উই পোকার অট্টালিকা

2076 জন পড়েছেন

উইপোকা দেখেনি এমন মানুষ সম্ভবত দুনিয়াতে একজনও নেই। হ্যা! হয়তো মনে করতে পারেন এস্কিমোদের দেশ নর্থপোলে, যেখানে কোন কোন সময় শীত নেমে মাইনাস সত্তরের কোঠায় চলে আসে, সেখানে উইপোকারা নাও থাকতে পারে। আমার নর্থপোলে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। উইপোকা নর্থপোলেও বসবাস করে। পশ্চিমা দেশ সমুহ, সুসভ্য (?) উন্নত বিশ্ব, মনে করতে পারেন হয়তো, ছোটলোক উইপোকা এখানে বসবাসের জায়গাই খুঁজে পাবে না।

দক্ষিন পুলের কাছাকাছি কেপটাউন, দুই মহাসমুদ্রের মহামিলন কেন্দ্র। আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গমস্থল কেপটাউন, আমার দৃষ্টিতে দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর শহর। মনে করবেন উইপোকা এতটা অসুন্দর নয় যে, এরকম সুন্দরের অমার্যাদা করতে পারে। না ! দুই মহাসমুদ্রের দুই সাদা আর কালো পানির মিলন রেখার পাহারাদার সুবৃহৎ বাতিঘরটির পাশেই রয়েছে এই মহান প্রাণীটির সুবৃহৎ সুরম্য অট্টালিকা। এই কেপটাউনের আর এক আকর্ষন ’রবিন আইল্যান্ড’; উপকুল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ছোট্ট দ্বীপ। এক সময় এখানে উইপোকা কিলবিল করতো। উইপোকাদের এই ডিবিটিতেই এক জগৎ বিখ্যাত সিংহের স্বাধীনতা বন্দি করা হয়েছিল। বাঘ, সিংহ, হাতি, গন্ডার; এদের সাম্রাজ্যে এরাই কর্ণধার। সীমানা দিয়ে স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ করে দেওয়া এরা পচন্দ করেনা; গৃহ দিলে এদেরকে গৃহবন্দি করা হয়।

অর্ধেকটা আফ্রিকা ঘুরে বেড়ানোর যারা সুযোগ পেয়েছে, আমি সেই মহা ভাগ্যবানদের একজন। লুসাকা, লিলাঙ্গুয়ে, হারারে, ব্রাইটব্রিজ, মাসিনা, প্রিটোরিয়া, জোহ্যান্সবার্গ, দারবান, সানসিটি, গ্যাব্রন, ফ্রান্সিসটাউন, লিবিংষ্টোন এগুলো সাউদার্ন আফ্রিকার কয়েকটি সুন্দর শহর, আমার দু’সপ্তাহ দীর্ঘ এক বিরতিহীন সফরের কিছুক্ষনের বিশ্রামস্থল।

জনমানবশূন্য প্রশস্থ দীর্ঘ রাজপথের দু’পাশ জুড়ে ঘন অরন্য মাঝে মাঝে সুবৃহৎ খোলা মাঠ, এরকম দীর্ঘ ড্রাইভিংএ পথের দু’পাশের যে দৃশ্যগুলো আপনাকে বিমুগ্ধ করবে উইপোকার ডিবিও তাদের মধ্যে একটি। আফ্রিকার জঙ্গলে উইপোকার ডিবি যারা দেখেছেন, উপোকার সামর্থ্য সম্মন্ধে তাদের সন্দেহ থাকার কথা নয়। আফ্রিকার জঙ্গলে উইপোকার এক একটা ডিবি যেন এক একটা টিলা এবং মাঝে মাঝে রয়েছে অসংখ্য টিলার বহর। কালাহারির পাশদিয়ে লিভিংষ্টোন যাওয়ার পথে শত শত মাইল ড্রাইভ করার সময়ও এই ডিবি চোখে পড়েছে অনেকবার।

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত ভিক্টোরিয়া ফল্স এর আশ পাশ জুড়েও এরা বসবাস করে। লুয়াঙ্গোয়া ভেলি পৃথিবীর সুবৃহৎ উন্মুক্ত সাফারি পার্ক গুলোর অন্যতম। এই পার্কে উইপোকার বসবাস একটি শিক্ষনীয় অভিক্ষতা। আমরিকার ডিজনিওয়ার্ল্ড, সিঙ্গাপুরের সন্তোষা আইল্যান্ড, ইংল্যান্ডের লন্ডনব্রিজ, নর্থ আমেরিকার নায়াগ্রা জলপ্রপাত, ষ্টেসু অব লিবার্টি, দুবাই, জেদ্দা, মক্কা-মদিনা সর্বত্র উইপোকা রয়েছে। না! নিজ চোখে যে দেখে এসেছে তাকে আপনি অনুমান করে অস্বীকার করে অসত্য বলে উড়িয়ে দিতে পারেন না। হয়তো তাজমহলের কথা বলবেন, পৃথিবীর সর্বোচ্চ আশ্চর্য্য; নিশ্চয়ই ভাবছেন উইপোকার এতবড় সাহস হবেনা যে, এমন আশ্চর্য্যতম স্থানে কোন অত্যাশ্চর্য্য কর্ম করে ফেলতে পারে।

