নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার অন্য দিক

795 জন পড়েছেন

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের সপ্তাহ দুয়েক আগেও কেউ নিশ্চিত হতে পারছেন না, এখানে কী মানের নির্বাচন হবে আর এই নির্বাচনের ভবিষ্যৎ ফলাফলই বা কী হবে? নির্বাচন আদৌ হবে কি না, এমন একটি সংশয়ও ঘুরপাক খাচ্ছে আজো। এই সংশয়ের পেছনে অবশ্য কিছুটা অতীত বাস্তবতা, আর কিছুটা কাজ করছে ‘ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’। গত এক দশকের কিছু বেশি সময়ে এ দেশের রাজনীতিতে বেশ কিছু গুণগত পরিবর্তন এসেছে বলে মনে হয়। এ পরিবর্তনের তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি হলো, এখানকার রাজনীতির নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় ফ্যাক্টরের গুরুত্বকে ছাড়িয়ে গেছে বিদেশী ফ্যাক্টর।

বাংলাদেশে কতটা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, সেটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর মধ্যে কে কী ধরনের নির্বাচন চায়, সে বিষয় আলোচনায় উঠে আসছে। রাজনৈতিক মেরুকরণ কাকে দিয়ে কিভাবে হবে, এমনকি কোন দলের কাকে কোথায় মনোনয়ন দিতে হবে, এসব বিষয়ে বাইরের প্রভাবের বিষয়টি স্পষ্টত দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এক ধরনের দুর্বলতাই এসব ক্ষেত্রে প্রকট হচ্ছে বলে মনে হয়।

রাজনীতি বিজ্ঞানে ‘ক্ষমতার ভারসাম্যতত্ত্ব’কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। যে দেশ গণতান্ত্রিকভাবে যত শক্তিমান, সেখানে এই ভারসাম্য ততটাই কার্যকরভাবে উপস্থিত থাকে। এই ভারসাম্যের তিন প্রধান স্তম্ভ হিসেবে নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগকে বোঝানো হলেও এর বাইরে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আন্তঃসম্পর্কে ভারসাম্যের বিষয়ও রয়েছে।

বাংলাদেশের শাসন কাঠামোকে আমরা যতই ‘গণতান্ত্রিক’ বলে সান্ত্বনা পেতে চাই না কেন, শুরু থেকেই এখানকার রাজনীতি চর্চা এবং শাসনকাঠামোতে কর্তৃত্ববাদিতার ব্যাপক প্রশ্রয় রয়েছে। দেশের শাসক এলিটদের মধ্যকার এই স্বয়ংক্রিয় ও সুপ্ত কর্তৃত্ববাদিতার কারণে এখানে গণতন্ত্রচর্চা একটি নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর আর এগোতে পারেনি। স্বাধীনতা-উত্তরকালে শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতায় যাওয়ার পর যে নির্বাচন হয়েছে ১৯৭৩-এ, তাতে জনমতের পুরো প্রতিফলন ঘটেনি। একপর্যায়ে তিনি উদার গণতন্ত্রের ধারাকে পাল্টে ফেলেন একদলীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে। এর পর জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় এসে একদলীয় ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় ব্যবস্থায় উত্তরণের প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের মানুষের চাওয়া-পাওয়া ও মনোভঙ্গিকে পর্যবেক্ষণ করে একটি নতুন ধারার রাজনীতির প্রবর্তন করেছিলেন।

উদার গণতন্ত্র, জাতীয়তাবোধ ও ধর্মচেতনার সমন্বয়ে তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্বাতন্ত্র্যভিত্তিক ভিন্ন ধরনের রাজনীতির সূচনা করেন। এই রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোকে নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহারও করেছেন। কিন্তু ভোটাধিকার প্রয়োগে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এক ধরনের মুক্ত নির্বাচনের চর্চা হলো এ সময়। এর পর জেনারেল এরশাদের প্রায় দশককালব্যাপী শাসনে বহুদলীয় কাঠামোকে ঠিক রেখেই কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির চর্চা করা হয়। এ ধরনের রাজনীতিতে জন সমর্থন হারালে যা হয়, সে ধরনের প্রবণতা বাংলাদেশেও দেখা যায়। ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোর মধ্যে এক ধরনের ভাগবাটোয়ারা সৃষ্টি করে কট্টর স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হয়ে যায়। ’৮০-এর দশকের বাংলাদেশ ছিল এর একটি উদাহরণ।

