সন্ত্রাসী সংগঠনের তৃতীয় প্রজন্ম

1213 জন পড়েছেন

 

খুশির খবর হলো, বর্তমানে আইএসের যুদ্ধের আহ্বানে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রচার এবং সাহায্য ও আর্থিক তহবিল সংগ্রহকরণ বন্ধে আঞ্চলিক সহযোগিতা ফলপ্রসূ হয়েছে। তারা সিরিয়ায় বড় ধরনের লোকসানের শিকার হচ্ছে। একদিকে এটিকে আমরা ইতিবাচক উন্নয়ন মনে করতে পারি। কেননা সিরিয়া ইস্যুটি বর্তমান সময়ের একটি বড় সমস্যার প্রতিনিধিত্বকারী পরবর্তী সময়ে আরও বড় সমস্যা সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, এমন একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের কবল থেকে মুক্তি লাভ করছে। অন্যদিকে আমরা দেখছি, এ নির্মূল অভিযানের ফলে সিরিয়ায় প্রধান দুই দল আসাদ বাহিনী ও তার মিত্রবাহিনী এবং অস্ত্রধারী বিরোধী বাহিনীর মাঝে যুদ্ধের তীব্রতা ভবিষ্যতে বৃদ্ধি পাবে। একটি সময়ে যখন আন্তর্জাতিক বাহিনী একটি তৃতীয় ইসলামী সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার কাজ করছে, অন্যদিকে তারা অন্যান্য সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে কিছুই করছে না। যার মধ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরাকের ‘আসায়েবুল হক’ শামিল আছে। যারা আইএসের স্টাইলেই হত্যাযজ্ঞ করছে। এ উদ্বেগের কথাই প্রকাশ করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ। তিনি বলেছেন, ‘তারা আইএস নির্মূলের শেষ প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেন। কিন্তু অন্যদিকে যেসব সন্ত্রাসী সংগঠেনের ছত্রছায়ায় অপকর্ম করা হচ্ছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের সাম্প্রদায়িক ভিত্তি থেকে হত্যা করা হচ্ছে, তাদের প্রতি কোনো ভ্রƒক্ষেপ করা হচ্ছে না কেন? মনে হচ্ছে, সিরিয়ায় যুদ্ধ শুধু আইএসের বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ রাখা সঠিক নীতির দৃষ্টিক্ষীণতার পরিচায়ক। এ নীতির কারণে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের মধ্যে আরও ব্যাপকতর সন্ত্রাসী যুদ্ধপরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এ দ্বন্দ্ব রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত. রাজনৈতিক কোনো সমাধানে ব্যর্থ হওয়ার ফলে অনাকাক্সিক্ষত সহিংসতা দীর্ঘ হওয়ার কারণে। দ্বিতীয়ত, বাশার আল আসাদ বাহিনী সিরিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠদের ওপর জোরপূর্বক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার কারণে।

