বাংলাদেশে দুই ভন্ড রাজনৈতিক পীরের আবির্ভাব

2591 জন পড়েছেন

ঝড়ে কাক মরে, ফকিরের কেরামতি বাড়ে।’ বাংলাদেশে সিটি কর্পোরেশনগুলোর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্বাভাবিক আর অস্বাভাবিক যাই হোক বড় ধরনের পরাজয় ঘটেছে। তাতে নিজেদের কেরামতি জাহির করার জন্য ফকিরের সংখ্যা বেড়ে গেছে। অন্তত দুজন বড় ফকির যে কেরামতি দাবি করছেন, তাতো চোখের সামনেই দেখা যাচ্ছে। একজন হাটহাজারির হেফাজতি পীর মাওলানা শফী; আরেকজন আমাদের নোবেল জয়ী ব্যবসায়ী ড. মুহম্মদ ইউনূস। মাওলানা শফী দাবি করছেন, তাঁর হেফাজতিদের সমর্থন ছাড়া বাংলাদেশে কোন দলের পক্ষে ক্ষমতায় যাওয়া বা ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়। ড. ইউনূসও দাবি করছেন গ্রামীণ ব্যাংকের লাখ লাখ নারী ভোটার এখনও তাঁর অনুগত। বাংলায় ভাগ্য, এই নারী ভোটারদের দ্বারা (অর্থাৎ তাঁর দ্বারাই) নির্ধারিত হবে। এই দাবি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেশ মজার প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করেছে। রাতারাতি বাংলাদেশে এই দুজন রাজনৈতিক পীরের আবির্ভাব ঘটে আগেই বলেছি এরা হলেন একজন হেফাজতি মাওলানা শফী, আরেকজন নোবেল জয়ী ড. ইউনূস। এই দুই পীরের কাছে এখন বাংলাদেশের হতাশ রাজনৈতিক দলও নেতাদের ধরনা দেয়া শুরু হয়ে গেছে। ড. ইউনূস একজন সফল ব্যবসায়ী, গ্লোবাল ক্যাপিটালিজমের সমর্থন এই ফতুয়াধারী গরিবের বন্ধুর প্রতি। সুতরাং তাঁর কাছেই ধরনা দেয়া রাজনৈতিক নেতাদের সংখ্যা বেশি। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াতো শুরু থেকেই গ্রামীণ ব্যাংকের অর্থনৈতিক ইস্যুটিকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করে সংসদে, সংসদের বাইরে ড. ইউনূসকে জোরালো সমর্থন দিয়ে চলেছেন। এখন ড. ইউনূস রাজনীতি করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েও রাজনৈতিক পীর হিসেবে আবির্ভূত হওয়ায় বিএনপির সামনের সারির নেতারা তাঁর কাছে গিয়ে ধরনা দিচ্ছেন। গেছেন বিকল্প ধারায় ড. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাসদের (রব) আ স ম আবদুর রব। গেছেন এবং যাচ্ছেন আরও অনেকে। এরশাদ সাহেব বা তাঁর দলের কেউ গেছেন বলে এখন পর্যন্ত আমার জানা নেই। গেলে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। এই দুই পীরের একটাই এজেন্ডাÑ গণতান্ত্রিক এবং সেকুলার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটানো। ড. ইউনূসের একটা ব্যক্তিগত এজেন্ডাও আছে। তা হলো শেখ হাসিনার ওপর প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা। এই আওয়ামী-বধ অভিযানে মাওলানা শফীর চাইতে ড. ইউনূসের পাল্লা একটু ভারি। মাওলানা শফীর হেফাজতের দাবি মধ্যযুগীয়। বাংলাদেশের সুবিধাবাদী ও চরিত্রহীন এলিট ক্লাস তাঁকে ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু প্রকাশ্যে সমর্থন দিতে নববধূসূলভ লজ্জাবোধ করে। এদিক থেকে ড. ইউনূসকে সমর্থন দেয়া লাভজনক। তিনি নোবেল জয়ী। ক্লিনটন থেকে ওবামা সকল মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে ব্লু বয়। মার্কিন হিলারী ক্লিনটন, ইউরোপের রাজারানীরা তাঁর পরম বন্ধু। তিনি গরিবের বন্ধু, কিন্তু ধনতন্ত্রের বরপুত্র। বাংলাদেশে কারজাই গোছের সরকার চাপিয়ে দিতে হলে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের কাছে ড. ইউনূসই তাঁদের পছন্দের মানুষ। এবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোন অঘটন ঘটলে বা ঘটানো হলে এই পছন্দের মানুষটিই হয়তো বাংলার কারজাই