ইসরা ও মিরাজ নিয়ে কিছু প্রশ্ন

46 জন পড়েছেন

ইসরা ও মেরাজের বিষয়টা দৈহিক ভ্রমণে না স্বপ্নে সংঘটিত আধ্যাত্বিক সফর ছিল? এটি একটি পুরানো বিতর্ক যা ইসলামের প্রাচীন স্কলারদের মাঝেও ছিল।
ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি আল্লাহ সুবহানা তা’য়ালা চাইলে তাঁর পক্ষে সবকিছুই করা সম্ভব কেননা আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং হাইয়ুল কাইয়ুম। তবে এটিও বিশ্বাস করি যে আল্লাহ কারো কোন বোকামী যুক্তি গ্রহন করার সক্ষমতা থাকলেও তিনি সেটি গ্রহন করবেন না বরং প্রত্যাখ্যানই করবেন।

প্রশ্ন হচ্ছে আজকের যুগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আবিষ্কারে আমরা যখন দেখতে পাচ্ছি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কি ঘটছে তা ভার্চ্যুয়েলি দৃষ্টিগোচর করা যায় এবং শব্দ ও কথা শুনানো যায়। সেখানে আল্লাহর পক্ষে রাসূলদেরকে স্বপ্নে অনেক কিছু বাস্তবের মত করে দেখানো যে সম্ভব ছিল তা অবিশ্বাস করার কোন যুক্তি নাই।

কোরআন অনুসারে এটি বুঝতে না পারার কথা নয় যে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর মেরাজের (জান্নাতে আরোহণ) পুরো অভিজ্ঞতা আসলে সত্যিকারের স্বপ্ন ছিল (রু’ইয়া সাদিকা) – ( আল-ইস্রাহ ১৭: ৬০)। “রু’ইয়া” শব্দের অর্থ হচ্ছে প্রদর্শন Sight বা দৃশ্য দেখা সেটি স্বপ্নেও দেখানো যায়। নবী রসুলদের স্বপ্নের দেখা আর সাধারণ মানুষের স্বপ্ন দেখা সমান নয়।

ইসলামের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে এই মেরাজের কাহিনীকে নানা রংবেরঙের কিচ্ছায় বর্ণনা করা হত এক শ্রেণীর পেশাদার স্টোরি টেলার দ্বারা। সে যুগে এরা বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে এসব বর্ণনা করে বেশ অর্থ উপার্জন করতেন যার সাথে ইসলামের আসল আদর্শ ও শিক্ষার কোন সম্পর্ক ছিলনা। অবস্থা এমন প্রকট হয়েছিল যে একসময় মুসলিম সুলতানদের রাজকীয় ফরমান জারি করে এসবকে নিষিদ্ধ করতে হয়েছিল যা ইয়াসির ক্বাদীর মত ইসলামী স্কলারদেরকেও বলতে শুনেছি!
আসলে গল্প শুনা ও বিশ্বাস করা মানুষের এক আদিম দুর্বলতা।

আজ অনেকে মনে করেন ইসরা ও মেরাজ কেন সংঘটিত হয়েছিল? রাসুলের জন্য কি উদ্দেশ্যে সেটি করা হয়েছিল? তা না বুঝে বা সে প্রাধান্য না দিয়ে যারা এ বিষয়গুলোর সাথে অলৌকিক মোজেজা জড়ানোর প্রাধান্যতা দিতে চান নিছক নবীর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের আবেগী উচ্ছ্বাস প্রকাশে যা ইসলামের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক ও অযাচিত প্রচেষ্টা। তবুও অনেক মুসলমান বিশ্বাস করেন যে মুহাম্মদ (সা:) এর মিরাজ একটি শারীরিক ভ্রমণ ছিল।
বিপরীতে, আল্লাহ বলেছেন যে মিরাজ ছিল একটি পরিদর্শন বা রু’ইয়া (যা উপরে উল্লেখ করেছি) وَمَا جَعَلْنَا الرُّؤيَا (সূরা বানী-ইসরাইল আয়াত 60)
স্বপ্ন দেখার এই একই ট্রাইলেটারেল শব্দ “রা” “হামজা” “ইয়া” ব্যবহার করে কোরআনে যেমন, رَأَيْتُ বলে ইউসুফ (আ:)কে বলতে শুনি সূরা ইউসুফের ৪ নম্বর আয়াতে
إِذْ قَالَ يُوسُفُ لِأَبِيهِ يَا أَبتِ إِنِّي رَأَيْتُ أَحَدَ عَشَرَ كَوْكَبًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ رَأَيْتُهُمْ لِي سَاجِدِينَ

