প্রআলোর ভারতীয় প্রতিনিধি দীপাঞ্জন রায় চৌধুরীর একক ও ধূরন্ধর আবিস্কার বিএনপি ISI হতে ঘুষ নিয়েছে!

1982 জন পড়েছেন


ছবিঃ বিএনপি আইএসআই এর টাকা নিয়েছে, প্রচারকারী প্রথম আলোর সাংবাদিক দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী

বিএনপি পাকিস্থানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর কাজ থেকে ৫০ মিলিয়ন রুপি (মানে ৫ কোটি রুপি) খেয়েছে। এটি হচ্ছে এখন টক অফ দ্যা কান্ট্রি। আসুন ঘটনাটি ধারাবাহিক ভাবে বিশ্লেষণ করা যাক,

১.
৩ মার্চ ২০১২ সংযুক্ত আরব-আমিরাত (দুবাই থেকে প্রকাশিত) ভিত্তিক ভারতীয়দের দ্বারা পরিচালিত পত্রিকা খালিজ টাইমের (Khalij Times)অনলাইন ভার্সনে খবরটি প্রথম প্রচার করা হয়। এতে বলা হয়,
Another Rs50 million was allegedly paid to Bangladesh’s Khalida Zia to help her in polls against Hasina Wajid’s Awami League generally perceived by Pakistan’s security establishment as pro-India
(খালেদাকে আইএসআইয়ের পাঁচ কোটি রুপি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ‘ভারতপন্থী’ আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনাকে ঠেকাতে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে খালেদাকে পাঁচ কোটি রুপি দেয় আইএসআই। )
দেখুন এখানে,

পরের দিন ৪ মার্চ ২০১২ প্রথম আলোর অনলাইন ভার্শনে খবরটি প্রচার করে।
প্রথম আলো লিখেছে,
দুবাই থেকে প্রকাশিত খালিজ টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে গতকাল শনিবার এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। খালিজ টাইমস এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে খালেদাকে আইএসআইয়ের পাঁচ কোটি রুপি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ‘ভারতপন্থী’ আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনাকে ঠেকাতে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে খালেদাকে পাঁচ কোটি রুপি দেয় আইএসআই। তবে পাকিস্তানের দ্য নিউজ ও প্রধান বিজনেস ডেইলি বিজনেস রেকর্ডার-এর প্রতিবেদনে খালেদাকে অর্থ দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো তথ্য নেই।

মজার ব্যাপার হলো, প্রথম আলো লিখে, তবে পাকিস্তানের দ্য নিউজ ও প্রধান বিজনেস ডেইলি বিজনেস রেকর্ডার-এর প্রতিবেদনে খালেদাকে অর্থ দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো তথ্য নেই।
এমনকি পাকিস্থানের প্রধান পত্রিকা ডন (Daily Dawn) পুরো রিপোর্টি প্রচার করলেও বাংলাদেশ বা খালেদাকে টাকা দেয়ার বিষয় ছিল না। দেখুন এখানে,

 

ডেইলী টাইমস (Daily Times)নামের আরেকটি পাকিস্থানী দৈনিক এ সংক্রান্ত কোন রিপোর্ট ছিল নয়া,

 

প্রথম আলো ৪ মার্চ খবরটি প্রচারের পরেই মুলত আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা এটি লুফে নেয়।
৬ মার্চ ২০১২ জাতীয় সংসদে দাড়িয়ে তিনি বলেন,
‘৪ মার্চ প্রথম আলো পত্রিকায় ছাপা হয়েছে, বিএনপি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জেতার জন্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কাছ থেকে পাঁচ কোটি রুপি নিয়েছিল।
দেখুন এখানে,

২.
১৫ মার্চ ভারতীয় অনলাইন পত্রিকা ডেইলী মেইলে দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী লিখেছে
Pakistan ISI admits supporting insurgency in India’s Northeast
By Dipanjan Roy

Recently a UAE-based daily had alleged that ISI paid Rs 50 crore to BNP chairperson and former PM Khaleda Zia ahead of the 1991 elections in which the BNP won and formed the government.
বিস্তারিত দেখুন এখানে,

 

