মহাবিশ্ব ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে-

2887 জন পড়েছেন

গত ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৩ ইং ‘প্রথম আলো’ পত্রিকার ৮ পৃষ্ঠায় ‘মহাবিশ্ব ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে?’ শিরোনামে একটি সংবাদ ছাপা হয়েছিল। যা হয়ত অনেকেরই নজরে পড়েছে।

Universe-destroyএকজন বিশ্বাসী হিসেবে বিষয়টি নিয়ে অনেক আগে থেকেই জানার চেষ্টা করছি এবং অন্যদেরকেও তা জানানোর প্রয়াশ নিয়েছি। মূল লেখাটি সর্বপ্রথম ৩০ শে অক্টোবর, ২০১০ এ প্রকাশিত হয়। অনুসন্ধিৎসু পাঠকদের মন্তব্য ও প্রশ্নের জবাব দেয়ার মাধ্যমে বিষয়টি আবারও পরিবর্ধিত আকারে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি।

কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী! কিন্তু অনেকে কথাটাকে ঘুরিয়ে অন্যভাবে বলে যে, ‘মহাবিশ্ব ধ্বংস হবে। কি আর করবে- বিজ্ঞানও তো তাই বলে!

বিষয়টা মহান স্রষ্টা তাঁর প্রেরিত মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে অনেক আগেই আমাদেরকে কনফার্ম করেছেন। যেমন করেই হোক না কেন- ‘মহাপ্রলয় হবেই’, আর এই বিষয়টা বিশ্বাসী মাত্রই একবাক্যে স্বীকার করে।

কিন্তু মহাবিশ্বের ধ্বংস হবে কি হবে না তা নিয়ে অবিশ্বাসীদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এবং অবিশ্বাসের ঘোরে তারা এ ব্যাপারে সব সময়েই দ্বন্দে ভোগে। আল্লাহতায়ালার প্রতিশ্রুত কিয়ামত যে অবশ্যই সংঘটিত হবে এবং অবিশ্বাসীরা অচিরেই তা জানতে পারবে, এ বিষয়টি আল-কোরআনে প্রদত্ত ঐশী তথ্যসমূহে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তবে এই ঘটনা বৃহৎ সংকোচনের মাধ্যমে ঘটুক অথবা বস্তু ও প্রতিবস্তু জগতের মধ্যে সংঘর্ষের ফলেই ঘটুক না কেন, এর ফলে যে মহাবিশ্বের বর্তমান অবয়বের আমুল পরিবর্তন সাধিত হবে তাতে কোনই সন্দেহ নেই।

……………………………………………

আলকোরআন

সূরানাবাআয়াতনং০১,০২,০৩,০৪,০৫

(৭৮:০১, ০২, ০৩, ০৪, ০৫ ) অর্থ – ০১. তারা একে অপরের কাছে কি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছে ? ০২. সেই মহাসংবাদের (কিয়ামত/পুনরুথ্থান) বিষয়ে, ০৩. যেই বিষয়ে তাদের মধ্যে মতানৈক্য আছে। ০৪. কখনই না, তাদের ধারণা অবাস্তব, তারা শীঘ্রই জানতে পারবে; ০৫. আবার বলি কখনই না, তারা অচিরেই জানবে।

সূরাক্বিয়ামাহ্আয়াতনং০১

(৭৫:০১) অর্থ- আমি শপথ করছি কিয়ামত/পুনরুথ্থান দিনের।

কিয়ামত ঠিক কোন মূহুর্তে ও কিভাবে সংঘটিত হবে সে বিষয়ের সঠিক জ্ঞান যে একমাত্র সর্বজ্ঞ আল্লাহতায়ালারই নিকটে আছে তা আল-কোরআনে প্রদত্ত নিম্নের এশী ইংগিত থেকে সহজেই বুঝে নেয়া যায়-

সূরা-আরাফ- আয়াত নং-১৮৭

(০৭:১৮৭) অর্থ- তারা তোমাকে ঘড়িঘন্টা (কিয়ামত/পুনরুথ্থান) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে? বল, ‘এ বিষয়ে জ্ঞান শুধু আমার প্রতিপালকেরই আছে। শুধু তিনিই যথাসময়ে তা প্রকাশ করবেন। তা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে একটি গুরুতর/ভয়ংকর ঘটনা হবে। আকস্মিকভাবেই তা তোমাদের উপর আসবে।’ তুমি এ বিষয়ে সবিশেষ অবহিত মনে করে তারা তোমাকে প্রশ্ন করে। বল, ‘এ বিষয়ে জ্ঞান আমার প্রতিপালকেরই আছে’, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জ্ঞাত নয়।

…………………………………………….

বিজ্ঞান

সৃষ্টির শুরুতে মহাবিশ্ব যখন উত্তর মেরুর মত একক বিন্দু ছিল তখন এর কোন অন্তর্বস্তু ছিল না। আক্ষরিক অর্থে সৃষ্টি শুরু হয়েছিল শুন্যতা থেকে। কিন্তু এখন মহাবিশ্বের যে অংশ আমরা পর্যবেক্ষণ করি তাতে রয়েছে অন্তত (১০~৮০=১০ কে ১০ দ্বারা ৮০ বার গুণ করলে যত হয় তত সংখ্যক) কণিকা। এই সমস্ত কণিকা এল কোথা থেকে? উত্তরটা হলো- অপেক্ষবাদ ও কণাবাদী বলবিদ্যা শক্তি থেকে বস্তু সৃষ্টি অনুমোদন করে। {কৃষ্ণগহ্বর এবং শিশু মহাবিশ্ব অন্যান্য রচনাথেকে সংগৃহিত তথ্য অনুসারে}

…………………………………….

