মাহমুদুর রহমান এবং বাক স্বাধীনতা (মিডিয়া)

1922 জন পড়েছেন

সম্প্রতি বাংলাদেশের বাস্তবতার দিকে তাকালে কিছু লোকের নিজেদের মতাদর্শ ছাড়া অন্যসব মতাদর্শ, গণতন্ত্র,স্বাধীনতা,রক্ষণশীলতা,সাম্যবাদ,বাক স্বাধীনতা,সব কিছু মিথ্যা ভুয়া,অবাস্তব সত্য কেবলই তারা যা প্রচার করে। বর্তমান সময়ে যোগাযোগ মাধ্যম (মিডিয়াতে)চিন্তা, চেতনায়ে,লক্ষ্য, উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট লোকদের কমতি নেই।তবে সমকালীন বাস্তবতা সামনে রাখলে মনে হয় এসব যোগাযোগ মাধ্যম (মিডিয়াতে) ভণ্ডামি ও দ্বৈতনীতির সমার্থক লোকদের পাদচারণা এবং প্রাধান্যতা বেশি লক্ষণীয়। তাদের কর্মকাণ্ড সবসময় একটি দলের কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে এবং সেই দলের নির্দেশিত নীতি, আদর্শকে অনুসরণ করে চলতেছে।ইনসাফ,সমতা প্রশ্নের মুখোমুখি হলে তারা ঐ দলের নীতি ও আদর্শকে প্রাধান্য দিতেছে তা আমাদের রাষ্ট্রের বিপর্যয়ের করুন চিত্র প্রকাশ পায়। তথাকথিত এসব সেক্যুলারে ধারক,বাহক এসব লোকদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্যর বাস্তবায়নের বৈষম্যের শিকার হচ্ছে এদেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। মুসলমানদের ধর্মনুভুতি আঘাতের প্রতীবাদকে সাম্প্রদায়িক,চরমপন্থি,মৌলবাদী প্রভৃতি হিসেবে কটাক্ষ করে।আবার মুসলমানদের ধর্মনুভুতি আঘাত করে মিথ্যা,অশালীন, কুরুচিপূর্ণ, লেখা যে ধর্মীয় সংঘাত, সহিংসতাকে উস্কে দিচ্ছে,কৌশলে সেটাকে তারা বাক স্বাধীনতা,মুক্তমনা, হিসেবে বৈধতা দানের প্রয়াস চালায়।এসব প্রোপ্যাগান্ডা প্রচার,উৎসাহে প্রশ্নে তারা আপোষহীন।এসব সুশীল, প্রগতিশীলরা,আবার ধর্মপ্রাণ মুসলমানের বাক স্বাধিকার ও আত্মরক্ষার প্রশ্নে চরম উদাসীন। মানবাধিকার ও বাক স্বাধীনতার বুলি তাদের মুখে লেগেই থাকে।তাদের সুরে সুর মিলিয়ে ইসলাম ও মুসলমানের বিরুদ্ধে কেউ বাক্যোচ্চারণ করলে তারা বাক স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে প্রতিবাদ পর্যন্ত জানায়েনা। অথচ তারা যখন ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হরণ করে বোরকা নিষিদ্ধ করে তখন মানবাধিকার বা ধর্ম পালনের অধিকার লঙ্ঘন হয় না বরং বোরকা উপর কালিমা লেপনে চেষ্টায়ে লিপ্ত থাকে।এসব সুশীল,প্রগতিশীলরা, আক্রান্ত বা ক্ষতি হলে তারা শোরগোল শুরু করে দেয়।মানবাধিকার ও বাক স্বাধীনতার নিত্যনতুন বুলি শোনা যায়ে।
সুশীলদের সর্বশেষ ভণ্ডামি আর দ্বিমুখী নীতি পরিষ্কার হয় মাহমুদুর রহমান ও ফারাবি এবং রাজীব ওরফে থাবা বাবা ক্ষেত্রে। দেশ-ভাষা এক হলেও এদের প্রতি আমাদের সুশীল সমাজের  আচরণে আকাশ পাতাল ফারাক। সুশীল,শাহবাগীদের(সরকার) বদান্যতা পেয়েছিল শহিদের মর্যাদা,এবং দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের সৈনিক হিসেবে খ্যাতি। থাবা বাবা ওরফে রাজীব বেলায় আমাদের সুযোগ সন্ধানী সুশীল, সমাজের মানুষদের এবং যোগাযোগ মাধ্যমের ভালোমানুষি অবিশ্বাস্য। পক্ষান্তরে ভাগ্য বিড়ম্বিত মাহমুদুর রহমান এবং ফারাবি তাদের ভূমিকা চরম নিন্দনীয় এবং সর্বত অগ্রহণযোগ্য।
