ইসলাম অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হতে চায় যুক্তরাজ্য।

2000 জন পড়েছেন

পুঁজিবাদী শোষণের হাতিয়ার সুদ ভিত্তিক বিশ্ব অর্থব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে  ইসলামী শরিয়াহ সম্মত অর্থব্যবস্থার বিকল্প নাই। শুভ সংবাদ হল বিশ্বের কায়েমী স্বার্থবদী মহলের অপপ্রচার ও বাধা বিপত্তির মাঝেও ইসলামী ব্যাংকিং আজ এগিয়ে চলছে। বিশ্বে বর্তমানে ইসলামী পুঁজির পরিমাণ ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার। তবে প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের চেয়ে দ্রুতহারে বাড়ছে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা। ইসলামি অর্থনীতিতে সুদ নিষিদ্ধ। প্রকৃত সম্পদের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় ইসলামি পুঁজি। বহুজাতিক পেশাদারীত্ব সেবা প্রতিষ্ঠান, বিখ্যাত কোম্পানি  আর্নেস্ট অ্যান্ড ইয়ং এর তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ সালে ইসলামী ব্যংকিং ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিচ্ছে।

শরিয়াহ সম্মত ভাবে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য ২০০৬ সালে মালয়েশিয়ায় ওয়াইআইইএফ প্রতিষ্ঠিত হয়।  ব্রিটেন বিশ্বের প্রথম অমুসলিম রাষ্ট্র যেখানে ওয়াইআইইএফের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ব্রিটিশ সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী প্রিন্স চার্লস সম্মেলনে আগত অতিথিদের জন্য এক আড়ম্বরপূর্ণ নৈশভোজের আয়োজন করেন। বিশ্বের প্রথম অমুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাজ্য শরিয়াহ সম্মত সরকারি বন্ড ‘শুকুক’ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  ইসলাম অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হতে চায় যুক্তরাজ্য। দেশটির আশা এর মাধ্যমে তার দ্রুত বিকাশমান ইসলামী পুঁজির কেন্দ্রবিন্দু পরিণত হতে পারবে। খবর আল জাজিরা’র।

 লন্ডনে আয়োজিত বিশ্ব ইসলামী অর্থনৈতিক ফোরামের (ওয়াইআইইএফ) বার্ষিক সভায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এই আকাঙ্খার কথা প্রকাশ করেন। ওয়াইআইইএফ সম্মেলনে মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক নেতা, প্রধান নির্বাহী ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় ক্যামেরন বলেন, ‘মুসলিম বিশ্বের বাইরে লন্ডন ইতোমধ্যেই ইসলামি পুঁজির বৃহত্তম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আজ আমাদের লক্ষ্য আরো এগিয়ে যাওয়া। আমি চাই- বিশ্বের অন্যান্য শহরকে ছাড়িয়ে দুবাই ও কুয়ালালামপুরের মতই লন্ডনকে বিশ্বের ইসলামি পুঁজির মহান রাজধানীতে পরিণত করতে।’ লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে চলতি সপ্তাহেই চালু হচ্ছে ইসলামিক মার্কেট ইন-ডেস্ক।

অর্থনীতি পর্যবেক্ষকদের মতে মুসলিম বিশ্বের বেশ কিছু দেশে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে একটি ভোক্তা বান্ধব ব্যাংকিং সিস্টেম (consumer-friendly banking system) প্রচলনে প্রাধান্য দিয়ে বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক সঙ্কটের কঠোর প্রভাব এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বস্তুত এ সব দেশের  বিগত  ৮0 বছরের তাদের অর্থনীতির নিম্নমুখী খারাপ অবস্থা থেকে  উত্তরণের জন্য ইসলামী ব্যাংকিং বিরাট ভূমিকা রেখেছে। অনেক অর্থনীতিবিদ পণ্ডিতদের অভিমত, ইসলামী অর্থব্যবস্থা তার বলিষ্ঠতা প্রমাণিত করে যে সমস্ত বিশ্বের স্বীকৃতি লাভের মাধ্যমে এটি একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের  সূচনা করবে।

