জীবন যখন মহাকালের এক ঝলকানি মাত্র কেন তবে এত আস্ফালন?

257 জন পড়েছেন

ভূমিকা :
বলা হয়, এ দুনিয়ায় সবচেয়ে সহজ কাজ নাকি অন্যের সমালোচনা করা। ভেবেছিলাম আজকের এ লিখাটা যদিও অনেকের কাছে সে কথারই প্রতিফলন হতে পারে তাই লিখতে না যাওয়াটাই বোধ হয় ভাল। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে মনের ভিতরে যখন কিছু চিন্তা-ভাবনার উদয় হয় আবার যদি তা প্রকাশ করতে না পারা যায়, তাহলে মনঃকষ্টও হয়। আবার মনে যে কথাটি জগলো তা সঠিক হয়ে থাকবে এরও শত ভাগ নিশ্চয়তা নাই। তবে অন্যদের সাথে শেয়ার করতে পারলে, সেই ধারণার সার্থকতা নিয়ে কিছু আন্দাজ পাওয়া যায়। কিন্তু সমস্যা এখানেও শেষ নয়। সব কথা বলাও যায় না, কে কী ভাববে, কত সমস্যা। ।

১)
মানুষ ও তার মনের আসল উদ্দেশ্য

ইসলামের দৃষ্টিতে কোন কাজে মানুষের নিয়্যাত বা মনের আসল উদ্দেশ্য কী সেই গুরুত্ব অনেক বেশী। বোখারি শরিফের প্রথম হাদিসটি সেদিকে দৃষ্টিপাত করে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ইউরোপিয়ান ঔপনিবেশিকদের বংশধর বহিরাগত সাদা চামড়ার লোকদের একচেটিয়া শাসন ব্যবস্থা ও শ্বেতাঙ্গদের বর্ণবৈষম্য নীতি অবসানের আন্দোলনে নেলসন ম্যন্ডেলা যে ত্যাগ, সংগ্রাম, জেল-জুলুম ও অত্যাচার কাটিয়ে উঠেছিলেন তার পিছনে নিজেকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, একথা কেউ বলতে পারবে না। তার উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ শাসিত ও শোষিত বর্ণবৈষম্য নীতির অবসান করে সে দেশের সাদা কালো তথা সকল মানুষের সমান অধিকার ও স্বাধীনতা অর্জন এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তাঁর সে আন্দোলনের সফলতার এক পর্যায়ে মানুষের ভালবাসায় তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট হলেও সে পদে তিনি বেশীদিন থাকতে চান নি বা সে উদ্দেশ্যে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতেও চান নি। তিনি সেটা তার কর্মে প্রমাণিত করেছেন। তাই বিশ্বের মানুষ যথাসময়ে তাকে যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান প্রদর্শন করেছে এবং চিরদিন করবে, এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু পৃথিবীর অনেক দেশের গণআন্দোলনের পরবর্তী ইতিহাস ও নেতাদের কর্মফলের দিকে তাকালে ভিন্ন ছবি প্রকাশ পায়। তাই তারা নেলসন ম্যন্ডেলারমত সার্বজনীন শ্রদ্ধা ও সম্মান নিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় হতে পারেন নি। ফলে “যার শেষ ভাল তার সব ভাল” এই সৌভাগ্য তাদের কপালে জুটে নি।

২)
সন্ত্রাসের পক্ষে কারা?

ইসলাম কখনও সন্ত্রাসের পক্ষে ছিলনা এবং ইসলামের আদর্শ যে সন্ত্রাসকে কোন অবস্থায় অনুমোদন করে না, সে সত্য নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। কিন্তু তথাকথিত “ইসলামী সন্ত্রাসের” বিপক্ষে যুদ্ধ করার নামে আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে যে সন্ত্রাসী শাসন ব্যবস্থা চালু করার অপচেষ্টা চলছে তা খুব শীঘ্র বন্ধ হবে বলে মনে হয়না। এটা নতুন কায়দার এক ঔপনিবেশ ও এই নতুনত্বের করতলে এক ভিন্ন প্রকারে সজ্জিত জনগোষ্ঠী। এখানে সাদা-কালো, ধর্ম, জাতীয়তা ও ভৌগলীকতা গৌণ। এই ক্ষমতা-প্রয়োগী শক্তিকে  মাফিয়া বলুন অথবা অন্যকিছু, এদের প্রকৃতি যেমন ভিন্ন, তাদের  গোলাম শ্রেণীও তাদের ভিন্নতায় সাজানো। এই মাফিয়া গোষ্ঠী অতীতের যাবতীয় অত্যাচারী, স্বৈরাচারী ও ফ্যসিস্টদের একত্রীভূত করলে যা হয় তা’ই। এরা ইসলামের  নামে এক ভার্চুয়্যেল-ভীতি বা আতঙ্ক সৃষ্টি করে এর পিছনে নিজেদের হস্তে রচিত ঘটনা ও প্রোপাগান্ডায় চালিয়ে নিচ্ছে। বাংলায় আমাদের একটি পরিভাষা আছে রেন্টুকাণ্ড। রেন্টুর বেলায় তা কোয়া হলে বৈশ্বিক ক্ষেত্রে তা মহাসমুদ্র।

