ্ধতি হলো, ১৯৪৮ সালের আগে প্রায় এক দশক গেরিলা পদ্ধতিতে ইহুদি গেরিলা যোদ্ধাগণ তৎকালীন প্যালেস্টাইন শাসনকারী ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করে স্বাধীন ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। ওই গেরিলা সংগঠনের নাম ছিল হাগানা এবং তার অন্যতম নেতা ছিলেন মোশে দায়ান নামক একজন বিখ্যাত ব্যক্তি। দ্বিতীয় পদ্ধতি হল, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ইহুদিগণের সংগঠনগুলো স্বাধীন ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পৃথিবীর বড় বড় দেশগুলোর সঙ্গে দেন-দরবার ও তদ্বির করতে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল তৎকালীন (১৯৪০-এর দশক) পৃথিবীর বড় গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর ভূ-কৌশলগত স্বার্থ। এই বড় গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো চাচ্ছিল মধ্যপ্রাচ্য নামক বিরাট ভূখণ্ডে তাদের প্রতি বন্ধুপ্রতিম একটি দেশ ও একটি জনগোষ্ঠী থাকুক। ইহুদিদের চেষ্টা এবং বড় গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর আগ্রহ- এই দুয়ে মিলে সৃষ্টি হয় ইসরাইল নামক রাষ্ট্র। পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী দেশ ইংল্যান্ড এবং তার মিত্ররা কৌশল করে ইহুদি জনগোষ্ঠীকে প্যালেস্টাইনের একটি জায়গায় জড়ো করে। অতঃপর সেটিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করে তোলে। স্বাধীন রাষ্ট্র ইসরাইল বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্য। ইসরাইল নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ওই এলাকায় বিশাল জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়। বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেশিরভাগ মুসলমান, অতি ক্ষুদ্র অংশ খ্রিস্টান। যেদিন ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হল, সেদিন থেকেই ফিলিস্তিনি জনগণের মনের মধ্যে প্রতিরোধ সংগ্রামের বীজ রোপিত হল। ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিরোধ সংগ্রামের মূল লক্ষ্য হল, নিজেদের হারিয়ে যাওয়া ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করা বা যতটুকু ভূখণ্ড নিজেদের দখলে আছে সেটিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। ১৯৬০-এর দশক, ৭০-এর দশক এবং ৮০-এর দশক প্যালেস্টাইনের জনগণের পক্ষ থেকে আন্দোলন ও স্বাধীনতা যুদ্ধ তুঙ্গে ছিল। সরাসরি সম্পৃক্ত না হলেও, ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধ এবং ১৯৭৩ সালের মিসর-ইসরাইল যুদ্ধ- এই পরিস্থিতিতে প্রভাব বিস্তার করে। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের বিশেষ উদ্যোগে একটি শান্তি প্রক্রিয়া গতি পায় ও দৃশ্যমান হয়। প্যালেস্টাইন নামক রাষ্ট্র আস্তে আস্তে গঠন হতে থাকে। এখন প্যালেস্টাইন নামক দেশটি, জাতিসংঘে পর্যবেক্ষকের মর্যাদাপ্রাপ্ত। অপরপক্ষে ১৯৪৮-এ জন্মের পর থেকে ২০১৪ সাল, এই ৬৬ বছরে অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে ইসরাইল নামক রাষ্ট্রটি সামরিকভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়েছে। এই মুহূর্তে অর্থনৈতিকভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে অন্যতম শক্তিশালী ও সামরিকভাবে প্রধান শক্তি ইসরাইল বর্তমানে আমেরিকার এক নম্বর বন্ধু রাষ্ট্র। এর কারণ আছে। আমেরিকার নগরে-জনপদে, ব্যবসায়-বাণিজ্যে, সরকারে-বিরোধী দলে, সংস্কৃতিতে-ঐতিহ্যে, সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনীসমূহে, সরকারি চাকরিতে ও সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে, এক কথায় জনজীবনের সবকিছুতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব প্রক্রিয়ায় শিক্ষিত মেধাবী ও ধনী ইহুদি জড়িত। আমার সংগ্রহের একটি বইয়ের নাম দি ইসরাইল লবি অ্যান্ড ইউএস ফরেন পলিসি। লেখক জন জে মিয়ারশেইমার এবং স্টিফেন এম ওয়াল্ট। বইটির পাতায় পাতায় ছত্রে ছত্রে প্রিয় এবং অপ্রিয় সত্য কথা বিধৃত আছে। ইসরাইলি লবি মানে হচ্ছে ইসরাইলের অনুকূলে তদ্বিরকারী গোষ্ঠী। পাশ্চাত্য সভ্যতা, পাশ্চাত্য অর্থনৈতিক শক্তি ও পাশ্চাত্য সামরিক শক্তিগুলোর কাছে মধ্যপ্রাচ্য যেমন তার তেল সম্পদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই ওই তেল সম্পদের মালিক মুসলমান অধ্যুষিত রাষ্ট্রগুলোকে বিব্রত অবস্থায় রাখার জন্য, ব্যস্ত রাখার জন্য, চাপের মুখে রাখার জন্য ইসরাইল নামক রাষ্ট্রটি পাশ্চাত্যের কাছে প্রয়োজনীয়। গত পনেরো দিন ধরে প্যালেস্টাইন নামক রাষ্ট্রের অন্যতম অংশ গাজাতে যেভাবে মুসলমান নিধন ও রক্তক্ষরন চলছে, সেটি হঠাৎ কোনো ঘটনা নয় এবং তার হাজার পৃষ্ঠার প্রেক্ষাপট হাজারেরও কম শব্দে বর্ণনা করলাম।

