বায়াজীদ পন্নীর বিভ্রান্তিতে একটি নতুন ফিতনা

1223 জন পড়েছেন

20170114 bayazid ponniপ্রাথমিক কথা

অনিচ্ছা সত্ত্বেও শিরোনামটি এভাবে দিতে হল কেননা প্রত্যেক ধর্মের কিছু অবকাটামোগত বিষয় থাকে যার ভিত্তিতে সেই ধর্ম তার রূপায়ন ও পরিচিতি লাভ করে, কিন্তু মৌলিক দিক দিয়ে কোন কিছু সীমা বহির্ভূত হলে সেটাকে ‘বহির্ভুত’ না বলে উপায় থাকে না।

ধর্মীয় অভিজ্ঞতা (religious experience) এক বড় ধরণের ব্যাপার। এই অভিজ্ঞতার কিছু কিছু বিষয় কারো কারো কাছে হয়ত নতুন রূপে দেখা দিতে পারে। যদি কারো ব্যাপারে এমনটি  হয় এবং যদি তার পূর্ণাঙ্গ ধর্মজ্ঞান থাকে তবে তিনি  সেই দেখাকে ধর্মীয় গৃহীত ভাষায় ব্যক্ত করতে পারেন। কিন্তু কোনো অভিজ্ঞতা বা অনুভূতি গভীরভাবে অনুভূত  হলে এর তাৎপর্য, যথার্থতা  ও ন্যায্যতা যদি ধর্মের গৃহীত কাঠামোর বাইরের ভাষায় ব্যক্ত হয়ে যায় তবে সেটি আর  তার ধর্মের আওতাভুক্ত থাকতে পারে না, বহির্ভূত হয়ে যায়। যেমন আপনি যদি দাবী করেন যে আল্লাহ আপনার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন, বা যোগাযোগ করেছেন এবং এই বিষয়টি যদি আপনার ব্যক্তিগত সীমা অতিক্রম করে অন্যের আমলের বিষয় হয়ে গিয়েছে বলে মনে করেন, তাহলে আপনি নবুয়ত ‘দাবী’ করেন অথবা না’ই করেন, এতে ‘নবুয়ত’ এসে গিয়েছে। ঠিক এভাবে মো’জেজার দাবীও।

এখন আপনি যদি ‘নতুন ধর্মীয় অভিজ্ঞতা’কে প্রতিষ্ঠিত ধর্মের ব্যানারে চালিয়ে দেবার কোনো সূত্র খোঁজেন, তাহলে কাজ হবে না। আপনি এখন জেনে বুঝে, অথবা না জেনে, আলাদা হয়ে গিয়েছেন। আপনি যদি বলেন যে আমি নবী এবং মুহাম্মদের (সা) ধর্মের পতাকায়, তাকে মেনে এবং কোরানকে মেনে, যেমন কাদিয়ানীরা করে, তাতে কাজ হবে না। পন্নী সাহেবের ব্যাপারটি হয়েছে এমন। তার এতটুকু ধর্মীয় জ্ঞান ছিল না যে মো’জেজা দাবী করার পর এই ধর্মে তার স্থান থাকবে না। কেননা, মো’জেজা কেবল নবী রাসূলদের ক্ষেত্রে ঘটে এবং মুহাম্মদের (সা) পরে ‘এই ধর্মে’ আর কোনো নবী নেই।

পন্নী সাহেবের সমস্যা এখানেই শেষ নয়। তিনি একটি নতুন ফিরকা বা দল তৈরি করার সাথে সাথে মুসলমানের মধ্যে অনেক ফির্কা রয়েছে -এই  অভিযোগ তুলেছেন। এটাই বিড়ম্বনা (irony)। প্রতিষ্ঠিত পীর প্রথায় যেখানে আল্লাহর তরফ থেকে ‘ইলহাম’ দাবী করা হয় যা ধর্মে গৃহীত, তিনি সেই প্রথার বিপক্ষ নিয়েছেন অথচ তিনি নিজেই মো’জেজার দাবীদার! ঘটনা আরও গড়াচ্ছে। তার দাবী হচ্ছে তিনি এই জামানার ‘ইমাম’। তার অনুসরণ এখন সকলের জন্য ওয়াজিব। তার অনুগমনেই ঐক্য আসতে পারে। অর্থাৎ তার ফির্কাকে বড় ফির্কায় পরিণত করতে পারলেই শান্তি, ঐক্য, ইসলাম ইত্যাদি। কেননা তিনি মো’জেজায় প্রাপ্ত, সরাসরি আল্লাহ নির্বাচিত ইমাম! ঘটনা এখানেও শেষ নয়।