ইতিহাস বলে আমাদের প্রিয় নবী (স:) যখন তার নবুয়্যতের বার্তা প্রচার করছিলেন মক্কাতে তখনকার সমসাময়িক লোকেরা বিশেষকরে আরবের গোত্রপতিরা ইসলামের বাণীকে ক্রমাগত অবিশ্বাস করছিল ও রাসুলকে নানাভাবে লাঞ্ছিত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত ছিল। তখন মিরাজের এই অসাধারণ দৃশ্যটি তাঁকে পরিদর্শন করানো হয়। এমনকি অনেক বছর ধরে তাঁর এই নিবেদিতপ্রাণ মিশনের পিছনে অক্লান্ত পরিশ্রম করার পরেও, খুব কম লোকই সত্যটি গ্রহণ করেছিল। এই পরিস্থিতিতে, যে কেউ হতাশ এবং মনোবল হারাতে পারে সেটি স্বাভাবিক। সেই প্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা আমাদের নবীকে এমন একটি দৃশ্য দেখালেন যে তিনি এমন এক নামাজে ইমামতী করছেন যেখানে অতীতের সমস্ত নবীরা উপস্থিত ছিলেন। এই পরিদর্শন বা “ভিশনটি” দেখানোর পিছনে এ ইঙ্গিত দেয় যে আমাদের প্রিয় রাসুল (স:) সমগ্র বিশ্বের ইমাম হবেন কারণ পূর্ববর্তী সমস্ত নবী তাঁর সর্বোচ্চ স্তরের মর্যাদাকে স্বীকার করেছিলেন। সুতরাং, এ দৃশ্য থেকে এ উপসংহারে পৌঁছানো যায় যে শীঘ্রই তাঁর প্রচারিত দ্বীন ইসলাম আরব সহ পুরো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।

এই আধ্যাত্মিক যাত্রায়, মহান আল্লাহ তাকে বিশ্বের এই জগত ছাড়িয়ে অন্য জগতে ভ্রমণ করান এবং মহাবিশ্বের দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করিয়েছিলেন। জেরুজালেমের যেখানে‌ বর্তমান বায়তুল মুকাদ্দিস ও মসজিদুল আকসা আছে যদিও সে মসজিদের অস্থিত্ব তখন ছিল না তবু সেই অঞ্চলের মালিকানা যে তাঁর কাছে আসছে তথা মুসলমানদের অধীনে আসবে সেটি বুঝানো হয়। এসবই হচ্ছে নবীর মনোবল ও সাহস জোগায়ে মানসিক ভাবে সুদৃঢ় করতে। কেননা নবীদের “ভিশনে” বা রু’ইআতে তারা যে অনুপ্রেরণা পান সেটি অনেকটা আধুনিক যুগের লাইভ শো এর মত বাস্ততার প্রকাশ ঘটে।
তবে সে সময়ের অনেক সাধারন লোক যদিও এটিকে দৈহিক ভ্রমণ বলে মনে করতেন কিন্তু সে ভুল ভাঙ্গতে, আমাদের নবী বলেছিলেন যে তিনি তখন অর্ধ-ঘুমন্ত এবং অর্ধ-জাগরিত অবস্থায় ছিলেন। যখন তিনি জেগেছিলেন (বা যাত্রাটি শেষ করেছেন), তখনও তিনি নিজের আসনটিতে উষ্ণতা অনুভব করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে যাত্রাটি অতি সংক্ষিপ্ত সময়ে হয়েছিল। এই অল্প সময়ের মধ্যে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা কেবল Spiritual Journey বা আধ্যাত্মিক-ভাবে “রু’ইয়া” হতে পারে। এখানে Black hole বা Contraction of Space ইত্যাদি জঠিল বৈজ্ঞানিক থিওরি টেনে এনে বুঝার চেষ্টা করা মানে বিজ্ঞান দিয়ে ইসলামের সত্যায়ন করার ভ্রান্ত প্রচেষ্টা করার গোনাহ বা অপরাধ হবে কিনা বুঝতে হবে।