কেয়ামত অর্থা মহাপ্রলয়ের পর শুধুমাত্র ধ্বংস বা শেষ নয় বরং ধ্বংসের পর পরিবর্তীত আকারে পূণরায় সৃষ্টি শুরুর ইংগিতও আলকোরআনে রয়েছে

সূরাঅনকাবুতআয়াতনং১৯ও ২০

(২৯:১৯) অর্থ- তারা কি লক্ষ্য করে না, কিভাবে আল্লাহ মখলুক বা সৃষ্টিকে আরম্ভ করেন অর্থাৎ অস্তিত্বে আনেন, অতঃপর তিনি এর পূণরাবৃত্তি করেন? এটা তো আল্লাহর জন্য সহজ।

(২৯:২০) অর্থ- বল, পৃথিবীতে পরিভ্রমন কর এবং অনুধাবন কর, কিভাবে মাখলুক অর্থাৎ সৃষ্টি প্রকাশিত হলো, অতঃপর আল্লাহ বানাতে আরম্ভ করবেন পরবর্তী বিশ্ব বা পরকাল, আল্লাহ্ তো সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

সূরানাযিয়াতআয়াতনং১০১৩

(৭৯:১০) অর্থ- তারা বলে, ‘আমরা কি উল্টোপথে বা প্রথম অবস্থায় প্রত্যাবর্তীত হবই’?

(৭৯:১৩) অর্থ- এটা তো এক বিকট আওয়াজ।

সূরাইবরাহীমঅয়াতনং৪৮

(১৪:৪৮) অর্থ- যেদিন এই পৃথিবী পরিবর্তীত হয়ে অন্য পৃথিবী হবে এবং আকাশমন্ডলীও; এবং মানুষ উপস্থিত হবে আল্লাহর সামনে, যিনি এক পরাক্রমশালী।

সূররূমআয়াতনং২৫

(৩০:২৫) অর্থ- তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে তাঁর আদেশে আসমান ও পৃথিবীর স্থিতি, অতঃপর অল্লাহ্ যখন যমীন থেকে তোমাদেরকে উঠবার জন্য একবার আহ্বান করবেন, তখন তোমরা উঠে আসবে।

সূরা রাহমান-আয়াত নং-৩১

(৫৫:৩১) ছানাফরুগু লাকুম আইয়্যুহাছ ছাক্বালান।

…………..

{ছাক্বালানি= (অর্থ)- দুটি ভারী জিনিস –১৫৪পৃষ্ঠা। ছা =(অর্থ)- অচিরে, অদূর ভবিষ্যতে –২০৯পৃষ্ঠা। ফারাগ্তা =(অর্থ)- অবসর প্রাপ্ত হলো – ২৭০পৃষ্ঠা–(‘কোরআনের অভিধান’ — মুনির উদ্দীন আহমদ )}

{(সাকালানি) শব্দটি – (সাকাল) -এর দ্বি-বচন। যে বস্তুর ওজন ও মূল্যমান সুবিদিত, আরবী ভাষায় তাকে বলা হয়। – (ছানাফরুগূ) শব্দটি – (ফারেগুন) থেকে উদ্ভুত, এর (অর্থ)- কর্মমুক্ত হওয়া –‘পবিত্র কোরআনুল করিম’- মূল:-তফসীরে মাআরেফুল ক্বোরআন’-(বাংলা অনুবাদ ও সংপ্তি তফসির)–অনুবাদ ও সম্পাদনা–মওলানা মুহিউদ্দীন খান–১৩১৯ ও ১৩২০পৃষ্ঠা।}

{ফারেগুন= (অর্থ)- দায়িত্ব সম্পাদন করে অবসর প্রাপ্ত, দায়মুক্ত –‘আল-কাওসার’—মদীনা পাবলিকেশন্স।}

……………

(৫৫:৩১) অর্থ:- ওহে দুই ‘ওজন-বিশিষ্ট বস্তু’ অচিরেই বা অদূর ভবিষ্যতে তোমাদের বিষয়ে মনোনিবেশ করব বা ফায়সালা করব বা অবসর নেব বা কর্মমুক্ত হব।

সূরানাবাআয়াতনং১৮১৯

(৭৮:১৮) অর্থ- সেদিন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং তোমরা দলে দলে সমাগত হবে।

(৭৮:১৯) অর্থ- আকাশ উন্মূক্ত করা হবে, ফলে তা বহু দ্বার বিশিস্ট হবে।

সূরা যিলযিলা- আয়াত নং-(৪ – ৭)

(৯৯:০৪) অর্থ- সেদিন পৃথিবী তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে,

(৯৯:০৫) অর্থ- কারণ তোমার প্রতিপালক তাকে আদেশ করবেন;

(৯৯:০৬) অর্থ- সেদিন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন দলে বের হবে কারণ তাদের কৃতকর্ম তাদেরকে দেখানো হবে;

(৯৯:০৭) অর্থ- কেউ অণুপরিমান সৎকাজ করলে তাও দেখবে।

সূরা বায়্যিনাহ- আয়াত নং-৭ ও ৮

(৯৮:০৭) অর্থ- যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে তারাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ।

(৯৮:০৮) অর্থ- তাদের প্রতিপালকের নিকট আছে তাদের পুরষ্কার- স্থায়ী জান্নাত, যার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত; সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে।

……………………………………………..