আজ পূর্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিণ পৃথিবীর যে প্রান্তে মানুষ বাস করে সবার মনে ইসলামের আতঙ্ক ছড়ায়ে মানুষকে খোদা বিমুখ করে, চরিত্র ধোলাই দিয়ে, এই কারখানা চলছে। তাই অনেকে বলেন, তথাকথিত “ইসলামী সন্ত্রাসের” জন্ম দেয়া হয়েছে যাতে বিশ্ব জুড়ে অত্যাচারীর অত্যাচারকে চিরস্থায়ী করা যায় এবং ফ্যসিস্টদের ফ্যসিইজম চালু রাখা যায়। বস্তুত: এ সব সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের কিংবা ইসলাম ও মুসলিমের স্বার্থে নয় বরং একদিকে বিশ্বাসীকে ভয় দেখিয়ে তাদের বিশ্বাসকে বিলীন করতে এবং পরিবর্তনের সকল রাস্তা বন্ধ করতে।

সমাজে সততার অভাব

এ কথা মানতে হবে যে, ধর্ম প্রাণ খোদা ভীরু মানুষ কখনও অসৎ হয় না এবং তারা যা করে তা কখনও পুলিশের ভয় বা লোকে কি বলবে সে জন্য নয় বরং খোদার উপর আস্থা ও বিশ্বাসে বলীয়ান হয়েই তা করে। তার অন্তরে থাকে খোদা-ভীতি। তবে সততা এবং পরোপকারের বাসনা যে কেবল বিশ্বাসীরাই করে তা নয় অনেক সময় কুদরতি ফিতরা বা মানুষের অন্তরের আদি মানবিক ভাল গুণের কারণে নাস্তিক মানসিকতার বা অধার্মিক কারোর মনেও তা থাকতে পারে, সেটা হচ্ছে ব্যতিক্রম। নাস্তিক কিংবা ধর্মে অবিশ্বাসী চরিত্রের লোকেরা কিন্তু অতি সহজে অর্থের লোভে নিজেদেরকে কিংবা দেশের স্বার্থকে বিক্রি করতে দ্বিধাবোধ করে না -এমন ইতিহাস অনেক পাওয়া যায়। আর আধুনিক সভ্যতা যেহেতু তাগুতি শক্তির কব্জায়, তাই তারা মানব সমাজকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে চিন্তা করলে অবাক হতে হয়।

অতএব মানবতার মুক্তির জন্য আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণকারী ইসলামী সভ্যতার পুন:জাগরণ সে কত বেশী প্রয়োজন তা একমাত্র চিন্তাশীলরাই বুঝতে সক্ষম। তাই মুসলিম হিসাবে আমাদের কর্তব্য হচ্ছে ইসলামের বিশ্বজনীন আদর্শের কথা সবাইকে জানানো এবং দুনিয়ার অত্যাচারী, স্বৈরাচারী ও ফ্যসিস্ট তথা তাগুতি শক্তি সবাইকে তারা যে নিজেদের গাড়ীতে তুলে নিতে চায় এ কথা বুঝানো এবং এথেকে দূরে থাকতে মানুষকে  সতর্ক করণ। তবে এই প্রচেষ্টা চালিয়ে সবাইকে সঠিক পথে আনতে না পারলেও অন্তত নিজেকে সংশোধন করতে পারাটাই হবে সবচেয়ে বড় অর্জন।

আরও কিছু কথা  ও উপসংহার:

আমরা নিজেদেরকে যত বড় মুসলিমই মনে করি না কেন আসল কথা হল আমাদের কাজে কর্মে আন্তরিকতা না থাকলে কোন কাজই সফল হবে না। আজ যারা ইসলামের বিরুদ্ধে লেগে আছে তারা কিন্তু তাদের মিশনে আন্তরিক। সেটা বাংলাদেশ থেকে ইসলাম মুছে ফেলার চক্রান্তে হউক বা অন্য কোথাও ইসলামের শত্রুতায় লিপ্ত হউক না কেন সকল জায়গাতেই তারা তদের কাজে আন্তরিক। তাদের এই আন্তরিকতা একটু খেয়াল করলেই বুঝা যায়।