 

 

 

মনে রাখতে হবে বাংলাদেশেও ইসরাইলি লবি, ভারতীয় লবি, পাকিস্তানি লবি, আমেরিকান লবি, সৌদি লবি ইত্যাদি আছে। ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ একটি দুর্ধর্ষ ও দক্ষ বাহিনী। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র একটি দূরদর্শী ও দক্ষ বাহিনী। মোসাদ এবং র পরস্পরের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সহযোগী। মোসাদ এবং র-এর অনুকূলেই লবি বাংলাদেশে দারুণভাবে সক্রিয়।

 

 

 

প্যালেস্টাইনের মুসলমানদের প্রতি শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসা আছে এমন বাংলাদেশী মুসলমানের সংখ্যা কোটি কোটি। কিন্তু তারা অসংগঠিত। এই প্যালেস্টাইন-বান্ধব কোটি জনতার কোনো মুখপত্র নেই। অনেকেই একটু একটু বলে, কেউই পুরো বলে না। তারাবির নামাজের পরে মোনাজাতে ফিলিস্তিনিদের জন্য দোয়া করা হচ্ছে, মানুষ আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করছে। মধ্যরাতের সম্মিলিত তথা জামায়াতে আদায়কৃত তাহাজ্জুদের নামাজ (যাকে কিয়ামুল লাইল বলা হয়)-এর পরে মোনাজাতেও মানুষ বুক ফাটিয়ে কান্নাকাটি করছে। শুক্রবারের জুমার নামাজে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য দোয়া করা হচ্ছে। কিন্তু এতটুকু পর্যন্তই। ফিলিস্তিনি জনগণের সহায়তার জন্য আমরা সবাই চাঁদা তুলতে পারি। ব্যক্তি উদ্যোগে চাঁদা তোলা হলে তা চাঁদাবাজির পর্যায়ে পড়বে। তাই আনুষ্ঠানিক পদ্ধতিতেই চাঁদা তুলতে হবে। ঢাকা মহানগরে এবং অন্যান্য শহর ও বিখ্যাত জায়গাগুলোতে সুপ্রতিষ্ঠিত বিশ্বাসযোগ্য নাগরিকগণের সম্মিলিত সহযোগিতায় প্যালেস্টাইন সাহায্য কমিটি গঠন করা যেতে পারে। তারা যৌথভাবে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। তারা স্থানীয় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবগত রেখেই সবকিছু করতে পারে। তারা ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুর জন্য ওষুধ এবং পথ্য কিনতে পারে বা কেনার জন্য তহবিল সৃষ্টি করতে পারে। তারা ফিলিস্তিনি দুর্গত মানুষের জন্য কাপড়-চোপড় সংগ্রহ করতে পারে (তবে প্যালেস্টাইন এলাকায় পরার মতো হতে হবে)। এসব সংগৃহীত অর্থ, কাপড়-চোপড়, ওষুধ-পথ্য ইত্যাদি ঢাকায় অবস্থিত ফিলিস্তিন দূতাবাসে দেয়া যেতে পারে অথবা বাংলাদেশে বিদ্যমান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দফতরসমূহে দেয়া যেতে পারে। গ্রহণকারী রেড ক্রিসেন্টের অফিস ফিলিস্তিনে পাঠানোর বন্দোবস্ত করতে পারবেন, বাংলাদেশের এবং আন্তর্জাতিক আইন-কানুন মেনে। বিদ্যমান প্যালেস্টাইন পরিস্থিতি নিয়ে, ইসরাইলি নরহত্যা ও গণহত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মানববন্ধন ও মিছিল করেছে। অল্প কয়েকটি জায়গায় আলোচনাও হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে একটি বিশাল অংশ নিজেরাই অর্থনৈতিক কষ্টে এবং নিপীড়িন ও বঞ্চনার মধ্যে জীবনযাপন করে। তাই এই নিপীড়িত, বঞ্চিত দরিদ্র জনগণ পৃথিবীর অন্যত্র নিপীড়িত জনগণের কথা শুনে মনে কষ্ট পায়, চোখের পানি ছাড়ে। কিন্তু এর বেশিকিছু করার সামর্থ্য ও সময় তাদের সামনে থাকে না। সুতরাং বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর মধ্যে যারা সচেতন, যারা লেখাপড়া জানেন, যারা পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করেন, যারা রাজনীতি করেন এবং বিভিন্ন সচেতন পেশাজীবীগণ প্যালেস্টাইনের অনুকূলে জনমত সৃষ্টি করার জন্য অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারবেন। সর্বাধিক এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন সাংবাদিক সম্প্রদায়। বাংলাদেশের সম্মানিত সাংবাদিকগণ অসহায় ফিলিস্তিনিদের পক্ষে সংবাদ করছেন। তাদেরকে ধন্যবাদ। কিন্তু আরও বেশি কিছু করার অবকাশ আছে। ইসরাইলের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইসরাইল বেঁচে আছে শত্র“ পরিবেষ্টিত অবস্থায়। ইসরাইলের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইসরাইলের প্রতিটি মানুষের জীবন এবং ভূখণ্ডের নিরাপত্তা প্রতিনিয়তই হুমকির সম্মুখীন। ইসলাইলের দৃষ্টিভঙ্গিতে এই হুমকির প্রধানতম কারণ প্যালেস্টাইন ও ফিলিস্তিনি জনগণ। এই প্যালেস্টাইনি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে দীর্ঘদিন ধরে দুইটি রাজনৈতিক-সামরিক সংগঠন, যার নাম পিএলও এবং হামাস। গাজা নামক ভূখণ্ডের আয়তন অতি ক্ষুদ্র, জনসংখ্যা অতি নিবিড়। এই জনসংখ্যাকে গাজা থেকে বিতাড়িত করাই ইসরাইলের উদ্দেশ্য। গাজা ভূখণ্ডে ইসরাইল প্রতিনিধিত্ব চায়। তারা হামাসকে নির্মূল করতে চায়।

