মোদীর পাঠশালা পরিকল্পনা ও অপারেশন গুজরাট স্টাইল

61 জন পড়েছেন

ভারতীয় রাজনীতিবিদদের ভাষায় দিল্লিতে গণহত্যা হয়েছে। এই গণহত্যাকে পরিকল্পিত বলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ছাড়াও অনেক প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ উল্লেখ করেছেন। লাশের সংখ্যা অনেক বেশী এবং নিখোঁজের সংখ্যা ২ শ’র উপরে বলে মমতা ব্যানার্জী দাবী করেছেন। ভারতীয় ছাড়াও বিশ্বের তাবৎ মানুষ এর নিন্দা জানিয়েছেন। পার্শ্ববর্তী দেশ বা দেশের মানুষ হিসাবে আমদেরও ক্ষোভ দুঃখ আছে এবং তা হওয়াও স্বাভাবিক। তবে দিল্লির ঘটনা যে বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয় এবং তা একটি দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ মাত্র তা এখন সর্ব মহলে পরিস্কার হয়ে গিয়েছে। এই দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা কি এবং মোদী-অমিত শাহের পাঠশালা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কিভাবে হতে চলেছে তা একটু খতিয়ে দেখার জন্যই আজকের এ প্রয়াস ।
এক. গুজরাটে গণহত্যা চালিয়ে ২ হাজার মুসলিম হত্যা করার পর মোদী ও অমিতশাহ “Mission Accomplished” উপহার হিসাবে বিজিপির কেন্দ্রের আশীর্বাদ পান । আমেরিকা গণহত্যাকারী হিসাবে মোদীকে ভিসা দিতে অস্বীকার করে কিন্তু কংগ্রেস আমেরিকার এই সিদ্ধান্তে নাখোশ হয়। কংগ্রেস তখনও বুঝে উঠতে পারেনি যে “তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে”। ভারতীয় বিচার ব্যবস্থাকে বিজেপি তখন থেকেই “Influenced” করে মোদীকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সমর্থ হয়। সেই বিচার আজও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে রয়েছে। বিজেপি মোদী-অমিতকে দিয়ে তাদের পাঠশালা পরিকল্পনার ২য় এজেন্ডা সফল করতে দলীয় প্রধান বা প্রধান মন্ত্রী পদে মোদীকে সিলেক্ট করে। গুজরাটে সফল অপারেশন দেখিয়ে বিজেপি ভারতীয় ধর্মান্ধদের Convinced করতে সমর্থ হয়। মোদী এবারও গুজরাটের সেই হোম মিনিস্টার অমিত শাহ কে কেন্দ্রের হোম মিনিস্টারের দায়িত্ব দেন- উদ্দেশ্য হচ্ছে গুজরাটের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো । ২য় এজেন্ডাতে -কাশ্মীরিদের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার-আইন বাতিল করে কেন্দ্রের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। এতে খুব একটা বেগ পেতে হয় নাই। এবারও “Operation Successful ” ।
৩য় এজেন্ডাতে বাবরী মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মানের পুরো পরিকল্পনা করে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করা হয় । আর্কিওলজিষ্টদের ফাইন্ডিং অনুযায়ী – বাবরী মসজিদ নির্মানের ৪ শ বছর পূর্ব পর্যন্ত ওখানে কোন মন্দির বা স্থাপনা ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায় নাই । সুতরাং রাম মন্দির ভেঙ্গে বাবর মসজিদ বানিয়েছেন বলে অপবাদ দিয়ে হাজার হাজার মানুষ হত্যা ছিল ধর্মান্ধ বিজেপির আরেক হত্যা পরিকল্পনা। তারপরও ভারতের বিচার ব্যবস্থা বিজেপির পক্ষে রায় দিয়ে রাম মন্দির নির্মানের নির্দেশ দেয়। এই রায় নিয়ে ভারতের অনেক রাজনীতিবিদ ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিচার ব্যবস্থাকে মোদী ন্যাক্কার জনক ভাবে ব্যবহার করছে বলে প্রশ্ন তুলেন। তবে একথা সত্য এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তত আরো ২ হাজার মানুষের প্রাণ বেঁচে গেল। ধন্যবাদ ভারতের সংখ্যালঘুদের চরম সহিষ্ণুতাকে।