পক্ষান্তরে আমরা যারা মুসলিম, যারা নিজেদেরকে ইসলামের পক্ষে আছি বলে মনে করি, তাদের অবস্থা হচ্ছে “ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ এর মত। মুসলিমদের সব চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের আত্মাকে সত্যিকার অর্থে আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত করতে খুব কম সংখ্যক লোক উৎসাহী হওয়া। আমাদের হৃদয়কে প্রশান্ত আত্মার হৃদয়, যা কোরআনের ভাষায় “আন-নাফ আল-মুতমাইন্নাহ” বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই পর্যায়ে নিতে ব্যর্থ হওয়া। আর আমাদের ব্যর্থতার কারণে আমাদের মাঝে আল্লাহর উপর নির্ভরশীলতা ও   দৃঢ় বিশ্বাস রাখার মানসিক ক্ষমতা হারিয়ে গিয়েছে। তাছাড়া আমরা আজ সত্যিকার অর্থে পারস্পারিকভাবে বিচ্ছিন্ন অথচ ইসলাম হচ্ছে সংঘবদ্ধভাবে জীবন পরিচালনা করা। ইসলামে ঐক্যের গুরুত্ব অপরিসীম। ঐক্যবদ্ধভাবে জীবনযাপন করা মুমিনের অপরিহার্য কর্তব্য। এককভাবে জীবনযাপন আল্লাহর অপছন্দ। সংঘবদ্ধভাবে জীবন পরিচালনা করা ইসলামের নির্দেশনা। এ সর্ম্পকে মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন,

‘ হে মুমিনগণ! তোমারা আল্লাহর রজ্জুকে (ইসলাম) আঁকড়ে ধর
(ঐক্যবদ্ধ হও) এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না’। (সূরা ইমরান: ১০৩)

রাসুল (স:) যখন মদিনায় পৌঁছেন তখন প্রথম যে ভাষণটি দিয়েছিলেন তাতে ছিল একে অন্যের প্রতি সালাম তথা শান্তি বিনিময় করা এবং রাত্রে এবাদত করা।

একজন বান্দা যখন শেষ রাত্রে আরামের ঘুম ছেড়ে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনায় দাঁড়াবে এবং হাত তোলে অশ্রু-ভেজা নয়নে আল্লাহর করুণা ভিক্ষা করবে, তাঁর কাছে সাহায্য চাইবে তখন এমন বান্দার মর্যাদা কি অপরাপর লোকের মত হতে পারে? রাসুল (স:) ভালভাবে জানতেন যদি কোন জনপদের মানুষ বিশ্ব ভুবনের মালিক আল্লার সাথে তাদের সম্পৃক্ততা গড়ে তোলতে আন্তরিক হয় তখন তাদের বিজয় আসতে দেরী হবে না।
রাসুল (স:) এর কথা ও পথ প্রদর্শন যে নির্ভুল এটার সাক্ষ্য ইতিহাস।

একজন মানুষ যখন তার আত্মাকে সত্যিকার অর্থে আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করতে পারে তখন সে কি অর্থের দাপটে কিংবা ক্ষমতার দাপটে মানুষের উপর অত্যাচার করতে পারে, মানুষকে শোষন করতে পারে, অন্যের কষ্টার্জিত সম্পদ বা প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি করতে পারে? বা কেউ কি এসব কাজ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমর্থন করতে পারে? আবার কেউ নিজেদেরকে “মুছল্লির” বেশে হাজারো মানুষকে জড়িত করে ধর্মের কথা বলবে কিন্তু তার চোখের সামনে অন্যায় অত্যাচার হচ্ছে কিংবা দেশের চিহ্নিত অত্যাচারীরা ও মাফিয়ারা তাদের সামনে বসে তাদের দোয়াতে শরিক হতে আসবে কিন্তু সে দোয়াতে তাদেরকে হেদায়েত করতে, তাদের অত্যাচার থেকে কোন জনপদকে রক্ষা করতে আল্লাহর কাছে চাইবে না, তারা কি সত্যিকার অর্থে সেই “আন-নাফস আল-মুতমাইন্নাহ” এর দলে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে? ক্বাল্লা অর্থাৎ কখনই নয়!
একজন সত্যিকার আন্তরিক বিশ্বাসী ও ইমানদারের কাছে ভাল মানুষ হওয়ার বিষয়টি বড়। এতে তার উদ্দেশ্য আল্লাহর আনুগত্য ও তার ভালবাসা প্রাপ্তি। কিন্তু যারা বিশ্বাসে আন্তরিক নয় তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। কারণও অসংখ্য। দুনিয়াই সবচেয়ে বড়।

