খ্রিষ্টোফার হিটচিনের মহান ব্যক্তি: লেওন ট্রটস্কি

2423 জন পড়েছেন

বিবিসি রেডিওতে মাথিউ পারিস (Matthew Parris) ‘মহান জীবনী’ (great lives) শিরোনামে কিছু প্রোগ্রাম উপস্থাপন করেন। এতে হিটচিন ট্রটস্কির নাম প্রস্তাব করেন এবং এর উপর একটি আলোচনা হয়। এই আলোচনায় অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির রাশিয়ার ইতিহাসের প্রফেসর রবার্ট সার্ভিস ( Robert Service) কে  আহবান করা হয়।

এই প্রোগ্রামে মিলিট্যন্ট নাস্তিক হিটচিনের কাছে লেওন ট্রটস্কি কেন একটি ‘মহান জীবনী’ এবং কীসের ভিত্তিতে তার কাছে এই জীবনটি ‘মূল্যবান’ এবং ‘মহান’ হল এর কোনো সঠিক ব্যাখ্যা হিটচিন প্রফেসর সার্ভিসকে দিতে পারে নি। তাই তার চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী প্রফেসর সার্ভিসকে আক্রমণ করতে গেলে তিনিও তার টুটি চেপে ধরেন। যেহেতু বিদ্যার জগতে (বিশেষ করে ইতিহাসের ক্ষেত্রে) হিটচিন যে প্রফেসর সার্ভিসের সামনে দাঁড়াবার মত কোনো চরিত্র নয়, তা’ই দেখা যাবে এই ভিডিওর শেষের দিকে। (Look at video time 6:34, one can scroll it there to hear).

ভিডিওটি দেয়ার আগে আরও কিছু কথা বলার দরকার। খ্রিষ্টোফার হিটচিন গত বৎসর অক্কা পেয়েছেন। তিনি একজন মিলিট্যান্ট নাস্তিক ছিলেন তা সর্বজনবিদিত। তিনি প্রথম জীবনে বামপন্থি মার্ক্সবাদী ট্রটস্কিপন্থি ছিলেন। পরে  বাম থেকে সরে সোজা অনেক ডানে চলে যান। তবে ‘ডানে’ অনেক ধরনের ‘রঙ’ রয়েছে এবং নিজের সুবিধার্থে কখনো এ রঙ, কখনো সে রঙ মাখতে থাকেন। এটাকে ইসলামের পরিভাষায় নিফাক বা মুনাফেকি বলা যেতে পারে। যাক, ডানিদের সাথে মিলে এই মিলিট্যান্ট নাস্তিক মুসলিম বিশ্ব আক্রমণের সহযোগী হয়। কিন্তু ডানে গেলেও হিটচিন তার মিলিট্যান্সি সাথে নিয়ে যান এবং যেমন করেই হোক ট্রটস্কির প্রতি বিমুগ্ধই থেকে যান।

ট্রটস্কি রাশিয়ার অক্টোবর (১৯১৭) বিপ্লবের একজন কর্ণধার ছিলেন এবং রাশিয়ার সমাজ বিধ্বংসের একজন হোতাও ছিলেন। বিপ্লবের নামে মার্ক্সবাদীরা রাশিয়ায় লাখ লাখ লোককে হত্যা করে, তাদের ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নিয়ে, বাড়ি-ঘর লুটপাট করে এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানাদি ধ্বংস করে জাতীয় জীবনে এক চরম বিপর্যয় আনে। লেনিনের পরে স্টালিনের নির্যাতন ও স্বৈরাচার ছিল সমভাবে লাগাতার। কিন্তু সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ছিল মার্ক্সবাদী চিন্তা-চেতনায়। অতি অল্প সময়ের মধ্যে মার্ক্সবাদী ধারণায় কয়েক ধরণের ভিন্ন ব্যাখ্যা চলে আসে এবং বিপ্লবীদের মধ্যে পাল্টা-বিপ্লব দেখা দেয়। ট্রটস্কি ও স্টালিনের মধ্যে এতটুকু পার্থক্য আসে যে দ্বিতীয়জন প্রথমজনকে (১৯২৯ সালে) রাশিয়া থেকে তাড়িয়ে দেয়।

স্মরণ করা যেতে পারে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই বামপন্থি ট্রটস্কি অনুসারীরা রাশিয়ার অক্টোবর বিপ্লবের মত একটা বিপ্লব বাংলার মাটিতে ঘটিয়ে দিতে নেমে যায়। নানান প্রতিষ্ঠানাদিতে আক্রমণ চালায়, হত্যাযজ্ঞ চালায়। একটি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশে এটি ছিল ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’।