হিসেবে আবির্ভূত হবেন। মাওলানা শফীর ভাগ্যে সে শিকা ছিড়বে না। সুতরাং ড. ইউনূসের দরবারেই দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি। এই দুই রাজনৈতিক পীরের একজনের মূলধন ফতোয়া এবং আরেকজনের মূলধন ফতুয়া। তবে দেশের একটি গণতান্ত্রিক ও সেক্যুলার গবর্নমেন্টকে উৎখাতের চেষ্টার ব্যাপারে এই দুই পীরের কৌশল ও ভ-ামি একই ধরনের। মাওলানা শফী এতদিন বলেছেন, হেফাজতে ইসলাম কোন রাজনৈতিক দল নয়। ধর্মীয় দাবি-দাওয়া আদায়ের জন্য তাঁদের আন্দোলন, কার্যক্ষেত্রেÑ এমন কি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনেও দেখা গেছে তাঁরা বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে আদাজল খেয়ে নেমেছেন। এখন আবার দাবি করছেন, তাঁদের সমর্থন ছাড়া বাংলাদেশে কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যেতে পারবে না। অর্থাৎ হেফাজতের রাজনৈতিক ভূমিকা আর অপ্রকাশ্য রইল না। ধর্মের হেফাজতের নামে এ ধরনের মিথ্যাচার কোন ধর্মীয় সংগঠন বা তাঁর নেতার পক্ষে করা সম্ভব কি? অন্যদিকে ড. ইউনূস এখনও বলছেন, তাঁর রাজনীতিতে নামার ইচ্ছা নেই, তিনি রাজনীতি করবেন না। কিন্তু তিনি যা করছেন তা হচ্ছে চোখ মুদে কাকের মল খাওয়ার মতো। কাক মনে করে কেউ তা দেখছে না। ড. ইউনূসেরও সম্ভবত ধারণা তিনি রাজনীতি না করার নামে যে নোংরা রাজনীতি করছেন তা বাংলাদেশের কারও চোখে পড়ছে না। তার বন্ধু অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শেষ পর্যন্ত তাঁর ভ-ামি ধরতে পেরেছেন। তাই বলতে পেরেছেন, ‘ড. ইউনূস একজন রাজনীতিক। আমার মুহিত ভাই একজন ভদ্র মানুষ। তাই ভদ্রতাবোধ থেকেই বলতে পারেননি, ড. ইউনূস একজন ভ- রাজনীতিক। গরিবের বন্ধু সাজাও তাঁর ব্যবসায়িক ভ-ামি। তিনি গ্লোবাল ক্যাপিটালিজমের তল্পিবাহক। সুতরাং গ্লোবাল ক্যাপিটালিজমের নেতা আমেরিকা তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান দেয়। তিনি গরিবের বন্ধু হন কিভাবে? ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?’ ড. ইউনূস সম্পর্কে অন্ধ হয়ে থেকে বাংলাদেশের সুশীল সমাজ কী ভাবেন দেশকে প্রলয় থেকে বাঁচাতে পারবেন, না নিজেরা বাঁচতে পারবেন ড. ইউনূসের কবল থেকে গ্রামীণ ব্যাংক মুক্তি পাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে। ব্যাংকটির পরিচালনা উন্নতি হয়েছে এবং মুনাফা বেড়েছে। এখন গ্রামীণ ব্যাংকের চক্রবৃদ্ধি সুদের চাপে বা অন্য কোন প্রকার নির্যাতনে একজন ঋণগ্রহীতারও আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায় না। সেদিকে কারও নজর নেই। অসৎ ও অসত্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে সরকার গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংস করে ফেলছেন। গ্রামীণ ব্যাংক সংক্রান্ত একটি কমিশনের সুপারিশকে কেন্দ্র করে এই মিথ্যা প্রচার আরও ছড়ানো হয়েছে। কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছিল, ব্যাংকটিকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করার। কারণ. ড. ইউনূস গ্রামীণ শব্দটি তাঁর অসংখ্য ব্যবসায়ের নামের সঙ্গে লাগিয়ে মুনাফা শিকারের এমন একটি সিম্বল করে তুলেছেন যে, কমিশন তাঁর অশুভ প্রভাব থেকে গ্রামীণ ব্যাংককে মুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এটা সুপারিশমাত্র। সরকার এ প্রস্তাব গ্রহণ করেননি এবং গ্রামীণ ব্যাংকের নতুন কর্তৃপক্ষও বলেছেন, ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থা পরিবর্তনের কোন ইচ্ছা তাঁদের নেই। তার পরও সরকার গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংস করে গরিবদের স্বার্থ (আসলে ড. ইউনূসের কায়েমি স্বার্থ) নষ্ট করতে চায় বলে জোর প্রচারণা শুরু করা হয়। ‘বাবু যত বলে পরিষদ দলে-বলে তাঁর শতগুণ।’ গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে ড. ইউনূস যত প্রচার চালিয়েছেন, তার দশগুণ চালিয়েছে তাঁর ‘ল্যাপডগ’-জাতীয় দুটি মিডিয়া। আমার এক বন্ধু বাংলার দু’ শ’ বছরের আগের এবং বর্তমানের ঘটনার মধ্যে একটা চমৎকার তুলনা টেনেছেন। বলেছেন, নবাবি আমলে ব্যবসায়ী জগৎ শেঠ ইংরেজদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির স্বাথের্ ও যোগসাজশে দেশের টাকা বাইরে পাচার করছিলেন। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা এই ব্যবসা কঠোর হাতে বন্ধ করতেই জগৎ শেঠ তাঁর বন্ধু রায়দুর্লভ, ইয়ার লতিফ, মীর জাফরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁর ব্যবসায়ের স্বার্থে দেশের সরকার উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র শুরু করে। বর্তমানেও পশ্চিমা ধনবাদী দেশগুলোর একশ্রেণীর বড় সংস্থাও সরকারের স্বার্থে ও পোষকতায় ড. ইউনূস যে গ্রামীণ ব্যবসা শুরু করেছেন হাসিনা সরকার দেশের স্বার্থে তাঁর ব্যবস্থাপনায় হাত দিতেই ড. ইউনূস তাঁর সুশীল সমাজের মুখচেনা বন্ধুদের এবং বিদেশী কোন কোন সংস্থা ও সরকারের মদদে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে দেশের নির্বাচিত সরকারেরই পতন ঘটানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। এর মধ্যে গরিবের প্রতি প্রেম দূরের কথা, দেশপ্রেমেরও সামান্য পরিচয় পাওয়া যায় কি? দেশ বড়, না একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বড়? সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় হাত দিয়ে অন্যায় করে থাকলে তার প্রতিকারের পন্থা দেশের সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়া। ড. ইউনূস সেখানে গিয়েছিলেন এবং আদালতের বিচারেও হেরেছেন। এখন দেশ, সরকার, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সবকিছু তাঁর এবং তাঁর ব্যবসায়ের কাছে ছোট। এটা কি দু’ শ’ বছর আগের জগৎ শেঠের মনোভাব নয় তার ব্যবসায়ের স্বার্থরক্ষার জন্য প্রয়োজন হলে বিদেশী মদদে দেশের সরকারের উৎখাত ঘটাতে হবে? আমাকে সিটি কর্পোরেশনগুলোর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের পর দিল্লীর এক প্রভাবশালী সাংবাদিক (ডেইলি পাইওনিয়ারের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কাছ থেকে নাম প্রকাশের অনুমতি নেইনি বলে নামটা উল্লেখ করছি না) টেলিফোনে বাংলাদেশ সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছেন এবং সেজন্য সম্মানিতও হয়েছেন। টেলিফোনে তিনি আমাকে বললেন, সাম্প্রদায়িক এবং মৌলবাদী চক্র বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হলে গোটা উপমহাদেশের জন্যই ভয়ানক বিপদ দেখা দেবে। আপনি শেখ হাসিনাকে বলুন, যে কোনভাবে এরশাদ সাহেবকে মহাজোটে রাখতে এবং ড. ইউনূসের সঙ্গে একটা আপোস করে ফেলতে। তাঁকে আমি বলেছি, বহুকাল ধরে বাজারে গুজব শুনছি, এরশাদ সাহেব পাকিস্তানের কাছ থেকে ‘নিশানে পাকিস্তান’ খেতাব নিলেও তিনি আসলে দিল্লীর পছন্দের লোক। আপনারাই তাঁকে চাপ দিন, তিনি যাতে বেগম জিয়ার পায়ে গিয়ে পূজার ফুল নিবেদন না করেন। আর ড. ইউনূস সম্পর্কে আপনাকে বলব, তাঁর সঙ্গে আওয়ামী লীগের আপোস করার অর্থ হবে ‘সাপের মুখে চুমু খাওয়ার মতো। ’ তাঁর সম্পর্কে আমার ধারণা, তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক কখনই ছিলেন না। এখনও নন। জীবনে একবার তিনি একুশে ফেব্র“য়ারিতে ভাষা শহীদ মিনারে যাননি; জাতির জনকের সমাধিসৌধে যাননি বরং নিজেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বলে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বিদেশে ফ্যাক্সযোগে মেসেজ পাঠানোর ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। তিনি মুখে বলেছেন, তিনি রাজনীতি করেন না, কিন্তু বহুমুখী গ্রামীণ ব্যবসা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যে অপ্রকাশ্য রাজনীতি শুরু করেন, তা ছিল সেই নব্বইয়ের দশকের গোড়া থেকেই আওয়ামী লীগ-বিরোধী। এমন কি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি এই অরাজনৈতিক আন্তর্জাতিক পুরস্কারটিকেও নতুন রাজনৈতিক দল গঠন ও নিজেকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার কাজে ব্যবহার করেন। ভারতীয় সাংবাদিককে আর কিছু বলতে হয়নি। ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ কোন কোন বন্ধুর কাছ থেকে শুনেছি, ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনেও তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মী ও শেয়ার হোল্ডার, ঋণ গ্রহীতাদের নাকি নির্দেশ দিয়েছিলেন বিএনপি প্রার্থীদের ভোট দেয়ার জন্য। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর গ্রামীণ ফোন ও অন্যান্য ব্যবসায়ের কাজে তিনি হাসিনা সরকারের কাছ থেকে সর্বাধিক সাহায্য পান। কিন্তু ইউনূস সেন্টারের সাম্প্রতিক পুস্তকাদিতে তার কোন উল্লেখ নেই। এক-এগারোর ঘটনায় সেনা তাঁবেদার তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায় ড. ইউনূসই কি নেপথ্যের প্রধান নায়ক ছিলেন না? তাঁর নির্দেশেই ওই সরকারের প্রধান পদে তাঁর ক্লাসফ্রেন্ড ড. ফখরুদ্দীন আহমদকে বসানো হয়। ওই সরকারের মাইনাস টু থিওরি সফল করার কাজে সাহায্য যোগানোর জন্য তিনি নোবেল পুরস্কারকে মূলধন করে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়েই কি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেননি? তারপর দল গঠনে ব্যর্থ হয়ে কি রাজনীতি করবেন না বলে আবার ঘোষণা দেননি? ঘোষণা দিয়েও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রতিটি চক্রান্তের রাজনীতি ও প্রচারণার সঙ্গে তিনি কখনও প্রকাশ্যে, কখনও অপ্রকাশ্যে কি যুক্ত থাকেননি? বিস্ময়ের কথা, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদের লক্ষ্যে দুই রাজনৈতিক পীরের ফতোয়া এবং ফতুয়ার মিলন ঘটল কী ভাবে? এক পীর মাওলানা শফী চান নারী স্বাধীনতা ও নারী অধিকার থাকবে না। তারা অবরোধবাসিনী হবে। অন্যদিকে অন্য পীর ড. ইউনূস নাকি চান নারী-স্বাধীনতা। নারীদের দিতে চান নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নের সুযোগ ও অধিকার। তাহলে আওয়ামীবিরোধী ফ্রন্টে এই দুই রাজনৈতিক পীরের এমন আশ্চর্য মিলন ঘটল কী ভাবে? না কি নারী-স্বাধীনতার বুলিও ড. ইউনূসের আরেক ভ-ামি? বিস্মিত হয়ে ভাবছি, বাংলাদেশের মানুষ কোন্ যুগে বাস করছে? হাটহাজারির যে পীর বলেন, ‘মেয়ে লোক হচ্ছে তেঁতুলের মতো, দেখলে জিহ্বায় রস আসে, আর যার জিহ্বায় রস আসে না, বুঝতে হবে সে নপুংসক,’ তার দল হেফাজত করবে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ? আর বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেবে? আগামী নির্বাচন যদি যথাসময়ে হয় আমরা তার জবাব পাব। জানতে পারব কালেকটিভ ম্যাডনেস দ্বারা আমরা জাতিগতভাবে আক্রান্ত হয়েছি কিনা?

2591 জন পড়েছেন

Comments are closed.