ভ্রমণ, অসুস্থতা ও ঋতুস্রাব অবস্থায় রোজার বিধান

1672 জন পড়েছেন

আমরা জানি যে, অসুস্থতা ও ভ্রমণের সময় কষ্টকর অবস্থায় পড়লে আল-কোরআনে (০২:১৮৪, ১৮৫) রোজা না রাখা বা ক্ষেত্র বিশেষে ভেঙ্গে ফেলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আর হাদিছে ঋতুস্রাব শুরু হলে নারীগণকে সে সময়ের জন্য সালাত থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে এবং রোজা ভেঙ্গে ফেলে পরবর্তীতে তা পূরন কোরে নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে-

………………………………

এ বিষয়ে কয়েকটি হাদিছ উল্লেখ করা হলো-

Narrated `Aisha: The Prophet (ﷺ) said to me, "Give up the prayer when your menses begin and when it has finished, wash the blood off your body (take a bath) and start praying."

Reference : Sahih al-Bukhari 331

In-book reference : Book 6, Hadith 35

USC-MSA web (English) reference : Vol. 1, Book 6, Hadith 327

………………………………

Narrated `Aisha:Fatima bint Abi Hubaish said to Allah's Messenger (ﷺ), "O Allah's Messenger (ﷺ)! I do not become clean (from bleeding). Shall I give up my prayers?" Allah's Messenger (ﷺ) replied: "No, because it is from a blood vessel and not the menses. So when the real menses begins give up your prayers and when it (the period) has finished wash the blood off your body (take a bath) and offer your prayers."

Reference : Sahih al-Bukhari 306

In-book reference : Book 6, Hadith 11

USC-MSA web (English) reference : Vol. 1, Book 6, Hadith 303

……………………………….

Narrated Mu`adha: A woman asked `Aisha, "Should I offer the prayers that which I did not offer because of menses" `Aisha said, "Are you from the Huraura' (a town in Iraq?) We were with the Prophet (ﷺ) and used to get our periods but he never ordered us to offer them (the Prayers missed during menses)." `Aisha perhaps said, "We did not offer them."

Reference : Sahih al-Bukhari 321

In-book reference : Book 6, Hadith 26

USC-MSA web (English) reference : Vol. 1, Book 6, Hadith 318

……………………………….

Narrated `Aisha: Fatima bint Abi Hubaish asked the Prophet, "I got persistent bleeding (in between the periods) and do not become clean. Shall I give up prayers?" He replied, "No, this is from a blood vessel. Give up the prayers only for the days on which you usually get the menses and then take a bath and offer your prayers."

Reference : Sahih al-Bukhari 325

In-book reference : Book 6, Hadith 30

USC-MSA web (English) reference : Vol. 1, Book 6, Hadith 322

……………………………….

Narrated Abu Sa`id: The Prophet (ﷺ) said, "Isn't it true that a woman does not pray and does not fast on menstruating? And that is the defect (a loss) in her religion."

Reference : Sahih al-Bukhari 1951

In-book reference : Book 30, Hadith 58

USC-MSA web (English) reference : Vol. 3, Book 31, Hadith 172

…………………………………..

'A'isha reported: The Messenger of Allah () said to me: Get me the mat from the mosque. I said: I am menstruating. Upon this he remarked: Your menstruation is not in your hand.

Reference : Sahih Muslim 298 a

In-book reference : Book 3, Hadith 11

USC-MSA web (English) reference : Book 3, Hadith 587

…………………………………..

Mu'adha said: I asked 'A'isha: What is the reason that a menstruating woman completes the fasts (that she abandons during her monthly course). but she does not complete the prayers? She (Hadrat 'A'isha) said: Are you a Haruriya? I said: I am not a Haruriya, but I simply want to inquire. She said: We passed through this (period of menstruation), and we were ordered to complete the fasts, but were not ordered to complete the prayers.

Reference : Sahih Muslim 335 c

In-book reference : Book 3, Hadith 85

USC-MSA web (English) reference : Book 3, Hadith 662

……………………………….

অনেকে হাদিছের এই বক্তব্যকে আল-কোরআন বিরোধী ভেবে ভুল করেন। তাদের এই ভুল ভাঙ্গানোর জন্য আমার এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। সর্বজ্ঞ মহান আল্লাহতায়ালা যেন আমাদেরকে সরল ও সত্য পথে চলার তৌফিক দান করেন।

এবার নিচের আয়াতগুলোর প্রতি লক্ষ করি-

সূরা বাকারা (মদীনায় অবতীর্ণ)

(২:১৮৩) অর্থ- হে ঈমানদারেরা! তোমাদের উপর রোজার বিধান দেয়া হয়েছে, যেমন বিধান দেয়া হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা তাকওয়াবান অর্থাৎ পরহেজগার (আল্লাহভীরু, সচ্চরিত্র, ধর্মনিষ্ঠ, পাপমুক্ত, নীতিবান) হতে পার-

(২:১৮৪) অর্থ- নির্দিষ্ট/ গণনার কয়েকটি দিনের জন্যে। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ্ অথবা সফরে আছে, অন্য সময়ে/ দিনে সেই নির্দিষ্ট সংখ্যা (রোজা) পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি তাদের ক্ষেত্রে (অর্থাৎ যারা অসুস্থ্য অথবা সফরে আছে তাদের মধ্যে) যারা সামর্থ রাখে- একটির মুক্তিপণ হিসেবে একজন মিসকীনকে খাওয়ানোর; সুতরাং যে স্বেচ্ছায় সৎকর্ম করে তখন তা তার জন্য উত্তম হয়, আর রোজা তো তোমাদের (সবার) জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে। 

