সালাতুল খতমে তারাবীর পারা বিভাজিত নির্দেশনা।

1772 জন পড়েছেন

মাহে রমজান পৃথিবীর সকল মুসলিমের কাছে এক অতি পবিত্র মহিমান্বিত মাস। এই মাসে আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে গিয়ে বিশ্ব মুসলিম প্রতিদিনের ৫ ওয়াক্ত ফরজ সালাত আদায়ের সাথে সাথে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সূর্য উদয়ের সময় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সিয়াম পালন করে থাকেন। রমজান মাসের সিয়াম পালনের প্রস্তুতি পর্বে সালাতুল তারাবী আদায় অপরিহার্য। ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের মধ্যে অনেকে এই মাসে খতমে সালাতুল তারাবী আদায় করেন। বর্তমান সময়ে মানুষের কর্ম ব্যস্ততা এবং কোন জরুরী প্রয়োজনে এক যায়গা থেকে অন্য যায়গায় যাওয়ার দরকার পড়ে। কাজেই অনেক মুসল্লি এই কারণে সমস্যায় পড়েন। কারণ প্রয়োজনে অন্য যায়গায় গেলে তার খতমে তারাবীতে ছেদ পড়ে যায়, এতে একটি না প্রাপ্তির ব্যথায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। কিংবা খতমে তারাবীতে ছেদ পড়ার আশংকায় অনেকে তার পরিবারের জরুরী প্রয়োজনে সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়ে পড়েন। এই সময় কোন নেতিবাচক ঘটনা ঘটে গেলে ঐ ব্যক্তি সামাজিক এবং পারিবারিক ভাবে সমস্যায় নিমজ্জিত হয়ে পড়েন।

এই ধরণের সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য গত বছর থেকে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকায় সংবাদ জ্ঞাপনের মধ্যে অনুরোধ করেছেন, বাংলাদেশর প্রতিটি মসজিদ যেখানে খতমে তারাবী অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে তারা যেন ১ম রমযান থেকে ৬ষ্ঠ রমজান পর্যন্ত প্রতিদিন দেড় পারা করে ৯ পারা তেলাওয়াত এবং বাকি ২১ দিন ১ পারা করে ২১ পারা তেলাওয়াত করে নিলে ২৭শে রমজানে ৩০ পারা কোরআন খতম করতে সক্ষম হবেন এবং বাংলাদেশের প্রতিটি মসজিদের তেলাওয়াতের এই সুচি অনুসরণ করলে তখন যে কোন ব্যক্তি যে কোন স্থানে গিয়ে তারাবী আদায় করলেও তার খতমে তারাবীতে ছেদ পড়বেনা।

আমি বাইফা’র নির্দেশমতো বিভাজিত ৩০ পারা কোরানের প্রতি পারার প্রারম্ভিক আয়াত এবং শেষ আয়াত উল্লেখ করে দিলাম। যাতে করে আমাদের হাফিজ সাহেবদের জন্য কিছুটা সহায়ক হয়। আপনারা যারা আমার এই নির্দেশিকা প্রয়োজনীয় মনে করবেন আপনারা চাইলে আপনাদের আশপাশের মসজিদের হাফিজ সাহেবেদেরকে ফটো কপি সরবরাহ করতে পারবেন।

১. রমজান=

সুরা ফাতিহা থেকে শুরু করে الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (১:১) —–

لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَبْتَغُوا فَضْلًا مِّن رَّبِّكُمْ ۚ فَإِذَا أَفَضْتُم مِّنْ عَرَفَاتٍ فَاذْكُرُوا اللَّهَ عِندَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ ۖ وَاذْكُرُوهُ كَمَا هَدَاكُمْ وَإِن كُنتُم مِّن قَبْلِهِ لَمِنَ الضَّالِّينَ (২:১৯৮) সুরা বাকারার ১৯৮ নং আয়াতে শেষ করবেন।

২. রমজান=

সুরারা বাকারা ১৯৯ নং আয়াত থেকে শুরু করে
ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ وَاسْتَغْفِرُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ (২:১৯৯) —-

لَن تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّىٰ تُنفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ ۚ وَمَا تُنفِقُوا مِن شَيْءٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ (৩:৯২)সুরা আলে ইমরানের ৯২ নং আয়াতে শেষ করবেন।

৩. রমজান=

সুরা আলে ইমরানের ৯৩ নং আয়াত থেকে শুরু করে-
كُلُّ الطَّعَامِ كَانَ حِلًّا لِّبَنِي إِسْرَائِيلَ إِلَّا مَا حَرَّمَ إِسْرَائِيلُ عَلَىٰ نَفْسِهِ مِن قَبْلِ أَن تُنَزَّلَ التَّوْرَاةُ ۗ قُلْ فَأْتُوا بِالتَّوْرَاةِ فَاتْلُوهَا إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ (৩:৯৩)——–

وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا (৪:৮৬) সুরা আন নেছার ৮৬ নং আয়াতে শেষ করবেন।

৪. রমজান=

সুরা আন নেছার ৮৭ নং আয়াত থেকে শুরু করে-
اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ ۗ وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثًا (৪:৮৭ ) ——–

وَلَوْ كَانُوا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالنَّبِيِّ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مَا اتَّخَذُوهُمْ أَوْلِيَاءَ وَلَٰكِنَّ كَثِيرًا مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ (৫:৮১) সুরা আল মায়েদাহর ৮১নং আয়াতে শেষ করবেন।

৫. রমজান=

সুরা আল মায়েদাহর ৮২ নং আয়াত থেকে শুরু করে –
لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا ۖ وَلَتَجِدَنَّ أَقْرَبَهُم مَّوَدَّةً لِّلَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ قَالُوا إِنَّا نَصَارَىٰ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّ مِنْهُمْ قِسِّيسِينَ وَرُهْبَانًا وَأَنَّهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ (৫:৮২) ———সুরা আল আন’আম পুরো তেলাওয়াত করে-

قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ (৭:১৬ َ)সুরা আল আরাফের ১৬ নং আয়াতে শেষ করবেন।

৬. রমজান=

আল আরাফের ১৭ নং আয়াত থেকে শুরু করে-
ثُمَّ لَآتِيَنَّهُم مِّن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَن شَمَائِلِهِمْ ۖ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ (৭:১৭ )——–

৮:৪০ وَإِن تَوَلَّوْا فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَوْلَاكُمْ ۚ نِعْمَ الْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ النَّصِيرُ সুরা আল আনফালের ৪০নং আয়াতে শেষ করবেন।

৭. রমজান =

সুরা আল আনফালের ৪১ নং আয়াত থেকে শুরু করে –
وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُم مِّن شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ إِن كُنتُمْ آمَنتُم بِاللَّهِ وَمَا أَنزَلْنَا عَلَىٰ عَبْدِنَا يَوْمَ الْفُرْقَانِ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ-(৮:৪১) —-

وَلَا عَلَى الَّذِينَ إِذَا مَا أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لَا أَجِدُ مَا أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ تَوَلَّوا وَّأَعْيُنُهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ حَزَنًا أَلَّا يَجِدُوا مَا يُنفِقُونَ (৯:৯২) সুরা আত তওবার ৯২ নং আয়াতে শেষ করবেন।

৮. রমজান =

সুরা আত তওবার ৯৩ নং আয়াত দিয়ে শুরু করে-
=إِنَّمَا السَّبِيلُ عَلَى الَّذِينَ يَسْتَأْذِنُونَكَ وَهُمْ أَغْنِيَاء ُ ۚ رَضُوا بِأَن يَكُونُوا مَعَ الْخَوَالِفِ وَطَبَعَ اللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ (৯:৯৩ ) সুরা ইউনুস পুরোটি তেলাওয়াত করে
—-

مَن كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ (১১:৫) সুরা হুদের ৫ নং আয়াতে শেষ করবেন।

৯. রমজান =

সুরা হুদের ৬ নং আয়াত থেকে শুরু করে-
وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا ۚ كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ(১১:৬)

—- ذَٰلِكَ لِيَعْلَمَ أَنِّي لَمْ أَخُنْهُ بِالْغَيْبِ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي كَيْدَ
الْخَائِنِينَ(১২: ৫২) সুরা ইউসুফের ৫২ নং আয়াতে শেষ।

১০. রমজান=

সুরা ইউসুফের ৫৩ নং আয়াত থেকে শুরু করে –
وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي ۚ إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي ۚ إِنَّ رَبِّي غَفُورٌ رَّحِيمٌ( ১২:৫৩)

—– সুরা আর রাদ পুরো তেলাওয়াত করে-
هَٰذَا بَلَاغٌ لِّلنَّاسِ وَلِيُنذَرُوا بِهِ وَلِيَعْلَمُوا أَنَّمَا هُوَ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ وَلِيَذَّكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ(১৪:৫২) সুরা ইব্রাহিমের ৫২ নং আয়াতে শেষ করবেন।

১১. রমজান=

সুরা আল হিজরের ১ম আয়াত থেকে শুরু করে-
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ الر ۚ تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ وَقُرْآنٍ مُّبِي(১৫:১)
إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوا وَّالَّذِينَ هُم مُّحْسِنُونَ

—- (১৬:১২৮) সুরা আন নাহলের শেষ ১২৮ নং আয়াতে শেষ করবেন।

১২. রমজান=

সুরা বনি ইসরাইলের ১নং আয়াত থেকে শুরু করে-
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَىٰ بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا ۚ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ (১৭: ১)——–

فَانطَلَقَا حَتَّىٰ إِذَا لَقِيَا غُلَامًا فَقَتَلَهُ قَالَ أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِيَّةً بِغَيْرِ نَفْسٍ لَّقَدْ جِئْتَ شَيْئًا نُّكْرًا (১৮:৭৪) সুরা আল ক্বাহফের ৭৪ নং আয়াতে শেষ করবেন।

১৩. রমজান=

সুরা আল ক্বাহাফের ৭৫ নং আয়াত থেকে শুরু করে-
قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكَ إِنَّكَ لَن تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا (১৮:৭৫)—- সুরা মারিয়াম পুরো তেলাওয়াত করে

قُلْ كُلٌّ مُّتَرَبِّصٌ فَتَرَبَّصُوا ۖ فَسَتَعْلَمُونَ مَنْ أَصْحَابُ الصِّرَاطِ السَّوِيِّ وَمَنِ اهْتَدَىٰ (২০:১৩৫) সুরা ত্বাহার শেষ ১৩৫ নং আয়াতে শেষ করবেন।

১৪. রমজান=

সুরা আল আম্বিয়ার ১ নং আয়াত থেকে শুরু করে–

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ اقْتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُهُمْ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ مُّعْرِضُونَ (২১:১) —-

وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ ۚ هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ ۚ مِّلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ ۚ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِن قَبْلُ وَفِي هَٰذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ ۚ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَاعْتَصِمُوا بِاللَّهِ هُوَ مَوْلَاكُمْ ۖ فَنِعْمَ الْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ النَّصِيرُ (২২:৭৮) সুরা আল হজ্বের ৭৮নং শেষ আয়াতে শেষ করবেন।)

১৫. রমজান=

আল মুমিনুনের ১নং আয়াত থেকে শুরু করে-
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ (২৩:১)
—সুরা আন নুর পুরো তেলাওয়াত করে-

وَمَا أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنَ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا إِنَّهُمْ لَيَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَيَمْشُونَ فِي الْأَسْوَاقِ ۗ وَجَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍ فِتْنَةً أَتَصْبِرُونَ ۗ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيرًا (২৫:২০) সুরা আল ফোরকানের ২০ নং আয়াতে শেষ করবেন।

১৬. রমজান=

সুরা আল ফোরকানের ২১নং আয়াত থেকে শুরু করে-
وَقَالَ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْنَا الْمَلَائِكَةُ أَوْ نَرَىٰ رَبَّنَا ۗ لَقَدِ اسْتَكْبَرُوا فِي أَنفُسِهِمْ وَعَتَوْا عُتُوًّا كَبِيرًا (২৫:২১) —-সুরা আস শুআরা পুরো তেলাওয়াত করে-

أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِّن دُونِ النِّسَاءِ ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ (২৭:৫৫) সুরা আন নামলের ৫৫ নং আয়াতে শেষ করবেন।

১৭.রমজান=

সুরা আন নামলের ৫৬ নং আয়াত থেকে শুরু করে-
فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَن قَالُوا أَخْرِجُوا آلَ لُوطٍ مِّن قَرْيَتِكُمْ ۖ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ (২৭:৫৬)—–
সুরা আল কাসাস পুরো তেলাওয়াত করে –

اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ ۖ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ ۗ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ (২৯:৪৫) সুরা আন কাবুতের ৪৫নং আয়াতে শেষ করবেন।

১৮. রমজান=

সুরা আনকাবুতের ৪৬নং আয়াত থেকে শুরু করে-
وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ ۖ وَقُولُوا آمَنَّا بِالَّذِي أُنزِلَ إِلَيْنَا وَأُنزِلَ إِلَيْكُمْ وَإِلَٰهُنَا وَإِلَٰهُكُمْ وَاحِدٌ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ (২৯:৪৬)

—-সুরা আর রূম, সুরা লুকমান, সুরা আস সাজাদাহ পুরো তেলাওয়াত করে-
يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ مَن يَأْتِ مِنكُنَّ بِفَاحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ يُضَاعَفْ لَهَا الْعَذَابُ ضِعْفَيْنِ ۚ وَكَانَ ذَٰلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرًا (৩৩:৩০) সুরা আল আহযাবের ৩০ নং আয়াতে শেষ করবেন।