মালয়েশিয়া, ইসলামী অর্থব্যবস্থা ইতিমধ্যে মোট ব্যাংকিং খাতে ২০ শতাংশ, প্রাথমিক ঋণ মূলধন বাজারের ৭০-৮০ শতাংশ, মোট বকেয়া কর্পোরেট বন্ড ৬0 শতাংশ বেশি, তালিকাভুক্ত স্টক ৮৮ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ হচ্ছে সম্পদ ব্যবস্থাপনা শিল্পে। “এই বাজারে শেয়ার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আরও বৃদ্ধি করার জন্য প্রত্যাশা করা হচ্ছে” বলেছেন, বদীসাহ আব্দুল গনি,  ইসলামী ব্যাংক বেরহাদ এর  সিইও।

ইসলামী ব্যাংক কেবল বাণিজ্যিক ও খুচরা ব্যাংকিং মধ্যে  সীমাবদ্ধ নয় । “S & P” ইনডেক্স  অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংক এখন শরিয়া-অনুবর্তী তহবিল পরিচালনার মাধ্যমে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রসারিত হয়েছে. শীর্ষ পাঁচশত ইসলামী ব্যাংকের সম্পদের  পরিমাণ ২০০৮ সালের  ৬৩৯ বিলিয়ন ডলারের তুলনায়  ২০০৯ সালে ২৮.৬ শতাংশ বৃদ্ধি হয়ে ৮২২ বিলিয়ন ডলারে পৌছায়।

বৃহত্তম ইসলামী ব্যাংকের বাজার সৌদি আরব দ্বারা পরিচালিত হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরে, মালয়েশিয়া তার প্রতিষ্ঠান ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ইসলামী ব্যাংকিং সিস্টেমে নেতৃস্থানীয় জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মালয়েশিয়া এশিয়ার ইসলামী আর্থিক বজারের কেন্দ্রস্থল হিসাবে স্বীকৃত।

২০০৯ সালে মালয়েশিয়ার ইসলামী ব্যাংকিং সম্পদের পরিমাণ ছিল  ৩৫.২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশেও ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা শত বাধা বিপত্তির মাঝে এগিয়ে চলছে যেমন বাংলাদেশ ইসলামী ব্যংক । তবে বামপন্থি, সেকুলার ও পৌত্তলিকতার অনুসারীরা ইসলামী ব্যাংকের ভীষণ বিরোধী। এই মহলের পরিচালিত শাহবাগের “গণজাগরণের”মঞ্চের অনেকে ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

ইসলামী ব্যাংকিং প্রচলিত ব্যাংকের মতই কার্যক্রম পরিচালিত করে তবে তফাৎ হল ইসলামী ব্যাংকে সুদকে পরিহার করা হয়। আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন আর ব্যবসাকে করেছন হলাল। ইসলামী ব্যঙ্কের কথা বলতে অনেকে মনে করেন ইসলামী ব্যাংক মানে হতে হবে খয়রাতি ব্যাংক অর্থাৎ এ সব ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করতে যাবে কেন? কিন্তু ব্যবসা করতে গেলে লাভ করা কি হারাম?  এ কথা বলা যেতে পারে যে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকগুলার সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা হয়তবা সন্তোষজনক বা ক্রেতা-বান্ধব না। তবে যে কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিদ্বন্দ্বী একাধিক  প্রতিষ্ঠানের জন্ম নিলে অধিক ক্রেতা ভিড়াবার তাগিদে সেবার মান বাড়াতে ও মূল্য কমাতে বাধ্য হয়। আশা করা যায় বাংলাদেশে ইসলামপন্তি কোন সরকার ক্ষমতায় আসলে এ সমস্যার সমাধান হবে।

[youtube=http://www.youtube.com/watch?v=gs_JsuGN74Y]

ইসলামী ব্যাংকের নামে মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে নিয়ে যাতে কেউ অপব্যবহার করতে না পারে সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

[youtube=http://www.youtube.com/watch?v=fToAyVUbRFA]

[youtube=http://www.youtube.com/watch?v=vnV7EBrKGfY]

Facebook Comments

2000 জন পড়েছেন


Comments

ইসলাম অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হতে চায় যুক্তরাজ্য। — ২ Comments

  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল্যায়ের অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক
    অধ্যাপক আবু আহমেদ ইসলামী আর্থিক বাজার সর্ম্পকে কিছু বক্তব্য রেখেছেন যা প্রাসঙ্গিক মনে করে এখানে যোগ করছি।

    “গত ২৯ অক্টোবর লন্ডনে বিশ্ব ইসলামী ইকোনমিক ফোরামের (World Islamic Economic Forum) শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। বাংলাদেশ থেকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ ওই সম্মেলনে বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আমরা খুশি যে আমাদের রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি ওই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁর সঙ্গে আমাদের অর্থমন্ত্রী কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর উপস্থিত থাকলে ভালো হতো। আমি জানি না যেখানে তাঁরা অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন-সভায় উপস্থিত থাকেন, সেখানে WIEF এর শীর্ষ সম্মেলনে কেন উপস্থিত থাকলেন না? বিশেষ করে যে সম্মেলনে অন্য অনেক দেশের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা উপস্থিত ছিলেন। একটা মিথ্যা জড়তা কী তাঁদের পেয়ে বসেছে যে পাছে লোকে আবার তাঁদের মৌলবাদীদের সাথী মনে করে কিংবা প্রতিক্রিয়াশীলদের সম্মেলনের উৎসাহদাতা মনে করে। তবে এ ধরনের জড়তা থাকলে সেটা নিতান্তই ভুল। বিশ্বব্যাপী এখন ইসলামী আর্থিক ব্যবস্থা এমন একটি স্বীকৃত ব্যবস্থা, যে ব্যবস্থার অধীনে এখন ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার এবং যে বাজার গড়ে প্রতিবছর ২৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরের ওই সম্মেলনে যাওয়া এই জন্যও প্রয়োজন ছিল যে বাংলাদেশেও অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী রীতিনীতির ওপর ভিত্তি করে চালিত হচ্ছে। ওই সম্মেলন থেকে রেগুলেশনের (Regulation) ব্যাপারে তাঁরা আরো উন্নত ধারণা পেতেন। আমাদের রাষ্ট্রপতি তো গেলেন এবং বুঝেছেনও অনেক কিছু, কিন্তু তাঁর যে কোনো কার্যনির্বাহী ক্ষমতা নেই।

    যা হোক, বাংলাদেশেও যে এই আর্থিক ব্যবস্থার অনেক চাহিদা আছে এবং এই দেশের জনগণের একটা বিরাট অংশ যে ইসলামী আর্থিক বাজারের হাতিয়ারগুলোতে বিনিয়োগ করতে চায়, সেটা বিশ্ব জানে। মালয়েশিয়াসহ অন্য অনেক দেশে এই ব্যবস্থা অনেক এগিয়ে গিয়েছিল এবং রেগুলেশনের বিষয়টিও একটি মীমাংসিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বাংলাদেশ যেসব হাতিয়ার বেচাকেনা করে মুদ্রাস্ফীতি অনুসরণ করে বা করত ওইগুলোতে বিনিয়োগ করা ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য সম্ভব হচ্ছিল না। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক বেচাকেনা করে ট্রেজারি বিলস ও ট্রেজারি বন্ডস, যেগুলো সুদের ভিত্তিতে গ্রাহকদের, এ ক্ষেত্রে ক্রেতা ব্যাংকগুলোকে মুনাফা দেয়। ইসলামী ব্যাংকগুলো যেহেতু সুদ পরিহার করে চলে সেই জন্য এগুলো কেনায় অংশ নিত না। আমি জানি না এযাবৎ তারা ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী Statutory Reserve Ratio বা SRR কিভাবে জমা রাখত।