৩ মার্চ খালিজ টাইম ৫০ লক্ষ রোপি বা ৫ কোটি টাকার কথা বলা হলেও ডেইলী মেইলে দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী খালিজ টাইমের রেফারেন্স দিয়ে তাকে ৫০ কোটি বানিয়ে দিল! আরো মজার কথা হলো, তার পুরো নাম দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী হলেও এখানে পরিচয় দিয়েছেন দীপাঞ্জন রায় হিসেবে। চৌধুরী বাদ । কিন্তু ডেইলী মেইল আর্কাইভ ও মি চৌধুরীর বায়োডাটা থেকে জানা যায়, তিনিই আসলে দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী!!দেখুন এখানে,

৩.
এর পর ১৬ মার্চ ভারতীয় সাপ্তাহিক Weekly India Today তে দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী লিখেছে,
Recently a UAE-based daily had alleged that ISI paid Rs.50 crore to BNP chairperson and former PM Khaleda Zia ahead of the 1991 elections in which the BNP won and formed the government.
(মজার ব্যাপার হলো ডেইলী মেইল ও ইন্ডিয়া টুডেতে একই ব্যক্তি, একই নিউজ, একই ভাবে লিখেছে। দুই পত্রিকার প্যারা দুটি চেক করুন!!)
দেখুন এখানে,

http://news.in.msn.com/exclusives/it/article.aspx?cp-documentid=5933447
Updated: Fri, 16 Mar 2012 08:39:42 GMT | By Dipanjan Roy Chaudhury, Mail Today
ISI admits to funding N-E

৪.
একই দিন অর্থাৎ ১৬ মার্চ ২০১২ ভারতীয় পত্রিকা India Today এর পুরো কপি মেরে দিল বাংলাদেশ সরকার নিয়ন্ত্রিত মাধ্যম বাসস (BSS)।
এ মাসের প্রথম দিকে সংযুক্ত আরব-আমিরাত ভিত্তিক খালিজ টাইমস’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় পাকিস্তানের সামরিক নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ‘ভারতপন্থী’ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিজয়ী হতে সহায়তা হিসেবে বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে ৫০ কোটি রুপি দেয়।দেখুন এখানে,

 

এমনকি বাসস মাছি মারা কেরানীর মত ৫০ মিলিয়ন রুপিকে করে দিল ৫০ কোটি রুপি!
আগেই প্রমানিত হয়েছে ডেইলী মেইল, ইন্ডিয়া টুডে নিউজের উতস একই ব্যক্তি, দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী। আবার ইন্ডিয়া টুডেই বাসসের সোর্স। তাহলে কি দাড়ালো সব কিছুর গোড়া এই দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী!!

কে এই দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী ?

ক.
কোলকাতায় জন্ম গ্রহনকারী এই বাংগালী সাংবাদিক বাংলাদেশের পত্রিকা প্রথম আলোর দিল্লী প্রতিনিধি। চরম বাংলাদেশী বিরোধী লেখক হিরন্ময় কার্লেকার তার বই Bangladesh: Next Afganistan? কার্লেকার তার বউয়ের ভুমিকায় অনেকেই ধন্যবাদ দিয়েছেন তার মধ্যে শাহারিয়ার কবির ও দীপাঞ্জন রায় চোধুরী অন্যতম। কার্লেকার তার বইয়ে মি চৌধুরীকে পরিচিয় করিয়ে দিয়েছে, দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিনিধি ও বাংলাদেশে বিষয়ক এক্সপার্ট হিসেবে, দেখুন কার্লেকারের বইয়ের ভুমিকা

[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/Bangladesh_Zindabad_1331996608_3-Dip2]

ছবিঃ দীপাঞ্জন রায় চৌধুরীঃ প্রথম আলোর সংবাদদাতা

ছবিঃ দীপাঞ্জন রায় চৌধুরীঃ প্রথম আলোর সংবাদদাতা

ছবিঃ হিরন্ময় কার্কেকারের বাংলাদেশ রিরোধী বই

আগেই বলেছি, প্রথম আলো মুলত বাংলাদেশে প্রথম নিউজটি প্রকাশ করে। এক্ষেত্রে দীপাঞ্জনই খবরটির সরবরাহকারী ও তাদের প্রতিনিধি হওয়াতে নিউজটা আগেই পেয়ে যায়।

খ.
জানা গেল, দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী দৈনিক প্রথম আলোর নয়া দিল্লী প্রতিনিধি। দেখুন প্রথম আলোতে প্রকাশিত তার বহু রিপোর্টের কয়েকটি,

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-01-09/news/33509

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-01-10/news/33851

গ.
দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী ভারতীয় ম্যাগাজিন Weekly India Today, বাংলাদেশ বিষয়ক সংবাদদাতা। দেখুন তার বাংলাদেশ বিষয়ক কয়েকটি লেখা,

Bangladesh Military-Coup Plot Sheikh Hasina, (হাসিনার বিরুদ্ধে মিলিটারী কু!)