বিজ্ঞানের বর্ণনায় আমরা দেখেছি যে, অপেক্ষবাদ ও কণাবাদী বলবিদ্যা শক্তি থেকে পদার্থ সৃষ্টি অনুমোদন করে। (২৯:১৯,২০) নং আয়াত থেকে আমরা বুঝে নিতে পারি যে, পরাক্রমশালী সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালা (শক্তি থেকে) আবার পরকালের পৃথিবী ও আসমান সৃষ্টি করবেন, যেভাবে তিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন এবং এর জন্য মহান স্রষ্টার এক মূহুর্তের ইচ্ছা ও ইশারাই যথেষ্ট। পূণরায় সৃষ্টি আরম্ভের সাথে (বিগ-ব্যাঙের মত বিস্ফোরণ জনিত) বিকট শব্দের যে একটা সম্পর্ক রয়েছে, (৭৯:১০ ও ১৩) নং আয়াতে সে বিষয়ে ইংগিত দেয়া হয়েছে। তবে (১৪:৪৮) নং আয়াত থেকে বুঝে নেয়া যায় যে, সেই আসমান ও পৃথিবী বর্তমানের আসমান ও পৃথিবী থেকে নিশ্চয়ই ভিন্নতর অর্থাৎ পরিবর্তীত রূপে প্রকাশিত হবে। যেহেতু (৫৫:৩১)  নং আয়াতে দুই ওজন-বিশিষ্ট বস্তু সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। সুতরাং এর মাধ্যমে কণিকা ও বিপরীত কণিকা সম্পর্কে ফায়সালা করার ইংগিত দেয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়ে ভাববার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। তাছাড়া এখানে চরম সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে বলে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং পরকালের আসমান ও পৃথিবী যে কণিকা বা বিপরীত কাণকা দ্বারা গঠিত হবে না, তা সহজেই অনুমান করা যায়। তবে আল্লাহতায়ালার আদেশে এমন কোন শাশ্বত ও প্রকৃত কণিকা দ্বারা গঠিত হওয়ার সম্ভাবনাই অধিক, যা (৩০:২৫) নং আয়াত অনুসারে আল্লাহপাকের ইচ্ছায় অনন্তকাল স্থায়ী হবে। (৭৮:১৮) নং আয়তে এই ইংগিত দেয়া হয়েছে যে, জগৎসমূহের স্রষ্টা সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালার আদেশে শিংগার ফুৎকার আমরা পূণরায় আমাদের দেহ ও জীবন লাভ করব এবং সেই পরিবর্তীত পৃথিবীতে দলে দলে সমাগত হব। পরকলের সেই আসমানে ডাইমেনশন বা মাত্রাগত কোন স্তর-ভেদ থাকবে না। ফলে (৭৮:১৯) নং আয়াতে দেয়া তথ্যমতে আসমান সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত থাকবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় বেহেশ্ত ও দোজখে প্রবেশের দরজাগুলো খুলে দেয়া হবে। (৯৯:৪ – ৮) নং আয়াত থেকে অনুমান করা যায় যে, মানুষের অণু পরিমাণ সৎকাজ বা অসৎকাজের চুলচেরা হিসাব এই পৃথিবীর প্রতিটি অণু ও পরমাণুতে সংরক্ষিত অর্থাৎ রেকর্ড হয়ে আছে এবং তা মহান আল্লাহতায়ালার আদেশে শেষ বিচারের দিনে প্রত্যেকের সামনে উপস্থাপন ও প্রদর্শন করা হবে। বর্তমানে বিজ্ঞানের সহায়তায় এই পৃথিবীর বিভিন্ন উপকরণকে কাজে লাগিয়ে যেমন করে মানুষ তাদের কথা, গান, অভিনয়, ভাষন ইত্যাদি রেকর্ড করছে এবং সেগুলো আবার শব্দশক্তি ও আলোকশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমপ্রচারের মাধ্যমে স্বয়ং অভিনেতা ও বক্তারা সহ অন্যান্য সকল দর্শক ও শ্রতাদের সামনে রেডিও, টেলিভিশন, সিনেমা, কম্পিউটার ইত্যাদির পর্দায় উপস্থাপন ও প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমনকি যুগ যুগ ধরে দিনের পর দিন এগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে। সুতরাং একালের কম্পিউটারের হার্ডডিস্কের মত পরকালে পৃথিবীর হার্ডডিস্ক থেকে প্রতিটি মানুষের নামে রেকর্ডকৃত নির্দিষ্ট কোড সম্বিলত ফাইল থেকে ভাল ও মন্দ তথ্যগুলো বের করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি তথা সবার সামনে প্রদর্শন করা হবে এবং যা সর্বদ্রষ্টা মহান আল্লাহতায়ালার কাছে খুবই সহজ ব্যাপার। যেহেতু পরকালের আসমান ও পৃথিবী শাশ্বত ও প্রকৃত কণিকা দ্বারা গঠিত হবে এবং মহান আল্লাহতায়ালা সেই পৃথিবীর মাটি বা যমীন থেকে আমাদেরকে উঠবার জন্য আহ্বান করার সাথে সাথে আমরা দলে দলে তাঁর সামনে গিয়ে হাজির হব, সুতরাং আমাদের দেহগুলোও হয়ত তখন শাশ্বত ও প্রকৃত কণিকা দ্বারা গঠিত হবে। যেহেতু শাশ্বত ও প্রকৃত কণিকাগুলো কখনো ক্ষয় বা ধ্বংস হবে না, তাই (৯৮:৭,৮) ও (৭৮:২১,২২,২৩) নং আয়াতে দেয়া ইংগিত অনুসারে শেষ বিচারের পর ইহকালীন কর্মফল ও আল্লাহতায়ালার ইচ্ছানুযায়ী আমরা অনন্তকাল যাবৎ বেহেশতের সুখ ও দোজখের যন্ত্রনা ভোগ করতে থাকব।

সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান এক আল্লাহর আদেশে অলৌকিক ঘটনাগুলো পূর্বে ঘটেছে এবং ভবিষ্যতেও ঘটবে বলে আল-কোরআনে ইংগিত দেয়া হয়েছে। সেগুলো গতানুগতিক প্রাকৃতিক নিয়মের সাথে খাপখায়না, তাই অসম্ভব বলে মনে হতে পারে। কিন্তু নিয়মের যিনি স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রণকারী তিনি বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে তাঁর অসীম শক্তির নিদর্শণ স্বরূপ অলৌকিক ঘটনাগুলো ঘটিয়ে থাকেন এবং মানুষকে শিক্ষাদানের জন্য ঐশী-বাণীর মাধ্যমে উপমা হিসেবে সময়মত জানিয়ে দেন। আর এভাবে আল্লাহতায়ালা মানুষকে পরীক্ষা করেন যে তাঁর অসীম শক্তি ও ঐশীবাণীর উপর কে কতটুকু বিশ্বাস স্থাপন করতে প্রস্তুত। সুতরাং আজগুবি গল্প ভেবে হুজুগে মেতে অবহেলা না করে ধৈর্য্যের সাথে গবেষণারত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

…………………………………………

আলকোরআন

সূরামুমিনুনআয়াতনং৫৩

(২৩:৫৩) অর্থ- রসূলগণের তিরোধানের পর প্রত্যেক সমপ্রদায়ই রসূলের শিক্ষা বিসর্জন দিয়ে স্ব-স্ব প্রবৃত্তির অনুসরনে লিপ্ত ছিল।