তাজমহল দেখে আমার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। সবচেয়ে বেশী গোস্ব্যা হয়েছে শাহ্জাহানের উপর। দুনিয়ায় এত সুন্দর জায়গা থাকতে উইপোকার ডিবি কেন বেচে নিলেন তাদের অনন্ত জীবনের চির নিদ্রার স্থান হিসাবে। উইপোকার সুপ্রশস্ত রাজপথ যদি মানুষের ব্যবহার যোগ্য হতো, তাহলে তাজমহলে যাওয়ার পথে বার বার হারিয়ে গিয়ে, বারবার খুঁজে পাওয়ার কসরত করতে হতো না। দিল্লির লালকিল্লা, আগ্রাফোর্ট, ফতেহ্পুর শিক্রী, সেকেন্দ্রা, কুতুবমিনার কোথায় নেই এই মহা শক্তিধর প্রাণীটির আনাগোনা। দিল্লির নিজামুদ্দীনে উইপোকার উৎপাত দেখলে ভয়ে গা শির শির করে উঠে। ইন্ডিয়া পরিভ্রমনে আমার সবচেয়ে কষ্টকর অভিজ্ঞতা অবহেলিত ও বিগত যৌবনা দিল্লি জামে মসজিদ। এই মসজিদের  সর্বোচ্চ মিনারটিও উইপোকার অত্যাচার থেকে রেহাই পায়নি।

বাংলাদেশ আমার আপনার নিজের দেশ; মায়ের কাছে মামার বাড়ীর গল্প বলে লাভ নেই। তবে কেহ যদি বলেন যে আপনি বাংলাদেশে উইপোকার ডিবি দেখেননি আপনি বোকার স্বর্গে বসবাস করেন। বাংলাদেশে টিলার মতো ডিবি বানানোর যায়গা হয়তো নেই, কিন্তু এখানে আম গাছের সর্বোচ্চ ডালটিও চাড়িয়ে যায় উইপোকার প্রাসাদতোম অট্টালিকার সর্বোচ্চ মিনার।

এবার আসল কথায় আসা যাক। উপরে জাম্বিয়ার লুয়াঙ্গোয়া ভেলির কথা বলেছিলাম। লুয়াঙ্গোয়া পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উন্মুক্ত সাফারি পার্ক গুলোর মধ্যে অন্যতম। জীব জন্তুর অভয় অরন্য। বাঘ আফ্রিকা মহাদেশে নেই। সিংহ বনের রাজা এবং এই রাজাও যাকে ভয় পায় তার নাম হাতি। হাতি বনের সর্ববৃহৎ বাসিন্দা; বাঘ, সিংহ, হাতি এগুলোও বড় প্রজাতীর প্রাণী। বলতে পারবেন! বনের কোন জায়গাটা এই প্রাণী গুলোর আধিপত্য থেকে মুক্ত এবং এদের পদভারে প্রকম্পিত হয় না। আমি হলফ করে বলতে পারি যে, এদের বাসা বাড়ীতে দাওয়াত খাওয়ার সৌভাগ্য আপনার কখনো হয়নি। হবে কিভাবে, এদেরতো কোন বাসা বাড়ী নেই এবং নেই মাথা গোঁজার কোন একটা ছোট্ট আস্তানাও। কিন্তু বলুন দেখি, কে সে সৌভাগ্যবান, যে বনের সবচেয়ে বড় বাড়ীটির মালিক? অবচেতন মনে নিশ্চই বলে ফেলবেন, বনের রাজা সিংহ সাহেব, না হয় রাজাধিরাজ হাতি মহাশয়। না, সিংহ বা হাতি এরা কেহই নয়, বনের সবচেয়ে বড় বাড়ীটির মালিক উইপোকা; এবং উইপোকাই আবার বনের সবচেয়ে ছোট প্রাণীটির নাম। প্রাণী জগতে সবচেয়ে ক্ষুদ্র যে প্রাণীটি, তারই রয়েছে সবচেয়ে বড় বাড়ী এবং শুধু একটি বাড়ী নয়, বাড়ীর পর বাড়ী। বাড়ী বানাতে বানাতেই একদিন বাড়ীর নিচে চাপা পড়েই সাঙ্গ হয় এই প্রাণীটির জীবনের সকল হিসাব নিকাশ। সারা বিশ্বে এখন মিলিয়ন বিলিয়ন উইপোকার বসবাস। উইপোকা অপছন্দ করে এমন কিছু দুনিয়াতে নেই এবং এমন কোন জায়গাও নেই যা এদের আগ্রাসন থেকে নিস্কৃতি পেয়েছে।

ঢাকার ধানমন্ডি গুলশান বনানী উইপোকাদের পুরনো আবাসস্থল। তারো আগে এরা বসবাস করতো বুড়িগঙ্গার গা ঘেষে। আর এখন এদের বাস বৃহত্তর ঢাকা ছেড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের গ্রাম গঞ্জে সর্বত্র। গ্রামের বড়ীতে বেড়াতে গিয়ে পাশের বাড়ীতে সুরম্য একটি দোতলা  অট্টালিকা দেখে কিছুটা বিস্মিত হয়ে ছিলাম। আমাদের গ্রামে কারু আমার চেয়ে বেশী টাকা-পয়সা থাকার কথা নয়। লেখা পড়াও অত্র অঞ্চলে অনেকের চেয়ে আমার বেশী। আর বিদেশে বসবাস করছি গত বিশ বছর থেকে। কিন্তু না বাংলাদেশের কোন শহরে আমার কোন ঘর নেই; গ্রামের বাড়ীতে আমার ঘরটিও অন্য আর দশটা ঘরের মতই সাদামাটা।