পরিশেষে, ইমাম গাজ্জালি (রাঃ) এর একটি গল্পের ঘটনা ইন্টারনেটে দেখলাম যা এখানে শেয়ার করে আজকের লিখার ইতি টানছি ।

এক বাদশার একটি বাগান ছিল। বাগানটি ছিল অনেক বড় এবং বিভিন্ন স্তর বিশিষ্ট।
বাদশাহ একজন লোককে ডাকলেন। তার হাতে একটি ঝুড়ি দিয়ে বললেন, আমার এইবাগানে যাও এবং ঝুড়ি বোঝাই করে নানা রকম ফলমূল নিয়ে আস। তুমি যদি ঝুঁড়ি ভরে ফল আনতে পার আমি তোমাকে পুরস্কৃত করব। কিন্তু শর্ত হল, বাগানের যে অংশ তুমি পার হবে, সেখানে তুমি আর যেতে পারবে না।

লোকটি মনে করলো এটা তো কোন কঠিন কাজ নয়। সে এক দরজা দিয়ে বাগানে প্রবেশ করল। দেখল, গাছে গাছে ফল পেকে আছে। নানা জাতের সুন্দর সুন্দর ফল। কিন্তু এগুলো তার পছন্দ হল না। সে বাগানের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল। এখানকার ফলগুলো তার কিছুটা পছন্দ হল। কিন্তু সে ভাবল আচ্ছা থাক আরো সামনের অংশে গিয়ে দেখি সেখানে হয়ত আরো উন্নত ফল পাব, সেখান থেকেই ফল নিয়ে ঝুঁড়ি ভরব। সে সামনে এসে পরের অংশে থেকে সে অনেক উন্নত মানের ফল পেল। এখানে এসে তার মনে হল এখান থেকে কিছু ফল ছিঁড়ে নেবে। কিন্তু পরক্ষণে ভাবতে লাগলো যে সবচেয়ে ভাল ফলই ঝুড়িতে নিবে। তাই সে আরো সামনে এগিয়ে বাগানের সর্বশেষ অংশে প্রবেশ করল। কিন্তু  এখানে এসে দেখল ফলের কোন চিহ্নই নেই।

অতএব সে আফসোস করতে লাগল আর বলতে লাগল, হায় আমি যদি বাগানে ঢুকেই ফল সংগ্রহ করতাম তাহলে আমার ঝুড়ি এখন খালি থাকত না।আমি এখন বাদশাকে কি করে মুখ দেখাব।

এ ঘটনাটি বর্ণনা করার পর ইমাম গজালি (রাহ:) বলেন,

“বন্ধুগণ, বাদশাহ হলেন আল্লাহ, আর বাগানে প্রবেশকারি লোকটি হল তুমি। আর ঝুড়িটি দ্বারা হল তোমার আমলনামা বুঝানো হচ্ছে। আর বাগানের উদাহরণ হল তোমার জীবন। বাগানের বিভিন্ন অংশ তোমার জীবনের বিভিন্ন ধাপ। আর তোমাকে নেক কাজের ফল ছিড়তে বলা হয়েছে,কিন্তু তুমি প্রতিদিনই ভাব, আগামী কাল থেকে ফল ছেড়া আরম্ভ করব। আগামী দিন আগামী দিন করতে করতে তোমার জীবনে আর আগামী দিন আসবে না।

এভাবেই তুমি রিক্ত হস্তে মাওলার সামনে হাজির হবে।”

তাই আমাদের দোয়া হচ্ছে হে আল্লাহ আমাদেরকে ভাল মানুষ হওয়ার তৌফিক দেন। হে আল্লাহ, আপনার নিকট আশ্রয় চাই এমন জ্ঞান থেকে যা কোন উপকার করে না, এমন আমল থেকে যা উপরে উঠানো হয় না, এমন অন্তর থেকে যা ভীত হয় না এবং এমন কথা থেকে যা শুনা হয় না।” (সহীহ মুসলিম) …….আমীন

চিন্তা করলে দেখা যায় আমাদের এ জীবন আসলেই মহাকালের এক ঝলকানি মাত্র তাই প্রশ্ন হচ্ছে কেন তবে এত আস্ফালন?

