মাহমুদুর রহমান দুদকের মামলায় প্রধানমন্ত্রীকে সাক্ষী দেখতে চান

1262 জন পড়েছেন

ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ দায়রা জজ বাসুদেব রায়ের আদালতে মামলার শুনানি চলাকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

মাহমুদুর রহমান বলেন, দুদকের দায়ের করা মামলাটিকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক। দুদক কেবল পোস্ট বক্স এবং নির্যাতন ও হয়রানির হাতিয়ার রূপে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, ‘এই মামলার ফ্যাক্ট হলো- স্বয়ং অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তার কার্যালয়ের দলবাজ-অসৎ কর্মকর্তাদের বানোয়াট ও অসত্য তথ্য বেআইনিভাবে আমলে নিয়ে দুদক আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।’

আমার দেশ সম্পাদক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক জরিপে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা পৃথিবীতে প্রায় সর্বনিকৃষ্ট (৯৯টি দেশের মধ্যে ৯৫তম) হওয়া সত্ত্বেও আমি মাননীয় আদালত এবং সরকার পক্ষকে এই মামলায় সর্বাত্মক সহায়তা করতে ইচ্ছুক।

‘কারণ, বিচার শুরু না হলে বানোয়াট, জালিয়াতিপূর্ণ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলাটির কুশিলবদের আপনার কাঠগড়ায় হাজির করার সুযোগ মিলছে না’ যোগ করেন তিনি।

মাহমুদুর রহমান বিচারককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি ন্যায়বিচার করবেন বা করতে সক্ষম এমন উদ্ভট কল্পনা নিয়ে আমি বিচারকাজে উৎসাহ দেখাচ্ছি না। এ দেশের কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন প্রতিটি নাগরিকই জানেন যে ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী বিচার বিভাগের সকল স্তর দলীয় ক্যাডার দিয়ে পূর্ণ করেছেন।’

‘আমার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আবেদনেও তো মাননীয় আদালত আপনি যে আদেশ দিয়েছেন সেখানে সহানুভূতি কিংবা মানবিক মূল্যবোধ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই আজও আমার চিকিৎসা হয়নি’ অভিযোগ করেন তিনি।

আমার দেশ সম্পাদক বলেন, ‘বিচার চলছে, অথচ জেলখানা প্রশাসন আমাকে আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দিচ্ছে না। এগুলো আপনাকে বলে কোনো ফায়দা নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমি আবারো বলছি- ন্যায়বিচার প্রাপ্তির কোনো অলীক আকাঙ্ক্ষা থেকে আপনার আদালতে বক্তব্য দিচ্ছি না। বাংলাদেশে ন্যায়বিচার থাকলে চার্জ গঠনের দিনেই মামলা খারিজ হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম আরম্ভ হতো।’

মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমি কেবল এটুকুই আশা করবো- বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টতা এবং স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত হতে থাকলে ধামাচাপা দেয়ার কোনো চেষ্টা করা হবে না। উপরের নির্দেশে রায় শেষ পর্যন্ত যাই হোক না কেন, সত্য প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করা হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা মামলার এক পর্যায়ে স্বয়ং অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষ্যদানের প্রয়োজন হবে। সেই সাক্ষ্যদান এড়িয়ে যাওয়ার যে কোনো অপচেষ্টার আমি প্রতিবাদ করবো।’

এ সময় আমার দেশ সম্পাদক দাবি করেন, ‘শেখ হাসিনার শাসনামলে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রভাব ও বিশেষ ভূমিকা এখন ওপেন সিক্রেট। দেশের সকল স্তম্ভের সর্বস্তরে তাদের অনুপ্রবেশ রাষ্ট্রকে ক্রমেই ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করছে।’

তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালত পর্যন্ত কতখানি মর্যাদা হারিয়েছে সেটা পেশাদার খুনিতে পরিণত হওয়া র‌্যাব কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার প্রক্রিয়াতেই দেখা গেছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আদালতকে কেবল উপেক্ষাই করেননি, উপরন্তু প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়েছেন।’

এছাড়া উভয়পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ শুনানি শেষে বিশেষ দায়রা জজ আদলতের বিচারক বাসুদেব রায় আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৯ জুন মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।

মাহমুদুর রহমানের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন মেজবাহ, অ্যাডভোকেট সুলতান আহমেদ প্রমুখ। সরকার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল।

এর আগে মাহমুদুর রহমানকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিশেষ এজলাসে আনা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় মামলার শুনানি শুরু হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে মাহমুদুর রহমান তার বক্তব্য তুলে ধরেন।

শুনানির সময় আমার দেশ-এর বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরীসহ আমার দেশ পরিবারের সদস্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলেন সজীব ওয়াজেদ জয় ও জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরীর ‘ঘুষ কেলেঙ্কারি’ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের দুদক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের কাছে সম্পদের হিসেব চেয়ে চিঠি দেয়। চিঠির জবাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরে দুদককে পাল্টা চিঠি দেন তিনি। পরে সম্পদরে হিসেব না দেয়ার অভিযোগে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

সুত্র: নিজস্ব প্রতিবেদক,আরটিএনএন 

1262 জন পড়েছেন

Comments are closed.