আসুন এবার অট্টালিকাটির কাছে আবার ফিরে যাওয়া যাক। প্রথমে ভেবে ছিলাম বাড়ীটি কোন দুবাইওয়ালার হয়তো সারা জীবনের কষ্টের ফসল। পরে এক ভাতিজাকে জিজ্ঞাসা করলে, সে বললো বাড়ীটির সৌভাগ্যবান মালিক নাকি কোন এক উপসচিব। গ্রামে কোন উপসচিব রয়েছে এটা  আমার জানা ছিল না। তবু মনে করলাম উপসচিব সরকারী চাকুরে। সিনিয়রিটি ও মামার জোরে সরকারি অফিসে অনেক কিছুই হতে পারে। সৌভাগ্যের সোনার হরিন ধরতে সেখানে অনেক সময় দশ ক্লাসও পাস করতে হয় না। ভাতিজা বুঝতে পেরেছিল আমি তাকে অবিশ্বাস করিনি। তাই রহস্য আর বেশিক্ষন লুকিয়ে রাখতে না পেরে এবার বলে ফেলল যে, উপসচিব সাহেব সচিবালয়ে পিয়নের চাকুরী করেন। সচিবালয়ের একজন পিয়ন সাহেবেরই যদি এতটা সামর্থ্য থাকে, তাহলে বড় বড় উইপোকা গুলোর কি রম রমা অবস্থা হতে পারে ভেবে দেখুন। ঢাকায় এক কাঠা জমির মূল্য দুই কোটি টাকা দিয়ে কিনার জন্য এই উইপোকা গুলোর মধ্যেই কাড়া কাড়ি হয়। বাংলাদেশে উইপোকাদের অট্টালিকার চুড়া শুধূ আম গাছের মাথা পর্যন্ত গিয়ে ঠেকে থাকেনি। উঠে গিয়েছে ভুলোক দুলোক গোলক ভেদিয়া খোদার আসন আরশ ছেদিয়া আরো উপরে।

উইপোকা মুখ দেয়না এমন জায়গা খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। সরকারী সম্পত্তি, আপনার বাড়ী, আমার ঘর, ফকিরের থলে, গরীবের আস্তানা, উইপোকার দৌরাত্য সর্বত্র। মিনিষ্টারের চালে রিলিফের টিন শোভা পায়। গরিবের জন্য কাজ করে খেটে খাওয়ার টাকা দিয়ে খোলা হয় মিনিষ্টারের ফিক্সড্ ডিপোজিট। স্কুলের ’টি.আর’ এর টাকা হয়ে যায় ডিজিটাল কমিটির পকেট মানি। উন্নয়নের টাকা উড়ে গিয়ে যাদের সিন্ধুকে শোভা পায় তাদেরকেই বলা হয় হাজার হাজার কোটিপতি। বাস্তবে এদের সারা জীবনের বেতন বা বৈধ আয় হিসাব করলে হয়তো কয়েক লক্ষও হবে না।

একবার ঢাকায় এক বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলাম্। পাশের বাসার মালিক বিদ্যুতের ইন্জিনিয়ার, অমায়িক মানুষ, আমাদেরকে চা খাওয়াতে বাসায় নিয়ে গেলেন। নতুন এপার্টমেন্ট, সবেমাত্র উঠেছেন, কিনেছেন ষাট/সত্তর লাখ টাকা দিয়ে। হাসিখুশি মানুষ। কথায় কথায় লাখ লাখ টাকার হিসাব করেন। বুঝাগেল শহর জুড়ে অনেক সহায় সম্পদের মালিক তিনি। ভদ্রলোকের সারা জীবনের বৈধ আয় কয়েক লাখের বেশী হওয়ার কথা নয়। বাকি সব অন্য মানুষের টাকা; আমার টাকা, আপনার টাকা, ফকির অনাথদের টাকা। যে মানুষ অন্যের টাকায় বাড়ী করে, ফকির মিসকিনের টাকায় বাড়ী করে; বাড়ীর পর বাড়ী করে, বাড়ী করতে করতে জীবন শেষ করে দেয়, সে অবশ্যই উইপোকা। উইপোকা দুই প্রকার, আসবাবপত্র, খাতা বালিশ, বই পুস্তক খেয়ে যে নষ্ট করে সেও উইপোকা; আর ভিটা-মাটি থেকে মাটি নিয়ে তিল তিল করে যে প্রসাদ গড়ে সেও উইপোকা। উইপোকার এরকম প্রসাদ আমাদেরকে মুগ্ধ করে, কিন্তু যে উইপোকা জীবন বাঁচানোর জন্য বই থেকে দুটো পাতা খায় তাকে আমরা পিষে মারি। আসলে সম্পদের অবৈধ দখলদার; আর রাস্তার চিচকে চোরের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। বিবেক যাদের বিক্রয় হয়ে যায়, তারা পকেটমার হওয়া যা, অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়াও তাই। চিচকে চোরের বৌকে চোর বলা হয়; অবৈধ সম্পত্তির মালিকের স্ত্রী আপনি, আপনিও চোরের বউ। শুনে কষ্ট পেয়েছেন; কিন্তু আপনার স্বামীর চুরির টাকায় কেনা আপনার স্বর্ণের চেইনটি হাইজাক করতে গিয়ে ধরা পড়ে বেচারা আপনার সামনে যে মারটি খেয়েছিল তখনতো আপনার কষ্ট লাগেনি। আপনার স্বামীর অবৈধ উপার্জনের টাকা যথাযত কাজে লাগলে লোকটি হাইজ্যাকের মত কাজ না করে খেটে খেতে পারতো। যে জুতাটি দিয়ে আপনি নিজে লোকটির পিঠে কয়েকটি ঘা বসিয়ে দিয়েছিলেন সে জুতাটিও ছিল চুরির টাকায় কেনা। বিবেক না মরে গেলে আপনি এই সরল হিসাবটি বুঝতে পারতেন যে, আপনার আর এই রাস্তার চোরের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আপনার স্বামী চোর আর আপনি চোরের স্ত্রী, আপনারা উভয়ই উইপোকা; ছেলে মেয়েরাও উইপোকার মতই বড় হবে। প্রস্তুত থাকুন একদিন এই জুতা আপনার মূখেও এসে পড়বে; কারন কোন নমরুদই শেষ পর্যন্ত জুতা পেটা থেকে রেহাই পায়নি। এজুতা কিছু দিন আগে এসেছে ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বেশে; আর এদের পোষ্যপূত্ররা এখনো রয়েছে আমার আপনার আশপাশ জুড়ে। না! আমার কথায় কষ্ট পাবেন না। আমি জানি, আপনি একদিন খড় কুটায় বাঁধা বাবুই পাখীর মত ছোট্ট একটি ঘরের গর্বিত মালিক ছিলেন; আর দিগন্ত জুড়ে বিস্তৃত ছিল আপনার মনের ঘরের খোলা জানালা। কিন্তু সে অহংকার এখন আার আপনার নেই। মানুষ নিজ হাতে তার নিয়তি গড়ে, এবং এই নিয়তিই তাকে একদিন পৌঁছে দেয় তার আপন গন্তব্যে। আদমকে বাঁচাতে পারলে আপনি নিজে বাঁচতে পারতেন; আমরাও বেঁচে যেতাম আপনাদের সাথে। কিন্তু আপনি আপনার স্বামীকে দিয়ে বালুচরে বাড়ী করেছেন; আপনার নিয়তি আপনাকে ছাড়বে কেন। দেখা যাক আপনার নিয়তি আপনাকে কত দূর নিয়ে যায়।