’৯০-এর দশকের শুরুতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন ও ক্ষমতার পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মুক্ত গণতন্ত্রচর্চার উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছিল। নানা ধরনের আন্দোলন, সংগ্রাম ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে দেড় দশককাল ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই চর্চা চলে এসেছে। গত দশকের দ্বিতীয়ার্ধে এসে সেই চর্চা আর অব্যাহত থাকেনি। ‘জরুরি তত্ত্বাবধায়ক’ সরকারের দুই বছরের ব্যর্থ শাসনের পর শাসন নিয়ন্ত্রকেরা নিরাপদ ‘এক্সিট’ পেতে সুচারুভাবে অবয়ব দেয়া একটি নির্বাচন আয়োজন করেন বাংলাদেশে। বলা হয়, এই নির্বাচনে বাহ্যিক পরিবেশ শান্ত রেখে আগের রাতে ছাপানো বাড়তি ব্যালট দিয়ে বাক্স ভর্তি করে ফলাফল পাল্টে দেয়ার এক ধরনের প্রবণতা সৃষ্টি হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় যায়। আওয়ামী লীগের এই নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় রাষ্ট্রের তিন বিভাগের ভারসাম্যে বিচ্যুতি ঘটেছে। শাসন বিভাগকে চ্যালেঞ্জ বা জবাবদিহি করার মতো অবস্থা থাকেনি আইন বিভাগের। আর সরকারের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার সামনে অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা চর্চা এবং আইনবহির্ভূত বাড়াবাড়ির রাশ টেনে ধরার অবস্থায় থাকেনি বিচার বিভাগও।

এর ফলে বাংলাদেশের শাসনকাঠামোতে কতগুলো মৌলিক পরিবর্তন ঘটে যায়। প্রথমত, সার্বিক প্রশাসনযন্ত্রে ঐতিহ্যগত যে মেধা চর্চা ও ভারসাম্য রক্ষিত হয়ে আসছিল, সেটি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের নিয়োগ-পদোন্নতির কারণে অব্যাহত থাকতে পারেনি। দ্বিতীয়ত, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা লাভে সরকার জনমতের পরিবর্তে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে রাজনীতির ওপর স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য উদ্যোগী হয়ে ওঠে। আইন না করেই একদলীয় ব্যবস্থার দিকে কার্যত অগ্রসর হলেন ক্ষমতাসীন এলিটরা। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক পরিসরে যে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আদর্শগতভাবে রাজনীতির অবয়ব দেয়ার প্রচেষ্টা চলেছে, তার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলো বাস্তবায়নের জন্য এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী সরকারের প্রয়োজন হয়। এর প্রশ্রয় লাভ করেন বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনেরা। চতুর্থত, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতির মেরুকরণে আঞ্চলিক শক্তি ভারত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন ও প্রশ্রয় পায়। এতে এ অঞ্চলের ছোট দেশগুলোর শাসন ও রাজনীতির ওপর একতরফা প্রভাব বিস্তার করে দক্ষিণ এশিয়ার প্রভাবশালী দেশটি।

২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে এ বাস্তবতাটি বাংলাদেশের মানুষ প্রকটভাবে প্রত্যক্ষ করেছে। এতে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতা দশককাল অব্যাহত থাকে। এর মধ্যে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। এই নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে এখন এমন এক উত্তেজনাকর অবস্থা বিরাজ করছে, যাতে কী হবে তা নিয়ে শঙ্কা চার দিকে। এ অবস্থা সৃষ্টির পেছনে একটি বড় কারণ হলো- অনেক উদ্যোগ আয়োজন করার পরও সরকারি শিবিরে সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের হতাশা। একটি ওয়েব পোর্টালের প্রতিবেদন সত্য হলে, বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেশী ভারতের পাঠানো এক গোপন প্রতিবেদনেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

দিল্লির পররাষ্ট্র দফতরে পাঠানো প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অযাচিতভাবে নার্ভাস হয়ে পড়েছে এবং নিজেরাই পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। প্রথমত, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে কেন বিজয়ী করা হবে, দলটি কেন জনগণের ভোট পাবে; এ বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগ এখনো জনগণের কাছে পৌঁছতে পারছে না। গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ যে ব্যাপক উন্নয়নকাজ করেছে এবং এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে যে আবার ক্ষমতায় রাখা প্রয়োজন, সেই বার্তাটি আওয়ামী লীগ সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারছে না।

দ্বিতীয়ত, এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করছে। নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপি ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ গঠন করেছে। এ ছাড়াও, বিএনপি ২০ দলীয় জোটের সাথেও আছে। এই ঐক্যের কারণে আওয়ামী লীগের মধ্যে স্পষ্টতই নার্ভাসনেস দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের এই নার্ভাসনেসের কারণে এই দলের প্রার্থী এবং কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের অজানা আশঙ্কা ভর করছে।

তৃতীয়ত, আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোকে অটুট বন্ধনে আবদ্ধ রাখতে আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে জাতীয় পার্টি জোটের বাইরে ১৩২টি আসনে আলাদাভাবে প্রার্থী দিয়েছে। ‘বিকল্প ধারা’ও আলাদাভাবে প্রার্থী দিয়েছে। এমনকি, আওয়ামী লীগ জোটের দীর্ঘ দিনের মিত্র জাসদও আলাদা প্রার্থী দিয়েছে। আওয়ামী লীগের জন্য এটি শুভ লক্ষণ নয়। শরিকদের এক করতে আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছে।