Helping Sheikh Hasina in our interest (হাসিনাকে ভারতের স্বার্থেই সাহায্য করা দরকার)


PM Manmohan Singh applauds Sheikh Hasina govt’s war on terror (মৌলবাদ দমনে হাসিনার সাফল্যে অভিভুত মনমোহন!)

 

ঘ.
দীপাঞ্জন রায় চৌধুরীকে চিনতে তার ফেইস বুকে ক্লিক করুন,

http://www.facebook.com/people/Dipanjan-Roy-Chaudhury/549525725

এখানে পরিচয় দিয়েছে তিনি ডেইলী মেইল ও কুয়েত ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা কুনার (KUNA) দিল্লী প্রতিনিধি। তার Interest এর মধ্যে শেখ হাসিনা প্রধান!আরো জানতে এখানে ক্লিক করুন,

http://worldpress.org/freelancers/index.cfm/hurl/page=freelancerDetails/id=95

একই ব্যক্তি, একই নিউজ অনেক জায়গায় প্রচার করে হৈ চৈ ফেলে দিল কিভাবে তার প্রমান এই দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী!!

কৃতজ্ঞতাঃ এক্টিভিষ্ট
http://sonarbangladesh.com/blog/actvisit/99819#Comment694009
********************

ছোট বেলায় গল্পে পড়েছি যে শিয়াল পন্ডিত ৭টির মধ্যে ৬টি কুমির ছানাকে খেয়ে শেষে একটি কুমির ছানাকে বার বার এনে দেখায় যে ৭টাই আছে। এখানওে ভারতীয় পন্ডিত ও ধূরন্ধর সাংবাদিক দীপাঞ্জন বাবুও এমন ভাবে কারসাজি দেখিয়েছেন যাতে আমাদের দেশের আওয়ামী-বাকশালী ও তথাকথিত সুশীল গং বিএনপি ও খালেদার উপর হামলে পড়েছে। যে ১৯৯১ সালে ঘুষ নিছে। প্রথমে বলে ৫ কোটি রুপি পরে তা ৫০ কোটিতে দাড়ায়। পাকিস্তান সরকারতো দূর তাদের মিডিয়াও এই বিষয়ে বলেনি যে খালেদা বা বিএনপি এই ঘুষ নিয়েছে। ISI এর সাবেক প্রধান বিএনপির বিষয় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তা খোদ পাকিস্তানী মিডিয়াতেই যখন আসেনি তখন দীপানঞ্জন ও ভারতীয় মিডিয়া কোন অদৃশ্য বলে এটা জানল? ১৯৯১ বা তার পরবর্তী খালেদা ও তার বিএনপি বাংলাদেশের ক্ষতি করে পাকিস্তানকে উপকার করেছে এটা কেউ দেখাতে পারবে না। বরং হাসিনা ২ মেয়াদে দেশে লুটপাট, দুঃশাসন এবং ভারতকে বাংলাদেশের স্বার্থ বিকিয়ে ও ক্ষতিকরে এক তরফা সুবিধা দিচ্ছে। ১৯৯৬ সালে ৩০ বছর মেয়াদী ফারাক্কা চুক্তি, ২০১০ সালে দিল্লীতে গোপন চুক্তি সহ আরো বেশ কিছু চুক্তি! ২০০৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে হাসিনা বলেছিল তথাকথিত ট্রানজিটে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হয়ে যাবে। এখন উল্টা ভারতীয় যানবাহনকে হাসিনা বাংলাদেশের গরীব জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে ভর্তূকি দিচ্ছে। তাই হাসিনা গং সামগ্রিক ব্যার্থতা ঢাকার জন্যই দীপাঞ্জন ও ভারতীয় মিডিয়া দিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে দৃষ্টি অন্য দিকে ঘুরাচ্ছে। কিন্তু এখন তা ফাস হয়ে গেল!