সূরাআম্বিয়াআয়াতনং

(২১:০১) অর্থ- মানুষের হিসাব-নিকাশের সময় আসন্ন, কিন্তু ওরা উদাসীনতায় মুখ ফিরিয়ে রয়েছে।

(২১:০২) অর্থ- যখনই ওদের নিকট ওদের প্রতিপালকের কোন নুতন উপদেশ আসে ওরা তা কৌতুকাচ্ছলে শ্রবণ করে।

…………………………………………

কিয়ামত (পুনরুথ্থান) আসন্ন এবং অবশ্যম্ভাবী। সুতরাং আসুন আর স্ব-স্ব প্রবৃত্তির অনুসরণ করে অবহেলা ও অমনযোগীতার মধ্যে এক মূহুর্তও সময় নষ্ট না করে আল-কোরআন ও সুন্নাহর প্রদর্শিত পথে সঠিকভাবে চলার জন্য দৃপ্ত শপৎ গ্রহন করি এবং তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইহকাল ও পরকালের শান্তি ও মুক্তির পথকে সুগম ও সফল করে তুলবার জন্য সচেষ্ট হই।

……………………………………

একজন পাঠকের মন্তব্য ও প্রশ্ন- (তারিখঃ- ৩০/১০/২০১০ইং)

ছালাম,

প্রশ্ন-১: ক. নাবা অর্থ কি? শিরোনামের সাথে ছুরাটির বিষয়বস্তুর সামঞ্জস্য আছে কি?

খ. ছুরাটিতে মোট ৪০টি আয়াত; আপনার উল্লিখিত ৫টিসহ পূর্ণ ছুরাটির মধ্যে ১টি বারয়ো ‘কিয়ামত’ শব্দটি আল্লাহ ব্যবহার করেনি। সুতরাং সেখানে বাংলা অনুবাদে এবং ব্যাখ্যায় আরবি ‌’কেয়ামত’ শব্দটি ঢুকিয়ে দেয়া আল্লাহর উপর অনধিকার চর্চা নয় কি?

গ. নাস্তিক বা বিজ্ঞানীদের সাথে পৃথিবী বা সৃষ্টির প্রলয়/মহাপ্রলয়ের মতানৈক্য আছে কি? না থাকলে বর্ণিত আয়াতে কোন্‌ মতানৈক্যের কথা বলা হয়েছে?

প্রশ্ন-২: সাক্ষি-সাবুত, দলিল, যুক্তি-প্রমানে যখন হেরে যায় তখন কোন গত্যান্তর না পেয়ে আপন স্বত্তা/অস্তিত্ত্ব রক্ষায় কছমের প্রশ্ন আসে। আর কছম করে বর্ণিত সকল কিছুর এমনকি নিজের উর্দ্ধের শক্তিশালী য়ো বিশ্বস্থ কোন কিছুর। তবে কি আল্লাহ এমন কোন সমস্যায় আছে? কথিত কিয়ামতের অধীন বা তার চেয়ে ছোট?

প্রশ্ন-৩: ৭:১৮৭ অনুবাদে প্রধান, মূল-মৌলিক বা সাবজেক্ট হলো ‘কিয়ামত’ শব্দটি। অথচ মূল আয়াতে ইহার অস্তিত্ত্ব নেই; উহার পরিবর্তে আছে, ‘ছায়াত’; আরবি ছায়াত শব্দের অনুবাদ কি আরবি কিয়ামত? কি কারনে এই গাজাখোরী গোজামীল দেয়া হলো?

(২৯:১৯) অর্থ- তারা কি লক্ষ্য করে না, কিভাবে আল্লাহ মখলুক বা সৃষ্টিকে আরম্ভ করেন অর্থাৎ অস্তিত্বে আনেন, অতঃপর তিনি এর পূণরাবৃত্তি করেন? এটা তো আল্লাহর জন্য সহজ।

(২৯:২০) অর্থ- বল, পৃথিবীতে পরিভ্রমন কর এবং অনুধাবন কর, কিভাবে মাখলুক অর্থাৎ সৃষ্টি প্রকাশিত হলো, অতঃপর আল্লাহ বানাতে আরম্ভ করবেন পরবর্তী বিশ্ব বা পরকাল, আল্লাহ্ তো সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

প্রশ্ন-৪: আয়তদ্বয়ে বৈজ্ঞানিক/দার্শনিক বিবর্তন/জন্মান্তরবাদের আভাস পায়োয়া যায় কি?

‘(১৪:৪৮) অর্থ- যেদিন এই পৃথিবী পরিবর্তীত হয়ে অন্য পৃথিবী হবে এবং আকাশমন্ডলীও; এবং মানুষ উপস্থিত হবে আল্লাহর সামনে, যিনি এক পরাক্রমশালী।‘

প্রশ্ন-৫: : আয়াতে আরবি ‘আর্দ্ব’ শব্দের অনুবাদ করা হয়েছে ‘পৃথিবী’; মূলত ‘পৃথিবী’র আরবি হলো দুনিয়া (দেখুন: ২: ১৩০; ৩: ১৮৫; ১৬: ১২২)। সুতরাং আর্দ্ব এবং দুনিয়া শব্দের আকাশ পাতাল পার্থক্য; যদিয়ো অভিধানে ঐ পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না; তবুয়ো ভাববাদী যুক্তি-প্রমানে বা প্রচলিত অনুবাদেয়ো তা সাব্যস্থ হয় যেমন: আল্লাহু নূরুচ্ছামাঅতে অল আর্দ্ব: আল্লাহ আকাশ য়ো পৃথিবীর নূর অনুবাদটি যথার্থ নয়, কারণ তিনি শুধুমাত্র আকাশ-পৃথিবীর জ্যোতি নন; যাতে আল্লাহর অধিকার/ক্ষমতা খর্ব/সীমিত হয়।

ছামা= অদৃশ্য/অজানা(আকাশ); আর্দ্ব=দৃশ্য/জানা(বস্তু); সুতরাং গ্রহ-নক্ষত্র, ব্লাক হোল, বিগব্যংসহ আাজকের ইলেক্ট্রনো বস্তু বা দৃশ্য। অতএব আয়াতটির যথার্থ অনুবাদ হয়োয়া উচিত: আল্লাহ (উপাস্য) দৃশ্য/অদৃশ্য বা জানা/অজানার জ্যোতি/আলো বা জ্ঞান। সুতরাং:

ক. ১৪:৪৮ আয়াতটির অনুবাদ সংস্কার করা উচিত কি?