চতুর্থত, অনেক স্থানেই আওয়ামী লীগ অতিমাত্রায় প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে; যা নির্বাচনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের জন্য নেতিবাচক ফলাফল আনতে পারে। বরং আওয়ামী লীগ জনভিত্তির ওপর ভর করেই নির্বাচনী মাঠে থাকলে আরো ইতিবাচক ফলাফল করতে পারত।

এই প্রতিবেদনে ‘নার্ভাসনেস’ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক বিষয় দলের সভাপতি ‘শেখ হাসিনার ব্যক্তিত্ব আর জনপ্রিয়তা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেটি কতটুকু কাজে লাগাতে পারে, তার ওপর নির্ভর করবে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কী ফল অর্জন করবে।

এই নির্বাচনে জনগণের ভোটের বাইরেও নানামুখী চক্রান্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রতিবেদন শেষে বলা হয়েছে, নানামুখী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আওয়ামী লীগ কিভাবে শান্তিপূর্ণ ভোট করবে, সেটিই হচ্ছে তাদের বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে শুধু ভারত এককভাবে সক্রিয় নয়। এ নিয়ে অন্য পক্ষের তৎপরতাও রয়েছে। কয়েক দিন আগে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ইচ্ছাকে সম্মান করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ, প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব তোলা হয়েছে। প্রস্তাবে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটি এনেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের নবম ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেসম্যান উইলিয়াম কিটিং। তার সাথে আরো পাঁচজন কংগ্রেস সদস্য টেড ইয়োহো, এলিয়ট ইঙ্গেল, ব্র্যাড শারমেন, স্টিভ শ্যাবট ও জেরি কনোলির পে ওই প্রস্তাব পার্লামেন্টে উত্থাপন করেন। এরপর রীতি অনুযায়ী তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

কংগ্রেসম্যান উইলিয়াম কিটিংয়ের প্রস্তাবে চারটি দফা রয়েছে। প্রথম দফায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উৎসাহিত করতে প্রতিনিধি সভার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান জানাতে এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধকে গুরুত্ব দিতে বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রস্তাবের তৃতীয় দফায় আসন্ন নির্বাচন নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক এবং এতে সব বাংলাদেশীর স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং ভোটারদের ইচ্ছাকে সম্মান জানাতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিচারিক কর্তৃপক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মতোই সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে ব্রিটেন বা যুক্তরাজ্যের। বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লর্ড আহমেদ অব উইম্বলডন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে নতুন কিছু আইন করা হয়েছে। এসব আইনের মাধ্যমে সরকারের সমালোচনাকে ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছে এখানকার সুশীলসমাজ। ৩০টি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গত শুক্রবার এক অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে তিনি এ কথা বলেন। মানবাধিকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই প্রতিমন্ত্রী আরো বলেছেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকেরা প্রায়ই হামলার শিকার হন।

বাংলাদেশে সৃষ্ট পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে দেশের গণমাধ্যমের চেয়ে এখন বিদেশের গণমাধ্যমে রিপোর্ট আসছে বেশি। আন্তর্জাতিক ওয়েব পোর্টাল ব্লিৎস- বাংলাদেশে কী হচ্ছে, এ নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, বিদেশী গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুসারে, ৩০ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে আঁচ করতে পেরে বেসামরিক, সামরিক ও পুলিশ প্রশাসন ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন থেকে ফিরে আসছে। তা ছাড়া, সরকারি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি তৃণমূলপর্যায়ের নেতাকর্মীরাও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশ এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর নির্ভর করার অভ্যাস গড়ে তুলেছে। এর সাথে সাথে, মনোনয়নবঞ্চিত আওয়ামী লীগ নেতারা এখন ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সাথে গোপনে হাত মিলিয়ে পার্টির ওপর প্রতিশোধ নেয়ার দিকে মনোযোগ দিতে শুরু করছে।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের ব্যাপারে বর্তমানে যে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে, সে বিষয়ে অবগত নন। বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে ব্লিৎসের প্রতিবেদনের সর্বশেষ বাক্যটি হলো, ‘এটি একটি পুঁতে রাখা টাইমবোমা আর ক্ষমতাসীন দল তার ওপর বসে আছে।’

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বাইরের বিশ্বের সাম্প্রতিক সক্রিয়তাই সম্ভবত শাসক মহলে অস্থিরতা ও নার্ভাসনেস বাড়িয়ে দিয়েছে। কারসাজির নির্বাচন করার ব্যাপারে তাদের একের পর এক সুচারুভাবে নেয়া পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এতে নির্বাচনের দিনের পরিস্থিতির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষুণœ হতে পারে বলে আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে। এটাই সম্ভবত নির্বাচন না-ও হতে পারে বলে জল্পনাকে উসকে দিচ্ছে।
mrkmmb@gmail.com

795 জন পড়েছেন

Comments are closed.