পরিধানের শাড়িটির দিকে দেখুন। দামী ঝলমলে উজ্জল, দৃষ্টি কেড়ে নেওয়ার মতো। দৃষ্টি অবশ্যই আকৃষ্ট হচ্ছে চার দিক থেকে সকলের। তবে যেহেতু সুধী জনদের মধ্যে আপনার সগোত্রীয় জনদের সংখ্যাই বেশী, তাদের জানা রয়েছে আপনার আয়ের গভীরতা কতদূর। আপনার সৌন্দর্র্য্য তাদেরকে মুগ্ধ করতে পারেনি। বরং আপনার সৌভাগ্য তাদের অন্তরের জ্বালা বাড়িয়েছে। চোরও চোরকে হিংসা করে। আর যে এই বিদ্যাটি ভাল রপ্ত করতে পারেনি, সে ভাবছে একই পদে অধিষ্ঠিত থেকেও আপনি কত সহজে আকাশের চাঁদ ছিনিয়ে নিতে পেরেছেন। আবার কিছু লোক রয়েছে যারা পরিমাপ করছে আপনার আর পথের পকেটমারের মধ্যের দূরত্ব কতটা কাছাকাছি। আপনি নিজেও একবার নিজকে জিজ্ঞাসা করুন, যে শাড়িটা আপনি পরেছেন কে তার প্রকৃত মালিক। অবশ্যই আপনি আমার সাথে একমত হবেন যে, যার টাকায় শাড়িটি কিনা হয়েছে শাড়িটির প্রকৃত মালিক তিনিই। আপনার স্বামীর টাকায় কিনা হয়ে থাকলে স্ত্রী হিসাবে আপনি তার প্রকৃত মালিক এতে কোন সন্ধেহ নেই। কিন্তু যদি আপনার স্বামীর উপার্জিত টাকায় কিনা না হয়ে থাকে তাহলে শাড়িটির প্রকৃত মালিক আপনি নন। মনে রাখবেন, প্রয়োজন হলে ধার করা শাড়ি পরিধান করা যায় কিন্তু চুরি করা শাড়ি পরিধান করা যায় না। আপনার এই শাড়িটা কেনার জন্য যে টাকা খরচ হয়েছে তা আপনার স্বামী উপার্জন করেননি; এবং কারো কাছ থেকে টাকা হাওলাত নিয়েও তিনি শাড়িটি কেনেনি। তাই যুক্তি সঙ্গত ভাবে এই টাকার মালিক হবে অন্য কেউ। অন্যের টাকায় কেনা-কাটা করা হলে যার টাকায় কেনা হয় সম্পদের মালিকানা তারই থেকে যায়। আপনার স্বামীর দায়িত্ব ছিল আপনার থাকা খাওয়া ও ভরন পোষনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু আপনি অন্যের টাকায় কেনা শাড়ি দিয়ে আপনার অঙ্গ সজ্জা করেছেন। স্বামী ছাড়া অন্য কেহ আপনার অঙ্গ সজ্জার সরঞ্জাম যোগান দিলে সতী-সাদ্ধী ও আত্বসচেতন স্ত্রী হিসাবে আপনার তা গ্রহন করার কথা নয়। বিষয়টি যদি আপনি অনুধাবন করতে পারতেন তাহলে আপনার লজ্জাবোধ হতো। কিন্তু লজ্জা যখন ভুষণ আর থাকেনা তখন ভূষণ দিয়ে আর লজ্জা ঢাকার প্রয়োজন হয় না। ভূষন এখন আপনার ডিগনিটি (?) সংরক্ষনের পাহারাদার মাত্র। তাই এই মুহুর্তে আপনাকে কেহ কিছু ডোনেশন করতে চাইলে আপনার ঘুনেধরা মর্যাদাটি টনটন হয়ে উঠবে। কিন্তু মনে রাখবেন, অবৈধ অর্থ চুরি চামারীর চেয়ে ভাল কাজ নয়; আর চুরি চামারী কোন ভাবেই ভাল কাজ নয় নয় দান-খয়রাতের মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করার চেয়ে।