সংঘর্ষের মধ্যে দিল্লিতে জ্বলছে দোকান। ছবি: এপি।

সংঘর্ষের মধ্যে দিল্লিতে জ্বলছে দোকান। ছবি: এপি।

৪র্থ এজেন্ডাঃ নতুন সিটিজেনশীপ আইন নিয়ে আজ ভারত উত্তপ্ত। প্রথম ধাক্কায়ই অনেক জান মালের ক্ষতি হয়েছে -৩০/৩৫ জনকে প্রাণ দিতে হয়েছে । বিজেপি ভেবেছিল প্রথম ধাক্কা সামাল দিতে পারলেই কেল্লা ফতে। কিন্তু ভারতের সংখ্যালগুদের জন্য যে এটা মরণ কামড় তা বিজেপি মনেহয় এখনও অনুধাবন করে ঊঠতে পারছে না। স্টুডেন্ট মুভমেন্ট বন্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর ভাড়াটে গুন্ডাদেরকে লেলিয়ে দিয়ে আন্দোলন বানচাল করার চেষ্টা করা হয়। এদিকে মুসলিম বিদ্বেষী ট্রাম্প এর আগমনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা ও পরিকল্পনা চুড়ান্ত রুপ দিয়ে মোদী এম্বুসের জন্য সময়ের অপেক্ষায় থাকে। সিটিজেনশীপ আইন নিয়ে প্রাথমিক প্রতিবাদ ও মৃতের খবর ছড়িয়ে পড়লে জাতি সংঘ সহ গোটা বিশ্ব এর প্রতিবাদ ও ঘৃণা প্রকাশ করে। সুতরাং নতুন করে কোন প্রতিবাদ বা ঘৃণাকে অবজ্ঞা করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা মোদীর এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিজেপির অনুগত দিল্লির পুলিশ সুপারের কার্যকালের মেয়াদ ৩১ জানুয়ারী শেষ হওয়া সত্বেও মিশন সাকসেস করার জন্য তার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়ে ফেরুয়ারী পর্যন্ত রাখা হয়। উদ্দেশ্য “ Operation Gujrat Style ”. এদিকে ট্রাম্পের আগমনে সংখ্যালঘূরা আন্দোলনকে জোরদার করার জন্য প্রস্তুতি নেয়। বিজেপি দিল্লির অন্যান্য শহর থেকে তাদের ক্যডারদেরকে নিয়ে এসে এম্বুসের জন্য প্রস্তুত রাখে। চিত্রটা হচ্ছে এই “মোদী ট্রাম্পের সেবা করা নিয়ে ব্যস্ত আছেন, দেশের ভিতরে কি হচ্ছে তা দেখার সময় পান নাই”। পরিকল্পনা মত কাজ হল- সংখ্যালঘুরা প্রতিবাদে ফেটে পড়লো -বিজেপির ক্যাডাররা আদিম উন্মত্ততায় মেতে ঊঠলো ‘ জ্যায় শ্রী রাম ধ্বনিতে ধ্বনিতে এক টার পর একটা লাশ পরতে লাগলো – পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে গুজরাট স্টাইলে সব পুলিশ দর্শক হয়ে রইলো , কেউ কেউ হত্যায় অংশ নিয়ে পুন্য লাভ করলেন- সাধারণ জনতা মৃত্যুর মিছিল থেকে অনেক প্রতিবেশীকে উদ্বার করলেন ঠিকই কিন্তু ভারতের ধর্ম নিরপেক্ষতার মৃত্যুকে কেউ ঠেকাতে পারলেন না। মৃত্যু ঠেকাতে বিচারপতি মুরলিধর রাতেই আদালত বসিয়ে পুলিশকে নির্দেশ দিলেন কিন্তু মোদীর রোষানলে পরে রাতেই পাঞ্জাবে ট্রান্সফার হয়ে গেলেন। অমিত শাহ “Mission Accomplished ” বলে মোদীকে মেসেজ পাঠালেন। ভারতের অনেক পলিটিশিয়ানদের ভাষায় এটা “জেনোসাইড” বলা হলেও মোদী একটি টুইট করে “শান্ত হ যাও” বলেই দায়ীত্ব শেষ করলেন। অমিত শাহ এটাকে “গন্ডগোল” বলে আরেকটা প্রলেপ দিলেন। কিন্তু লাশের সংখ্যা গুনে মোদী-অমিত দু জনেরই মন ভরলো না। দিল্লিতে প্রয়োজন ছিল ১ হাজার লাশের । কলিংগ যুদ্বে অশোক ৩ লক্ষ লাশ দেখে শান্ত হয়েছিলেন । সেই লিগ্যাসি জিইয়ে রাখতে গুজরাটে ২ হাজার + দিল্লিতে ১ হাজার = টোটাল ৩ হাজার লাশের প্রয়োজন ছিল। এই যাত্রায় তা যখন হল না তাই পরবর্তিতে তা পুষিয়ে নেওয়া যাবে এই ভেবেই মোদী-অমিত ঘাপটি মেরে বসে আছে । আপাততঃ কিছু দিন নিরব থাকতে হবে। এই সুযোগে আন্দোলনকারী সংখ্যালঘূ অনেক নেতাদেরকে চিরদিনের জন্য জেলে পুরে রাখার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। এক হাজারের উপর মামলা হয়েছে । ধীরে ধীরে পরবর্তী এজেন্ডাতে হাত দিতে হবে।
৫ম এজেন্ডাঃ পাঠশালা পরিকল্পনার এটাই বিজেপির শেষ এজেন্ডা- যে কোন মুল্যে ভারতকে একটি ধর্মের রাষ্ট্র কাঠামোর উপর দাড় করাতে হবে। কাশ্মীরকে যে ভাবে মেজোরিটি ক্ষমতা বলে কেন্দ্রের শাসনে নিয়ে আসা হয়েছে -একই ভাবে সংবিধান থেকে “ধর্মনিরপেক্ষ” বাদ দিয়ে ধর্মীয় রাষ্ট্র বসানো শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। তার পর এটাকে Sustainable – করার জন্য বিজেপি লাশের পাহাড় তৈরিতেও প্রস্তুত।
শিং বিহীন ষাঁড়ের যে অবস্থা ভারতের কংগ্রেসেরও আজ সেই একই অবস্থা।