এখানে যে ভিডিও দেয়া হয়েছে সেটা বামপন্থি মিলিট্যান্সি, নাস্তিক মিলিট্যান্সি, জায়োনবাদী মিলিট্যান্সি (ট্রটস্কি একজন জায়োনবাদী ইয়াহুদী ছিলেন বলে অনেক কথা রয়েছে এই সম্পর্ক দেখার জন্য পরের ভিডিও দেখুন) এসবের একটি সংযোগস্থল হিসেবে। এই সুতোয় গাথা বাঙালী ও ইউরোপীয় নাস্তিক গোষ্ঠীর মিলনের স্থানও দেখা।

Christopher Hitchens on Trotsky (part 3 of 3)

[youtube]http://www.youtube.com/watch?v=SMTLQpFECEE[/youtube]

জায়োনবাদের সাথে সম্পর্ক দেখার জন্য এই ভিডিওটি দেখতে পারেন। ‘বলশেভিক্স: জার ২য় নিকোলাস ও তার পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা’

[youtube]http://www.youtube.com/watch?v=tdrCtIL-nQs[/youtube]

____________________

নোট: ১৯৩০ এর দশকের শেষের দিকে ট্রটস্কি এই অনুভূতিতেও আসেন যে ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লব ভুল ছিল। ট্রটস্কি ছাড়া আরও অনেক বিপ্লবী এক পর্যায়ে এই ধারণায় উপনীত হয়েছিলেন। কিন্তু কথা হচ্ছে কেন, কেন এত বিপর্যয়, এত মৃত্যু, এত ধ্বংস, এত নির্যাতন? মার্ক্সিস্ট ধারণা ইউরোপে ব্যর্থ হলেও বাঙালীদের কাছে এখনো তা ‘বৈজ্ঞানিক’। ট্রটস্কি এটাকে শেষ পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক বলেননি। (HooverInstitution·, (Aug 3, 2009). Trotsky with Hitchens and Service. [Youtube Video]. Available at: http://www.youtube.com/watch?v=cuzXR-5w4Qk accessed 20/01/2013)   

2423 জন পড়েছেন

About এম_আহমদ

প্রাবন্ধিক, গবেষক (সমাজ বিজ্ঞান), ভাষাতাত্ত্বিক, ধর্ম, দর্শন ও ইতিহাসের পাঠক।

Comments

খ্রিষ্টোফার হিটচিনের মহান ব্যক্তি: লেওন ট্রটস্কি — ৪ Comments

  1. ১৯৩০ এর দশকের শেষের দিকে ট্রটস্কি এই অনুভূতিতেও আসেন যে ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লব ভুল ছিল। ট্রটস্কি ছাড়া আরও অনেক বিপ্লবীরা এক পর্যায়ে এই ধারণায় উপনীত হয়েছিলেন। কিন্তু কথা হচ্চে কেন, কেন এত বিপর্যয়, এত মৃত্যু, এত ধ্বংস, এত নির্যাতন? মার্ক্সিস্ট ধারণা ইউরোপে ব্যর্থ হলেও বাঙালীদের কাছে এখনো তা ‘বৈজ্ঞানিক’। ট্রটস্কি এটাকে শেষ পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক বলেননি।

    যথার্থ! পৃথিবীর অন্যান্য জাতি যখন সারাদিনের কাজ শেষ করে ঘুমাতে যায় তখনই আমরা বাংগালীরা জাগ্রত হই।

  2. “১৯৩০ এর দশকের শেষের দিকে ট্রটস্কি এই অনুভূতিতেও আসেন যে ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লব ভুল ছিল। ট্রটস্কি ছাড়া আরও অনেক বিপ্লবীরা এক পর্যায়ে এই ধারণায় উপনীত হয়েছিলেন। কিন্তু কথা হচ্ছে কেন, কেন এত বিপর্যয়, এত মৃত্যু, এত ধ্বংস, এত নির্যাতন? মার্ক্সিস্ট ধারণা ইউরোপে ব্যর্থ হলেও বাঙালীদের কাছে এখনো তা ‘বৈজ্ঞানিক’। ট্রটস্কি এটাকে শেষ পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক বলেননি। ”

    এ প্রশ্ন আজ অনেকেরই মনে জাগার কথা । আসলে এ পৃথিবীতে মানুষ অনেক কিছু করে কিন্তু পরে বুঝতে পারে যে এ সবই ছিল ভুল! পাক ভারতের মানুষের জীবনেও এমন অনেক কিছু ঘটেছে যার ফলে লাখো মানুষকে প্রান দিতে হয়েছিল। তবে সে নাটকের নায়ক যারাই ছিলেন তাদের সবাইকে বরন করতে হয়েছে করুণ পরিণতি। সত্যি ভাবতে অবাক লাগে!