থাবা বাবা ওরফে রাজীব এমন একজন ইসলাম বিদ্বেষী যে,হাজার হাজার জায়গায় তার কুকীর্তির চিহ্ন রেখে গেছে যে,নির্লজ্জভাবে সরকার সকল মিডিয়া টিভি চ্যানেল পত্রিকা এমনকি সংসদেও দাড়িয়ে থাবা বাবার কুকীর্তি গুলো চাপা দিতে চেয়েছিল।তার মৃত্যুকে বাংলাদেশের যোগাযোগ মাধ্যম (মিডিয়াতে)অভূতপূর্ব গুরুত্ব প্রদান করে আকাশে নিয়ে তোলে।শাহবাগিদের এবং তাদের দোসরদের মিডিয়ার কল্যাণে সহসাই সাধারণ ব্লগার থেকে শহীদের মর্যাদা খেতাবে পুরষ্কারে পুরস্কৃত  করা হয়। তথাকথিত সুশীল প্রগতিশীল সমাজ তার মৃত্যুর জন্য মায়াকান্না জুড়ে দেয়।মুদ্রার উল্টো পীঠে এসব সুশীল প্রগতিশীলদের আশীর্বাদ পুষ্ট সরকার মাহমুদুর রহমানকে স্কাইপ কেলেঙ্কারি,স্রাম্পদায়িক উস্কানি,এবং ধর্মই অনুভূতিতে আঘাত দানের জন্য গ্রেফতার করা হয়।
মাহমুদুর রহমান আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক পেশায় ছিলেন প্রকৌশলী।বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ ইন্সটিটিউটতে পড়াশোনার পাঠ চোকান।বিগত-বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রচার,প্রচারণায়ে আসেন।এবং পরবর্তীতে বর্তমান বিরোধী দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া সরকারের জ্বালানী উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন।জরুরি আমলে ফখরুদ্দীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখে  শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব নেন।ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। সরকারের তীব্র সমালোচনামূলক লেখার কারণে রোষানলে পড়েন ক্ষমতাবানদের। প্রধানমন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হয় তার পত্রিকায়।গ্রেপ্তার হন মাহমুদুর রহমান। আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন সুপ্রিম কোর্টে।ছয় মাসের কারাদণ্ড আর এক লাখ টাকা জরিমানার রেকর্ড সাজা দেয়া হয় তাকে। নয় মাস কারাভোগের পর সে-দফায় মুক্তি মিলে তার।সে মামলার শুনানিকালেই একজন বিচারপতি তাকে অভিহিত করেন বাই চান্স এডিটর হিসেবে। মাহমুদর রহমান আবার আলোচনার শীর্ষে চলে আসেন যখন চার মাস পূর্বে তার পত্রিকায় বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপ কথোপকথন ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হয়।যে সংবাদের জেরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে পদত্যাগ করেন বিচারপতি হক। তবে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধেও দায়ের করা হয় মামলা।সেসময় থেকে নিজ কার্যালয়েই বন্দি জীবন কাটাতে থাকেন। এরিমধ্য ঘটে যায় শাহবাগ অভ্যুত্থানের মতো ঘটনা। শুরুর দিন থেকে একমাত্র আমার দেশই সরব থাকে এ অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে। শাহবাগে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনির খবর দেয় পত্রিকাটি।