    অতি সম্প্রতি বোধকরি বাংলাদেশ ব্যাংক লাভ-ক্ষতির ভিত্তিতে ট্রেজারি বিল ও বন্ড ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সেটা বাস্তবে প্রয়োগের আগে এর কার্যকারিতা বোঝা যাবে না। বাংলাদেশে শুধু ব্যাংকিং বাজারের ক্ষেত্রেই ইসলামী ব্যাংকগুলোর দখলে আছে মোট বাজারের ২৮-৩০ শতাংশ। তাহলে তো রেগুলেটরের এই ক্ষেত্রে অনেক আগে থেকেই ইসলামী ব্যাংকগুলোর চাহিদা ও সমস্যার কথাগুলো বোঝা উচিত ছিল। সুদ পরিহার করে চলার বিষয়টি যদিও মুসলমানদের ধর্মবিশ্বাস থেকে এসেছে, তবু এই কনসেপ্টকে প্রয়োগের ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা যায়। সুদকে নিষিদ্ধ শুধু মুসলমান ধর্মেই করা হয়নি, বরং ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মেও সুদ নিষিদ্ধ।

    পশ্চিমের আর্থিক ব্যবস্থার মূল তিনটি উপাদান হলো- লোভ, লাভ ও স্পেকুলেশন (Gre , Profit and Speculation)।
    তারা বিনিয়োগে ও বেচাকেনায় লাভ ছাড়া কিছুই বোঝে না। তারা এমন বস্তুও বেচাকেনা করে যেগুলোর প্রকৃত উপস্থিতি নেই। শুধু কাগজে কলমে বাস্তবে নেই এমন বস্তুও কেনাবেচা হয়। এগুলো তাদের সমাজে মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে, এই জন্য যে লোভ, লাভ আর স্পেকুলেশন- এসব উপাদান তাদের বিশ্বাসমতে সম্পদ সৃষ্টি করতে দারুণ কাজ করে এবং এই পদ্ধতিতে বছরে বছরে হাজার হাজার লোক কোটিপতি হয়। আবার লোভ, লাভ আর স্পেকুলেশনের অনুঘটক হলো সুদ। সুদ ছাড়া তাদের লেনদেন অকল্পনীয়।

    সুদের নির্যাতন অনেক বেশি হলেও তারা সেটাকে স্বীকার করতে নারাজ। কেন সুদ, স্পেকুলেশন, লাভ- এই তিনটি উপাদান এত বেশি তাদের আর্থিক ব্যবস্থায়? এর মূল কারণ হলো শত শত বছর ধরে এসব উপাদানকে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ানো হয়েছে, এই সুদের পক্ষে হাজার হাজার বই লেখা হয়েছে এবং এসব পড়ে ও গবেষণা করে লোকরা তাদের পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। এসবের ভিত্তিতে যে ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তার নাম দেওয়া হয়েছে পুঁজিবাদ।

    যা হোক, ২৯ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্ব ইসলামী ফোরামের মূল বক্তা ও উদ্বোধক ছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। তিনি লন্ডনকে বিশ্ব ইসলামী আর্থিক ব্যবস্থার অন্যতম কেন্দ্র (Hub) হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী। ইংরেজ জাতিগত শিক্ষিত ও প্রজ্ঞাবান। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী দেখলেন, ইসলামী অর্থনীতির মধ্যে ভবিষ্যৎ আছে। এই অর্থনীতিকে উদারভাবে গ্রহণ করে তাঁর দেশ অনেক উপকৃত হতে পারে।

    ওই সম্মেলনেই তিনি ঘোষণা করলেন, ভবিষ্যতে তাঁর দেশ ইসলামী বন্ড সুকুক (ঝঁশঁশ) ইস্যু করবে। ডেভিড ক্যামেরনদের মতো লোকরাই তো সহজে বুঝবেন যে, সুদের অতি ব্যবহার তাঁদের আর্থিক ব্যবস্থায় অনেক ক্ষতি করেছে।