খ. আয়াতটির সরলার্থ হয়োয়া উচিত: ‘যখন বস্তু/দৃশ্য থেকে অবস্তু/অদৃশ্য হয়–;’ যা অনবরত হচ্ছে। সুতরাং ‘হবে’ শব্দ বা আায়াতটির অনুবাদ পূনর্বিবেচনা করা উচিত কি?

গ. আল্লাহর সামনে হাজির হতে পরিত্যক্ত দেহটি কি জরুরী?

আপনার প্রতিবেদনটি মূল্যবান কিন্তু যেভাবে উপস্থাপন করেছেন তাতে সমালোচনা করতে প্রচুর সময়ের দরকার, যা সম্ভব নয় বিধায় কিছু বিষয়ের উপর আলোকপাত করা হলো মাত্র। এবঙ ইহার আলোকেই বাকি বিষয়ের মূল্যায়ণ করা যেতে পারে। আশাকরি উভয়ের দূর্বলতা সমানভাবে উপলব্দি করতে সক্ষম হবেন।

বিনীত।

…………………………………

আমার জবাব-

আপনার প্রশ্ন- //ক. নাবা অর্থ কি? শিরোনামের সাথে ছুরাটির বিষয়বস্তুর সামঞ্জস্য আছে কি?//

আমার উত্তর- (النبأ) – ‘আল-নাবা’ এর অর্থ-

THE TIDINGS= সংবাদ, সন্দেশ

THE ANNOUNCEMENT= ঘোষনা

THE NEWS= খবর

কিসের খবর বা ঘোষণা? এর উত্তর জানতে হলে পরের আয়াতগুলো দেখতে হবে।

আপনার প্রশ্ন- //খ. ছুরাটিতে মোট ৪০টি আয়াত; আপনার উল্লিখিত ৫টিসহ পূর্ণ ছুরাটির মধ্যে ১টি বারয়ো ‘কিয়ামত’ শব্দটি আল্লাহ ব্যবহার করেনি। সুতরাং সেখানে বাংলা অনুবাদে এবং ব্যাখ্যায় আরবি ’কেয়ামত’ শব্দটি ঢুকিয়ে দেয়া আল্লাহর উপর অনধিকার চর্চা নয় কি?//

আমার উত্তর-

১৬ নং আয়াত পর্যন্ত একালের পৃথিবী ও আসমানের কিছু বর্ননা দেবার পর ১৭ নং আয়াতে এসে এগুলো যে একটি সুনির্দিষ্ট দিন পর্যন্তই থাকবে সেই ইংগিত দেয়া হয়েছে। তারপর ১৮ নং আয়াতে শিংগায় ফুৎকার দেবার কথা এসেছে, যা কিয়ামতের সাথে সম্পর্কিত। তাছাড়া তার পরবর্তী আয়াতগুলোর দিকে লক্ষ্য করলে তো বিষয়টি পরিষ্কার হবার কথা। তাই অনুবাদে নয় বরং ব্যাখ্যা করার সময় পাঠকদের বোঝার সুবিধার্থে অন্যান্য আয়াতের সঙ্গে এই বিষয়টিকে ‘কিয়ামত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যারা বিশ্বাস করার তারা এতেই বিশ্বাস করবে। আর যারা করবেনা- তাদেরকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও অবিশ্বাসের মধ্যেই হাবুডুবু খাবে। হাবুডুবু খাক- কে নিষেধ করেছে?

আপনার প্রশ্ন- //গ. নাস্তিক বা বিজ্ঞানীদের সাথে পৃথিবী বা সৃষ্টির প্রলয়/মহাপ্রলয়ের মতানৈক্য আছে কি? না থাকলে বর্ণিত আয়াতে কোন্ মতানৈক্যের কথা বলা হয়েছে?//

আমার উত্তর-

মতানৈক্য মানে কি জানেন?

মানে হলো= Difference of opinion; disagreement; discord.

অবশ্যই মহাপ্রলয় সম্পর্কে আমাদের সাথে নাস্তিকদের মতানৈক্য আছে। আমরা বিষয়টিকে যেভাবে ভাবি, তারা যে সেভাবে ভাবেনা- তা আপনি স্বীকার না করলেও বা না জানলেও- আমি ভালভাবেই জানি।

আপনার প্রশ্ন- //২- সাক্ষি-সাবুত, দলিল, যুক্তি-প্রমানে যখন হেরে যায় তখন কোন গত্যান্তর না পেয়ে আপন স্বত্তা/অস্তিত্ত্ব রক্ষায় কছমের প্রশ্ন আসে। আর কছম করে বর্ণিত সকল কিছুর এমনকি নিজের উর্দ্ধের শক্তিশালী য়ো বিশ্বস্থ কোন কিছুর। তবে কি আল্লাহ এমন কোন সমস্যায় আছে? কথিত কিয়ামতের অধীন বা তার চেয়ে ছোট?//

আমার উত্তর-

শুধু হেরে গেলেই কশম করা হয়না। এর আরও ব্যবহার আছে। যেমন- কোন বিষয় নিয়ে অজ্ঞতা বশত কেউ যেন অযথা সন্দেহ প্রকাশ না করে- সেজন্য সে বিষয়টি সম্পর্কে যিনি সম্পূর্নরূপে ওয়াকেবহাল এবং যা অবশ্যম্ভাবীভাবে ঘটবেই, তা অন্যের কাছে সন্দেহাতীত ভাবে খবর দেয়ার বা ঘোষনা করার জন্যও কশম করার প্রয়োজন হয়। এতে সমস্যার কি দেখলেন? সমস্যা আসলে আপনার অন্তরে।

প্রশ্ন-৩- //৭: ১৮৭ অনুবাদে প্রধান, মূল-মৌলিক বা সাবজেক্ট হলো ‘কিয়ামত’ শব্দটি। অথচ মূল আয়াতে ইহার অস্তিত্ত্ব নেই; উহার পরিবর্তে আছে, ‘ছায়াত’; আরবি ছায়াত শব্দের অনুবাদ কি আরবি কিয়ামত? কি কারনে এই গাজাখোরী গোজামীল দেয়া হলো?//