একসময় মঞ্চে আবির্ভাব ঘটে হেফাজতে ইসলামের। দমবন্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় পুরো রাষ্ট্রেই।এ অবস্থায় পুরনো মামলায় আবার গ্রেপ্তার হলেন মাহমুদুর রহমান। [সুত্রঃ মানব জমিনে প্রকাশিত সাজেদুল হকের একজন ‘বাই চান্স’ সম্পাদক এবং ফোর্থ স্টেট লেখা থেকে]
ফারাবি অনিশ্চয়তায় ঝুলে থাকা একজন ইসলামিষ্ট ব্লগার।রাজীবের প্রশ্নবিদ্ধ জানাযার নামাজের মাত্রাত্তিরিক্ত (ফেবুতে ইমামকে হত্যা হুমকি)প্রতিবাদ সরূপ গ্রেফতার,রিমান্ড,জেল।যেখানে প্রত্যেক অপরাধী আইনের দৃষ্টিতে বেনিফিট অফ  ডাউড পেতে পারে,সেখানে কেনও ফারাবি বেনিফিট অফ ডাউট সুবিধা দেওয়া হল না।অন্যদিকে গত ৫ এপ্রিল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলাম ধর্ম এবং রাসুল(সঃ) সম্পর্কে কটূক্তিকারি ব্লগাদের মুক্তির দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ৮৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক।যদিও রাজীব এবং ফারাবির ঘটনার প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন,তবুও রাজীব এবং ফারাবির সাথে আমাদের মিডিয়া এবং সুশীল সমাজের অবস্থানের মিল ও অমিল এবং বৈষম্য প্রশ্নের মুখোমুখি দাড় করিয়ে দেয়।আমাদের বাক স্বাধীনতা কি একটি বিশেষ শ্রেণী,গোষ্ঠী, মানুষদের জন্য সীমাবদ্ধ?আমদের মিডিয়া দ্বিমুখী আচরণ সৃষ্ট অনিশ্চয়তাকে কি আরও গভীর করে তুলছে না?
সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, রাজীবের মৃত্যুর পাশে এদেশের সুশীল,মানবতাবাদী,প্রগতিশীলরা দাঁড়ালেও এরা মাহমুদুর রহমান এবং ফারবির মত মানুষের প্রতি নীরবতা রহস্যজনক।কিন্তু পক্ষপাতমূলক স্রোতের বিপরীতে দাড়িয়ে সাহসী চেতনার জয়গান গেয়েছিলেন তিনি হচ্ছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী। দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক  মাহমুদুর রহমানের গ্রেফতার প্রসঙ্গে হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন
“ মাহমুদুর রহমান সত্য প্রকাশে আপসহীন সাহসী এক বীরযোদ্ধা। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি আগ্রাসী যে কোন হুমকির ব্যাপারে জনগণকে অবহিত করতে যেমন কখনো বিলম্ব করতেন না, তেমনি ইসলাম ও মুসলমানদের দুশমন নাস্তিক্যবাদদের ষড়যন্ত্র ও অপ তৎপরতা সম্পর্কেও জাতিকে সজাগ করে প্রশংসনীয় দায়িত্ব পালন করেছিলেন”[সূত্র;১২ এপ্রিল, দৈনিক আমার দেশ]
এদিকে সরকারে প্রতিহিংসামূলক আচরণের নিউইয়র্ক ভিত্তিক খ্যাতনামা মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বিবৃতি প্রধান করে।বিবৃতিতে বলা হয়
