কতটা কার্যকর হবে ওআইসি

780 জন পড়েছেন

মুসলিম বিশ্বের এক চরম সঙ্কটকালে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হলো ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা, ওআইসির ত্রয়োদশ শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনে ওআইসির নতুন চেয়ার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমাদের ধর্ম ইসলাম, শিয়া বা সুন্নি নয়। এই ঐক্য কি আসলে কার্যকর হবে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে এ প্রশ্ন সব সময় ছিল। কিন্তু এখন এটি অনেক বড় হয়ে দেখা দিয়েছে ইসলামকে বিশ্বসভ্যতার মুখোমুখি দাঁড় করাতে একটি মহলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণে।
যারা ইসলামের সাথে বাকি বিশ্বের সঙ্ঘাত সৃষ্টি করতে চায়, চায় ইসলামি দেশগুলো তাদের বিশ্বাসগত শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাক, তারা কেন এটি কামনা করছে তা সাদা চোখে অনেকেই দেখতে পান না। কিন্তু যারা অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে অবলোকন করবেন, তাদের সামনে অনেক কিছুই স্পষ্ট হবে দিবালোকের মতো। তারা বুঝতে পারবেন আলকায়েদা বা আইএসের সৃষ্টির রহস্য কোথায়? কেন কারা কিভাবে ইউরোপের প্রাণকেন্দ্রগুলোয় সন্ত্রাসী আঘাত হানছে। কারা কিছু সন্ত্রাসীর কর্মকাণ্ডকে ইসলামের বিপদ হিসেবে তুলে ধরতে উঠেপড়ে লেগেছে।
ওআইসি ইসলামি সম্মেলন সংস্থা হিসেবে জন্ম নিয়েছে ১৯৬৯ সালের আগস্ট মাসে। এই উদ্যোগের প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন সৌদি আরবের বাদশা ফয়সল বিন আবদুল আজিজ। তিনি মুসলিম দেশগুলোকে একটি অভিন্ন ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। ইসলামি বিশ্বের মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব সঙ্ঘাতকে কমিয়ে এনে সহযোগিতার সম্পর্ক নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। ওআইসি যখন গঠিত হয়, তখন ছিল স্নায়ুযুদ্ধের সময়। বিশ্ব মূলত আমেরিকান ও সোভিয়েত এই দুই শিবিরে বিভক্ত ছিল। এর মধ্যে স্বতন্ত্র ইসলামি একটি জোরালো ধারা গড়ে উঠবে তা দুই শিবিরের কেউ আন্তরিকভাবে দেখতে চায়নি। ফলে কয়েক বছর পরপর শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হওয়া এবং মুসলিম বিশ্বে সার্বিক অর্থনৈতিক, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে সহযোগিতা সৃষ্টির তৎপরতার মধ্যে ওআইসির কাজ সীমিত থাকে। তখনকার বাস্তবতায় ওআইসিকে ন্যাটো বা ওয়ারশ জোটের মতো যারা দেখতে চেয়েছিলেন, তারা হতাশ হয়েছেন। এটি জোটনিরপেক্ষ দেশগুলোর সংস্থার মতো এক ধরনের বন্ধন সৃষ্টি করতে পেরেছিল। এর উদ্যোগে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছিল, যেটি বিশ্বে পৃথক ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।
নেতিবাচক দৃষ্টিশক্তিকে ঝেড়ে বাদ দিলে ওআইসির এই অগ্রগতি একেবারে হয়তো কম মনে হবে না। ওআইসি গঠন এবং এর পরে অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য ও ইসলামি পরিচিতিকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংশয় না থাকায় সৌদি আরব এতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করতে পেরেছে। অন্যান্য দেশের মধ্যে পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, ইরান, মিসর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আলজেরিয়ার মতো মুসলিম দেশগুলোও বিভিন্নপর্যায়ে এতে অবদান রেখেছে।
কিন্তু ১৯৭৯ সালে ইরানে আয়াতুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লবের পর এক ধরনের স্নায়ুলড়াই শুরু হয় এই সংস্থার মধ্যে। ইরাক ইরান যুদ্ধে এটি বিশেষভাবে চাঙ্গা হয়। বলার অপেক্ষা রাখে না, সদ্য বিপ্লবোত্তর একটি দেশে এ ধরনের যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে সাদ্দাম হোসেনের হটকারী ও উচ্চাভিলাষিতা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল। তিনি ভয় পেয়েছিলেন ইরানি নেতাদের ঘোষণা অনুসারে বিপ্লব বিস্তৃত হতে শুরু করলে প্রথমেই হুমকির মধ্যে পড়বে তার বাথ পার্টির শাসন। আট বছরের অধিক সময় ধরে চলা সেই যুদ্ধ ওআইসির ঐক্যে প্রথম একটি ক্ষত হয়ে দাঁড়ায়। যদিও এই যুদ্ধ বন্ধে ওআইসির ভূমিকা ছিল মুখ্য। ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের বিপ্লব রফতানির ঘোষণা এবং এর বিরুদ্ধে আরব দেশগুলো অনেকটা সম্মিলিত প্রতিরোধ কার্যক্রম ইসলামি বিশ্বে ঐক্যের পরিবর্তে জাতিতাত্ত্বিক বিভক্তিকে চাঙ্গা করে। ’৮০-এর দশকে এ ক্ষেত্রে অগ্রবর্তী ভূমিকা ছিল নেতৃস্থানীয় কয়েকটি সুন্নি মুসলিম দেশের; কিন্তু গত এক দশকে জাতিতাত্ত্বিক সঙ্ঘাতে অধিক অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে ইরান। এই জাতিতাত্ত্বিক সঙ্ঘাত এখন সিরিয়া-ইয়েমেন হয়ে আরব দেশগুলোয় ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু সিরিয়ার পাঁচ লাখের মতো মানুষ মারা গেছে এই সঙ্ঘাতে।
আঙ্কারার ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনের ঐক্যের ডাকটা প্রধানত এই জাতিতাত্ত্বিক সঙ্ঘাত বন্ধের জন্য দেয়া হয়েছে বলে মনে হবে। কিন্তু আঙ্কারার এই সম্মেলন যখন অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, তখনো আলেপ্পো দখলের জন্য বাশার আসাদের সরকারি বাহিনী নিজ দেশের প্রতিপক্ষ জনগণের বিপক্ষে নতুন করে লড়াই শুরু করেছে। আর ইস্তাম্বুলের প্রথম সারিতে যে পাঁচটি দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য চেয়ার সংরক্ষণ করা হয়েছে, তার মধ্যে রাখা হয়নি ইরানকে। ইরানি নেতারা ওআইসির সন্ত্রাসবিরোধী ঘোষণায় হিজবুল্লাহর নাম উল্লেখের প্রতিবাদ করে বলেছে, এটি ঐক্যের বক্তব্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ করে প্রশংসিত এই শক্তিটি এখন সিরিয়া থেকে সুন্নি শক্তিকে নির্মূলের জন্য লড়াই করছে বলে সমালোচনা রয়েছে।
এবারের ওয়াইসি সম্মেলনে দু’টি সুনির্দিষ্ট বক্তব্য উঠে এসেছে। এর একটি হলো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ইসলামি বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা গ্রহণ এবং এ লক্ষ্যে ওআইসির একটি নিজস্ব ইন্টারপোল পুলিশি সংস্থা গঠন। প্রেসিডেন্ট এরদোগান নিজেই এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তার দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ছিল একটি ইসলামি দেশকে জাতিসঙ্ঘের স্থায়ী সদস্যপদ দেয়া। বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের ধর্মবিশ্বাস ইসলাম হলেও জাতিসঙ্ঘের স্থায়ী পরিষদে এর কোনো প্রতিনিধিত্বই নেই। এমনকি বিশ্বশক্তিগুলো যাদের নতুন করে সদস্যপদ দেয়ার কথা ভাবছে, সেই তালিকায়ও নেই কোনো মুসলিম দেশের নাম। ওআইসির এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে হবে বিশ্বশক্তিগুলোর।
বিশ্বের একসময়ের একক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে। বুশ আমলে সন্ত্রাসবিরোধী আগ্রাসী যুদ্ধ চালাতে গিয়ে অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মধ্যে পড়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে বারাক ওবামা ঠিক উল্টো পথে যাত্রা শুরু করেছেন। যুদ্ধে সরাসরি নিজে না জড়িয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোকে সামনে ঠেলে দিয়েছেন। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের শক্তির শূন্যতা। এই শূন্যতা পূরণে এগিয়ে এসেছে রাশিয়া। চীনও হয়ে উঠতে শুরু করেছে সক্রিয়। আর আমেরিকার পিছুটান ভূমিকার জন্য মূল্য দিতে গিয়ে ক্রিমিয়া-ইউক্রেনে কার্যত পরাজিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। সিরিয়ার লড়াইয়ের হার-জিত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে আঞ্চলিক শক্তিনির্ভর। কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ নিয়ে চীন সাগরের বিরোধে বেইজিংয়েরই কার্যত জয় হয়েছে। আর উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের হুঙ্কারেও ওয়াশিংটনের যেন কিছুই করার থাকছে না।