আপনি সুউচ্চ প্রসাদে ঘুমের অনুশীলন করছেন, ঘুম আপনার কাছে যেন অনেকটা সোনার হরিণ। মরীচিকার মত কোন ভাবেই ধরে রাখা যাচ্ছেনা। প্রাসাদ পেয়েছেন, প্রাসাদের মালিক আপনাকে ইটের খাঁচায় বন্দী করে দুরে সরে গিয়েছে। তিনি হয়ত অন্য কোন অস্পরীর কোমল আদরে এখন স্পন্দিত। ভাবছেন একবার ক্লাবে গিয়ে ঘুরে আসলে কেমন হয়। কিন্তু ভয় পাচ্ছেন যদি মেয়ের সাথে মুখোমুখি হয়ে যেতে হয়। ছেলেও হয়তো এই মূহুর্তে  কোথাও না কোথাও কারো কোমল হৃদয়ের উষ্ণ সঙ্গী। প্রতিবেশীগন এমনিতেই আপনার সৌভাগ্য দেখে ইর্ষান্বিত। কিছুটা সন্দিহানও বটে। না! এমন অসংলগ্ন অবস্থায় দেখলে তারা আপনাকে ছেড়ে কথা বলবেনা। নিচে বস্তিতে থাকা মানুষগুলো নিশ্চিন্তে ঘুমুচ্ছে। তারা হেরে গিয়েছে বলেই আপনি বিজয়ী হয়েছেন। কিন্তু না পাওয়ার বেদনা তাদেরকে পরাভূত করতে পারেনি। তারা নিয়তিকে মেনে নিয়েছে। আপনার নিয়তির সৃষ্টি কর্তাত আপনি নিজে। তাই নিয়তি আপনার পিছু ছাড়বে কেন। আপনারা পরের টাকায় নিজের বাসা তৈরী করেছেন। চড়ূই পাখির জীবন আপনাদের, বাবুই পাখির অহংকারটুকুও এখন আর আপনাদের মধ্যে অবশিষ্ট নেই। অপেক্ষা করুন! হয়ত কোন এক আনন্দঘন মুহূর্তে দেখবেন, যে মেয়েটিকে নিয়ে আপনার স্বামী আপনার সম্মুখে হাজির হয়েছেন তার পরনে অর্ধ উম্মুক্ত বিকিনি। ঠিক আছে আমার এতটা নিচে যাওয়া হয়ত ঠিক হয়নি। কিন্তু মিনি স্কার্ট মেনে না নিয়ে এখন  আপনার আর কোন উপায় নেই। কারন আপনি স্বামী দেবতাটিকে দিয়ে স্বপ্নের ঘুড়ি উড়িয়েছেন। অপেক্ষা করুন তিনি আসছেন। তিনিও এখন আর স্বপ্ন দেখেন না। আপনি ছিলেন তার স্বপ্ন রাজ্যের রানী। কিন্তু বাস্তব একটি কঠিন অভিজ্ঞতা। অভিজ্ঞতা অর্জনের এটা আপনার প্রথম অনুভূতি, তাই সামাল দেওয়া হয়তো কষ্টকর হবে। কিন্তু আপনাকে এরকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হবে এখন থেকে বারবার। এতে দু:খ পাবেন না, কারন বাধ্য হয়ে এরকম কষ্টের জীবন জাপন মেনে নিয়েই নিশ্চিন্তে দিনাতিপাত করছে আপনার প্রতিবেশী বস্তিবাসীগন। তারাও আপনার মত রক্ত মাংসে গড়া মানুষ।

আপনি কাজের মেয়ের চরিত্র মেরামত করা দায়িত্ব মনে করেন। সব সময় চোখে চোখে রাখেন যেন চুরি বিদ্যাটি তার রপ্ত হয়ে না যায়। মাঝে মাঝে চুরির অভিনয় করে শাস্তির রিহার্সেল দিয়ে এর মধ্যে অনেক বারই তাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে সম্পদ যেহেতু এখন আপনার দখলে, এর সবটাই আপনার। বাড়ির দারোয়ানের সাথে তার কথা বলাতেও আপনার অনেক আপত্তি। এতে আপনার আত্ম মর্যাদা নড়বড়ে হয়ে যায়। নিজের মেয়েকে প্রতিদিন ক্লাবে পাঠাচ্ছেন, কারন অভিজাত পাড়ার মানুষ আপনি আভিজাত্যতো আর ঘরের মধ্যে বন্দী করে রাখার বস্তুু নয়। মেয়ে গত তিন দিন বাসায় ফিরেনি, এটা কোন দুশ্চিন্তার বিষয় বলে আপনি মনে করেন না, কারন এমন ঘটনা পূর্বেও অনেক বার ঘটেছে। আভিজাত্যের বেড়া জালে বন্দী হয়ে গিয়েছেন, চাইলেইতো আর জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয় না। আর শত হলেও মহান এই আভিজাত্য, তাই আভিজাত্য বাদীদের মনের খোরাক যোগাতে কিছুটা মন না হয় বিলিয়েই দেওয়া গেল, এতে আর কি। তবে আজকের ঘটনা কিন্তু অন্য রকম। বেরসিক পুলিশগুলো অভিজাত পাড়ার অভিজাত হোটেলটি রেডেইড করেছে। ’ইয়াবা’ সহ ধরা পড়ে যুগল বন্দী হয়ে আপনার আদরের মেয়ে এখন শ্রীঘরে। না এতেও ভয় পাওয়ার কিছু নেই, সহসাই থানা হাজত হয়ে যাবে আপনার আভিজাত্যের আর একটি অংশীদার। আপনার স্বামী অন্ধকার জগতের বাসিন্দা, কোন্ দেবতার মন রক্ষার জন্য কোন্ ফুল দিয়ে পুজো দিতে হয়, তা তিনি ভাল করেই জানেন। কিন্তু ঘটনা এখানেই শেষ নয়, মুশকিল বাঁধিয়েছে আপনার ছোট ছেলের বন্ধু।