 “সরকারের কাছে আপত্তিকর বিবেচিত প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য সরকারের ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকে টার্গেট করা বন্ধ করতে হবে। আওয়ামী লীগ মত প্রকাশের স্বাধীনতার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা ফের নিশ্চিত করার জন্যও এটা দরকার।
এইচআরডব্লিউর এশীয় বিভাগের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, গণমাধ্যম ও ব্লগে শান্তিপূর্ণ সমালোচকদের টার্গেট করে এবং আরও গ্রেফতারের হুমকি দিয়ে সরকার অবাধ মত প্রকাশের দাবি গুরুতর লঙ্ঘন করেছে। শান্তিপূর্ণ উপায়ে বাংলাদেশীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত এবং রাষ্ট্রের উচিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেফতারের পরিবর্তে এসব দাবি আইনগত ভাবে মোকাবিলা করা।
এইচআরডব্লিউর বিবৃতিতে বলা হয়, অবাধ মত প্রকাশের ওপর আবারও আক্রমণ চালিয়ে বিরোধী দল সমর্থক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে ১১ এপ্রিল থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও অবৈধভাবে বিচারপতির স্কাইপি সংলাপ ফাঁসের অভিযোগ আনা হয়েছে। সংলাপে যুদ্ধাপরাধদের বিচারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের”বিষয়টি প্রকাশ পায়। ওই সংলাপ প্রথমে ইকোনমিস্টে প্রকাশিত হয় এবং পরে আমার দেশ ও অন্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এর আগে শাহবাগিদের সমালোচনা করার জন্য মাহমুদুর রহমানের গ্রেফতার দাবি করা হয়” [সূত্র;১৭ এপ্রিল, দৈনিক আমার দেশ]
 আমদের মিডিয়া, সুশীল সমাজের মনোভাব,দৃশ্যমান ভূমিকা ফ্যাসিস্ট সরকারে “দ্য ফিফথ কলাম” গোষ্ঠীর সাথে মিল পাওয়া যায়ে।ফ্যাসিস্ট সরকার তার কাযনীতি,প্রচার,প্রোপাগান্ডা,চাপ প্রয়োগ,কাজ বাস্তবায়ন করত “দ্য ফিফথ কলাম” নামে একটি গোষ্ঠী মাধ্যমে।ফ্যাসিস্ট সরকার মদতে এরা সরকারের চিন্তার প্রতিফলন দেশের জনগোষ্ঠীর উপর চাপিয়ে দেয়।কঠোর নির্মমভাবে ভিন্নমতাবলম্বী দমন করত।কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের মিডিয়া,সুশীল সমাজ আজ এই ভূমিকায় নেমে পড়েছে।আমাদের বিপর্যস্ত জনজীবন আরো বিপর্যস্ত হয়ে পড়তেছে।তারা দলই নেতা কর্মী মত সরকার দলীয় আদর্শ,নীতি বাস্তবায়ন করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে ব্যস্ত।ফলে তাদের কর্মকাণ্ড আজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে পুরো বাংলাদেশে।যা তাদের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির মন মানসিকতার স্বরূপ উন্মোচিত করে দিয়েছে এবং দেশ আজ সামগ্রিকভাবে অধঃপতন বিপর্যস্তার স্তরে এসে উপনীত হয়েছে।আল্লাহ আমাদের ভ্রান্ত পথ থেকে রক্ষা করুন এবং সঠিক পথে অগ্রসর হওয়ার তাওফিক দান করুন।আমীন!

1922 জন পড়েছেন

Comments

মাহমুদুর রহমান এবং বাক স্বাধীনতা (মিডিয়া) — ৩ Comments

  1. আদালত গুলো যে দিনে দিনে মানুষের আতঙ্কের,হয়রানি স্থানে পরিণত হয়েছে।ন্যায় বিছারে পরিবর্তে সেখানে সময়ে সময়ে শুনছি নিপিড়ীতের আর্তনাদ।কিন্তু এভাবে কি চলতে থাকবে?