আন্তর্জাতিক জোটের নেতৃত্বাধীন পরিচালিত যুদ্ধ মিশনের নীতি হলো, শুধু সিরিয়ার আইএস নির্মূল করা এবং গৃহযুদ্ধে অবতীর্ণ না হওয়া। বাস্তবে এটা একটা অন্ধ নীতি। এ নীতির ধারক-বাহকরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে নীতিটির গতিশীলতার সংকটতত্ত্বটি বুঝতে পারছে না। এমনকি আন্তর্জাতিক জোট যদি সন্ত্রাসী দলের সব যোদ্ধাদের শেষ করে তবুও বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ চলমান অবস্থায় এসব সন্ত্রাসী সংগঠন নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। মূলত যে বাশার আল আসাদ অর্ধ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর ও লাখ লাখ মানুষের ভিটেমাটিহীন হওয়ার পেছনে প্রধান দায়ী, তাকে দৃশ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে বের করার জন্য কোনো গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক পরিকল্পনা দেখা যায়নি। সর্বশেষ সিরিয়ায় ও সিরিয়ার বাইরে এক নতুন ‘আইএস’র উদ্ভাবন হবে। এ অবস্থা বর্তমানে ইরাকে বিরাজমান। সেখানে সুন্নি উপজাতিরা মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে মিলে আল কায়দা নির্মূল করেছে; কিন্তু পরবর্তী সময়ে বাগদাদ সরকারের শত্রুতা ও নিপীড়নমূলক আচরণের ফলে এবং সুন্নিদের অভাব, অভিযোগগুলোর দিকে নজর দেয়ার বদলে সামরিক পথকেই বেশি আঁকড়ে ধরার ফলে এক নতুন ও তৃতীয় দলের উৎপত্তি হয়, যার নাম আইএস। যা আগের আল কায়দা থেকেও অধিক শক্তিশালী ও আকৃতি ধারণ করেছে এবং অতি অল্প সময়েই উত্তরে সিরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছে। অধিক নিপীড়নমূলক আচরণ না হলে ২০০৬-এ মার্কিন বিমান হানায় ‘আল কায়দা ইন ইরাক’ এর নেতা আল জারকৌয়ই-র মৃত্যুর পর সংগঠনটি প্রায় মুছে যাওয়া অবস্থা থেকে আবার প্রদীপের আলোয় ফিরিয়ে আনতে পারতেন না আবু বকর আল বাগদাদি।
সাময়িক যুদ্ধ বন্ধ কিছু স্বস্তি দিলেও পশ্চিমা বিশ্বকে দুই পক্ষকেই এক টেবিলে আনতে হবে। কারণ এ দ্বন্দ্ব-প্রবণতার ফাঁক গলেই আল কায়দা, আইএস বেঁচে থাকে, অন্য নামে অন্য সময়ে। এখানে আন্তর্জাতিক জোটের বিদ্যমান ঝুঁকির উপলব্ধি হওয়া উচিত যে, এ সংকট আরও গভীর হবে। যদিও তারা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে নিরস্ত্র ও বিরত করতে সক্ষম হয়েছে। এ কারণে যে, এ সংগঠনগুলো লাখ লাখ বস্তুচ্যুত সিরীয়দের মাঝে বিদ্যমান। আর তাদের পক্ষে হাজার হাজার মানুষের নিয়োগ করা ও বিভিন্ন সদস্য সংগ্রহ করা সম্ভব। বিশেষ করে ন্যাটোর মিশনে বাশার আল আসাদের মতো লেবানন, ইরাক ও পাকিস্তানের মিলিশিয়াদের অবাধে ছেড়ে দেয়া হয়েছে এবং অবাধে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক যুদ্ধে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং দৃশ্যমান পরিস্থিতি থেকে সন্ত্রাসীদের তৃতীয় সংগঠনের উত্থান হবেই, যা আরও বেশি বিপজ্জনক ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হবে।

মূল: আবদুর রহমান আল রাশেদ
আশ শারকুল আওসাত থেকে
অনুবাদ করেছেন- মুহাম্মাদ শোয়াইব

আলোকিত বাংলাদেশের লিংক:

http://www.alokitobangladesh.com/todays/details/177575/2016/04/19

মূল লেখার লিংক:

http://aawsat.com/home/article/610576/%D8%B9%D8%A8%D8%AF-%D8%A7%D9%84%D8%B1%D8%AD%D9%85%D9%86-%D8%A7%D9%84%D8%B1%D8%A7%D8%B4%D8%AF/%D8%A7%D9%84%D8%AC%D9%8A%D9%84-%D8%A7%D9%84%D8%AB%D8%A7%D9%84%D8%AB-%D9%85%D9%86-%D8%A7%D9%84%D8%AA%D9%86%D8%B8%D9%8A%D9%85%D8%A7%D8%AA-%D8%A7%D9%84%D8%A5%D8%B1%D9%87%D8%A7%D8%A8%D9%8A%D8%A9

1213 জন পড়েছেন

Comments are closed.