গাজার কোন এক কিশোরের ডাইরী-

2042 জন পড়েছেন

জলপাই দানবেরা
কেড়ে নিয়েছে একটি চোখ

বেঁচে যাওয়া অক্ষত চোখ দিয়ে
শুধু দেখছে একটি অর্ধ কমলা,

একটি অর্ধ আপেল,

আর মায়ের মুখের অর্ধাংশ!

মাথার ভিতরে আটকে থাকা
সে বুলেটটিকে কখনও দেখে নাই,
যখন বিস্ফুরিত হয় মাথা
ব্যথা অনুভব করে—-

চেতনা হারিয়ে অচেতনের স্তরে গেলে

তার আবছা চেহারাটা ভেসে আসতো!!!

এক যোদ্ধা,

সাথে ভারী অস্ত্র

অস্থির দুটি হাত,

তার চোখ দুটিতে কিসের অন্বেষণ

বুঝতে পারেনা !!!!

আহা! বেচে যাওয়া চোখটিও যদি বুলেটটি কেড়ে নিত!

পুরো অন্ধ হলে, নিশ্চয় সব পরিষ্কার

দেখতে পেত!!!!!!!!!!

আহা! মানুষের যদি

এক জোড়া অতিরিক্ত চোখ থাকতো

তাহলে হয়তো ধার দিতে পারতো!

আগামী জন্ম দিনে

আনকোরা কাঁচের চোখ পাবে

হয়তো বদ্ধ দৃষ্টিতে দেখবে

গোলাকৃতি ও মোটাকৃতি

মধ্যবর্তী সবগুলো মার্বেল!!!!

শুনেছে তাঁর মত যুদ্ধে ন’মাস বয়সী এক শিশু

সেও হারিয়েছে তার একটি চোখ,

একজন জলপাই রং খুঁজছে

সেই ছোট্ট মেয়েকে,

যে ছোট্ট করে তাকিয়েছিল তার দিকে….

অবাক হবো না

সে জলপাই রং –

যদি মেয়েটিকে শুট করেও বসে! !!!!!!!!!!

কিশোর ভাবছে, বয়স এখন যথেষ্ট হয়েছে

জীবনের অনেক কিছু পেয়েছে– উপভোগ করেছে …….

কিন্তু এই ছোট্ট মেয়েটি তো অবোধ শিশু

সে তো এসেছে

এই মাত্র দুনিয়ায়!
`
-হে অবোধ শিশু
আমার বেচে যাওয়া অক্ষত চোখটি

তোমাকে দিয়ে যাচ্ছি

তুমি পূর্ণ ভাবে দেখে নিবে-

একটি পূর্ণ কমলা,
একটি পূর্ণ আপেল
আর পরিপূর্ণ মায়ের মুখ!!!

2042 জন পড়েছেন

মুনিম সিদ্দিকী

About মুনিম সিদ্দিকী

ব্লগে দেখছি অন্য সহ ব্লগাররা তাদের আত্মপরিচয় তুলে ধরেছেন নিজ নিজ ব্লগে! কুঁজো লোকের যেমন চিৎ হয়ে শোয়ার ইচ্ছা জাগে তেমন করে আমারও ইচ্ছা জাগে আমি আমার আত্মপরিচয় তুলে ধরি! কিন্তু সত্য যে কথা তা হচ্ছে শুধু জন্মদাতা পিতা কর্তৃক আমার নাম আর পরিবারের পদবী ছাড়া আমার পরিচয় দেবার মত কিছু নেই! আমি এক বন্ধ্যা মাটি যেখানে কোন চাষবাস হয় নাই। যাক আমি একটি গান শুনিয়ে আত্মপ্রতারণা বর্ণনা শেষ করছি- কত শহর বন্দরও পেরিয়ে চলেছি অজানা পথে - কালেরও নিঠুর টানে- আমার চলার শেষ কোন সাগরে তা তো জানা নাই! ধন্যবাদ।

Comments

গাজার কোন এক কিশোরের ডাইরী- — ৬ Comments

  1. কবিতাটা হৃদয় স্পর্শ করল।{heart}
    ভাই, ইদানীং এ ব্লগে আপনার আনাগোনা তেমন দেখা যায় না। কি ব্যাপার ব্যস্ত নাকি?
    ভাল থাকেন।