প্রেসিডেন্টের কাছে একটি প্রতিবাদ লিপি আর “এটা জাতির লজ্জা” বলে দায়িত্ব শেষ করলেন সোনিয়া গান্ধী। মমতা ব্যানার্জী তার সর্বশক্তী দিয়ে প্রতিবাদ করেই যাচ্ছেন । নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন প্রশ্ন করলেন “ধর্ম নিরপেক্ষ’ দেশে মুসলিম হত্যা কেন?” কথার ফুলঝুরি আর প্রশ্নবাণে বিজেপির অগ্নিবাণ যে ঠেকানো যায় না বা যাবে না তা কি নতুন করে ভাববার প্রয়োজন আছে? ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে অন্ধত্বের বেসাতি করে ভারত যে বহুকাল আগেই একটি অন্ধকার সংস্কৃতির গহীন গহবরে তলিয়ে যাচ্ছে তা ভারতের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী বুঝতে পারলেও মৌলবাদী বিজেপির কাছে সবাই জিম্মি। হায় ভারত হায় ভারত করা ছাড়া উনাদের আর কোন গত্যন্তর থাকছে না ।

এতো গেল ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাতে আমরা বাংলাদেশীদের অসুবিধাটা কি হচ্ছে ? ভারত অতি ধীরে পাকিস্থান নীতি অনুসরণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্থান-ইজরাইল স্টাইলে ভারত যদি ধর্মের উপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলে তাতে আমাদের তো সুবিধা হওয়ার কথা নয় । অন্ততঃ বিশ্ব দেখবে একই সময়ে জন্ম নেওয়া আজকের ৩ টি রাষ্ট্রের অন্ততঃ একটি রাষ্ট্র তার মূল কাঠামোতে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। তাহলে আমাদের অসুবিধা টা কি? অসুবিধা তো কিছু আছেই। একটি দেশ ভেঙ্গে ৩ টি দেশ হয়ে গেল। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ,অর্থনৈতিক সহ ভৌগলিক অনেক ক্ষেত্রেই এক দেশ আরেক দেশের উপর নির্ভরশীল। দিল্লিতে ভুমিকম্প হলে ঢাকায় কম্পন অনুভূত হয় সেটাতো দেশ বিভাগের পর থেকেই শুনে-দেখে আসছি। ভাল কিছু না হলেও অন্তত খারাপ গুলোতে যে Impact  হয় তা অস্বীকার করার সুযোগ আছে কি? বাবরী মসজিদ হামলা থেকে শুরু করে ভারতে যত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে তার প্রতিটির প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। সুযোগ নিয়েছে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক জামাত শিবির আর সুযোগ সন্ধানী কাপালিকের দল। হাজার হাজার নিরীহ সংখ্যালঘু হয়েছে ভিটে মাটি হারা-নিজ দেশে নিজ ভিটের উপর হারিয়েছে অধিকার আর বিশ্বাস। এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে বার বার জাতিকে হোচট খেতে হয়েছে এবং হচ্ছে -এর দায় কি ভারত এরিয়ে যেতে পারে? বিজেপি নাগরিকত্ব আইন বানিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ গুলোর হিন্দুদের রক্ষক সাজার যে ভন্ডামী করছে তা কি সাধারণের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে? তাদের সাম্প্রদায়িক মাস্টার প্লান বাস্তবায়ন করতে বার বার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সংখ্যালঘুদের দিতে হচ্ছে চরম মুল্য। নাগরিকত্ব আইন কি শুধু ভারতের আভ্যন্তরীন বিষয়? বাংলাদেশ, পাকিস্থান ও আফগানিস্থানের নাম কি উল্লেখ হয় নাই ? আমাদের গালে কি কষে চপেটাঘাত করা হয় নাই? তারপরও বিজেপির এই আগ্রাসী নীতির প্রতিবাদ কাউকে করতে দেখি নাই। শেখ হাসিনা সরকার তো টু শব্দটিও করলো না – বাংলাদেশের মানুষ তো ভারত বিদ্বেষী নয়- বিজেপি কে ঘৃনা করা আর ভারতকে ঘৃণা করা তো এক কথা নয়। মুজিববর্ষে খুনী মোদীকে নিয়ে আসতে হবে কেন? ইন্দিরা গান্ধীর উত্তর সুরী-সোনিয়া গান্ধী, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাইনোরিটির প্রতিনিধিত্বকারী মনমোহন সিং , বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু ও মেয়ের জামাই প্রনব মুখার্জীকে নিয়ে আসলে একাত্তরকে যেমন স্মরন করা হবে তেমনি সারা জাতির ভালবাসা ও সম্মান দিয়ে তাদেরকে সিক্ত করা যাবে। বিজিপের বিরুদ্বে আজ সমগ্র বিশ্ব সোচ্চার – এই সময়ে মোদীকে নিয়ে আসলে দেশের নিরীহ সংখ্যালঘুদেরকে চরম মূল্যদিতে হতে পারে-আর তার দায়িত্ব সরকার এড়াতে পারবে না।