আমার উত্তর-

জী, ‘ছায়াতা’ শব্দটির অর্থ একটি ‘নির্দিষ্ট সময়’। অনেকে এটিকে (final) Hour হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। আর সেই সময় যা ঘটবে তা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে একটি ভয়ংকর ঘটনা হবে এবং আকস্মিকভাবেই তা আসবে। অবিশ্বাসিরা সেই সময় সম্পর্কে প্রশ্ন করায় একই আয়াতে তার উত্তরে যে বর্ননা দেয়া হয়েছে- তার নিরিখে সেই নির্দিষ্ট সময়কে পাঠকদের বোঝার সুবিধার্থে ‘কিয়ামত’ হিসেবে সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে। আপনার কি মানতে খুব অসুবিধা হচ্ছে? হলে- মানিয়েন না!

আপনার প্রশ্ন-৪:

//(২৯ : ১৯) অর্থ- তারা কি লক্ষ্য করে না, কিভাবে আল্লাহ মখলুক বা সৃষ্টিকে আরম্ভ করেন অর্থাৎ অস্তিত্বে আনেন, অতঃপর তিনি এর পূণরাবৃত্তি করেন ? এটা তো আল্লাহর জন্য সহজ।

(২৯ : ২০) অর্থ- বল, পৃথিবীতে পরিভ্রমন কর এবং অনুধাবন কর, কিভাবে মাখলুক অর্থাৎ সৃষ্টি প্রকাশিত হলো, অতঃপর আল্লাহ বানাতে আরম্ভ করবেন পরবর্তী বিশ্ব বা পরকাল, আল্লাহ্ তো সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

এই আয়তদ্বয়ে বৈজ্ঞানিক/দার্শনিক বিবর্তন/জন্মান্তরবাদের আভাস পায়োয়া যায় কি?//

আমার উত্তর-

না, কখনই না। এখানে তো না-ই, এবং ইসলামের সাথে কোথাও তথাকথিত বিবর্তন/জন্মান্তরবাদের আভাস পাওয়ার কোনই সুযোগ নাই।

(২৯:১৯,২০) নং আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, পরাক্রমশালী সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালা (অনস্তিত্ব থেকে) আবার পরকালের পৃথিবী ও আসমান সৃষ্টি করবেন, যেভাবে তিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন এবং এর জন্য মহান স্রষ্টার এক মূহুর্তের ইচ্ছা ও ইশারাই যথেষ্ট। শক্তি থেকেই যে আসমান ও জমিনের অস্তিত্ববান সব কিছুর সৃষ্টি হয়েছে এবং তা আমাদের সামনে প্রকাশিত হয়েছে- তা বিজ্ঞানও বলে।

আপনার প্রশ্ন-৫

//‘(১৪ : ৪৮) অর্থ- যেদিন এই পৃথিবী পরিবর্তীত হয়ে অন্য পৃথিবী হবে এবং আকাশমন্ডলীও; এবং মানুষ উপস্থিত হবে আল্লাহর সামনে, যিনি এক পরাক্রমশালী।‘

আয়াতে আরবি ‘আর্দ্ব’ শব্দের অনুবাদ করা হয়েছে ‘পৃথিবী’; মূলত ‘পৃথিবী’র আরবি হলো দুনিয়া (দেখুন: ২: ১৩০; ৩: ১৮৫; ১৬: ১২২)। সুতরাং আর্দ্ব এবং দুনিয়া শব্দের আকাশ পাতাল পার্থক্য; যদিয়ো অভিধানে ঐ পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না; তবুয়ো ভাববাদী যুক্তি-প্রমানে বা প্রচলিত অনুবাদেয়ো তা সাব্যস্থ হয় যেমন: আল্লাহু নূরুচ্ছামাঅতে অল আর্দ্ব: আল্লাহ আকাশ য়ো পৃথিবীর নূর অনুবাদটি যথার্থ নয়, কারণ তিনি শুধুমাত্র আকাশ-পৃথিবীর জ্যোতি নন; যাতে আল্লাহর অধিকার/ক্ষমতা খর্ব/সীমিত হয়।//

আমার উত্তর-

ফি-দ্দুনইয়া – (অর্থ)- In the world, আর world বলতে শুধু মাটির পৃথিবী নয়, ভূমন্ডল, পৃথিবীতে অবস্থিত দেশ ও সকল দেশের অধিবাশীদের একসাথে বোঝাবার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। আর আল-আর্দ বলতে সাধারনত নির্দিষ্ট করে শুধু Earth অর্থাৎ আমদের পৃথিবী, এর স্থল ও সমূদ্রকে বোঝান হয়। আমিও তাই বুঝি। পৃথিবীর বাহিরে যা কিছু সবই আকাশমন্ডলীর মধ্যে পরে। যেমন আমাদের পা যখন পৃথিবীর মাটি ছুঁয়ে থাকে তখন আমাদের মাথা থাকে বায়ুমন্ডলে, যা আসমানেরই অংশ। আল্লাহু নূরুচ্ছামাঅতে অল আর্দ্ব- এর (অর্থ)- ‘আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর নূর’ বলাতে কোন অসুবিধা নাই।

মহান আল্লাহর ক্ষমতা কখনই খর্ব হয়না। তিনি সর্বশক্তিমান।

পরকালে পরিত্যাক্ত দেহ নিয়েই আপনি হাজির হবেন কোথায় পেলেন? নুতন করে মহান স্রষ্টা আবার আমাদের দেহ বানাতে পারেন এবং এটা তাঁর জন্য খুবই সহজ- যেমন কোরে প্রথমবার বানিয়েছেন।

এরপর আপনার বাকী প্রশ্নের বা আর কোন প্রশ্নের উত্তর দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করিনা। আপনি যদি অন্য ভাবে ভাবতে চান- সেটা আপনার মর্জি।

…………………………………………

সম্প্রতি একজন মন্তব্য ও প্রশ্ন করেছিলেন- (তারিখঃ- ১৭/১২/২০১৩ ইং)