1982 জন পড়েছেন

Comments

প্রআলোর ভারতীয় প্রতিনিধি দীপাঞ্জন রায় চৌধুরীর একক ও ধূরন্ধর আবিস্কার বিএনপি ISI হতে ঘুষ নিয়েছে! — ৯ Comments

  1. এ প্রসঙ্গে আরও দুটি লেখা জরুরিঃ

    ১। সাদেক খান লিখিত নয়া-দিগন্তের উপসম্পাদকীয় “জাতিরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ধড়িবাজ মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ”।
    http://www.dailynayadiganta.com/details/37594
    এ লেখাটিতে স্পষ্ট দেখা যাবে যে ভারতের ‘র’ চালিত তথ্য কীভাবে সরকারের লোকসহ চাটুকার-সন্তানরা গিলে খায়, তাদের মিথ্যাচারে ব্রতি হয় এবং পরে ধড়াস হয়ে মাটিতে পড়ে।
    ২। প্রথম আলোতে মশিউল আলমের লেখা “বাংলাদেশের রাজনীতিতে পাকিস্তানের টাকা?”
    http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-03-27/news/235651

  2. বাংলাদেশে খালেদা পার্টি হাসিনা পার্টি ছাড়া এক দল আছে যাদের বলে ম্যাংগো পাব্লিক! এরা সংখ্যায় নগণ্য হলেও এদের ভোট যে বাক্সে যাবে সেই দল জিত পায়। কাজেই মিডিয়ার পুরহিতরা যত কাজ কারবার করে যায় তা শুধু ম্যাঙ্গো পাব্লিকের মন গলানো।

  3. কী যেন বলেন ভাই। বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্র নামক এই আজিব চিজ ধর্মের মত কাজ করছে। হাসিনা জবাব দিলেও যা না দিলেও তা। খালেদা জবাব দিলে যা না দিলেও তা। ভোটের সময় এসবের কোন মানি নেই। হাসিনার লোক হাসিনাকে ভোট দেবে আর খালেদার লোক খালেদাকে। সোজা হিসাব। সত্য মিথ্যার হিসেব-নিকেশ যদি গণতন্ত্র নামক ধর্মে কাজ করত, তবে এই ধর্ম এইভাবে চলত না। এই ধর্মের পুরোহিত মিডিয়া, মোজেজা আসে এখান থেকে –খালেদাতেও না, হাসিনাতেও না।

  4. নির্বাচনে চাঁদা দেয়া নেয়াতে যে দেশ বিশ্বে গণতন্ত্র রফতানী করেন। বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্র দর্শনের ফাদার মাদার আমেরিকার নির্বাচনেও গরীব রাষ্ট্র থেকে চাঁদা পাঠাতেও হয়।
    তবে কথা হচ্ছে আপনার নামে যখন কেউ অপবাদ রটায় তখন যদি আপনি তার প্রতিবাদ না করেন তাহলে জনগণ ধরে নিবে আপনার চুপ থাকার মানেই আপনি অপরাধী।
    গত বছর জুলাইতে হাসিনার সম্পর্কে যে প্রচার এসেছিল- দ্যা ইকোনমিস্ট থেকে তার লিখিত প্রতিবাদ হাসিনা জানিয়েছিলেন।
    ঠিক এই ভাবে খালেদাকে খালিজ কিংবা ডেট লাইন ইসলামাদের কাছে প্রতিবাদ জানান উচিত বলে আমি মনে করি।
    নতুব ফকরুলের এই সংবাদ সম্মেলন শুধু প্রোপাগাণ্ডা বলে লোকের কাছে মনে হবে।
    ধন্যবাদ।

  5. বিষয়টির ক্রনোলজি আসল কথা নয় অর্থাৎ খালিজ টাইমস, ডেট লাইন অথবা অপর কোন সূত্র সেই allegation প্রথম এনেছিল, -বরং মূল কথা হবে যে দুররানী নিজেই ঘটনা অস্বীকার করে যাচ্ছে। এখন যারা allegation এনেছেন তাদেরকে প্রমাণ করতে হবে যে দুররানী মিথ্যা বলে যাচ্ছে। তিনি কোর্টের এফিডেভিট নামায় যদি এমন কথা বলে থাকেন, তাহলে এবারে কোর্টের এফিডেভিট বের হতে হবে। জেনরেল বেইগ যদি ‘অনুমান’ করে থাকেন, এবং সেই ‘অনুমানের horse’ যদি দুররানী হন, তবে we have the statement from the horse’s mouth that he hadn’t done it, or were not aware of it. প্রমাণের স্থানটি এখানে।

