শহীদের তালিকা করে যে বীরপুরুষ

1273 জন পড়েছেন

সেই বীরপুরুষকেই চাইছি, যে নাকি হামলা-মামলার বদলে শহীদদের তালিকা করে বেগম জিয়ার প্রশ্নের উত্তর দেবে। যে নাকি ৪৫ বছর পরও অবহেলা আর দীর্ঘ আওয়ামী শাসনামল সত্ত্বেও তালিকা না হওয়ার বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে বাধ্য করবে রাষ্ট্রকে। যে নাকি ‘চেতনা-ব্যবসায়’ আর মিউজিয়ামের সংখ্যার ঊর্ধ্বে উঠে আদালতের মাঠ ছেড়ে দিয়ে ৫৬ হাজার বর্গমাইল ঘুরে কাল্পনিক তালিকাটির মীমাংসা করে আদালতকে দিয়ে বলবে, আমিই সেই বীরপুরুষ। তা না করে যারাই মামলা-মোকদ্দমায় ডুবছে আর ডোবাচ্ছে, সব ক’টাই কাপুরুষ।
খালেদার প্রশ্নটি শুধু সংখ্যাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং গোটা মুক্তিযুদ্ধকেই বিতর্কিত করার বিরুদ্ধে এখনই লাগাম টেনে ধরা। একের পর এক, যেভাবে কলুষিত করছে আওয়ামী লীগ, তা অগ্রহণযোগ্য ও অসাংবিধানিক। অনেকেরই প্রশ্ন, কোন শতাব্দীতে তালিকাটির মীমাংসা হবে? প্রয়োজন স্থায়ী আর্কাইভ ও ডাটাবেজসহ হলোকাস্ট মিউজিয়ামের মতো প্রতিষ্ঠান। প্রত্যেক শহীদের প্রাপ্য স্বীকৃতিসহ ইতিহাসের স্থায়ী অংশ হবে মীমাংসিত তালিকাটি। আমার আত্মীয়, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। একজন শহীদ জায়ার নাম গীতা সাহা। মাত্র ২২ বছর বয়সে তিন সন্তানসহ বিধবা। জীবনের কোনো স্বাদই পাননি। তার মতো অনেকেই নীরবে অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে নির্বংশ কিংবা নিঃশেষ হয়ে গেছেন। মর্যাদা কিংবা ক্ষতিপূরণ কোনোটাই নেই। যা হয়, মুখ চিনে। এর অর্থ হলো, মর্যাদা পেতে হলে আওয়ামী লীগার হতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগ মনে করে, মুক্তিযুদ্ধ তাদের একচেটিয়া।
শুধু বেগম জিয়া নন, প্রশ্নটি সবার। তাই মামলাও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে। এই দেশের মানুষ কোনো কথাই বলতে পারবে না, ভাবাই যায় না। রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হলে সেটা কমিউনিস্ট চীন অথবা কিউবার বাকস্বাধীনতার মতো। ওইসব দেশের মানুষ রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বাইরে টুঁ-শব্দটি পর্যন্ত করতে পারে না। করলেই গুম কিংবা জেল। কমিউনিজমের অভিশাপ মুক্ত হওয়ার জন্য জীবনবাজি রেখে লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিনই আমেরিকা-ইউরোপের বর্ডারে ভিড় করছে। আমরা কি সেই দৃষ্টান্ত হতে চাই?