 

 

 

 

 

 

 

 

তাই তারা হামাসকে নির্মূল করার ঘোষিত উদ্দেশ্যে নিরীহ সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালায়, কামানের গোলাবর্ষণ করে, বিমান থেকে আগুন ধরানো গোলা নিক্ষেপ করে এবং কংক্রিট বিধ্বংসী গোলা নিক্ষেপ করে। গাজা ভূখণ্ডের অনেক অংশেই এখন কোনো দালান-কোঠা দণ্ডায়মান নেই। অনেক মসজিদ বিধ্বংস হয়ে ধুলায় পরিণত হয়েছে। শত শত মানুষ মারা গেছে। বেশি মারা গেছে নারী ও শিশু। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেয়ার মতো অতি সম্প্রতি চার দিন আগে ইসরাইল আহ্বান জানিয়েছে গাজা ও ইসরাইলের সীমান্তরেখার নিকটবর্তী এলাকার ফিলিস্তিনি জনগণ যেন নিজেদের আবাসস্থল ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যায়। তাহলে ইসরাইল, শান্তিতে(!) ও সুন্দরভাবে(!) ওই এলাকার ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ও স্থাপনাসমূহ ধ্বংস করতে পারবে।

 

 

 

 

 

 

হিস্টোরিক্যাল ডিকশনারি অফ টেরোরিজম নামক একটি ৬১৮ পৃষ্ঠার বইয়ের শুরুতেই টেরোরিজম-এর ক্রোনোলজি দেয়া আছে। প্রথম এন্ট্রি হচ্ছে ৬৬ থেকে ৭০ খ্রিস্টাব্দে ইহুদি উগ্র জাতীয়তাবাদী (শিকারী) আন্দোলন রোমান সাম্রাজ্যের জুদিয়া অঞ্চলে ব্যাপক অরাজকতা ও জনবিদ্রোহ সৃষ্টি করে। যার কারণে, রোমান শাসকগণ তৎকালীন জেরুজালেম নগরীতে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালায়। একই সময়ে ও প্রক্রিয়ায়, রোমান শাসকগণ জেরুজালেমের দ্বিতীয় মন্দিরও ধ্বংস করে। রোমান শাসকগণের শাস্তিস্বরূপ মাসাদা দুর্গে প্রচুর মানুষ বন্দি হয়েছিল এবং তারা সম্মিলিতভাবে আত্মহত্যা করেছিল। ওই একই ইহুদিরাই এখনও পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ও জনপদে আধুনিক প্রক্রিয়ায় ও আধুনিক অস্ত্র দিয়ে মানুষের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে। তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক পাশ্চাত্য শক্তিসমূহ। পাশ্চাত্যদের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সব মুসলিম দেশ ঐক্যবদ্ধ হতে পারে না। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশসমূহের জনগণের স্বার্থ থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ হচ্ছে দেশে দেশে বিভিন্ন শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থ। তাই কোনো শাসকগোষ্ঠীই নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করে, পাশ্চাত্য শক্তিগুলোকে বিরাগভাজন করে, ফিলিস্তিনিদের অনুকূলে কোনো সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে পারছে না। কেউ বলেন বিশ্বশক্তি ইসরাইলের বিরুদ্ধে অসহায়। কেউ বলেন মুসলমানগণ অসহায়। আসলে ইচ্ছাশক্তির অভাবই হচ্ছে মূল অসুস্থতা।

Facebook Comments

2342 জন পড়েছেন


মন্তব্য দেখুন