    মডার্ন ডেমোক্রেসিগুলোর যে করাপ্ট দিক আছে তা দেখার একটি স্থান এখানে। বিজয়ের লক্ষ্যে নির্বাচনে যে পরিমাণ টাকা খরচ করা হয়, তা আসে গোপন উৎস থেকে এবং সেই গোপন দাতারা পরে নিজের সেই টাকার তিনগুণ বেশি উদ্ধার করে। মডার্ন গণতন্ত্র অনেকটা বেটিংসহ ‘ঘোড়-দৌড়’ এর মত। মিলিয়ন মিলিয়ন পাউন্ড হোক অথবা কোটি কোটি টাকা –এগুলো আসমান থেকে আসে না, আসে মানি-লণ্ডারিংগের মাধ্যমে, কখনো নিজেদেরই টাকা আনা হয় সূত্রায়িত করে। এই ব্রিটেনের গণতন্ত্রেও সেই একই সমস্যা। আজকের বিশ্ব এত্থেকে মুক্তি পেতে হবে। দুররানী নিয়ে এই আলোচনা বাংলাদেশ রাজনীতিতে এই মূহুর্তে মনে হচ্ছে কোন পক্ষের একটা স্ট্রাটেজি। গণদৃষ্টি আপাতত অন্যদিকে নেয়া। টাইমিংটাই জরুরি। তবে এমন ধরণের কথা বলাতে দুররানী বিষয়ের সত্য/মিথ্যা প্রমাণিত হচ্ছে না। অভিযোগকারীরা আরও অনেক কিছু প্রমাণ করতে হবে।

  6. নয়াদিগন্তের এই খবরে আমি সন্তুষ্ট হতে পারছিনা। তার কারণ নিচে উল্লেখ করছি-

    নয়া দিগন্ত : বাংলাদেশে আপনার একটি বক্তব্য নিয়ে তুমুল হই চই চলছে। আপনি সুপ্রিম কোর্টে বলেছেন, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে পাঁচ কোটি রুপি দিয়েছিলেন। বিষয়টি খোলাসা করে বলবেন কি?
    জেনারেল দুররানি : দেখুন, বিষয়টি আমিও শুনেছি। বিভিন্নভাবে আমার কাছে খবরটি এসেছে। এ খবরের মধ্যে কোনো সত্যতা নেই। এটি একটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন প্রচারণা। এর সাথে সত্যের কোনো সম্পর্ক নেই।

    < < এই ধরণের ইন্টারভিউয়ের ভিডিও ক্লিপ নাই কেন?

    নয়া দিগন্ত : কিন’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দৈনিক খালিজ টাইমস পত্রিকা আপনাকে উদ্ধৃত করে সর্বপ্রথম এ তথ্য প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছে, আপনি সুপ্রিম কোর্টে এই টাকা দেয়ার কথা বলেছেন।

    < << সাত খণ্ড রামায়ণ পড়ে সীতা কার বাবা? যেখানে দুনিয়া জানে যে, খালিজ টাইমে প্রথম নয় প্রথম প্রতিবেদন ছেপেছিল পাকিস্তানের খোদ রাজধানী থেকে প্রকাশিত ডেট লাইন ইসলাবাদ নামক ইংরেজী দৈনিক। আর প্রতিবেদনটি লিখেছিলেন বাম ঘরানার সাংবাদিক আফযাল খান! তাই নয়া দিগন্তের সাঙ্ঘাতিক বাবাজি ঘুমের ঘোরে যে ইন্টারভিউ নিয়েছেন তা বুঝা যাচ্ছে! যদি সত্যি ইন্টার ভিঊ নিয়ে থাকেন! নতুবা আমার কাছে এই ইন্টারভিউ ফেক মনে হচ্ছে!>>>>

    জেনারেল দুররানি : আমি স্পষ্ট ভাষায় বলছি, আমি কোথাও এ কথা বলিনি। আর খালিজ টাইমসের কোনো সাংবাদিক আমার সাথে কখনো যোগাযোগও করেনি। তারা কী লিখেছেন, সেটা তাদের ব্যাপার। আমাকে কিছু জিজ্ঞেস না করেই তারা এই প্রতিবেদন ছেপেছে। তাদের ওই প্রতিবেদন অসত্য। আমি এই প্রতিবেদনের বিষয় শুনেছি। তা ছাড়া খবরটি কিন’ পাকিস্তান থেকে কেউ দেননি। বাইরে থেকে গল্প রচনা করা হয়েছে।
    নয়া দিগন্ত : তাহলে আপনি বলতে চাচ্ছেন, খালিজ টাইমস অসত্য প্রতিবেদন ছেপেছে?
    < <<< বেটা শুধু খালিজ টাইমস করে যাচ্ছে!!! প্রতিবেদক আফযাল খান তার ডেটলাইন ইসলামাবাদের প্রতিবেদনে কোথাও উল্লেখ করে নাই সে এফিডেভিট বা দুররানীর কাছ থেকে শুনে তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে! সে উল্লেখ করেছে যে, সে জেনারেল বেগ কোর্টে যে বর্ণনা দিয়েছেন সেখান থেকে অনুমান করতে পেরেছেন যে, খালেদা জিয়াকে মোটা অংকের সাহায্য করা হয়েছিল।>>>