এক কেজি গণতন্ত্রের ওপর এক হাজার মণ ওজনের টেকসই উন্নতির চাপে নীতি-নৈতিকতা, মূল্যবোধ, মৃত্যুচিন্তা… উধাও। আমাদের জিহ্বাগুলো এখন কুইনাইনের চেয়েও তেতো। তিক্ততা ছাড়া একটি কথাও বের হয় না। চোখগুলো ভালচারের মতো, জ্যান্ত মানুষকেও লাশ মনে হয়। টেবিলগুলো কিছু ল’ইয়ারের মতো, প্রতিপক্ষের সর্বনাশ ছাড়া যেখানে কোনো আলাপ নেই। লেখাটি কোনোক্রমেই বিচারাধীন মামলার অসম্মান নয়, বরং উদ্দেশ্য আদালতকে সাহায্য করা।
খালেদাকে হাইকমান্ডের উপদেশ, ‘মামলা মিথ্যা হলে কোর্টে গিয়ে প্রমাণ করুন।’ সত্যিই আমাদের জিহ্বাগুলো সাপের বিষের মতো। শিষ্টাচারে কমিউনিস্ট রাষ্ট্রগুলোর প্রভাব। চমৎকার বিশ্লেষণ ‘দ্য ডিপ্লোমেটের’- ‘…দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে কমিউনিস্ট দেশগুলোর মতো ২০০৮-এর নির্বাচনে জেতার পর থেকে কষ্ট করে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেন আর কখনোই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রুল জারি করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে দীর্ঘ দিনের নিয়ম ভেঙে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সমব্যথীদেরকে।’ প্রমাণ করার সুযোগ যেভাবে কেড়ে নিচ্ছে, ডিপ্লোমেটসহ বহু পত্রিকাই বারবার হাতেনাতে ধরিয়ে দিচ্ছে। এরপর প্রমাণের আর কী থাকতে পারে খালেদার হাতে?
সবচেয়ে সহজ কাজ, তালিকা করা। সবচেয়ে কঠিন, তালিকা না করে বছরের পর বছর আদালতে ব্যস্ত রাখা। ’৭১-এর অভিজ্ঞতায় বলছি, রাষ্ট্রের তালিকা আদালতে গেলে ধোপে টিকবে না। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা প্রমাণ করতে হলে, সাক্ষী হিসেবে লাগবে মীমাংসিত তালিকা। আসলে সব কিছুতেই বিতর্ক চায় আওয়ামী লীগ। ’৭১ এবং শহীদদের নিয়ে একটু বেশিই চায়, যার প্রমাণ এই লেখাতে।
তালিকা না করে প্রতিটি দলই অন্যায় করেছে। তবে লীগের দাবি, একমাত্র তারাই নাকি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল। তা সত্ত্বেও একটানা ৯ বছর ক্ষমতায় থেকেও তালিকা না করা শহীদদের অপমানের শামিল। একমাত্র কাপুরুষেরাই মামলা করবে। উদ্দেশ্য একটাই, ‘মুক্তিযুদ্ধকে জিম্মি করে কমিউনিস্ট স্টাইলে বিরোধী শিবিরকে ধ্বংস করা।’ রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় খালেদার ফাঁসি হলে, দোজখে যাবো কি আমি? অহেতুক মামলাটি দ্রুত পরিহার করা উচিত।
হলোকাস্ট অস্বীকার করা ১০ বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের অন্যতম, ইরানের গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ, হামাস নেতা খালেদ, ইংলিশ লেখক ডেভিড আরভিং। ওই পথেই যাননি খালেদা, বরং সংখ্যাটির মীমাংসা চেয়েছেন। জাতিসঙ্ঘের সম্মেলনে, ইহুদি নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ায় দেয়া সাক্ষাৎকারে, আহমাদিনেজাদ যখন অন-এয়ারে হলোকাস্ট ‘মিথ্যা এবং ইহুদিদের সৃষ্টি’ বলে মন্তব্য করলেন, নিউ ইয়র্কের আদালতে কেউ মামলা করেনি। যদিও এ ধরনের বক্তব্য, ‘এন্টিসেমেটিক’ অর্থাৎ ইহুদিবিরোধী। কোনো বিশেষ জাত, শ্রেণী ও বর্ণের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়া বিদ্বেষমূলক। হেটক্রাইমের শাস্তি সর্বোচ্চ ৪০ বছর। প্রশ্ন, এই মামলার উৎস কী? মামলাটি কোন ক্যাটাগরিতে রাষ্ট্রদ্রোহ হলো?