বি:দ্র:
“The Lie We Live” নামে Spencer Cathcart এর লিখা ও তৈরি করা নিচের ভিডিওটি যারা দেখেছেন তারা স্বীকার করবেন যে এটি অনেক চিন্তার খোরাক জাগায় ।

257 জন পড়েছেন

Comments

জীবন যখন মহাকালের এক ঝলকানি মাত্র কেন তবে এত আস্ফালন? — ১ Comment

  1. “অতএব মানবতার মুক্তির জন্য আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণকারী ইসলামী সভ্যতার পুন:জাগরণ সে কত বেশী প্রয়োজন তা একমাত্র চিন্তাশীলরাই বুঝতে সক্ষম।

    চিন্তা করে দেখেন আজ মানুষ দাবী করে তারা জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে কত এগিয়ে গিয়েছে! মুহূর্তে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যোগাযোগ করতে পারছে অনেকে, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসায় কত উন্নতি করেছে, খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে, বাসস্থান, দালানকোঠা ও অট্টালিকা নির্মাণে কত পারদর্শী! বিমিশ্রতার বিনোদন শিল্প, কত শত সেলিব্রেটি, কত নাটক, অপেরা শো, চোখ ধাঁধানো, মন মাতানো টিভি শো, কত বিচিত্র খেলাধুলা! কত দ্রুত এগিয়ে চলেছে মানব সভ্যতা!

    মনে হচ্ছে সব কিছুই ঠিক আছে। কিন্তু সেই সাথে যে চলছে কত প্রবন্চনা ও প্রচারণা সে খেয়াল নাই! আসলে মানব সভ্যতার জীবন দর্শনে যে ঠিক নাই সে খেয়াল কারো নাই !

    প্রশ্ন হচ্ছে সেটা আবার কি?

    এই প্রশ্নের উত্তর আধুনিক মানুষেরা জানতে চায় না বলেই তো আজ তারা নিজের অজান্তে হয়ে গিয়েছে এমন এক সভ্যতার সেবা দাস বা দাসী! সকাল সন্ধ্যায় অতিবাহিত করছে এমন এক গোলামী জীবন যা বুঝতে চাওয়াটাই যেন হচ্ছে এখন মানসিক অস্থিরতার রূপ্ম ব্যাধি (Psychopathy disease)! আমরা ভাবতে চাই না এত উন্নতী এত কিছুর সত্ত্বেও সভ্যতায় এ বিকৃত জীবন দর্শনে এখানো চলছে দেশে দেশে মানবতার হত্যা, যুদ্ধ বিগ্রহ, অন্যায় অত্যাচার, কত জনপদে খাদ্য ঘাটতি, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিপীড়নের বিভীষিকার মত কত কিছু। পুঁজিবাদের রাজনৈতিক প্রতাপ সাম্রাজ্যবাদরূপী ভয়াল অক্টোপাসের বর্বরতায় গ্রাস করেছে মানব সভ্যতাকে। গোলামীর এ জীবনকে ও পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের একচ্ছত্র দাপটের নৃশংস ধারার নাম দেয়া হয়েছে ‘বিশ্বায়নের যুগ’!

    আজ তথাকথিত সভ্যতার এ চরম উচ্চ শিখরে উঠেও মানুষ হয়ে গিয়েছে মানুষের কাছে বন্য হিংশ্র পশুর থেকে ভয়ন্কর। তৈরি হয়েছে পারমানবিক বোমা’র মত ভয়াবহ যুদ্ধ অস্ত্র ও রাসায়নিক অস্ত্র সহ আরো কত ধরণের মারাত্মক অস্ত্র! শুধু তাই না বিলিয়ন বিনিয়ন ডলার খরচের বাজেট হচ্ছে প্রতিবছর গবেষণা করতে যাতে আধুনিক বিজ্ঞানকে ব্যববহার করে তৈরি করা যায় আরো মারাত্মক অস্ত্র ! উদ্দেশ্য পৃথিবীতে নিজেদের প্রাধান্য বিস্তার, মুনাফা ও অর্থ উপার্জন বজায় রাখা। তাই বলা যায় ‘আধুনিক বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ, কিন্তু কেড়ে নিয়েছে আবেগ! কেড়ে নিয়েছে নৈতিকতা, মানবতা আর বপন করেছে তাদের মনে স্রষ্টাকে অগ্রাহ্য করার দাম্ভিকতা! সেই সাথে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও চলছে শোষন , পুঁজিবাদের লাগামহীন সুদী-ব্যবস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠছে একচেটিয়া ব্যবসা, সুষম বণ্টনের অভাব ও অনৈতিক আয় বৈষম্যের তথাকথিত কোর্পরেট ওয়ার্ল্ড। বিশ্ব আজ বন্দি হয়ে আছে খোদা বিমুখ সভ্যতার আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-মনোদার্শনিক বলয়ে।