বিজেপির হাতে এসে ধর্মনিরপেক্ষ ভারত আজ লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে। আজ আমাদের প্রিয়া সাহা কোথায়? দিল্লির ঘটনায় আমেরিকা যাওয়া তো দূরের কথা অন্ততঃ এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে প্রকাশ্যে একটি বিবৃতি তো দেওয়া যেত । বাংলাদেশে যখন একটি অসাম্প্রদায়িক সরকার ( মন্দের ভাল ) ক্ষ্মতায় তখন ভারতীয় লবিং গ্রুপ ধরে ট্রাম্পের বাড়ীতে পৌঁছে গেলেন -লাভ কি কিছু হয়েছে ? যদি হয়ে থাকে তাহলে তাকে সাধুবাদ কিন্তু একজন মানবাধিকার কর্মী হিসাবে দিল্লির জেনোসাইডের প্রতিবাদ করলে অন্তত আপনার গ্রহণযোগ্যতাটা থাকতো, আপনাকে যারা গালি দিয়েছে তারাও বলতো “ না উনি সত্যিকারের মানবতাকর্মী”। দিল্লির হত্যাযজ্ঞেপর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে কোন ব্যাকলেশ হয় নাই। এটা যে দেশের জন্য কতবড় সুখবর তাতো বলার অপেক্ষা রাখে না। এই কৃতিত্ব সমগ্র জাতির- এই তো আমাদের সোনার বাংলা। প্রতিটি নাগরিক তার অধিকার নিয়ে মাথা উচু করে বেঁচে থাকবে তাহলেই তো হবে আমাদের সোনার দেশ। পাকিস্থানকে আমরা অনেক পেছনে ফেলে এসেছি , মানদন্ডের সূচকে উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রে আমরা ভারতকেও ছাড়িয়ে গিয়েছি। এবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আমরা বিশ্ব জয় করবো এ যেন হয় প্রতিটি নাগরিকের পণ। একটি বাগানে শুধু গোলাপ থাকলে সেটা গোলাপ বাগান হয় কিন্তু যে বাগানে বিভিন্ন জাতের ফুলের সমাহার থাকে সেটাই তো সত্যিকারের বাগান। আমাদের দেশ এমনি একটি সত্যিকারের বাগানে রুপ নিবে- সব নাগরিক অন্তরে একটি সাইন বোর্ড নিয়ে এগিয়ে যাবে “ আমারা সবাই বাংলাদেশী বাংগালী -এখানে কোন সংখ্যাগুরু – সংখ্যালঘু নেই”। আমরা ভারতের সাম্প্রদায়িক শক্তিকে ঘৃণা করি – ভারতকে নয়, আমরা বিজিপিকে ঘৃনা করি ভারতের জনগনকে নয়। জয় হউক মানবতার ।

ফয়জুল হক দুলা, ccp
টরন্টো

 

Facebook Comments

61 জন পড়েছেন

ফয়জুল হক

About ফয়জুল হক

লেখক কানাডা প্রবাসী এবং ক্যানাডাবিডিনিউজ ডটকম’র সম্পাদক।

Comments are closed.