  7. “এক শক্তিশালী মাফিয়া চক্রের হাতে আজ দেশ বন্ধী।”

    দুররানী নিজেই বলছেন গোটা বিষয়টিই বনোয়াট। তিনি কোর্ট, শপথনামা, টাকা দেয়া -এসব সম্পূর্ণ জালিয়াতি।

    এই লিঙ্ক পড়া যেতে পারেঃ
    http://dailynayadiganta.com/details/36570

  8. কারেন্ট ইভেন্ট এই লেখাটি সংলাপে পোস্ট করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    আমার মনে হয় যতক্ষণ পাকিস্তান কোর্টের রায় বের না হবে এই বিষয় নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে কথা বলা বন্ধ হবেনা।
    আমি পাকিস্তান জং পত্রিকায় এই আসাদ দুররানীর এফিডেভিটের ফটোকপি দেখেছি কিন্তু তা উর্দু ভাষায় হওয়ায় তার অর্থ বোধগম্য হচ্ছেনা। এখানে সেই এফিডেভিটের লিংক দিলাম আমাদের পাঠক দের মধ্যে যদি কেউ উর্দু জানেন তাহলে অনুবাদ করে দিলে ভাল হবে।

    ডন দিচ্ছে এফিডেভিটে কাকে কত টাকা দেয়া হয়েছিল তার রিপোর্ট –
    ৯ মার্চ ডেইলি ডন – এ আসাদ দুররানির সাক্ষ্যভিত্তিক অর্থের বিবরণীতে প্রকাশ, নেওয়াজ শরীফ: ৩৫ লাখ, মীর আফজাল খান: ১ কোটি, সাংবাদিকদের জন্য লে. জে. রাফাকাত: ৫৬ লাখ, আবিদা হোসেন: ১০ লাখ, জামায়াতে ইসলামী: ৫০ লাখ, আলতাফ হোসেন কোরেশী: ৫ লাখ, গোলাম মোস্তফা জাতুই: ৫০ লাখ, জাম সাদিক: ৫০ লাখ, মোহাম্মদ খান জুনেজু: ২.৫ লাখ, পীর পাগারা: ২০ লাখ, মওলানা সালাহউদ্দিন: ৩ লাখ, হুমায়ুন মারী: ১০.৫ লাখ, জামালি: ৪০ লাখ, কাকার: ১০ লাখ, কে. বালুচ: ৫ লাখ, জাম ইউসুফ: ৭.৫ লাখ, বিজেনজো: ৫ লাখ এবং সিন্ধু প্রদেশের বিভিন্ন দল: ৫৪ লাখ রুপি। তাতে ৫ কোটি ১৮ লাখ রুপি হিসাব দেখানো হয়েছে। পক্ষান্তরে, ডনের ওই একই রিপোর্টে আরেকটি হিসাব রয়েছে, তা দিয়েছেন মেহরান ব্যাংকের সাবেক প্রধান ইউনুস হাবিব। সেই তথ্যে প্রকাশ, জেনারেল বেগের মাধ্যমে রাজনীতিকদের দেওয়া হয়েছে: ১৪ কোটি, সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জাম সাদিক আলী: ৭ কোটি, জাম সাদিকের মাধ্যমে পীর পাগারাকে: ১ কোটি ৫০ লাখ, প্রেসিডেন্ট গোলাম ইসহাক খান ও জেনারেল বেগের নির্দেশে ইউনুস মেমনকে: ৭ কোটি রুপি এবং আরো কিছু অর্থ দেওয়া হয়েছে আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টকে।

    এইদিকে আবার মেহেরান ব্যাংকের ইউনাস হাবিব জানাচ্ছেন যে- He was unaware who sent money to Bangladeshi politician Begum Khalida Zia. He named only few politicians who received money from him directly. Among them are Nawaz Sharif and Shahbaz Sharif who have contradicted the claims made by Younis Habib.

    http://www.thenews.com.pk/Todays-News-13-13143-More-revelations-in-Mehran-Bank-scam