অনেক কিছুই তো বললেন। আল-কোরআনের ৭ নং সূরার ৪০ নং আয়াত সম্পর্কে কোন ব্যাখ্যাই আমার কাছে যুৎসই মনে হয় নাই।

এবার ‘সুচের ছিদ্র দিয়ে উষ্ট্র গমন’ সম্পর্কে আপনার বক্তব্য/ব্যাখ্যা জানতে আগ্রহী-

……………………………………………

আমার জবাব-

আশাকরি ধৈর্য হারাবেন না কিংবা অন্য অনেকের মত হতোদ্যম হয়ে পড়বেন না।

আমি এই কঠিন বিষয়টিকে যতটা পারা যায় সহজভাবেই উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি। মহান আল্লাহতায়ালা যেন আমাদের বোধশক্তি বৃদ্ধি কোরে দেন।

আল-কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন-

সূরা আল আ’রাফ (মক্কায় অবতীর্ণ)

(০৭:৪০) অর্থ– নিঃসন্দেহে যারা আমার (আমাদের-সম্মান সূচক) আয়াত/নিদর্শন/নির্দেশসমূহকে মিথ্যা বলেছে এবং এগুলোর প্রতি অহংকার করেছে, তাদের জন্যে আকাশের দ্বার উম্মুক্ত করা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না (এমন কি যখন) উট প্রবেশ করে সূচের ছিদ্র দিয়ে। আর এভাবেই আমরা অপরাধীদের শাস্তি প্রদান করি।   (০৭:৪১) অর্থ– তাদের জন্যে রয়েছে এক নরক শয্যা এবং তাদের উপরে রয়েছে আবরণসমূহ। আর এভাবেই আমি (আমরা-সম্মান সূচক) প্রতিফল দেই অত্যাচারীদের।

এখানে সেইসব মানুষের কথা বলা হয়েছে যারা মহান স্রষ্টাকে আংশিকভাবে বিশ্বাস করলেও তাঁর প্রেরিত ঐশী কিতাবের বাণীকে মিথ্যা বলে, অহংকার বশত তা থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে ও স্রষ্টার সাথে শরিক স্থাপন করে। শুধু তাই নয়, অনেকে আবার স্রষ্টা প্রেরিত কোন কোন বাণীর অর্থ ও ব্যাখ্যা সঠিকভাবে জানার চেষ্টা না করেই সেগুলো নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপে মেতে ওঠে। আবার কেউ কেউ অজ্ঞ সেজে থাকে ও অন্ধের মত আচরণ করে। এরূপ দাম্ভিকতাপূর্ণ আচরণের জন্য তাদেরকে চরম শাস্তি ভোগ করার কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। যারা এরূপ আচরণ করবে, মৃত্যুর পর তাদের আত্মাগুলোর জন্য আকাশের দরজা খোলা হবে না। যমীনের নিম্নতম স্তরে ‘সিজ্জিন’ নামক স্থানে তাদের আত্মাকে আটকে রাখার বিষয়টি হাদিছে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তারা নরক শয্যায় শায়িত থাকবে এবং নরকের তপ্ত বায়ুর মাঝে দীর্ঘ সময় ধরে শাস্তি ভোগ করতে থাকবে- “যতক্ষণ না (এমন কি যখন) উট প্রবেশ করে সূচের ছিদ্র দিয়ে।”

……………………………….

এবার বিজ্ঞানীরা কি বলেন তা তুলে ধরছি

Collapse of the universe is closer than ever before

Big_crunchSooner or later a radical shift in the forces of the universe will cause every little particlein it to become extremely heavy. Everything – every grain of sand on Earth, every planet in the solar system and every galaxy – will become millions of billions times heavier than it is now, and this will have disastrous consequences: The new weight will squeeze all material into a small, super hot and super heavy ball, and the universe as we know it will cease to exist.

“Many theories and calculations predict such a phase transition–but there have been some uncertainties in the previouscalculations. Now we have performed more precise calculations, and we see two things: Yes, the universe will probably collapse, and: A collapse is even more likely than the old calculations predicted”, says Jens Frederik Colding Krog, PhD student at the Center for Cosmology and Particle Physics Phenomenology (CP ³ – Origins) at University of Southern Denmark and co-author of an article on the subject in the Journal of High Energy Physics.

“The phase transition will start somewhere in the universe and spread from there. Maybe the collapse has already started somewhere in the universe and right now it is eating its way into the rest of the universe. Maybe a collapsed is starting right now right here here. Or maybe it will start far away from here in a billion years. We do not know”, says Jens Frederik Colding Krog.

Although the new calculations predict that a collapse is now more likely than ever before, it is actually also possible, that it will not happen at all. It is a prerequisite for the phase change that the universe consists of the elementary particles that we know today, including the Higgs particle. If the universe contains undiscovered particles, the whole basis for the prediction of phase change disappears.

“Then the collapse will be canceled”, says Jens Frederik Colding Krog.

Illustration: A collapse of the universe will happen if a bubble forms in the universe where the Higgs particle-associated Higgs-field will reach a different value than the rest of the universe. If this new value means lower energy, and if the bubble is large enough, the bubble will expand at the speed of light in all directions. All elementary particles inside the bubble will reach a mass that is much heavier than if they were outside the bubble, and thus they will pull each other into supermassive centers