পন্নী সাহেবের, বা বর্ধিত অর্থে, তার দলের দাবী বিশ্ব মুসলিম এখন ‘বিকৃত’ ইসলামের অনুসারী, তারা ‘পথভ্রষ্ট’ এবং কেবল তার ইমামত-সম্বলিত নতুন ফির্কাটিই ‘সত্য এছলাম’। তিনি একখানা ‘কেতাব’ রচনা করেছেন। শিরোনাম: ‘এই এছলাম সেই এছলাম নয়’। এখন ঘটনা কী ঘটছে তা যে কেউই সহজে আঁচ করে নিতে পারেন। (পন্নী সাহেব নাকি ‘ইসলামের’ পরিবর্তে ‘এছলাম’ বানানকে সঠিক মনে করতেন তাই এখানে ‘ছ’ দিয়ে “সত্য এছলামের” উপর রঙ ছড়াচ্ছি। কেননা এটাই হয়ত তার ফির্কায় নতুন মাত্রা সংযোগ করে)।

এই এছলাম সেই এছলাম নয়

মুক্তমনার বড় ধাপ্পা অভিজিৎ রায়ের ‘বিশ্বাসের ভায়ারাস’ নামের একটি কৌশল ছিল। কোথাও কোনো ঘটনা-দুর্ঘটনায় কোনো মুসলিম জড়িত পাওয়া গেলেই ‘বিশ্বাসের ভায়ারাস’ প্রমাণিত হয়েছে বলে ব্লগ লিখত। পন্নীর ছেলেপুলেরা অভিজিৎ রায়ের মত মুসলিম অধ্যুষিত বা মুসলিম দেশে কোনো ঘটনা-দুর্ঘটনায় ‘মুসলিম সংযোগ’ পেলেই ‘এই এছলাম সেই এছলাম নয়’ প্রমাণিত বলে শোরগোল তুলে। অমুসলমানদের মত তারাও বিশ্বের আধুনিক  ‘সন্ত্রাস’ ও ‘জঙ্গিবাদ’কে এই ধাঁচে মুসলিমদের উপর প্রক্ষেপণ করে।

এযুগে মুসলিম সমাজে উদ্ভূত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সাথে আধিপত্যবাদ ও ইসলাম ও মুসলিমদেরকে কোণঠাসা করার যে পটভূমি রয়েছে সেটা বিচ্ছিন্ন করে যারাই ইসলাম ও মুসলিমদেরকে আক্রমণ করে তাদের “মতলব” যে কোথায় তা কাউকে বুঝিয়ে বলার দরকার হয় না। প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ ও তৎপরবর্তী ভূরাজনৈতিক ক্ষমতা দ্বন্দ্বের ইতিহাস অবগত এবং প্যালেস্টাইন-ইসরাইল সমস্যার বিষয় অবগত, এবং, বিশেষ করে এই ২/৩ দশক ব্যাপী মধ্যপ্রাচ্য এবং মুসলিম বিশ্বে কী হচ্ছে সেসব বিষয়ে অবগত তাদের কাছে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের ইতিহাস দিবালোকের মত স্পষ্ট।

কেউ যদি ইসলাম ধর্মের নামে সন্ত্রাস করে তবে এর জন্য গোটা বিশ্ব মুসলিম দায়ী হয়ে পড়বে? এজন্য কি এই জাতির “এছলাম” ভ্রষ্ট হয়ে যায়। এই সন্ত্রাসকে কি মুসলিম বিশ্ব অস্বীকার ও তিরস্কার করে নি? এর বিপক্ষে কথা বলে নি? লেখালেখি করে নি? দমনের চেষ্টা করে নি? প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার করে নি? যাদেরকে ধরতে পেরেছে তাদের জন্য শাস্তির বিধান করে নি? তবুও বুঝি “এই এছলাম সেই এছলাম নয়”? এরা সন্ত্রাসী? এটা অমুসলিমদের কাছ থেকে ধারিত ও সেই ধাপ্পায় সজ্জিত বক্তব্য। এই বিশ্ব মুসলিম তথা সাওয়াদুল আ’যাম কখনো পথভ্রষ্ট হবে না –এই মর্মে নবীর (সা) বাণী রয়েছে।  সুতরাং পন্নীর “এমামতি” এখানে মো’জেজার কাহিনী দিয়ে সংকুলান হবে না।

এখন সমস্যাটা কী?