আপনার ছেলের সাথে এই বন্ধু অনেক বারই আপনার বাসায় এসেছে। ছেলের এরকম এক বন্ধুই দু’দিন আগে মুঠো ফোনে জানিয়ে ছিল যে, আপনার ছেলে সহ তারা বিশেষ কাজে শহরের বাইরে যাচ্ছে। ছেলের অনুপুস্থিতিতে ছেলের বন্ধু খোঁজ-খবর নিতে আসলে আপনার মাইন্ড করার কথা নয়। কিন্তু ভাবেছেন এই বন্ধুটিও তো আপনার ছেলের সাথে এখন শহরের বাইরে থাকার কথা। তাহলে আপনার ছেলে ?? না তার জন্য ভাবতে হবেনা; সে বেঁচে আছে। আপনারা অন্ধকার জগতের বাসিন্দা, নেশা ও নারী আপনাদের আভিজাত্যের মূল্যবান সঙ্গি। মহিমান্নিত এই মঔষদের গুনে কিছু সময় গভীর ভাবে অবচেতন রাখার জন্য এখন আর পূরো চেতনা স্তব্দ করে দিতে হয়না। কিন্তু এতসব বুঝে উঠার আগেই আপনি বুঝতে পারছেন আপনি নিজের পরিধেয় শাড়ীর আঁচলে দ্রƒত বন্দী হয়ে যাচ্ছেন। মহা মূল্যবান এই শাড়ীটিও আপনার স্বামী গত বিবাহ বার্ষিকীতে আপনাকে উপঢৌকন দিয়েছিল। আপনার স্বামী রাস্তা তৈরীর কাজ পাওয়ার সুযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন এক কন্ট্রাক্টর সাহেবকে। বিল পাশ করার মালিক আপনার স্বামী। কন্ট্রাক্টর সাহেব কাজ করেননি, কিন্তু বিল পাশ হতে কোন বিঘœ হয়নি। আপনি শাড়ী পেয়েছেন, কারন আপনি আপনার স্বামীর সুখ দু:খের অংশীদার। নির্বোধ কাজের মেয়েটি, যাকে প্রতি কথায় আপনি নিমক হারাম বলে গাল দিয়ে থাকেন; আপনার স্বামীকে টেলিফোন করতে গিয়ে বেচারী ফেঁসে গেছে। বাড়ীতে হয়তো কাজের মেয়ে নিয়েই আপনার বড় কিছু একটা ঘটেছে, তাই মনে করে তিনিও আসছেন। আপনার নিরাপত্তার জন্য তার আকুতি মিনতির কোন কমতি নেই। শত হলেও আপনি তার স্বপ্ন দ্রষ্টা দীর্ঘ দিনের ’ফেকু ওস্তাগার লেনের’ বাসিন্দা। আপনি ভয় পাচ্ছেন! আপনার ভয় পাওয়ারই কথা। তবে স্বামী বেচারাকে ভুল বুঝবেন না। তিনি আসবেন তবে কখন আসবেন হয়তো আল্লাহ্ও জানেন না। আল্লাহ নিজে যা করতে পারেন তার খবর তিনি রাখেন; অলৌকিক ক্ষমতার খবর আল্লাহ রাখেন না। আপনার স্বামী নিজেই ঢাকা শহরের এই অল্প দুরুত্বের পথটি অনেক দীর্ঘ করে দিয়েছেন। আমার নিজেরও একবার ধানমন্ডী থেকে বিমান বন্দরে যেতে তিন সপ্তাহ সময় লেগেছিল; আপনার স্বামী মহারথীর এমন অলৌকিক কর্মকান্ডের জন্য। ভাবছেন পুলিশে কি ভাবে খবর দেওয়া যায়। কিন্তু কি লাভ তাতে! আপনার বাসায় আসারতো ঐ একটিই মাত্র রাস্তা। আর পুলিশতো শুধু আপনার বন্ধু নয়, সকলের বন্ধু। তারা আসবেন সব শেষ হয়ে গেলে সবার শেষে আসবেন। আপনি নিজেও কি চাননা এই গঠনার একটি পরিপূর্ণ রিপোর্ট তৈরী হোক। আপনি অধৈর্য হয়ে পড়েছেন! ভয় পাবেন না! আপনার স্বামী পাজেরো জিপ নিয়ে আসছেন। কিন্তু কি করবেন, বেরসিক বৃষ্টির ক্রন্দন যে আর থামতেই চচ্ছেনা। রাস্তা ভর্তি গর্ত আর কাদা পানি। মর্যাদার লড়াইয়ে আপনার পাঁজেরো জীপ এখন এগিয়ে নেই; ধীরে ধীরে রিক্সার পিছনে পিছিয়ে যাচ্ছে। এই রাস্তার টাকা দিয়েই আপনার পাজেরো কিনা হয়েছিল। আর তৈরী করেছেন স্বপ্নের এই সুরম্য দালান। আপনার অপকর্মের জন্যই নিষ্পাপ কাজের মেয়েটি প্রস্ফুটিত না হতেই মুহুর্ত আগে আপনার চোখের সামনে ঝরে গেল। একেই বলে অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। আপনার অতি আদরের ছোট ছেলের বন্ধু! আপনারা সবাই অভিজাত জগতের বাসিন্দা। আপনি এখন নিজেই তাকে দেখিয়ে দিচ্ছেন আপনার সকল গুপ্ত ধনের সকল ভান্ডার। কারন জীবনের চেয়ে কোন জিনিসই অধিক মূল্যবান নয়। কিন্তু বেঁচে থাকতে আপনি পারবেন না। আপনার ছেলের বন্ধু আপনি তাকে চিনেন। আপনাকে বাঁচিয়ে রেখে সে সহজে ফাঁসির দড়িতে ঝুলবে, তাকে এমন বেয়াকুব মনে করাও বেয়াকুবের কাজ। তবে দুর্ভাগ্য নাটকের শেষ পর্বটা আপনি দেখে যেতে পারেন নি। না! পুলিশ এসেছিল। রিপোর্টও লেখা হয়েছে। পরিপূর্ণ রিপোর্ট। পুলিশ এসে রক্ত মাখা চোরাটা আপনার স্বামীর হাতেই দেখতে পেয়েছে। না! তাকে ভূল বুঝবেন না। আপনি তার প্রথম জীবনের প্রথম প্রেম। আপনার নিস্তেজ দেহটি দেখে বেচারা একটু বেশী মাত্রায় বেশামাল হয়ে গিয়েছিলেন। তাই তিনি ফেঁসে গেছেন। তাই যে অভিযোগের প্রত্যক্ষ সাক্ষি পুলিশ তাকে আপনি কি ভাবে বাঁচাবেন। খুন, চুরি জোচ্চুরী সহ অনেকগুলো অঘটনের এখন তিনি প্রধান আসামি। কথায় বলে, পাপ তার বাপকেও ছাড়ে না। চুরি-জোচ্চুরীর এই মহাগুনটির জন্যই হয়তো আল্লাহ্ মাত্র তিন দেহরাম চুরির শাস্তি সরুপ হাত কেটে ফেলার বিধান দিয়েছেন। জাহান্নাম থেকে বাঁচতে চান? হাতি, বাঘ, সিংহের মতো আকাশটাকে চাদ বানিয়ে নিন, দিগন্ত জুড়ে বিস্তৃত করে নিন মনের আকাশের খোলা জানালা। উইপোকার জীবন সাঙ্গ হয় তার নিজ হাতে গড়া অট্টালিকার নিচে চাপা পড়ে। উইপোকার জীবন হলে  আপনার সম্পদের নিচেই হবে আপনার জীবনের শেষ সমাধি।

2076 জন পড়েছেন

About ওয়াহিদুর রহমান

লেখক একজন কষ্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট একাউন্ট্যান্ট। ইসলামের মৌলিক বিধি-বিধানের উপর গবেষনা মূলক চিন্তা ভাবনা করে থাকেন। কম্পারেটিভ ধর্ম চর্চা লেখকের একটি পুরনো অভ্যাস। লেখকের গবেষনা মুলক গ্রন্থ ‘ইসলাম ও আমাদের দৈনন্দিন জীবন’ সমাপ্তির পথে। বইটি টরন্টস্থ বাংলা সাপ্তাহিক ‘দেশের আলো’ পত্রিকায় অনেকদিন থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। লেখক টরন্টস্থ ’বৃহত্তর নোয়াখালী এসোসিয়েশন ওন্টারিও’ এর বর্তমান প্রেসিডেন্ট।

Comments

উই পোকার অট্টালিকা — ৮ Comments

  1. ধন্যবাদ। ভাই আমি যা অনুভব করেছি তাই বলেছি। শুধু সাউন্ড দেয়া। তা যে সত্য এমন না হতে পারে। মানুষ মাত্রই তো ভুল আর শুদ্ধ উপলব্ধি জ্ঞানপ্রাপ্ত প্রাণী।

  2. ভাই দেশ প্রেমিক, আপনার এই সুন্দর মন্তব্যের জন্য শুধু ধন্যবাদ দিয়ে আপনাকে খাটো করতে চাইনা। তবে আপনার মত প্রাণখোলা মন্তব্য লেখার মতো আরো কিছু বড় মনের সমালোচক সাহিত্য জগতে থাকলে এরকম সংবেদনশীল বিষয়ের উপর আরো অনেক লেখা অতীত ভবিষ্যতে পাঠকের সম্মুখে উপস্থাপিত হবে বলে আমার বিশ্বাস। বাংলা ভাষার উপর আপনার যে বিশেষ পাণ্ডিত্য রয়েছে তা বুঝার জন্য আপনার কমেন্টে লিখা কথাগুলোই যথেষ্ট। সুপ্ত প্রতিভা অনেক সময় ধাক্কা দিয়ে জাগ্রত করতে হয়। সবাই মিলে চেষ্টা করলে ষ্পন্দনহীন এই রুগ্ন সমাজটির মধ্যে অবশ্যই কিছুটা প্রাণ সঞ্চার করা যাবে। আমি একজন একাউন্ট্যান্ট। দেখে শুনে ক্ষেপে গিয়ে লেখক হয়েছি তাই বলতে পারেন ক্ষেপা লেখক। নজরুল এখন হারিয়ে যাচ্ছে। নজরুল অনেক কষ্ট পেয়ে বলেছিলেন “বন্ধু গো আর বলিতে পারিনা, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে। দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে। রক্ত ঝরাতে পারি না তো একা, তাই লিখে যাই এ রক্ত লেখা। বড় কথা বড় ভাব আসেনা’ক মাথায়, বন্ধু বড় দুখে। অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে।” নজরুলের মতো উঁচু গলায় বলার সামর্থ্য আমাদের নেই। কিন্তু যে টুকু স্বর এখনো অবশিষ্ট আছে আসুন সবাই মিলে তা’ই ব্যবহার করি। এতে যদি একটি উইপোকাও মানুষ হয় তাতে মন্দ কি। লেখাটি দীর্ঘ করার জন্য আপনার অনুরোধ অবশ্যই আমার মনে থাকবে। আমার মনে হয় এরকম বিষয় নিয়ে চলচিত্র হওয়া উচিত। কেহ রাজী থাকলে সিনেমা স্ক্রিপ্ট আকারে বইটি লেখা যায়। এই মুহূর্তে আমি ‘ইসলাম ও আমাদের দৈনন্দিন জীবন’ নামক একটি গবেষনা মূলক গ্রন্থ লিখছি। এটা ইসলামকে মানুষের জীবনের সকল কাজে সম্পৃক্ত করনের একটি ভিন্ন মূখী প্রচেষ্টা। দোয়া করবেন অতিসত্বর যেন বইটি শেষ করে আপনাদের সাথে ব্লগের মত মিডিয়াতে আরও সময় নিয়ে কাজ করতে পারি। আমার অন্যান্য লেখা সহ বইটি অতিসত্বর আমার নিজস্ব ওয়েব http://www.deendunya.wordpress.com এ পাওয়া যাবে। আল্লাহ্ হাফেজ।
    – ওয়াহিদ

  3. হাসনু সাহেব, আমার কাছ থেকে আরো লেখা আশা করেছেন আপনার এই বক্তব্য আমাকে লিখতে উৎসাহিত করবে বলেই আমার বিশ্বাস। লেখকরা অনেক সময় নিয়ে কষ্ট করে একটা দীর্ঘ লেখা লেখেন। পাঠকদের অবশ্যই কিছুটা সময় দেওয়া উচিৎ লেখাটি পড়ার জন্য। আসলে সব সময় কম কথায় অনেক কিছু সঠিকভাবে বুঝানো যায় না। আর কিছু কিছু লেখা আছে যা এক নি:শ্বাসে পড়তে হয়; আমার মনে হয় তিন নং মন্তব্যকারী দেশপ্রেমিক ভাই তাদেরই একজন। তবু অসম্ভব হলেও চেষ্টা করবো যেন সবাইকে সন্তুষ্ট করা যায়। ধন্যবাদ।
    – ওয়াহিদ

  4. মুনিম ভাই, আপনার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার গঠনমূলক সমালোচনা আমাকে লেখার ব্যাপারে অবশ্যই সতর্ক হতে সাহায্য করবে। তবে আমিত্বের যে কথা বলেছেন তা অবশ্য আমিত্ব প্রকাশের জন্য বলিনি। সম্পদ অর্জনের এই প্রতিযোগিতার যুগে অবলীলায় যে বলতে পারে তার বাংলাদেশের কোন শহরে কোন বাড়ী ঘর নেই তার আমিত্ব প্রকাশের মানষিকতা থাকতে পারেনা। আমি উইপোকাদের মতো লোকদের সাথে সামর্থ্যবানদের একটি তুলনা নির্ধারনের জন্যই আমার কথাগুলো বলেছি। অহংকারী অবিবেচক এই উইপোকা গুলোর জানা উচিত যে, পৃথিবীতে এখনো কিছু সামর্থ্যবান লোক আছে যারা এদেরকে (উইপোকাদের) হিংসা করেনা বরং তাদের অপরিণামদর্শীতার জন্য তাদেরকে করুনার চোখে দেখে।
    – ওয়াহিদ

  5. ওয়াহিদুর রহমান সাহেবের ‘উইপোকার অট্টালিকা’ লেখাটা সত্যি চমৎকার আনন্দ দিল। বহুদিন পরে একটা উঁচু মানের বাংলা লেখার স্বাদ পেলাম। লেখককে ধন্যবাদ জানাতে চাই। ভ্রমণ কাহিনীর চমক দিয়ে শুরু করে তিনি পাঠককে সুকৌশলে টেনে নিয়ে গেছেন সাম্প্রতিক সমাজের নৈতিক দেউলিয়াপনার দিকে| সীমাহীন লোভ উইপোকার মতই আজকের বাংলাদেশের সমাজদেহকে কুরে কুরে খাচ্ছে। নকল জীবনযাত্রার অর্থহীন প্রতিযোগিতা আমাদের সারাটা জীবনকে যে অন্তসারসুন্না করে দিচ্ছে নেশাগ্রস্থ মাতালের মতো আমরা তা অনুভব পর্যন্ত করতে পারছি না| শুধু যে গল্পের মত করে বলে লেখক পাঠকের মন জয় করেছেন তাই নয়, লেখাতে মুন্সিয়ানা ও আছে। আমার আপত্তি লেখাটার দৈর্ঘের জন্য নয়, বরং আমি অনুরোধ করব সম্ভব হলে একে আরো দীর্ঘায়ত করে একটা পূর্নাঙ্গ পুস্তকে রূপ দিতে। আমাদের সমাজকে বর্তমান দেউলিয়াপনা থেকে বাঁচাতে হলে এই ধরনের আরো বহু লেখার প্রয়োজন আছে।

  6. মুনিম সাহেবের সাথে সহমত এত দীর্ঘ লেখা এক সঙ্গে না দিয়ে কয়েকটি পর্বে ব্লগে দেয়া উত্তম কেননা ব্লগের পাঠকরা থাকেন দৌড়ের উপর তাই বেশী দীর্ঘ পোষ্ট অনেকে পড়তে চায় না।
    তবে লেখাটি পড়ে ভালই লেগেছে। লেখকের কাছ থেকে অরো লিখার আশায় আছি।

  7. আমি তো প্রথমে বুঝেছি ভ্রমণ কাহিনী!
    এক টিকেটে ডাবল শোর মত লেগেছে!
    তবে ২৯০০ ওয়ার্ডের লেখাটি এক সাথে না দিয়ে ৩/৪ পর্বে দিলে ভাল হত বলে মনে করি।
    লেখাটি ভাল লেগেছে,তবে ২/১ যায়গায় আমিত্ব প্রকাশ পেয়েছে! যা না হলেও প্রবন্ধের মৌলিক কোন ক্ষতি হত না বলেই আমার মনে হয়েছে। ধন্যবাদ।