(২:১৮৫) অর্থ- রমজান মাসই হল সে মাস, যাতে অবতীর্ণ করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্যে হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্যে সুস্পষ্ট পথনির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসটি পাবে, সে এর মধ্যে রোজা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ্য কিম্বা মুসাফির অবস্থায় থাকবে, সে অন্যদিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্যে সহজ করতে চান; তোমাদের জন্যে কঠোরতা/ সংকীর্ণতা কামনা করেন না- যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার জন্য আল্লাহর মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।

 

এবার (০২:২২২) নং আয়াতের প্রতি লক্ষ্য করি যেখানে নারীদের ঋতুস্রাবকালীন অবস্থার কথা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে-

সূরা বাকারা (মদীনায় অবতীর্ণ)

(০২:২২২) অনুবাদ- আর তারা তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েজ (ঋতু/ মাসিক) সম্পর্কে। বলে দাও, এটা  (adhan = ailment, trouble, hurt) পীড়া/ অসুস্থতা/ যন্ত্রণা/ অস্বস্তি/ কষ্ট/ ক্ষতি। কাজেই তোমরা হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন।

 

মহান আল্লাহতায়ালা এই (০২:২২২) নং আয়াতে নারীদের ঋতুস্রাবকালীন অবস্থার কথা বলতে গিয়ে দুটি বিষয় উল্লেখ করেছেন। প্রথমত এই অবস্থাকে পীড়া/ অসুস্থতা/ যন্ত্রণা/ অস্বস্তি/ কষ্ট/ ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং দ্বিতীয়ত এই অবস্থা থেকে পবিত্রতা অর্জনের কথাও বলা হয়েছে। একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায় যে, মানুষ যখন কোন কারণে নাপাক/ অপবিত্র অবস্থায় থাকে তখনই পবিত্রতা অর্জনের প্রশ্ন আসে।

 

অসুস্থ অবস্থায় কষ্টকর হতে পারে বিবেচনা কোরে (০২:১৮৪-১৮৫) নং আয়াতে রোজা পালনের ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া  হয়েছে অর্থাৎ রোজাদারের জন্য অসুস্থ অবস্থায় রোজা রাখা সম্ভব না হলে বা রোজা ভাংতে হলে সেই সুযোগ খোলা রাখা হয়েছে। সেইসাথে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ সহজ করতে চান এবং দ্বীন পালনের ক্ষেত্রে তিনি কঠোরতা/ সংকীর্ণতা কামনা করেন না। আবার আল্লাহতায়ালা রোজা পালনকে উত্তম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং তিনি  চান যে তাঁর বান্দা যেন ছেড়ে দেয়া রোজার গণনা/ নির্দিষ্ট সংখ্যা পরবর্তীতে পূর্ণ করে নিতে পারে। যেহেতু (০২:২২২) নং আয়াতে ঋতুস্রাবকালীন অবস্থাকে পীড়া/ অসুস্থতা/ যন্ত্রণা/ অস্বস্তি/ কষ্ট/ ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাই ঋতুস্রাবকালীন অসুস্থ অবস্থার কথা বিবেচনা কোরে রাসুলের (সাঃ) বর্ণিত সহী হাদিছে এ সময়ে রোজা না রাখার বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। সেই সাথে (০২:২২২) নং আয়াতের বক্তব্যের প্রতি লক্ষ করলে দেখা যায় যে, এখানে ঋতুস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জনের বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে। ঋতুস্রাবের সময় নারীগণ প্রকৃতিগতভাবেই সার্বক্ষণিক নাপাক অবস্থার মধ্যে অতিবাহিত করেন বিধায় এ অবস্থা থেকে পবিত্রতা অর্জনের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর আমরা জানি যে, সালাত আদায়ের জন্য পবিত্রতা অর্জন করা একটি অন্যতম শর্ত। যেহেতু এ অবস্থা তাদের নিজের ইচ্ছাধীন নয়। তাই ঋতুস্রাবকালীন অনিচ্ছাকৃত এই অপবিত্র ও অস্বস্তিকর অবস্থার কথা বিবেচনা করে এ সময় একদিকে যেমন নারীগণকে সালাত আদায় করা থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে, অপরদিকে তেমনি অস্বস্তিকর/ পীড়াদায়ক/ ক্ষতিকর/ অসুস্থ অবস্থার কথা বিবেচনা করে রোজা না রাখার বা ভঙ্গ করার অনুমতি দেয়া হলেও রোজা রাখা উত্তম বিধায় পরবর্তীতে তা পূরন কোরে নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে নারীদের জন্য এক বিশেষ অনুগ্রহ। কাজেই এই বিশেষ অনুগ্রহকে অস্বীকার কিংবা অবজ্ঞা না কোরে বরং আল-কোরআন ও হাদিছ অনুসারে যথাযথভাবে মেনে চলাই ইমানের দাবি।

1672 জন পড়েছেন

Comments are closed.