মনে পড়ে বাবার কথা

2764 জন পড়েছেন

রাত তিনটা বাজার সংকেত শোনায় দেয়াল ঘড়িগুলো ।

এখন রাত তিনটা । জেগে আছি । পাশে

সাধের বধুয়া ঘুমে অচেতন । তার

সাউন্ড স্লিপ আমার কাম্য ।

 

মাঝরাতে প্রতিদিন ঘুমুতে যাই

কখনো বিষন্ন কখনো বা সব কিছু ঠিকঠাক

কখনো ছটফট কখনো শান্ত

ঘড়ির কাঁটায় চলে দেহমন ।

 

মাঝরাতে ঘুমুতে যাওয়া আমার ছেলেবেলার অভ্যাস

আজো হয়নি বদল । গেলো চার বছর

আক্রান্ত আমি ঘুমের অসুখে

কোন কোন রাত কাটে নির্ঘুম চুপচাপ । এখন

রাত তিনটা বাজে । পৃথিবী নিরব ।

ফ্যানের শব্দ ছাড়া জেগে নেই কেউ । মনে পড়ে

বাবার কথা । সারারাত পায়চারি

একা একা কথা বলা

সংসার সমুদ্র পাড়ি দিয়ে তীরে ওঠার পরিকল্পনা ।

বাবারও ছিলো ঘুমের অসুখ ।

 

বাবা ছিলেন প্রান্তিক চাষী জীবন যুদ্ধে পরাজিত ।

একদিন নাম লেখালেন মজুরের খাতায়

জীবনের জন্য জীবন বিসর্জন । আমি তার অক্ষম সন্তান

কিছুই পারিনি দিতে ।

পরপারে কেমন আছেন বাবা

সুখের অসুখে আক্রান্ত নাকি কষ্টে ভারাক্রান্ত

জানতে ইচ্ছে করে ।

 

বাবা দিন মজুর ছিলেন

ঘুমের অসুখ তার সারেনি কখনো ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

2764 জন পড়েছেন

About মফিজুল ইসলাম খান

মফিজুল ইসলাম খান পিতা-মৃত আব্দুল মন্নাফ খান । মাতা-সাফিয়া খাতুন । জন্ম- ০৪-০৯-১৯৫৪ । জন্মস্থান-ঘিলাতলী, বিবির বাজার, কুমিল্লা। শিক্ষাগত যোগ্যতা-এমকম,এলএলবি । একটি জাতীয়করণকৃত ব্যাংকের ডিজিএম (অবঃ)। বর্তমানে আইনজীবী । বসবাস-ঢাকায় । ইতিপূর্বে প্রকাশিত কবিতার বই-আন্দোলিত প্রান্তরে আহত চিৎকার, জোসনার ফুল, যন্ত্রণার অনুলিপি । ছড়ার বই-তাক ডুমাডুম ঢোল বাজে । ছড়া-কবিতার বই-আবোল তাবোল । উপন্যাস-মিসকল মফিজ । যৌথ- কবিতার বই-কোমল গান্ধার । যৌথ শিশুতোষ গ্রন্থ-খেঁকশিয়াল ফুলপরী ও বাজপাখীর গল্প ।

Comments

মনে পড়ে বাবার কথা — ১ Comment

  1. আপনার কবিতা পড়ে আমারও মনে পড়ল বাবার কথা।আর যখনই মনে পড়ে কান্নায় বুকটা ফেটে যেতে যায় কারণ আমি সেই হতভাগাদের একজন যারা আপন বাবার জীবনের শেষ সময়ে তাঁর পাশে থাকতে পারেনি রুটি রুজির ধান্দায়। হৃদয়ের ব্যথাটা আবার জেগে উঠল।
    ধন্যবাদ।