১৯. রমজান=

সুরা আল আহযাবের ৩১ নং আয়াত থেকে শুরু করে-
وَمَن يَقْنُتْ مِنكُنَّ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ وَتَعْمَلْ صَالِحًا نُّؤْتِهَا أَجْرَهَا مَرَّتَيْنِ وَأَعْتَدْنَا لَهَا رِزْقًا كَرِيمًا (৩৩:৩১)—–সুরা আস সাবা, সুরা ফাতির পুরো তেলাওয়াত করে-

بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ (৩৬:২৭) সুরা ইয়া-সিনের ২৭ নং আয়াতে শেষ করবেন।

২০. রমজান=

সুরা ইয়া-সিনের ২৮ নং আয়াত থেকে শুরু করে-
وَمَا أَنزَلْنَا عَلَىٰ قَوْمِهِ مِن بَعْدِهِ مِن جُندٍ مِّنَ السَّمَاءِ وَمَا كُنَّا مُنزِلِينَ (৩৬:২৮) —-সুরা আস সাফফাত, সুরা সাদ পুরো তেলাওয়াত করে-

ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِندَ رَبِّكُمْ تَخْتَصِمُونَ (৩৯:৩১) সুরা আয যুমার ৩১ নং আয়াতে শেষ করবেন।

২১. রমজান=

সুরা আয যুমার ৩২ নং আয়াত থেকে শুরু করে-
فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَذَبَ عَلَى اللَّهِ وَكَذَّبَ بِالصِّدْقِ إِذْ جَاءَهُ ۚ أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى لِّلْكَافِرِينَ (৩৯:৩২)—-সুরা আল মুমিন পুরো তেলাওয়াত করে-

مَّنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ ۖ وَمَنْ أَسَاءَ فَعَلَيْهَا ۗ وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيدِ (৪১:৪৬) সুরা হা-মীম আস সাজদাহের ৪৬ নং আয়াতে শেষ করবেন।

২২. রমজান=

সুরা হা-মীম আস সাজদাহের ৪৭ নং আয়াত থেকে শুরু করে-
إِلَيْهِ يُرَدُّ عِلْمُ السَّاعَةِ ۚ وَمَا تَخْرُجُ مِن ثَمَرَاتٍ مِّنْ أَكْمَامِهَا وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنثَىٰ وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِ ۚ وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ أَيْنَ شُرَكَائِي قَالُوا آذَنَّاكَ مَا مِنَّا مِن شَهِيدٍ (৪১:৪৭)—-

সুরা আশ শুরা, সুরা আয যুখরুফ,সুরা আদ দুখান পুরো তেলাওয়াত করে-
وَلَهُ الْكِبْرِيَاءُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (৪৫:৩৭) সুরা আল জাসিয়াহর ৩৭ নং শেষ আয়াতে শেষ করবেন।

২৩. রমজান=

সুরা আল আহক্বাফের ১নং আয়াত থেকে শুরু করে=
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ حم (৪৬:১)—-

সুরা মুহাম্মদ, সুরা আল ফাতহ, সুরা আল হুজরাত, সুরা ক্বাফ পুরো তেলাওয়াত করে-
قَالُوا كَذَٰلِكِ قَالَ رَبُّكِ ۖ إِنَّهُ هُوَ الْحَكِيمُ الْعَلِيمُ (৫১:৩০) সুরা আয যারিয়াতের ৩০ নং আয়াতে শেষ করবেন।

২৪. রমজান=

সুরা আয যারিয়াতের ৩১ নং আয়াত থেকে শুরু করে-
(قَالَ فَمَا خَطْبُكُمْ أَيُّهَا الْمُرْسَلُونَ ৫১:৩১)—-সুরা আত তুর, সুরা আন নাজম, সুরা আল ক্বামার, সুরা আর রহমান, সুরা আল ওয়াক্বিয়া পুরো তেলাওয়াত করে-

لِّئَلَّا يَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ أَلَّا يَقْدِرُونَ عَلَىٰ شَيْءٍ مِّن فَضْلِ اللَّهِ ۙ وَأَنَّ الْفَضْلَ بِيَدِ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ (৫৭:২৯) সুরা আল হাদিদের ২৯ নং শেষ আয়াতে শেষ করবেন।

২৫. রমজান=

সুরা আল মুজাদালাহর ১নং আয়াত থেকে শুরু করে-
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا وَتَشْتَكِي إِلَى اللَّهِ وَاللَّهُ يَسْمَعُ تَحَاوُرَكُمَا ۚ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِي (৫৮:১)

