জ্ঞানগত বৈপরীত্যে অনেক আদর্শ ও বিশ্বাস

38 জন পড়েছেন

আমরা যখন কোন রাজনৈতিক দলে প্রবেশ করি, বা ধর্মে প্রবেশ করি, বা আদর্শিক কাল্টে বা দলে প্রবেশ করি, এবং সেই অঙ্গনের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত হই, তখন সেখানে এক সময় অনেক দ্বান্দ্বিকতা, দ্বিমুখী নীতি বা কন্ট্রাডিকশন দেখতে পেয়ে থাকতে পারি, কিন্তু সেগুলোকে দেখেও দেখব না, বুঝেও বুঝব না, শুনেও শুনব না। ইংরেজিতে এই অবস্থানকে কগনিটভ ডিসোন্যান্স (cognitive dissonance) বা জ্ঞানগত বৈপরীত্য বলা হয়ে থাকে।

বিষয়টি স্থানভেদে স্পর্শকাতর। তাই কেউ যদি ধর্ম ও কাল্টিজমের উদাহরণ বাদ দিয়ে, রাজনৈতিক দলের উদাহরণ টানে, তবে ধারণাটি কিছুটা হলেও ব্যাখ্যা হতে পারে। ধরুন কোন এক ব্যক্তি কোন এক রাজনৈতিক দলে একান্তভাবে সংযুক্ত যে দলের নানান অপকর্ম, দুর্নীতি, নীতিগত বৈপরীত্য আপনি ভালভাবে অবগত এবং আপনি মনে করেন যে তাকে যদি আপনি সেগুলো যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিতে পারেন, তবে সে সেই দল ত্যাগ করবে। ভুল। আপনার ধারণা ভুল।

আপনি যত যুক্তি দেখান না কেন, সে আপনাকে, যৌক্তিক ব্যবহারের ভুল-শুদ্ধ নির্বিশেষে, একটার পর একটা উত্তর দিয়েই যাবে। এক সময় আপনি ক্লান্ত বা বিরক্ত হয়ে বাদ দেবেন। আপনার ধারণা এখানে ভুল ছিল যে আপনার যুক্তি শুনলেই দল ত্যাগ করবে। এখানে শুধু নীতি-নৈতিকতার বৈপরীত্য নয়, দুর্নীতি, অপকর্মের বিষয়ও নয়, এখানে আছে তার দলীয় পরিচিতি, এখানে সংযুক্ত তার অনেক আবেগ, তার জীবনের কাটানো সময় ও ইতিহাস। সে নিজেও অনেক বৈপরীত্য বুঝেছে, দেখেছে, কিন্তু সেগুলো ‘হজম’ করে নিয়েছে। আর কাল্টিজম মানুষের যুক্তির স্থানকে ধ্বংস করেই প্রতিষ্ঠিত হয়।

এই জ্ঞানগত বৈপরীত্যের বিষয়টি আমাদের মানবতারই একটি অংশ, তাই এখান থেকে পরিপূর্ণভাবে বের হওয়া অত্যন্ত কঠিন।

এখানে কগনিটিভ ডিসোনেন্সের উপর একটি ভিডিও দেয়া হল।

অন্যান্য কিছু লেখার লিঙ্ক:

এনলাইটনমেন্ট: গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা

বিজ্ঞান ও যুক্তি দিয়ে বহুবাদ বা একত্ববাদ প্রমাণের সমস্যা

পল জোসেফ গোবেলস ও মিথ্যা-সত্য  

সভ্যতা কী?

ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা

Facebook Comments

38 জন পড়েছেন

About এম_আহমদ

প্রাবন্ধিক, গবেষক (সমাজ বিজ্ঞান), ভাষাতত্ত্ব, ধর্ম, দর্শন ও ইতিহাসের পাঠক।

মন্তব্য দেখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *