দেওয়ানবাগী ও সামাজিক সত্যের এপিঠ ওপিঠ

65 জন পড়েছেন

একসময় দেওয়ানবাগী মারা যাবেন, কেননা এমন শত শত দেওয়ানবাগী ইতিপূর্বে মারাই গিয়েছেন। অতঃপর তিনি মুরিদানদের মধ্যে, প্রজন্ম পরম্পরায়, ‘পণ্যে’র রূপ লাভ করবেন, যদি তারা তার তরিকায় কিছু মাদ্রাসা গড়ে তুলেন: এই ধারাতেই নিহিত থাকবে পণ্যায়ন-প্রক্রিয়া। পণ্য বলতে আমি ‘পণ্য’ই বুঝাচ্ছি যার ইংরেজি শব্দ প্রডাক্ট। বিষয়টিকে আরেকটু খোলাসা করি।

ধরুন এক সময় দেওয়ানবাগীর ধারায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, তার ধ্যান ধারণা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে, (এখনও করছে), এই প্রাতিষ্ঠানিকতায় আরও আলেম-ওলামা তৈরি হবেন, এবং তারা ওয়াজ-নসিহত করবেন। এই ওয়াজ নসিহতের প্রধান বিষয়বস্তু কী হবে? এখানে কি দেওয়ানবাগীই প্রাধান্য পাবেন না? এখানে কি তার শিক্ষা, তার লিখিত বই, তার জীবনের মাহাত্ম্য, তার গল্প কাহিনী ইত্যাদি প্রচারিত হবে না?

অন্যদিকে এই আলেমগণ নিজেদের জীবন ধারণ করতে দেওয়ানবাগীর গুণগান, তার গল্প, কথা-কাহিনী ইত্যাদি জনসমাজে চালিয়ে নিতে হবে। এখানেই পণ্যায়ন। তারা  দেওয়ানবাগী থেকে বেছে বেছে চমকপ্রদ কথার খই ফুটিয়ে বাজার গরম করতে হবে নতুবা পেট-পিঠ চলবেনা, টাকা উঠানো যাবে না, প্রতিষ্ঠান চলবে না। সুতরাং তাদেরকে তাদের নিজেদের সৃষ্টিশৈলী যাবতীয় গুণ উজাড় করে দেওয়ানবাগীর শিক্ষা আদর্শ দিবালোকের মত উজ্জ্বল বস্তু বলে প্রচার করে যেতে হবে। এই আঙ্গিকে বইয়ের পর বই রচনা করতে হবে। যে আলেমের সৃষ্টিশৈলী রচনা যতই আবেগী, কলা-কৌশল সম্বলিত ও প্যাচ-পুচে সাজানো হবে, তার রচনা ততই উজ্জ্বল সত্য বলে বিবেচিত হবে। তার বই মাদ্রাসায় পড়ানো হবে, এর মাধ্যমে “দেওয়ানবাগী- প্রাতিষ্ঠানিকতা” আরও সমৃদ্ধ হবে। অতঃপর, এখানেই নিহিত হবে পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা: প্রাতিষ্ঠানিকতা ও প্রচারকদের জীবিকা নির্বাহ – বলতে পারেন একটি সামাজিক ইন্ডাস্ট্রি। এই স্থান ঘিরে থাকবে লাখ লাখ লোকের চাকরি-বাকরি। এই প্রাতিষ্ঠানিকতা বা ইন্ডাস্ট্রি বেঁচে থাকলে, সবাই বাঁচে, এবং এটি নিঃশেষ হলে তারাও নিঃশেষ। সুতরাং এই ঘন- নিবিষ্টতা না বুঝলে এক মহাসত্য বুঝার ‘সমঝ’ থেকে বঞ্চিত হয়ে যাওয়া হবে।

অতঃপর কোন এক সময় যদি দেওয়ানবাগীতে বিশ্বাসী কিছু লোক বেশ কিছু কাল রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়, এবং দেওয়ানবাদী প্রাতিষ্ঠানিকতার পৃষ্ঠপোষক হয়, তবে তা কালের ধারায় কামালিয়াত হাসিল করে নেবে। সত্য এভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয়।

Facebook Comments

65 জন পড়েছেন

About এম_আহমদ

প্রাবন্ধিক, গবেষক (সমাজ বিজ্ঞান), ভাষাতাত্ত্ব, ধর্ম, দর্শন ও ইতিহাসের পাঠক।

Comments are closed.