—- সুরা আল হাশর, সুরা আল মুমতাহানা, সুরা আস সফ, আউরা আল জুমাআ, সুরা আল মুনাফিকুন, সুরা আত তাগাবুন, সুরা আত তালাক পুরো তেলাওয়াত করে-
وَمَرْيَمَ ابْنَتَ عِمْرَانَ الَّتِي أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَخْنَا فِيهِ مِن رُّوحِنَا وَصَدَّقَتْ بِكَلِمَاتِ رَبِّهَا وَكُتُبِهِ وَكَانَتْ مِنَ الْقَانِتِينَ (৬৬:১২) সুরা আত তাহরীমের ১২ নং শেষ আয়াতে শেষ করবেন।

২৬. রমজান=

সুরা আল মূলকের ১নং আয়াত থেকে শুরু করে-
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (৬৭:১)—-

সুরা আল কলম, সুরা আল হাক্কাহ, সুরা আল মাআরিজ, সুরা নুহ, সুরা আল জিন, সুরা আল মুযযম্মিল, সুরা আল মাদ্দাসসির, সুরা আল কিয়ামাহ, সুরা আল দাহর পুরো তেলাওয়াত করে-
فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ (৭৭: ৫০) সুরা আল মুরসালাতের ৫০ নং শেষ আয়াত শেষ করবেন।

২৭.রমজান=

সুরা আন নাবার ১নং আয়াত بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ عَمَّ يَتَسَاءَلُونَ (৭৮:১) থেকে শুরু করে-
—-আন নাযিয়াত, আবাসা, আত তাকবীর, আল ইনফিতাহ, আল মুতাফফীন, আল ইনশিফাক, আল বুরুজ, আত তারেক, আল আলা, আল গাশিয়া, আল ফজর, আল বালাদ, আল সামস, আল লাইল, আদ দুহা, আলাম নাশরাহা, আততীন, আল আলাক, আল কদর, আল বাইয়্যানা, আল যিলযাল, আল আদিয়াত, আল কারিয়া, আল তাকাসুর, আল আসর, আল হুমাজা, আল ফীল, কুরাইশ, আল মাউন, আল কাওছার, আল কাফেরুন, আন নসর, আল লাহাব, আল ইখলাস, আল ফালাক পুরো তেলাওয়াত করে এবং আন নাসের শেষ আয়াত- مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ (১১৪:৬) দিয়ে ৩০ পারা কোরান তেলাওয়াত শেষ করবেন।

আমার এই কর্মের জন্য যদি আপনাদের কোন উপকার হয়ে থাকে তাহলে আমার এই কাজের বদলে আল্লাহর কাছে বিশ্ব মুসলিমের কল্যাণের জন্য দোয়া করবেন। তাতে আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।
মুনিম সিদ্দিকী।

1772 জন পড়েছেন

মুনিম সিদ্দিকী

About মুনিম সিদ্দিকী

ব্লগে দেখছি অন্য সহ ব্লগাররা তাদের আত্মপরিচয় তুলে ধরেছেন নিজ নিজ ব্লগে! কুঁজো লোকের যেমন চিৎ হয়ে শোয়ার ইচ্ছা জাগে তেমন করে আমারও ইচ্ছা জাগে আমি আমার আত্মপরিচয় তুলে ধরি! কিন্তু সত্য যে কথা তা হচ্ছে শুধু জন্মদাতা পিতা কর্তৃক আমার নাম আর পরিবারের পদবী ছাড়া আমার পরিচয় দেবার মত কিছু নেই! আমি এক বন্ধ্যা মাটি যেখানে কোন চাষবাস হয় নাই। যাক আমি একটি গান শুনিয়ে আত্মপ্রতারণা বর্ণনা শেষ করছি-
কত শহর বন্দরও পেরিয়ে চলেছি অজানা পথে – কালেরও নিঠুর টানে- আমার চলার শেষ কোন সাগরে তা তো জানা নাই! ধন্যবাদ।

Comments

সালাতুল খতমে তারাবীর পারা বিভাজিত নির্দেশনা। — ২ Comments

  1. ভাইয়া অনেকদিন পর এ ব্লগে আবার আপনার লিখা দেখলাম। লিখাটি ভাল লেগেছে ।
    পবিত্র রমজান মাস আর মাত্র কয়েকটা দিন পরেই এসে যাচ্ছে (নকিং এট দি ডোর) এমন সময় তারাবীর ব্যাপারে এরকম একটি লিখা প্রশংসার দাবী রাখে।

    আল্লাহ আপনার সকল শুভ প্রচেষ্টা কবুল করুন, জাঝাক আল্লাহ বিল খায়ের। {34}