    লোভ, স্পেকুলেশন আর সুদ একত্র হয়ে তাঁদের আর্থিক ব্যবস্থায় ধস নামিয়ে দিয়েছে। সে তুলনায় সুদবিহীন আর্থিক ব্যবস্থা অনেক বেশি স্থিতিশীল। যে ব্যবস্থা স্থিতিশীল সে ব্যবস্থাই দীর্ঘমেয়াদে জনগণের স্বার্থের জন্য টেকসই। এটা ক্যামেরনরা ঠিকই বুঝেছেন এবং তাদের বোঝার মাধ্যমে সুদবিহীন আর্থিক ব্যবস্থা একটা নব উচ্চতায় পৌঁছবে অবশ্যই।”

  2. একটি সুন্দর লেখা এসেছে যা অনেক আলোচনার উদ্ভব ঘটাতে পারে। ইসলামি অর্থব্যবস্থা একটি ব্যাপক ফিল্ড। ইসলামী সাহিত্যে যুগ যুগ ধরে এই উপর অসংখ্য বই-পুস্তক প্রণীত হলেও সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ থেকে এবং অষ্টাদশ শতাব্দী ব্যাপী সূদ ভিত্তিক আধুনিক ব্যাংকিং এর যে সূত্রপাত হয় এবং আজ যে আকারে বিশ্বগ্রাসীরূপে বিরাজ করছে তা পূর্বেকার ইসলামি অর্থব্যবস্থার সামনে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়ে এবং তা হয় ইসলামী রাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে। তবে এই বিষয়ে মুসলমানরা যা করে যাচ্ছেন তা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক এবং উদীয়মান।

    আজকের সূদভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থা যে পর্যায়ে অবস্থান করছে তাতে মনে হচ্ছে আগামীতে আমরা ব্রেড-বিস্কুটও ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে কিনতে হবে। এবং এর পরই মানবজাতি জায়োনিস্ট সিস্টেমের পরিপূর্ণ গোলামীর আওতাভুক্ত হয়ে পড়বে। কিন্তু ঘটনা যাই হোক না কেন আপনাকে বসে থাকলে হবে না, বিকল্প পথ পেতে হবে। আর সেই বিকল্পের পথে প্রথমে আপনি দাঁড়াবেন, তারপর হয়ত পিছলে পড়বেন, তারপর আবার দাঁড়াবেন, আর এভাবেই বিকল্প শক্তিশালী হয়ে ওঠবে। আজকে ইসলামি ব্যাঙ্ক ক্ষুদ্র বিকল্পে উপস্থিত হয়েছে মাত্র। এত্থেকে গরীব এখনও লাভবান হওয়ার অবস্থানে নেই। এই ব্যবস্থা এখনো পরিপূর্ণ হয়নি, আরও অনেক পথ যেতে হবে। সর্বোপরি রাষ্ট্র যতক্ষণ পর্যন্ত ইসলামাইজ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই ব্যবস্থা ধনীদের মধ্যেই থেকে যাবে। এটা ধর্মীয় ছত্রছায়ায় অধিক নিরাপদ। বিগত দশকগুলো ধরে এই সিস্টেমে নোকসান দেখা যায়নি এবং এটা ব্যবসায়ের একটা লুক্রাটিভ ‘নিশ’ হিসেবে ইউরোপীয়নাদের কাছে লোভনীয় হয়ে পড়েছে।

    সাধারণ মানুষ তো প্যাচপুচ বুঝবে না, তার কাছে ধর্মী অনুভূতি প্রবল। তাই ব্যাঙ্ক ৭০%, ৮০% না ৯০% ইসলামি নীতি অনুসরণ করছে সেটা সে বুঝার পর্যায়ে নয়, তবে সে এই ব্যাঙ্কের সাথে জড়িত হতে আগ্রহী। এই বিষয়টি ব্যবসায়ের জন্য অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। তাছাড়া ইউরোপকে (বরং বলুন সারা বিশ্বকেই) জায়োনিস্টদের সূদি ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। এটা ইউরোপবাসী ভুলতে পারেনি তাই বিকল্প ইসলামী অর্থ ব্যবস্থার প্রতি অনেকের সমর্থন রয়েছে এবং তারা চান এটা জায়োনিস্টদের সুদি ব্যবস্থার শক্তিশালী বিকল্প হোক, তবে জায়োনিস্টারাও এটার ধারা ঠেকাতে চেষ্টা করে যাবে এবং ভিতর থেকে এটাকে অনৈসলামী দেখাতেও সচেষ্ট থাকবে।

    ব্রিটেনে অনেক বৎসর ধরে কয়েকটি ইউনিভার্সিটি ইসলামি ফাইনেন্স ও ব্যাংকিং এর উপর ডিগ্রি কোর্স করিয়ে যাচ্ছে এবং এতে এক বিশেষজ্ঞ শ্রেণীও তৈরি হচ্ছে। বইয়ের দোকানে এই বিষয়ের উপর এত বেশি লেখা রয়েছে যে তার সারি দেখলেই ব্যাপকতার স্পর্শ অনুভব করা যায়।

    ইসলামি অর্থব্যবস্থার উপর গবেষণালব্ধ লেখাসমূহের একটি বিব্লিওগ্রাফি মুহাম্মাদ আকরাম ১৯৭০ দশকের প্রথম দিকে প্রণয়ন করেন। ১৯৭০ এর দশকে ভলকার নীহাস (Volker Niehaust)একটি বিব্লিওগ্রাফি প্রণয়ন করেন যাতে ইংরেজি ও জার্মান ভাষায় সেই সময় পর্যন্ত যেসব রিসার্চ প্রকাশিত হয়েছিল তা সন্নিবেশিত হয়। প্রফেসর নাজিবুল্লাহ সিদ্দিকীও একটি বিব্লিওগ্রাফি প্রণয়ন করেন। ১৯৮৩ সালে মুহাম্মদ আকরাম খানের বিব্লিগ্রাফি বর্ধিত আকারে ইসলামি ফাউন্ডেশন লেস্টার থেকে প্রকাশিত হয় যাতে প্রায় ৯০০ এর মত বই ও আর্টিকেলের উল্লেখ থাকে। এই বইটির ভূমিকায় প্রফেসর খুরশিদ আহমদ বলেন, ‘Anyone who is trying to keep pace with the new writings in the field would realise the economic content of Islamic Economics is increasing and becoming more refined and articulate. This is a very significant development and the present bibliography also bears it out. (in Khan, M. A (1983) Islamic Economy Vol., Leicester: Islamic Foundation, p.9) উল্লেখিত পাবলিকেশনের পর আরও তিন দশক অতিবাহিত হয়েছে। এই পরিসরের ফিল্ডের বিস্তৃতি কেবল অনুমানই করা যেতে পারে।

    তবে আরেকটি কথা। ধনীরা নিজেরাই এক universal ক্যাটাগরি। সেই ক্যাটাগরিতে ধর্মরাষ্ট্র প্রবেশ না করা পর্যন্ত খেলার গুটি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে না। মুনাফাখোর কোন ধর্মের? এই প্রশ্নের উত্তরের চেয়ে প্রশ্নই অধিক অর্থবহ। মুনাফার স্বার্থে অনেক জটিল রুল এদিক সেদিক করার প্রবণতা ধনীদের থাকতে পারে, কেবল রাষ্ট্র যখন ইসলামের ‘পক্ষে’ অবস্থান নেবে এবং policy, procedure এর সাথে ইসলামি নৈতিকতার অবস্থানের ‘তদারকির-অবস্থান’ নিরপেক্ষ প্রেক্ষিত থেকে বিবেচনা করবে তখন অনেক ন্যায্যতা পরিপূর্ণতায় পৌঁছবে। তবে এই ব্যবস্থা সঠিকভাবে অগ্রসর হোক, এই দোয়া করি।