মানবাধিকার ও সভ্যতা

41 জন পড়েছেন

ব্যক্তি স্বাধীনতা – তথা মত প্রকাশের অধিকার ও স্বাধীনতা, আইনি নিরাপত্তা: এগুলো ইউরোপীয় দেশগুলোতে আইনানুগভাবে স্বীকৃত। মানুষ এই দেশগুলোতে তাদের নেতা-নেত্রী, দেশ, জাতি, ধর্ম, প্রতিষ্ঠান, সরকার: সবকিছু নিয়ে কথা বলতে পারে, অভিমত ব্যক্ত করতে পারে, এগুলো সভ্যতার কিছু মাত্রা। তারা সার্কাজম, চুটকি ও হিউমার সবই ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু অপর কোন পক্ষকে গালাগালি, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, পশু-করণ (dehumanise) করতে পারে না, কেননা এতে অপর পক্ষের অধিকার ও স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়। কোন ধর্ম বা ধর্ম প্রচারক অপর ধর্মের দেব-দেবী বা উপাস্য-সত্তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, গালাগালি, বিষদগার করার অধিকার নেই, কারণ দেশ কোন বিশেষ জাতি, গোষ্ঠী বা ধর্মের নয়, আবার দেশ মধ্যযুগে স্থাপিতও নয়, মধ্যযুগে কোনকিছু ছিল বলে এখন তা গ্রহণযোগ্য নয়।

ব্রিটিশের স্কুলগুলোতে ব্যক্তি স্বাধীনতা, মত প্রকাশের অধিকার ও স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও মূল্যবোধ শিক্ষা দেওয়া হয়। বিগত বছর-পাঁচেক আগে ধর্মীয় স্কুলগুলোতে ‘ব্রিটিশ মূল্যবোধ’ এর আওতায় উল্লেখিত মূল্যবোধ শিক্ষাদানের নির্দেশ আসে এবং ‘অফস্টেড’ (Ofsted is the Office for Standards in Education, Children’s Services and Skills) সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করে।

এদেশে (ইউকেতে) প্রত্যেক মানুষের মত গ্রহণ, বিশ্বাস করা, না-করা, মত ও বিশ্বাস পরিবর্তনের আইনানুগ অধিকার রয়েছে। কেউ কাউকে তার বিশ্বাস ও মতের জন্য হত্যা করতে পারবে না -এটা আধুনিক দৃষ্টিতে অসভ্যতা। কোন শিক্ষক এই ধরণের মত স্কুলে প্রকাশ করলে, বা ছাত্রদের শেখালে তাকে অফস্টেড ও আইনের নজরে আনা হবে -এটা অপরাধ, বেআইনি। কোন ধর্ম-প্রাচরক ধর্ম-মতের কারণে কাউকে হত্যার উস্কানি দিতে দেখলে বা এমন হত্যাকে সমর্থন দিতে দেখলে তাকে রিপোর্ট করার মাধ্যমে আইনের দৃষ্টি আনা, ও শিক্ষক হলে, আইন ও অফস্টেডের দৃষ্টিতে আনা একজন নাগরিকের দায়িত্বের আওতায় পড়ে। এই সচেতনা সৃষ্টির প্রয়োজন।

বিগত আড়াইশো বছরের ক্রম-প্রচেষ্টার ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোতে মানবাধিকার সম্বলিত আইন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর ফলে নাগরিকদের নানান আদর্শ ও ধর্মমত থাকা সত্ত্বেও তারা আইনানুগ নিয়ন্ত্রণে শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করেছে। এই বাস্তবতার কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের লোকেরা ইউরোপে আসতে আগ্রহী, কেননা তাদের দেশগুলোতে এই মাত্রার সভ্যতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় নি।

আমাদের মানবতা ধীরে ধীরে সভ্যতার সোপান বেয়ে সামনের দিকে এগুচ্ছে, এবং ধীরে ধীরে এই সভ্যতার মাত্রা ও ধাপ আরও উন্নত ও অগ্রসর হতে হবে।

Facebook Comments

41 জন পড়েছেন

About এম_আহমদ

প্রাবন্ধিক, গবেষক (সমাজ বিজ্ঞান), ভাষাতাত্ত্ব, ধর্ম, দর্শন ও ইতিহাসের পাঠক।

Comments are closed.