কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনে ভয় কোথায়?

503 জন পড়েছেন

প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের এ যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (artificial intelligence) ও  যন্ত্রমানব বা “রোবট” সৃষ্টি করে মানুষের বৈষয়িক প্রয়োজনের বিভিন্ন কাজে যেভাবে  স্বয়ংক্রিয়তা বা অটোমেশনের ব্যবহার শুরু হয়েছে তাতে অনেকেই উদ্বিগ্ন ।

সাম্প্রতিক অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা প্রকাশ পায় প্রযুক্তিগত উন্নয়নে অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করার  ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বিভিন্ন উন্নত দেশগুলোর মধ্যে মানুষের কাজের বা চাকুরীর পরিমাণ অর্ধেকে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে! 
বর্তমানে  ফ্যক্টরি কারখানায় এবং  গুদামে, ট্রাক চলাচলে এবং ট্যাক্সি  ড্রাইভিং ইত্যাদি সেক্টরে যে হারে অটোমেশন করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সে ব্যাপারে সম্প্রতি বিল গেইট কোয়াটার্স মিডিয়ার সাথে এক ইন্টারভিউতে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তিনি বলেন  মানুষ- শ্রমিকের পরিবর্তে রোবট দিয়ে কাজ করার ফলে সামাজিক পরিণতি কি হবে এবং এর সমাধানে কি করতে হবে তা এখন শিল্প মালিক ও সরকারকে চিন্তা করতে হবে।

রোবটকে সর্বক্ষেত্রে ব্যাপকহারে ব্যবহার করা শুরু হলে একসময় লাখ লাখ কর্মরত মানুষের জন্য এসব ক্ষেত্রে কোন কাজ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে।

মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেইটের আশংকা, যে ভীতিকর হারে রোবট ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে দ্রুত সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। কেননা এর ফলে শ্রমিকদের কাজ খুঁজে পাওয়ার কোন সুযোগ থাকবে না।

” শিল্প কারখানার অটোমেশন পদ্ধতি ইতিমধ্যে ঐতিহ্যগত উৎপাদন কাজে চাকুরী সুযোগ বিলুপ্ত করছে, এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর চাকুরীজীবীদের কাজ হারানোর সংকটকে আরো গভীরতর করার সম্ভাবনা দেখা দিবে।” বলেছেন স্টিফেন হকিং

অটোমেশন মানব সভ্যতাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে ভাবতে অবাক লাগে। রোবট আপাতদৃষ্টিতে মানুষের মতোই কাজ করতে পারছে  বিভিন্ন ফ্যক্টরি ও গুদামে এবং দেখা যায় মানুষের চেয়ে  রোবট অনেক দ্রুত ও দক্ষতার সহিত কাজ করতে সক্ষম!

বিল গেইটের পরামর্শ হল সরকারকে রোবার্টের উপর তার আয়ের পরিমাণে উঁচু হারে ইনকাম ট্যক্স বা আয়কর ধার্য করতে হবে তাহলে মানুষের বদলে রবার্টের ব্যবহার নিরূত্সাহ করা যেতে পারে। আর সরকার সে রাজস্ব  অন্য কোন ধরণের কাজ শিখাতে শ্রমিকের প্রশিক্ষণ দিতে ব্যবহার করতে পারবে। যে সব কোম্পানি রোবট ব্যবহার করবে তারাও অন্যদিকে লাভবান হবে কেননা কর্মচারীর বেতন দেয়া, তাদের চিকিৎসা এবং অবসর ভাতা দেয়া, ইত্যাদি বাবদে কোন ঝামেলা থাকবেনা এবং খরচ বাঁচান সম্ভব হবে।

কোয়েনচি লেরসন (Quincy Larson) তার ফ্রি কোড ক্যাম্প ব্লগে বলেন যে অটোমেশনে মিলিয়ন মিলিয়ন শ্রমিকের চাকুরী হারানো একটি বাস্তব হুমকি । তিনি আমাজন কোম্পানির উদাহরণ দেন যেখানে ক্রেতারা নিজেদের গ্রোসারী সামগ্রী সংগ্রহ করে মূল্য পরিশোধের জন্যে ক্যাশিয়ার লাইনে না দাড়িয়ে চলে যেতে পারেন। পণ্যের মূল্য তাদের ব্যাংক একাউন্ট থেকে অটোমেটিক পরিশোধ করা হবে।

নিচের ৩ মিনিটের ভিডিওটিতে দেখা যায় কিভাবে ছোট রোবটের বহর একটি বিশাল গুদামে মানব-শ্রমিক প্রতিস্থাপন করে দ্রুততার সাথে কাজ করতে পারে।

সূত্র: টি আর টি ওয়ার্ল্ড

Facebook Comments

503 জন পড়েছেন

Comments are closed.