///////////

সংক্ষপে ‘থিওরি অব ফেজ ট্র্যানজিশন’ (The theory of phase transition) অনুসারে একদা এমন অবস্থার সৃষ্টি হবে যে, তখন এই পৃথিবী তথা মহাবিশ্বের প্রতিটি পদার্থ কণার  উপর চতুর্দিক থেকে প্রবল চাপ প্রযুক্ত হবে। এর ফলে সেগুলো একদিকে যেমন অত্যন্ত ওজনদার হবে, তেমনি সংকুচিত হয়ে অতি ক্ষুদ্র আকার ধারণ করবে। এর ফলে প্রথমত মহাবিশ্বের বর্তমান অবয়বের আমুল পরিবর্তনের সাথে সাথে স্বাভাবিক গঠন ভেঙে পড়বে বা ধসে যাবে অর্থাৎ আল-কোরআনের ভাষায় আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীকে গুটিয়ে নেয়া হবে। তারপরও আমাদের অনুপস্থিতিতেই অনেক কাল পর্যন্ত এই সংকোচন প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। আমাদের পৃথিবী সহ সৌরজগতের সূর্য ও সকল গ্রহ, উপগ্রহই শুধু নয়, মহাবিশ্বের  সমুদয় পদার্থ একত্রিত অবস্থায় একটি অতি ক্ষুদ্র, অতি উত্তপ্ত এবং অত্যন্ত ওজনদার পিণ্ডের আকার ধারণ কোরে একখণ্ড ‘যমীন’ রূপে বিরাজ করবে। কতকাল পর্যন্ত এই পরিবর্তন চলতে থাকবে তা বলা মুশকিল। মহান আল্লাহতায়লাই ভাল জানেন। বিজ্ঞানীরা গবেষণা কোরে খুটিনাটি সকল খবর জানতে ও জানাতে পারবেন কিনা তা ভবিষ্যতের হাতেই ন্যস্ত থাক।

……………………………………….

আল-কোরআনে সকল কালের বিশ্বাসীদের জ্ঞাতার্থে এই ধরনের অবস্থা ও পরিবর্তন সম্পর্কে সাধারণভাবে বেশ কিছু ইংগিত দেয়া হয়েছে। বিশেষ কোরে (০৭:৪০) নং আয়াতে ‘উট’ এবং ‘সূচের ছিদ্র’- এই উদাহরণের মাধ্যমে সহজ ভাবে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে একটি মাত্রা নির্ধারণ কোরে দিয়ে ইংগিত দেয়া হয়েছে যে, অতি নিকটে বা অনেক অনেক কাল পরে একটা সময় আসবে যখন উট আকৃতির প্রাণী তথা বস্তুগুলো এমনই ক্ষুদ্র আকার ধারণ করবে যে সেগুলো সূচের ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়েও প্রবেশ করতে পারবে। ভবিষ্যতের কোন এক সময় চতুর্দিক থেকে প্রবল চাপ প্রযুক্ত হওয়ার ফলে যে এরূপ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে- বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের দ্বারাও কিন্তু সেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আর আল-কোরআন ও হাদিছের বক্তব্য অনুসারে বর্তমানের উট আকৃতির প্রাণী তথা বস্তুগুলো যেহেতু একদা ক্ষুদ্র আকার ধারণ কোরে সূচের ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করার মত অবস্থায় উপনীত না হওয়া পর্যন্ত অস্বীকারকারীদের সাজাপ্রাপ্ত আত্মাগুলো ‘সিজ্জিন’ নামক স্থানে নরক শয্যায় শায়িত অবস্থায় নরকের তপ্ত বায়ুর মাঝে শাস্তি ভোগ করতে থাকবে এবং তাদের জন্য আকাশের দ্বার উন্মুক্ত করা হবেনা অর্থাৎ পরকালীন জগতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। সুতরাং এ থেকে বোঝা যায যে, পরম চাপে ও তাপে নিষ্পেষিত ও অতি সংকুচিত অবস্থায় ‘সিজ্জিনের’ শাস্তি ভোগের পর মহান আল্লাহতায়ালার ইচ্ছাতেই কোন এক নির্দিষ্ট ক্ষণে হয়ত এই সাজাপ্রাপ্ত আত্মাগুলোর জন্য আকাশের দ্বার উন্মুক্ত কোরে পরকালে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হবে। তারপর ‘ইল্লিন’ ও ‘সিজ্জিন’ এ অপেক্ষমাণ সকল আত্মা থেকে পরকালের পরিবর্তিত আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে শাশ্বত পদার্থ কণিকা থেকে আবারও আমাদেরকে সৃষ্টি করা হবে। এরপর শুরু হবে মহান আল্লাহতায়ালার সম্মুখে আখিরাতের চুলচেরা চূড়ান্ত ফায়সালা। অতঃপর মহান স্রষ্টার আদেশেই পরম শান্তি ও চরম শাস্তি ভোগের জন্য জান্নাতে অনুপ্রবেশ ও জাহান্নামে নিক্ষেপ করার বিষয়টি কার্যকর করা হবে।

………………………………….

Depressed Scientists In Denmark Declare Doom Is Nigh-er

napthor

বর্তমানে বিজ্ঞানীরা তাদের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সূক্ষ্ম গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে মহাবিশ্ব ধসে বা ভেঙে পড়ার ব্যাপারে পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি নিশ্চিত হয়েছেন এবং তা প্রকাশও করেছেন। কিন্তু তারপরও তাদের সন্দেহপূর্ণ কথা-বার্তায় মনে হচ্ছে যে, তারা বিষয়টিকে সহজভাবে নিতে পারছেন না। আর সে কারণেই অবশ্যম্ভাবী খবরটিকে তুড়ি মেরে একেবারে উড়িয়ে দিতে না পারলেও অবিশ্বাসী এবং পরকাল সম্পর্কে দ্বিধান্নিত বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্ব ধ্বংস হবার সংবাদে মানসিক হতাশায় ভুগছেন এবং এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা যারা মহান স্রষ্টা ও তাঁর প্রেরিত কিতাব আল-কোরআনের প্রতিটি বাণীকে বিশ্বাস করি- তাদের কাছে বিষয়টি নুতন কিছু নয়। আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রেরিত মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে বিভিন্ন উপমার মাধ্যমে এই মহাপ্রলয়ের খবর অনেক আগেই আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং নিঃসন্দেহে সেই নির্দিষ্ট ক্ষণটি ক্রমান্নয়ে নিকটতর হচ্ছে। আমরা বিশ্বাসীরা এই মহা-সংবাদটি যেমন দ্বিধাহীন চিত্তে বিশ্বাস করি, তেমনি একবাক্যে স্বীকারও করি। যতই দিন গড়াবে, বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের দ্বারা এই সম্পর্কিত ভবিষ্যত উপমাগুলো যে আরও সুষ্পষ্ট রূপে সবার সামনে প্রকাশ পেতে থাকবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

2887 জন পড়েছেন

Comments are closed.