তালিকা করলে কী হয়! না করলে কী হয়! প্রধান বিরোধী দলের নেতা এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার এ প্রশ্নটি কোনোক্রমেই আহমাদিনেজাদের দৃষ্টান্ত নয়, বরং যথার্থ। প্রধান বিচারপতি নিজে মামলার সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই জীবিত অবস্থায় মামলার সুরাহা পান না, ’৯০-র দশকের মামলা এখনো ঝুলছে। মামলার ভারে জর্জরিত আদালতের উচিত, অনাহূত রাজনৈতিক মামলাগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে অনুৎসাহিত করা। অন্যথায় নাগরিক অধিকারের প্রতি প্রচণ্ড রকমের উপেক্ষা করা হবে।
শহীদের রক্তের দাম শোধ করার ক্ষমতা কারোরই নেই। ইন্টারনেটে ভৌতিক তালিকার মধ্যে এই সংখ্যা ২০ হাজার থেকে ৩০ লক্ষাধিক। এরপর খালেদা নয়, বরং মামলা হওয়া উচিত ছিল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।
২০১১ সালের মধ্যেই তালিকাটা শেষ হতে পারত। কারণ ওই সময়ের মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ ফসল ঘরে তুলেছিল আওয়ামী লীগ। এই কাজে বাজেটে বরাদ্দ না থাকায় সন্দেহের তীর দলটির দিকে।
পদক প্রত্যাহারের মাধ্যমে বিএনপিকে এই কাজ থেকে অব্যাহতি দিলো আওয়ামী লীগ। অতএব খালেদাকে মামলা মোকাবেলার নসিহত না করে নিজেকে নসিহত করাই যুক্তিযুক্ত। রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে রায় দিতে হলে সন্দেহাতীত প্রমাণ লাগে। যেহেতু এই মামলার কোনো ভিত্তি নেই, আদালতে গিয়ে প্রমাণেরও কিছু নেই। বরং তালিকা না করার অভিযোগে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করতে পারে বিবাদিপক্ষ।
প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে নানা মুনির নানা মত। তালিকা থাকলে মত ও মুনিদের সংখ্যাÑ দুটোই কমতো। আর এই কাজে প্রধান প্রতিবন্ধক আওয়ামী লীগ।
বিতর্কিত বইগুলোর অন্যতম ‘ডেড রেকনিং’। লেখিকা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে দুই বছর সশরীরে গবেষণার পর বইটি লিখেছেন। সাথে সাথে ধোলাই খেয়ে বই ও লেখিকা, দুটোই নিষিদ্ধ। এ দিকে তালিকা না করে, বিতর্কের সুযোগ দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতর্ক চলবে।
ক্ষমতাসীনেরা মনে করেন, তাদের দল ছাড়া বাকিরা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা; যদিও অনেকের বিষয়ে ৯ মাসের কঠিন সত্য নিজেরাও জানেন। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘সত্য যে কঠিন।’ সুতরাং ওই পথেই যাচ্ছি না। তবে যতটুকু না বললেই নয়। বুঝলাম, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জিয়া পাকিস্তানের এজেন্ট; সশস্ত্র সংগ্রামে অর্জিত পদক রাখার যোগ্যতা নেই। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধকে এর চেয়ে বেশি আর কেউ অপমান করেনি। উদাহরণস্বরূপ, ক্রেস্টের স্বর্ণে ভেজাল দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সশরীরে কেউ মুক্তিযুদ্ধ করলে, সেটাও অস্বীকার করেছে। মেজর জলিল, জেনারেল ওসমানী, এ কে খন্দকারদের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের রাজাকার বানিয়ে ছেড়েছে। মুজিবের নিজ হাতে দেয়া পদক পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে। নিজামীদের কাঠগড়ায় তুলে, গণহত্যার মূল আর্কিটেক্ট ভুট্টোকে ’৭৪ সালে স্মৃতিসৌধে নিয়ে গেছেন তোফায়েল আহমেদ। ওই বছরই পাকিস্তানে গিয়ে জল্লাদ ভুট্টো ও টিক্কা খানের সাথে হ্যান্ডশেক করেছিলেন কারা? ভুট্টোকে ঢাকায় লালগালিচা সংবর্ধনা। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ভেটো দিয়েছিল চীন-আমেরিকা। জাতিসঙ্ঘ সদস্যপদের বিরুদ্ধেও দিয়েছিল। সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিলেন কিসিঞ্জার। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে পাকিস্তান-চীন-আমেরিকা। গণহত্যার অস্ত্রগুলো ঢাকায় পৌঁছে দিত চীন। বেইজিং, ওয়াশিংটন, ইসলামাবাদে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে নিয়মিত ষড়যন্ত্র হতো। একাধিক বৈঠক হয়েছিল বেইজিংয়ে। বোস্টন হার্বারে ‘পদ্মা’ জাহাজ ভর্তি, আমেরিকার পাঠানো অস্ত্রের ডকুমেন্টারি ইউটিউবে। এর পরও যারা মহাসমারোহে খুনিদের স্মৃতিসৌধে নিয়ে যায়, আমরা আর কিছুই বলব না। এ জন্য বিএনপি কতটা দায়ী সেটা নয়, বরং পদক কেড়ে নেয়ার মাধ্যমে, উত্তর দেয়ার দায়-দায়িত্ব আওয়ামী লীগের কাঁধে। সুতরাং প্রমাণিত হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ এবং শহীদদের প্রতি বিশ্বাস কম আওয়ামী লীগের। অন্যথায় যত বড় মহারথীই হোক, শহীদের রক্তের ওপর দিয়ে কিছুতেই হাঁটতে দিত না। এর সাথে ছয়টি ফাঁসির বৈধতা, সাংঘর্ষিক। মূল সংবিধানে পদক কেড়ে নেয়া কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানের প্রভিশন রাখেনি। অবৈধ সংসদে যা হচ্ছে, এর সাথে সংবিধানের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে সার্বিক বিষয়টি গোটা মুক্তিযুদ্ধের ওপর বজ্রাঘাত।
২.
হলোকাস্টের তুলনায়, এই দেশে তালিকা করা অনেক বেশি সহজ। কারণ, ভূমির আয়তন, সামাজিক পরিস্থিতি, সময়, শহীদের সংখ্যাÑ সব কিছুই তালিকা করার অনুকূলে। জার্মানির তুলনায় এ দেশটি ছোট এবং সময় মাত্র ৪৫ বছর। প্রায় প্রত্যেকেই প্রত্যেককে চেনে। আমরা হলাম অত্যন্ত সামাজিক এবং নাকগলানো জাতি। সবার হাঁড়ির খবর চাই। সুতরাং ’৭১-এ ক’জন মারা গেছেন, কোথায় এবং নাম-ঠিকানা দেয়ার মতো বহু মানুষ আজো জীবিত। এরাই চাক্ষুষ সাক্ষী। মামলাকারকে উপদেশ, ‘সাক্ষীদের মৃত্যুর আগেই তালিকাটি শেষ করার জন্য মামলা করুন।’ ’৭১-এ যাদের জন্মই হয়নি, কুকর্ম থেকে বিরত থাকুন। ’৭১-এর সাড়ে সাত কোটি মানুষের মধ্যে প্রতি ২৫ জনে একজন, লসাগু অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০ লাখ। বলছি, বড় জোর ১০ লাখ টাকায় তালিকাটি এক মাসেই শেষ করা সম্ভব।
’৭১-এ ৯৫ শতাংশ মানুষ দেশেই ছিল, বাকিরা ভারতে, কেউ কেউ আত্মগোপনে, অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে। বেশির ভাগ মানুষই তখন বাধ্য হয়ে বিচ্ছিন্নভাবে থাকত। বিশেষ করে হিন্দুরাই ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। আমার শহরের প্রায় ১০ হাজার সংখ্যালঘুর মধ্যে আমার পরিবারও। শহীদ হয়েছিল দেশে থাকা হিন্দুরা। এদের মধ্যে আমার আত্মীয় ও পরিচিতজনও। দেখেছি যা দৃশ্যমান। শুনেছি যা সত্য। এখনো দেশে গেলে কথা হয়। অনেকেই জীবিত এবং তাদের স্মৃতিশক্তি ঠিকই আছে।
মুক্তিযুদ্ধের বয়স ৪৫। একজন মানুষের বিশ্বাসযোগ্য স্মৃতিশক্তির জন্য সাত বছর বয়সই যথেষ্ট। হলোকাস্টের বেলায় চার বছর বয়সী সাক্ষীর জবানবন্দীও রয়েছে। তখন যাদের বয়স ৭ থেকে ১৫, এখন তারা ৬০-এর বেশি বয়সী নয়। ৬০ বছর বয়সীদের সংখ্যা কত? এমনকি ৭০-৮০ বছর বয়সীদের সংখ্যাও প্রচুর। সুতরাং প্রত্যক্ষদর্শীর অভাব, এই যুক্তি খাটবে না। যাদের বয়স তখন ১০, এখন ৫৫। বেশির ভাগ মুক্তিযোদ্ধার বয়স ছিল ৯ থেকে ২৫। আর আওয়ামী লীগ যদি ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকে, ২৫ বছর পরও অনেক সাক্ষী জীবিত থাকবেন। অর্থাৎ তালিকা করার যথেষ্ট সময় অতীতেও পেয়েছে, ভবিষ্যতেও পাবে। অতীত বিচরণের জন্য ৮০ বছর একটি চমৎকার বয়স। ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকলে ৮০ বছর বয়সীদের খুঁজে পেতে কষ্ট হবে না। ওই বয়সের মানুষেরা স্মৃতির মধ্যে ডুবে থাকতেই ভালোবাসেন। হামলা-মামলার ভারে জর্জরিত খালেদা তখন বেঁচে থাকলেও কতটা সহি-সালামতে থাকবেন, সবাই জানে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা বাড়ে, ভাতার কোটা বাড়ে, এমনকি ’৭১-এর পরে জন্ম হলেও নাকি মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায়। কিন্তু শহীদদের তালিকা কখনোই হয় না। আমার এ অভিযোগের কোনো জবাবই দিতে পারবে না আওয়ামী লীগ।
সংখ্যা নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত কলামটি আমার ওয়েবসাইটে। কেউ তালিকা করতে চাইলে, কলামটি উপকারে আসবে। রাষ্ট্র না করলে দায়িত্ব জনগণকেই নিতে হবে। আগেও লিখেছি, ১২ হাজার মাইল দূরে বসে গাঁটের পয়সা খরচ করে আমি যদি আমার জেলার বিশ্বাসযোগ্য তালিকা করতে পারি, দেশে থেকে অন্যরা করছেন না কেন? সুতরাং এই মামলা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আদালতকে অনুরোধ, ক্যালেন্ডারকে জনস্বার্থে ব্যবহার করার সুযোগ বাড়িয়ে দিন। অপেক্ষার সময় আরো কমিয়ে আনুন। এমনিতেই আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে হতাশার সূচক সর্বনিম্ন।
ক্রাইসিস আর কত বাড়লে ক্ষান্ত দেবে আওয়ামী লীগ? অনেক হয়েছে, আর নয়। অন্যান্য ক্রাইসিসের কথা তুলছি না, আমাদের গন্তব্যস্থল অস্পষ্ট থেকে এখন অন্ধকারে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা-মামলা বাদ দিয়ে রাষ্ট্রকে সুপথে আনার মতো বীরপুরুষ চাই।

*পূর্ব প্রকাশিত নয়া দিগন্ত

1273 জন পড়েছেন

Comments are closed.