এ অবস্থায় আমেরিকার নিরাপত্তা ছায়ার ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে নিজ ভূখণ্ড ও সরকারকে টিকিয়ে রাখতে নিজস্ব হিসাব-নিকাশ ও নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করতে হচ্ছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন ৩৪ জাতিগোষ্ঠীর সামরিক জোট ছিল তার একটি অংশ। এ জোট গঠনের পর প্রথম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ওআইসির। এই সম্মেলনের আগে কুয়েতের আমির ‘সৌদি আরব ও ইরানের প্রতিযোগিতায় কার লাভ কার ক্ষতি’- এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একটি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই উদ্যোগের কার্যকর প্রতিফলন বা তৎপরতা এবারের ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে দেখা গেলে সেটি হতো আশাবাদের বিষয়। ওআইসির নেতাদের বক্তব্যে এটি রয়েছে। জাতিতাত্ত্বিক সঙ্ঘাত যে মুসলিম বিশ্বেও কল্যাণ না এনে একটি ধ্বংসচক্র সৃষ্টি করছে সেই উপলব্ধি সৌদি আরব ও ইরান দুই দেশের নেতৃত্বের একটি অংশ এখন করছে বলে মনে হয়। তুরস্ক পাকিস্তানসহ নেতৃস্থানীয় অন্য কয়েকটি দেশের নেতারা তাদের কাজ দিয়ে এই উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন আগেই। এরপরও আলোচনা ও সহাবস্থানের সেই লক্ষ্য অর্জন হবে কি না সেই সংশয় রয়েই গেছে।
একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল অঞ্চল গড়ার লক্ষ্য অর্জনে যতটুকু ঐক্যের পথে মুসলিম দেশগুলো এগিয়েছে, সেটিকে সঙ্ঘাতমুখর করার সংগোপন তৎপরতাও একইসাথে চলমান রয়েছে। এ জন্য তুর্কি খেলাফত ভাঙার জন্য সৌদি পরিবারের ভূমিকা এবং বিদ্রোহ ও সহিংসতার জন্য বাদশাহ সালমানের দাদাকে ইস্তাম্বুলে ফাঁসি দেয়ার তিক্ত ঘটনাগুলোকে নিয়ে আসা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সৌদি আরব তুরস্ক যে সহযোগিতার কথা বলা হচ্ছে, তা দীর্ঘ মেয়াদি হবে না দুই দেশের সরকারের ভিন্ন অগ্রাধিকারের কারণে। অথচ দুই দেশের মধ্যে পাইপলাইন নির্মাণসহ যে ১২ দফা চুক্তি হয়েছে তা বিরাট সামরিক সহযোগিতা নিয়ে আসবে এই অঞ্চলের অভিন্ন নিরাপত্তার স্বার্থে।
এ কথা ঠিক, সিরিয়া ইয়েমেন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে ঐক্য রয়েছে তা বিভক্তিতে রূপ নিয়েছে মিসর নীতি নিয়ে। মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি বিদায়ী ওআইসি চেয়ারম্যান হওয়ার পরও আঙ্কারা সম্মেলনে যোগ না দিয়ে তার বাণী নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠিয়েছেন। জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহও ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে যাননি। এতে অংশ নেননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। তবে মিসর ইস্যুতে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছতে বাদশাহ সালমান কাজ করছেন বলে খবর বেরিয়েছে। তিনি মিসরে পাঁচ দিনের দীর্ঘ সফর শেষ করার পর আঙ্কারায় যান। সেখানে এরদোগান নিজে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে সালমানকে স্বাগত জানান।
মধ্যপ্রাচ্যে নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর আর পাকিস্তানের বিশেষ ঐক্য প্রয়োজন। এর সাথে প্রয়োজন জাতিতাত্ত্বিক সঙ্ঘাত থেকে বেরিয়ে আসা। এ জন্য ইরানের সাথে শান্তি সমঝোতার একটি ব্যবস্থায় সব পক্ষকে পৌঁছাতে হবে। সালমানের পূর্বসূরি আবদুল্লাহর মিসর নীতি ছিল একপেশে। সেই নীতিতে কিছুটা ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছেন সালমান। সিসির প্রান্তিকতা এবং ব্রাদারহুডের প্রতি নির্মম আচরণের বাস্তবতা একটি সমঝোতা প্রতিষ্ঠার পথে বাধা হয়ে রয়েছে এখনো। এ বাধা দূর করতে উভয়পক্ষকে ছাড় দিতে হবে। সিসিকে ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তি এবং শাসনতান্ত্রিক রাজনীতি করার অধিকার মেনে নিতে হবে। নিপীড়ন ও ফাঁসির কারবার থেকে নিজেকে সহিষ্ণুতা ও সহাবস্থানের ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। মুক্তি দিতে হবে মুরসি বদিইসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের। আর ব্রাদারহুডকে মিসরের সামরিক অভ্যুত্থান-উত্তর বাস্তবতাকে মেনে দিতে হবে।
এ ধরনের সমঝোতা, যার জন্য বাদশাহ সালমান চেষ্টা করছেন, তা একেবারে সহজ কোনো বিষয় নয়; কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন যে অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার সঙ্কটে পড়েছে, তা থেকে উত্তরণে সমঝোতা সহাবস্থান ও ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। এ পথে যতটা অগ্রগতি হবে সেটিই হবে ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনের সার্থকতা।
mrkmmb@gmail.com

পূর্ব প্রকাশিত: নয়া দিগন্ত

780 জন পড়েছেন

Comments are closed.