পন্নীর যে কয়টা ভিডিও-ক্লিপ আছে এবং তার যে লেখা রয়েছে সেগুলো দেখার পর অনেকেরই মনে হবে লোকটি ধর্মীয় বিষয়ে শুধু অজ্ঞই নয় বরং নাদান প্রকৃতিরও। তবে দেশ থেকে যারা তার বিষয়ে অনুসন্ধান করেছেন তাদের ধারণা সে নাদান নয় বরং বিদেশিদের দালাল। তার মাধ্যমে ইসলাম ধর্মে ফির্কা তৈরি, পারস্পারিক কলহ বৃদ্ধি, মুসলিম সমাজকে ভ্রান্ত বিকৃত ও সন্ত্রাস ইত্যাদির সাথে প্রোপাগান্ডার বাহন তৈরি –এসবই উদ্দেশ্য। বিদেশি মহল বাংলাদেশে যেকোনো ষড়যন্ত্র পাকাপোক্ত করতে পারে, তবে অন্যান্য দেশেও।  বার্লিন ওয়াল ধ্বংসের পর থেকে বিদেশি চক্রের দৃষ্টি বাংলাদেশের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে। তারা এই অবয়বকে ভেঙ্গে ভিন্নভাবে সাজানোর পরিকল্পনায়। এটা শুধু বাংলাদেশে নয় বরং আগ থেকে প্যালেস্টাইন হয়ে এখন সিরিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশে। তবে মনে হয় বাংলাদেশের ভিতরে কী হচ্ছে তা মুসলমানেরা বুঝতেই পারছেন না কেননা খৎনাধারীদের মাধ্যমে এবং ‘অসাম্প্রদায়িক সম্প্রদায়ের’ শাব্দিক ও আদর্শগত ধাপ্পাবাজিতে তাদের মধ্যে সেই ধোঁকাকর্ম চা্লিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সদালাপ

পন্নীর কিছু যুবক সদালাপে আনাগোনা করেন। গত দেড় বছর আগে এই দলের একজনের লেখার প্রেক্ষিতে একটি মন্তব্য-ব্লগ লিখেছিলাম। শিরোনাম ছিল, ‘হেজবুত তাওহীদ ও নন-পলিটিক্যাল খিলাফত’। ইদানীং পন্নীর আরেকজন ‘অত্যুৎসাহী’ চিনি মিশ্রিত (sugar coated) কৌশলে মুসলমানদেরকে জঙ্গি-সন্ত্রাসী বক্তব্যের আওতাভুক্ত করে পন্নীর মোজেজা সদালাপে হাজির করেছেন। তার দৃষ্টিতে, বিকৃত ইসলামের অনুসারীদের শ্রম ও মেধার ব্যবহারের মাধ্যমে, অমুসলমানদের মুসলমান করার কাজ বৃথা। এটা কেন বৃথা, এটা দেখাতেই, অমুসলমানদের যুক্তি ও কৌশলে, “ইসলাম গ্রহণের খবরে যারা খুশিতে বাকবাকুম হন” -এই শিরনামে ব্লগটি ছেপেছেন।

ব্লগটি দেখে কারো কারো মনে হয়েছে আমরা “সদালাপে আছি নাকি মুক্তমনায়!” তবে লেখক উষ্মাস্বরে উলটো প্রশ্ন করেছেন, তাকে মুক্তমনার কাতারে ফেলা হল, “নাকি আমরা  মুসলমানরা দুধে ধোয়া তুলশী পাতা হয়ে গেছি, আমাদের কোনো ভুল নাই, কোনো ত্রুটি নাই, সেগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনার দরকারও নাই?” লেখক মনে করেছেন সমালোচনা শব্দ প্রয়োগ করলে তার কৌশল আড়াল হয়ে যাবে। এটা কী সম্ভব? মোটেই না।

আমি বলব প্রথমে “আমরা” শব্দের ব্যবহারটিও সঠিক হয় নি কেননা “আমরা” (মুসলমানরা) পন্নীর ফিতনায় নেই এবং পন্নীর দৃষ্টিতে আমরা ‘বিকৃত’ ইসলামের লোক। আমরা তাকে, আমাদের ধর্মীয় দৃষ্টিতে, তাকে সত্যবাদী মনে করি না এবং, ‘এমাম’ তো দূরে থাক, তাকে ধর্মজ্ঞানশুন্য ফিতনা মনে করি। সুতরাং পন্নীর লোকজন তাদের নিজেদের ‘সমালোচনা’ করতে আমাদের কোন সমস্যা নেই। কিন্তু তারা কনফিউজড হয়ে যদি  “আমাদের হয়ে” বিকৃত ইসলামের সমালোচনা করতে আসেন তবে তা ভুল হবে। “আমরা” দুধে ধোয়া হই অথবা তুলসী পাতা, সেটা আমাদের ব্যাপার। সুতরাং এই এছলাম সেই এছলাম নয় –এই কৌশল এখানে না দেখালেই বরং ভাল।

এবারে আমরা ইসলাম গ্রহণের খবরে যারা খুশিতে বাকবাকুম হন  -এই ব্লগটি সম্পর্কে আলোচনা করতে যাচ্ছি

ইসলাম গ্রহণের খবরে যারা খুশিতে বাকবাকুম হন

প্রথমে শিরোনাম থেকে শুরু হোক। এখানে বিসমিল্লাহয় গলদ। তারপর ধারাবাহিকভাবে এই এছলাম সেই এছলাম নয় এমন ধারায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সমন্বয়; তারপর ভিন্ন মতের কারণে অন্যদেরকে ‘খুন’ করার এলজাম; তারপর, প্রকারান্তরে এই এছলামের লোক অমুসলমানদের তুলনায় দুনিয়ার দোযখে; তারপর তারা অন্যদের মুসলিম বানিয়ে যে ঢেকুর তুলছে তা অযৌক্তিক; তারপর যারা দুনিয়ার দোযখের  বাস্তবতায় এবং ইঙ্গিতবাহিতাও  তারা পরকাল না পাবার যুক্তিতে; এই সব এবং বাকি সবই আমাদের পক্ষের কোন মুসলমানের হতে পারে না। এগুলো অমুসলিমদের যুক্তি।

আমরা কি এতে অপমানিত হয়েছি? ইসলাম অপমানিত হয়েছে? না, এই ধরণের প্রেক্ষিতে এই ধরণের প্রশ্ন যৌক্তিক নয়। কোনো “মন্দ” মহিলাকে তার অপকর্মের কারণে প্রশ্ন করলে সে যদি বলে আমি কার ক্ষতি করলাম’? তাহলে বুঝতে হবে সে প্রশ্নটি বোঝেনি অথবা বুঝে বিষয় এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করছে।

বাকবাকুম ও তারপর

ইসলাম গ্রহণের খবরে যারা খুশিতে বাকবাকুম হন আমিও তাদের একজন এবং আমার ধারণায় এই বিশ্বের মুসলমানরাও বাকবাকুম হন, বিশেষ করে, আমাদের বিশ্বাসের সদালাপীরাও। কেননা এই নবীর উম্মত বৃদ্ধিতে তাদের খুশির বিষয় রয়েছে। সুতরাং এই লেখাটি পন্নী-দলের কোন আত্মসমালোচনা নয় বরং বৃহত্তর মুসলিম সমাজের উপর তাচ্ছিল্য প্রদর্শন, taking a micky out of them এবং এর মাধ্যমে পন্নী ফিতনা প্রদর্শন এই এছলাম সেই এছলাম নয়!

লেখকের অন্যান্য লেখাতেও পন্নীর ধর্ম প্রচারের কৌশল দেখে থাকি কিন্তু ব্লগে যার যার কথা বলবে সেই বিবেচনায় কিছু বলতে যাই না। এখন প্রয়োজনে বলছি। লেখাতে কীভাবে মুক্তমনার ধারায় যুক্তি সজ্জিত হয়েছে এবং কীভাবে পন্নীর ধর্ম প্রচার হচ্ছে সেই বিষয়গুলো দেখব। কোনো কোনো উদ্ধৃতির পাশেই স্কয়ার বন্ধনীর ভিতর আমার মন্তব্যও থাকবে।

শিরোনাম অতিক্রম করে গোটা লেখাটাই আমাদের দৃষ্টিতে, অর্থাৎ আমাদের পক্ষের বিকৃত ইসলামের কাছে, আপত্তিকর।

এখন কি ইসলাম গ্রহণ স্থগিত হতে হবে? এর মূল্য নেই?

লেখাটিতে প্রথমেই নতুন মুসলমান হওয়ার বিপক্ষে যুক্তি এসেছে। কারণ নাকি এতে সম্মান, প্রতিপত্তি বাড়ছে না, মানব জাতীর কোন লাভ হচ্ছে না। বরং সংখ্যার সাথে সাথে কেবল একটা জিনিসই বাড়ছে- সেটা হচ্ছে মুসলিমদের প্রতি নির্যাতন, নিপীড়ন, লাঞ্ছনা আর অপমানের মাত্রা।

সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে নিপীড়নের মাত্রা বৃদ্ধি হয় কীভাবে? এর উপর কী কোনো জরিপ ও গবেষণা রয়েছে? থাকলে সেই সমন্বয় কীভাবে হয়েছে? যদি নিপীড়ন বেড়েও থাকে তবে কি মুসলমান হওয়া বন্ধ হতে হবে?

তারপর বর্তমানে  মুসলিমদের অবস্থা শক্তিশালী নয় তাই বাইরের কেউ মুসলমান হওয়ার মূল্য নেই এমনটি কী যুক্তি সম্মত? এসব কথা কী আমাদের”  মুসলিম সমাজের কথা ও যুক্তি হতে পারে? যদি না হয় তাহলে এটা কোন মুসলমানের কথা? মুসলিম হওয়ার সাথে সম্মান, প্রতিপত্তি তথা দুনিয়ার সাফল্য কীভাবে প্রধান হয়?

দুনিয়া না পেলে আখেরাত অশুদ্ধ হবে এমন যুক্তি মিথ্যা। পন্নির এছলাম ভুল। আজ যারা ইসলাম গ্রহণ করছে তাদের জীবন কি বরবাদ হয়ে গিয়েছে? এই অভিযোগ তারা কী পন্নীর কাছে করেছে? পন্নীর ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যাকে সাজাতে কি বিশ্ব মুসলিমকে এভাবে ব্যবহার করা হবে? অপরকে না টেনে, তাদের নতুন ধর্ম বা ফিতনাকে তারা আপনাতেই প্রচার করতে পারে না?

এবারে কিছু উদ্ধৃতি দেখে নেয়া যাক:

[এক] পৃথিবীর ৬৫০ কোটি অমুসলিম কি খুব অশান্তিতে আছে, আর ১৫০ কোটি মুসলমান জান্নাতের বাগানে অবস্থান করছে? যদি তা না হয়, যদি দেখা যায় বাস্তব অবস্থা তার ঠিক উল্টো [অমুসলিমরা জান্নাতে আর মুসলিমরা জাহান্নামে?] তাহলে আপনি এই যে এত সাধনা করে, অতুলনীয় মেধা খাটিয়ে অমুসলিমকে মুসলিম বানিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন- তার যৌক্তিকতা কোথায়[অমুসলিমদেরকে জানাত থেকে জাহান্নামে আনা?]

[দুই] বর্তমান বিশ্বে আপনার ধর্মের দোহাই দিয়ে শুরু হওয়া সন্ত্রাসবাদ সারা পৃথিবীর মানুষকে যতটা আতঙ্কিত করে রেখেছে, আপনার ধর্ম সাম্রাজ্যবাদীদের যতটা পারপার্স সার্ভ করছে, অন্য ধর্ম কিন্তু তার কাছেধারেও নাই [ইসলাম ধর্মই এখানে সমস্যা, এই এছলাম সেই এছলাম নয়! সন্ত্রাস ভালই ব্যবহৃত হচ্ছে তাই না?] অন্য ধর্মের মানুষ তাদের নিজের ধর্মের মানুষকে কেবল ভিন্নমতের কারণে “খুন” করে বেহেশতে যাবার আশা করে না, কিন্তু আপনার ধর্মে সেটা ১৩০০ বছর ধরে চলে আসছে [১৩০০ বছর ধরে এই “খুন” করে আসছে? ভিন্নমতের কারণে? এগুলো  কি মুক্তমনাদের কথা নয়, পশ্চিমা বিশ্বের কথা নয়?] অন্য ধর্মের মানুষ তাদের উপাসনলায়ে বোমা মারে না, আপনার ধর্মের মানুষ প্রায়ই মারে। এমন উদাহরণের শেষ নাই। [এই কাজ “বিকৃত ইসলামের” লোকেরা করছে –তাই না? এরা পন্নীর ইমামতিতে দাখিল হলে আর কখনো অন্যের উপাসনালয়ে বোমা বিস্ফোরণ করবে না। এখানে কাদের চোখে ধূলা দিয়ে  পন্নীর ফিতনা পরিচালিত হচ্ছে?]

[তিন] সবচেয়ে বড় কথাটি হচ্ছে- আজকে মুসলিম বিশ্ব বেশি শান্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে আছে নাকি পশ্চিমা বিশ্ব? নিশ্চয়ই পশ্চিমা বিশ্ব। তাহলে কেন তারা ইসলাম গ্রহণ করবে? [তা’ইত কথা। তারা কেন মুসলমান হবে? কিন্তু তারা তো  মুসলমান হচ্ছেই! আর এজন্যই তো এই ব্লগ লেখা -তাই না? এখানে যুক্তির অতিসার হয়েছে!  কিন্তু ব্যাপার অন্যত্র। তারা  ‘বিকৃত  এছলাম’ গ্রহণ করছে এজন্য পন্নীর চান্দুদের গায়ে জ্বালা !] আপনি বলবেন পারলৌকিক মুক্তির জন্য, তাই তো[পারলৈকিক তো হতেই হবে, এটাই তো ইসলাম। এখানে পন্নী ধর্মের সমস্যা হবে কেন?] কিন্তু বিশ্বনবী তো বলেছেন, ‘দুনিয়া হলো আখেরাতের শস্যক্ষেত্র।[এজন্যই তারা মুসলমান হচ্ছে, আল্লাহর ইবাদত করছে, নেক আমল করছে, সওয়াব নিয়ে আখেরাতে যেতে। এটাই তো হাদিসের ভাষ্য -আখেরাতের শস্যক্ষেত্র, দুনিয়ার সাফল্য নয়] যারা দুনিয়াতে অশান্তিতে জ্বলছে, তাদের পরকাল কি শান্তিপূর্ণ হবার কথা? আপনার যুক্তিবিদ্যা কী বলে? [যুক্তিবিদ্যার অতিসার হয়েছে!]

অতি সহজেই লক্ষ্য করা যাবে যে এখানে পক্ষান্তরে পন্নির এই এছলাম সেই এসলাম নয়কায়দায় মুসলমানদেরকে পশ্চিমী ধাপ্পায় আক্রমণ করে বিশ্ব মুসলিমকে আতঙ্কের কারণ দেখানো হয়েছে। এটাই মুক্তমনাদের ধারা। তারপর অমুসলিম জগত শান্তিতে আছে আর মুসলিমরা অশান্তিতে এমন অপরিপূর্ণ বালখিল্য দৃষ্টিভঙ্গি। তারপর দেখানো হয়েছে (এই এছলামধারীদের’) ইসলামের শান্তির দাবী মিথ্যা। অন্যান্য ধর্মের তুলনায় এই ধর্ম সন্ত্রাসবাদ সার্ভ করছে!! এই ব্যাখ্যা মুক্তমনারা পশ্চিমাদের কাছ থেকে যেভাবে ঢালাওভাবে ছড়াচ্ছে সেভাবে পন্নির বিভ্রান্ত ছেলেরাও ছড়াচ্ছে। এদের মূল কথা এই এছলাম সেই এছলাম নয়”, এরা সন্ত্রাসী, বিশ্বের আতঙ্ক। এরা তাদের মেধা খাটিয়ে অমুসলিমকে মুসলিম বানিয়ে তৃপ্তির যে ঢেকুর তুলছে -তার যৌক্তিকতা নাই। কি সাংঘাতিক আক্রমণাত্মক ও বিভ্রান্তিকর কথা।       

পন্নীরর ছেলেরা অন্যান্য ধর্মের তুলনায় বিশ্ব মুসলিমকে খুনিবানাচ্ছে! তারা বলছে অন্য ধর্মের মানুষ তাদের নিজের ধর্মের মানুষকে কেবল ভিন্নমতের কারণে খুন করে বেহেশতে যাবার আশা করে না” –এতে কোন সত্য প্রতিভাত হয়? –কেবল মুসলমানরাই তা করে। এমনসব কথা কে বা কারা বলতে পারে? এই ধর্মের মুসলমান? এখানকার স্বরকি ইসলামের বাইরের স্বর মনে হয় না? অধিকন্তু একটু সজাগ হলেই দেখা যাবে পন্নির ফ্রেম, “এই এছলাম সেই এসলাম নয়। এই এছলামের লোক ভিন্ন মতের কারণে অন্যদেরকে খুন করে বেহেস্তে যাবার আশা করে!!

কেউ দুনিয়ায় অশান্তিতে জ্বললে আখেরাতেও অশান্তিতে থাকার ধারণা ধর্ম-মূর্খতা এবং চরমভাবে যুক্তিহীনতা। নবীর (সা) যুগের পৌত্তলিকগণ তাদের ধনাঢ্যতা এই প্রশ্নেই দেখাত যে তাদের উপর স্রষ্টার অনুগ্রহ রয়েছে। যদি না থাকত তাহলে তারা এই ধনাঢ্যতা লাভ করে কীভাবে? আর বিশ্বাসীরা যদি আল্লাহর অনুগ্রহে পেল, তবে তাদের এই নাজেহাল অবস্থা কেন? এই লেখায় সেই পৌত্তলিকদের যুক্তি ধারিত হয়েছে। এটাই ধর্মের দোহাই দিয়ে নতুন ফিতনা।

তাছাড়া যারা আজ ইসলাম গ্রহণ করছে তারা কীভাবে দুনিয়াকে বর্জন করল? এই যে আমাদের আশে পাশের মুসলিম সমাজ রয়েছে, তাদের কারা দুনিয়াকে বর্জন করে আছে? পন্নির খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হলেই এছলাম আছে, না হলে এছলাম নাই,” এটাই কি এছলাম”? ১৩০০ বছর ধরে ইসলাম বিকৃত?

লক্ষ্য করুন, বলা হচ্ছে, “সবচেয়ে বড় কথাটি হচ্ছে- আজকে মুসলিম বিশ্ব বেশি শান্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে আছে নাকি পশ্চিমা বিশ্ব? নিশ্চয়ই পশ্চিমা বিশ্ব

আমরা তো দেখি পশ্চিমা বিশ্ব থেকেই মুসলিমদের দেশ মিথ্যাচারের মাধ্যমে জল, স্থল ও আকাশ পথে বোমা বিস্ফোরণ ও আক্রমণের মাধ্যমে ধ্বংস করে অশান্তির বিস্তার করা হচ্ছে। আর এর সাথে পন্নীর নাদান ছেলেরা বাকবাকুম করছে। তাদের থিওরি এই এছলাম সেই এছলাম নয়প্রমাণ করতে যা তা বলছে। তারা মুক্তমনা ও পশ্চিমী ব্যাখ্যায় একাত্ম। সুতরাং এই এছলামে”  বাইরের লোক ঢুকে লাভ নেই। এর সাথে মান-সম্মান, প্রতিপত্তি তথা দুনিয়াবি  সাফল্যই কিছু নেই। দুনিয়াবি সাফল্য যদি ব্যর্থ হল তবে আখেরি সাফল্য আসবে কীভাবে? এই বালখিল্য! 

এবারে আরেকটা উদ্ধৃতি নেয়া যাক:

ধরুন, এই মুহূর্তে আপনার কথায় মুগ্ধ হয়ে, ‘ইসলামই সেরা ধর্মএর পক্ষে আপনার অকাট্য যুক্তি মেনে নিয়ে, আপনার দাওয়াত গ্রহণ করে দুনিয়ার আটশকোটি মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম হয়ে গেল। তাতে মানবজাতি আসন্ন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ চলমান সমস্ত যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে মুক্তি পাবে কি? সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতার যখম শুকিয়ে যাবে কি? অর্থনৈতিক সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে কি? রাজনীতির নামে হানাহানি, রক্তারক্তি বন্ধ হবে কি? মুসলিম হবার কারণে স্বৈরশাসকরা গদি ছেড়ে সাধারণ মানুষের কাতারে নেমে যাবে কি? মানবজাতি ঐক্যবদ্ধ হবে কি? আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও প্রযুক্তির অগ্রগতি বাধাহীনভাবে সামনে এগোতে পারবে কি? ধর্মব্যবসা বন্ধ হবে কি? রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ হবে কি? মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে ব্যবহার করে হুজুগ আর গুজবপ্রবণতা থেমে যাবে কি?

উপরে যুক্তিকে হাস্যকরভাবে কনফিউজড করা হয়েছে। এতে যুক্তি জ্ঞান যে নেই তাই প্রমাণিত। ইসলাম গ্রহণ, যুদ্ধ-বিগ্রহ, স্বৈরশাসন, সন্ত্রাস ইত্যাদির সকল কিছুকে শান্তির সাথে ঘুলিয়ে বালখিল্য সাজানো হয়েছে। কিন্তু এদের প্রত্যেকটি বিষয় আলাদা আলাদা এবং এগুলোর বিবেচনা আপন আপন স্থানে। স্বৈরশাসন থাকলে কি মানুষ ইসলাম গ্রহণ করবে না? ধর্মব্যবসা আছে বলে মুসলমান হতে পারবে না? পন্নী ও তার ছেলেরা মূর্খ হলে বাকীরা ইসলাম গ্রহণ করতে পারবে না? দেওয়ানবাগী আছে বলে ধর্মান্তর স্থগিত হতে হবে? নবীগণ কি প্রথমে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে, ইসলামের শান্তি কায়েম করে, তবেই মানুষকে দ্বীনের দিকে আহবান করেছিলেন? পন্নীর লোকদের সব যুক্তিই গোঁজামিলে ভরপুর। তাদের কথাবার্তা অযৌক্তিক ও মিথ্যা। মানুষ ইসলাম গ্রহণ করবে এবং ধর্মব্যবসা দমনের চেষ্টাও করবে। তারা ইসলাম গ্রহণ করবে এবং স্বৈরাচার পতনের চেষ্টাও করবে, এভাবেই গোটা তারতিব। আল্লাহ শুধু চেষ্টা করার কথাই বলেছেন। এর বাইরে কিছু নয়। পন্নীর দল এপর্যন্ত কি করতে পেরেছে? বিশ্ব মুসলিমকে বিশদগার করে পন্নির এছলামেরযৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা ভুলের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আজ বিশ্বে মুসলমানদের মধ্যে দ্বিমত আছে, অনেক সমস্যা আছে। দ্বিমত ও সমস্যা জীবনের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সব জাতিতে এগুলো আছে এবং থাকবেও। এগুলোর মূল স্থান মানব প্রকৃতি স্পর্ষ করে। মুসলিম সমাজের আলেমগণ প্রয়োজনীয় ঐক্যের কথা বলছেন কিন্তু এসবের কোনো ম্যাজিক সমাধান নেই। পন্নীর দলের বিশদগার বাদ দিলে তাদের হাতে কী কোন ম্যাজিক থিওরি রয়েছে যা মুসলিম সমাজের আলেমগণ এখনো বলতে পারেন নি, বা বুঝতে পারেন নি? ধর্মীয় বিষয়ে অনবিজ্ঞ পন্নীকে এমামুজ্জামানমানলেই বুঝি  কিল্লা ফতেহ? ধাপ্পাবাজিরও তো সীমা থাকবে।

এবারে ফাইল্যাল উদ্ধৃতি দিয়ে লেখাটি শেষ করি:

সুতরাং এই মুহূর্তে অমুসলিমকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানোর দাওয়াতের চেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলাম ও বর্তমানের বিকৃত ইসলামের মধ্যে বিভেদরেখা টেনে দেওয়া।

তাহলে এখন কেউকে আর মুসলমান করা যাবে না? এটা গুরুত্বপূর্ণ নয়? এই কাজ স্থগিত হতে হবে? এটা কোথায় পাওয়া গেল? এটা কি পন্নীর সুন্নাহতে? এটা ভুল। বিভ্রান্তি। ধর্মমূর্খতা। পন্নীর দলে কোন জ্ঞানই দেখা যাচ্ছে না। কিছু বিভ্রান্ত যুবক নিজেদের ইচ্ছা মাফিক এলোমেলো বয়ান দিচ্ছে আর পন্নির নামে ফিতনা ছড়াচ্ছে। পন্নীর নামাজটি পর্যন্ত শুদ্ধ নয়, আরবির উচ্চারণ শুদ্ধ নয়, নামাজ হয়ে পড়েছে মিলিটারি প্যারেড! তাও দেখতে চরম হাস্যকর!

আজ ইসলামের প্রচার কাজ বদ্ধ করে আসল এছলামবুঝা ও প্রতিষ্ঠা করার যে আহবান করা হচ্ছে সেই এছলামকোনটি? তাদের কাছে এই স্পষ্টতা নেই। প্রশ্ন করলেই তারা লিঙ্ক মারবে। কিন্তু লিঙ্কে কিছুই নেই। তাদের কথা হচ্ছে জাতি নাকি অভিভাবকত্বহারিয়েছে, এখানেই বিভেদরেখা টানতে হবে।  সুতরাং এখন পথভ্রষ্ট এমামুজ্জামানকে এমামহিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এই বড়িটা গলধকরণ হচ্ছে ভুল সংশোধনেরপ্রথম পদক্ষেপ। তারপর? তারপর মিলিটারি প্যারেড, অশুদ্ধভাবে আল্লাহু আকবাআআর’!  ওরে আল্লাহরে! তোরা কে কোথায় রে!

এমামুজ্জানকে বাদ দিয়ে এখন কেউ আর ইসলাম গ্রহণ করার দরকার নেই। সে’ই পয়লা নম্বর। সে আল্লাহর মনোনিত ‘এমাম’!! কিন্তু এই ফিতনায় যে পা দেবে তার ধর্ম ধ্বংস হবে।

দ্রষ্টব্য:

যারা পন্নীর ফিতনা থেকে যুব সম্প্রদায়কে বাঁচানোর প্রয়োজন মনে করেন, তারা এই বিষয়ে অন্যদেরকে অবগত করানো প্রয়োজন। আমার এই লেখাটি যাদের কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হবে এর লিঙ্ক অন্যত্র দিতে পারেন।

_____

এই দলটিকে বাংলাদেশ থেকে যারা মূল্যায়ন করেছেন এবং কিছু ডক্যুম্যান্টও করেছেন তার কয়েকটি নমুনা এখানে লিঙ্ক করলাম। এগুলোও শুনে নিতে পারেন।

হিজবুত তাওহিদ সংগঠনের মুখোশ উন্মোচন
https://www.youtube.com/watch?v=3vJYShPbxHw&t=3s

ভন্ড হিযবুত তাওহীদের ভন্ডামী
https://www.youtube.com/watch?v=VgFvG_yIYrA

হেযবুত তাওহীদ – কেন বাতিল দল ???
https://www.youtube.com/watch?v=cl3Y97lCvCk

হিজবুত তাওহীদ মানুষকে ধর্মের নামে কিভাবে ধোঁকা দিচ্ছে
https://www.youtube.com/watch?v=Z1R2K_gtSAw

1223 জন পড়েছেন

About এম_আহমদ

প্রাবন্ধিক, গবেষক (সমাজ বিজ্ঞান), ভাষাতাত্ত্বিক, ধর্ম, দর্শন ও ইতিহাসের পাঠক।

Comments are closed.