কাফেররা ভেবেছিল যে আমাদের রাসূল দৈহিক ভ্রমণকে বুঝিয়েছেন তাই তারা আমাদের নবীকে এ নিয়ে বিদ্রূপ করা শুরু করে এবং আকাশ থেকে একটি গ্রন্থ অবতরণ করার দাবি করতে থাকে! অর্থাৎ তাদের দাবী অনেকটা এরকম ছিল যে, “আপনি যখন মহা বিশ্বে দৈহিক ভ্রমণ করতে সম্ভব তাহলে আরেকবার তথা দ্বিতীয় রাউন্ডে গিয়ে একটি আসমানী কিতাব নিয়ে আসেন না কেন?” কাফিরদের এ দাবীর উত্তর একই সুরা বনী-ইসরাইলের আয়াত ৯৩ আমরা দেখতে পাই। সেখানে তাঁকে বলা হচ্ছে একথা বলতে যে,
“বলুনঃ পবিত্র মহান আমার রব (পালনকর্তা), আমি একজন মানব, একজন রসূল বৈ কে? [ সুরা বনী-ইসরাঈল ১৭:৯৩ ] (আয়াত ৯৩)
قُلْ سُبْحَانَ رَبِّي هَلْ كُنتُ إَلاَّ بَشَرًا رَّسُولاً

এই আয়াতটি নিশ্চিত করে যে তিনি সুপারম্যানের ক্ষমতা রাখেন না বা শারীরিকভাবে জান্নাতে ভ্রমণ করতে এবং সেখান থেকে আসমানি কিতাব নিয়ে আনতে তাকে ‘বারাক’ সরবরাহ করা হয় না!

দুর্ভাগ্যক্রমে, মুসলমানদের অনেকেই আজও বিশ্বাস করতে চান যে সে যাত্রাটি শারীরিক ছিল।

প্রশ্ন হচ্ছে মিরাজের ঘটনাটি শারীরিক যাত্রা মনে করলে এবং এ সংক্রান্ত কিছু হাদিসের রেওয়ায়াতকে বিশ্বাস করলে বেশকিছু প্রশ্নের উদয় হয় যার উত্তর খুঁজতে হবে।
ইন্টানেটে জনাব আবু আব্দুস সামাদের একটি ইংরেজি নিবন্ধে দেখলাম সে ধরনের বেশ কিছু প্রশ্নের তালিকা আছে তার কয়েকটি প্রশ্ন নিচে রাখলাম বাংলা অনুবাদসহ।
1)
Why did Angel Gabriel enter the house by breaking through the roof? Was the landing imperfect? Who repaired the breakage before others could see the defect? Another version says angels Gabriel, Mika’il and Israfil came together and they did not pierce the roof. Why is the discrepancy in the story?
রাসুল (স:) নিয়ে যেতে এসে কেন জিব্রাইল (আ:)কে সে ঘরের ছাদটিকে ভাঙ্গতে হল? মানে তাহলে লেন্ডিংটি পারফেক্ট ছিলনা? তারপর সেই ছাদটিকে মেরামত করতে অন্য কেউ দেখেছিল কি না? সে খবর আমরা জানিনা। আর কারো দেখার আগে সেই ছাদকে মেরামতই বা কে করল?
আরেকটি রেওয়াতে আছে জিবরাঈল (আ:), মিকাইল ( আ: ) এবং ইসরাফিল (আ:) উনারা সবাই একত্রে এসেছিলেন এবং তাদেরকে সে ছাদ ছিদ্র করতে হয় নাই ! তাহলে একই কাহিনীতে এই ব্যতিক্রম বর্ণনা কেন দেখা যাচ্ছে?

2)
It is told that Burraq would not allow our prophet to ride him, till Gabriel scolded it. Did Allah(swt) send a special animal that would not do its duty till scolded.
Another version says that this animal was way too eager to carry our Prophet while it was in its own heaven. Why is the discrepancy in the story?

বলা হয় বোরাক বা সেই বাহন জন্তুটি তার উপরে নবীকে চড়তে দিতে চাচ্ছিল না তখন জিবরাঈল (আ:) তার লাগাম ধরে একটি ঝাকুনি দিয়ে বকাঝকা করেন তখন সে রাজি হয়! তা হলে দেখা গেল নবীকে বহণ করতে যে একটি বিশেষ প্রাণীকে বাহন হিসাবে আল্লাহ পাঠালেন তাকে তার দায়িত্ব পালন করতে বকাঝকা করতে হয়?
অন্য রেওয়াতে বলা হয় যে এই প্রাণীটি খুব উত্সাহী ছিল রাসুলকে বহণ করতে! একই কাহিনীতে এই ব্যতিক্রম কেন?

2)
How did all other prophets come to Jerusalem? Did they come in spiritual form or in physical form? If they came in physical form, then resurrection or Qiyamat had once taken place already. Because the dead prophets were brought back to life already in to their earthly bodies.

অন্যান্য সব নবীরা কীভাবে জেরুজালেমে এসেছিলেন? তারা কি spiritual form বা রুহ আকারে ছিলেন না মানুষের শারীরিক গঠন নিয়ে হাজির হয়েছিলেন?

3) If the other prophets came in physical form, then resurrection or Qiyamat had once taken place already. Because the dead prophets were brought back to life already in to their earthly bodies.
অন্যান্য সব নবীরা যদি শারীরিক গঠনে হাজির হয়ে থাকেন তাহলে তাঁদের কিয়ামত ইতিমধ্য হয়ে গিয়েছে? কেননা মৃত নবীদেরকে তাদের ইতিমধ্যে তাদের পার্থিব দেহে পুনরুত্থিত করা হয়েছিল।
4)
If the previous prophets came in physical form, what kind of transportation did they acquire? More Burraqs? Or only few large burraqs like jumbo jets? Remember that we are talking about 124,000 prophets.
বিগত নবী রসুলরা যদি শারীরিক গঠন নিয়ে হাজির হয়ে থাকেন তাহলে তাদের সফরের বাহন কি ছিল। তারা কি আরো অনেক সংখ্যক বোরাক নিয়ে পৌছেছিলেন না জাম্বু জেটের মত মাত্র কয়েকটি বড় বোরাকে আসেন? মনে রাখতে হবে এখানে কমপক্ষে আমরা ১২৪০০০ পয়গম্বরের কথা আসছে!

5)
We are told that Prophet’s Burraq was tied to one corner of Masjidul Aqsa. Where did all other prophets tie their individual burraqs or their jumbo burraqs?
আমাদেরকে বলা হয়েছে নবীর বোরাকটিকে মসজিদুল আকসার এক কোণায় একটি খুটির সাথে বাঁধা হয়। তবে বাকি সকল নবীরা তাদের নিজশ্ব বোরাকগুলো বা জাম্বু সাইজের বোরাকগুলা কোথায় বেঁধেছিলেন?

6)
A gathering of such huge magnitude is sure to cause much commotion in the area. Did the people of Jerusalem miss such a major gathering? Not even a single person noticed 124,000 prophets and 124,000 burraqs suddenly entering their small town of Jerusalem?

আখেরি নবী সহ লক্ষ লক্ষ নবী রাসুলদের একত্রে জড়ো হওয়ার এত বড় বিশাল একটি আয়োজন যে অন্চলে সেখানে অনেক হৈচৈ সৃষ্টি করার কথা! সেখানে স্থানীয় কোন এক জন লোকের পক্ষেও কি ব্যাপারটি দেখা সম্ভব ছিল না?

এভাবে অনেক প্রশ্ন এসে যায়। আলোচনা সংক্ষিপ্ত রাখতে সেগুলো আর এখানে উল্লেখ করছি না। বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট! তবে কেউ সিরিয়াস হলে বা আরো জানতে চাইলে বাকি প্রশ্নগুলো রেফারেন্স লিংকে পাবেন।

পরিশেষে, মিরাজ বিষয়ে আমার এ লেখাটির ধরন ও স্টাইল যদি কারো বিরক্তির কারণ হয় এবং মিরাজ আসলেই “দৈহিক ভ্রমন” বিশ্বাস করেন তাহলে সে বিষয়ে অনেক ওয়েব সাইট আছে দেখতে পারেন। আব্দুস সামাদ লিখেছেন, ” One site will even describe you about the heaven of burraqs where there are 40 million burraqs, each with a “La-ilaha illallahu muhammadur rasulallah” inscribed on its forehead! I do not want to speculate who did the census to conclude 40 million burraqs or who would read the Kalimah written on their forehead.”

আর যদি কোরআন অনুসারে এটি বুঝতে পারেন যে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর মেরাজের (জান্নাতে আরোহণ) সংক্রান্ত পুরো অভিজ্ঞতাটি আসলে সত্যিকারের একটি প্রফেটিক বা নবুয়তী বাস্তব স্বপ্ন ছিল (রু’ইয়া সাদিকা) – আল-ইস্রাহ (১৭:৬০ ) তাহলে উপরে বর্ণিত প্রশ্নগুলোর লজিক্যাল যুক্তিপূর্ণ উত্তর ও বিকল্প তথ্য জানতে কিছু কথা এখানে পাবেন ।

আল্লাহ আমাদের সহায় হোন সঠিক সত্য বুঝার এবং ইসলামের সেবা করার। তাছাড়া আল্লাহ যেন আমাদের ভুল ত্রুটির ক্ষমা করেন এবং হেদায়েত দান করেন সঠিক পথে চলতে ও সঠিক চিন্তা করতে।
আমিন।

Reference:
Miraj A spiritual or a physical journey?
Abu Abdus-Samad

Facebook Comments

46 জন পড়েছেন


মন্তব্য দেখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *